#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(২৫)
কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
আমি তো বলেছি আমি ওই বাড়ি ফিরবো না, তাহলে কেন নিতে এসেছেন আমায়?"
রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কিছু কিছু মানুষ আবার তাদের ভিডিও করছে। আদ্রিয়ান নিজের রাগ সংবরণ করে ধীর কন্ঠে বললো,
" মাঝরাস্তায় একদম নাটক করবি না।তোর যা করার বাড়ি গিয়ে করবি।"
নূর আদ্রিয়ানের হাত ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো, অত:পর
তার থেকে খানিকটা সরে গিয়ে বললো,
" অনেক হয়েছে, এবার প্লিজ আমাকে নিজের মতো থাকতে দিন। আপনি চলে যান এখান থেকে।"
" চলে যাবো মানে? আমার বিবাহিতা স্ত্রী তুই।ম'রে গেলেও তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে।"
" কিসের বিয়ে? যে বিয়েতে কিনা স্ত্রীর মর্যাদা টুকুও দিতে পারেননি।এর চেয়েও তালাক হলেই ভালো ছিলো।"
তালাকের কথা উচ্চারণ করার সাথে সাথেই ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো আদ্রিয়ান। নূরের গায়ে হাত তোলায় ভীড় থেকে এক জন বয়স্ক লোক এগিয়ে এলো। বাকিরা সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে। লোকটি আদ্রিয়ানের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো,
" কি হয়েছে? কোন সমস্যা? "
আদ্রিয়ান লোকটিকে এক প্রকার ঝাড়ি দিয়ে বললো,
" কিছু হয়নি।"
আদ্রিয়ানের কথায় লোকটি দমে যায়, অত:পর আদ্রিয়ান ভিড় করে থাকা বাকি মানুষদের উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
" এখানে কোন সার্কাস চলছে? এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন আপনারা? "
আদ্রিয়ানের উক্ত কথায় যারা যারা ভিড় জমিয়েছিল সবাই আস্তে আস্তে চলে যেতে থাকে। অবশ্য বৃদ্ধ লোকটি এখনো যায়নি। তিনি আদ্রিয়ানের কাঁধে হাত রেখে শান্ত কন্ঠে বললেন,
" মেয়েটা বোধহয় তোমার স্ত্রী। "
লোকটির প্রশ্নে নূর আদ্রিয়ানের দিকে তাকায়,যে কিনা রাগে ফুঁসছে।লোকটি নূরের দিকে ফিরে বোঝানোর ভঙ্গিতে বললো,
" শুনো মা, সংসারে অনেক রকম ঝামেলাই হবে তাই বলে স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে আসা উচিত নয়। পুরুষ মানুষ রাগের মাথায় হয়তো কিছু বলে ফেলেছে তাই বলে এভাবে রেগে থেকো না।তোমার স্বামী যেমনটা বলছে তেমনটাই করো।"
" আমি যেতে চাই না ওনার সাথে। আপনি দয়া করে আমায় আর কিছু বলবেন না।"
নূর রাজি হলো না, সে ইলহাম ও পায়রার বাড়ির পথে হাঁটা শুরু করতেই আদ্রিয়ান আবারও তার পথ আটকালো। এই মেয়েটা এতো জেদি কেন সে বুঝতে পারছে না।আজ পর্যন্ত কেউ তার কথার বাইরে টু শব্দ অব্দি করতে পারেনি। আর এই মেয়ে কিনা তাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে।সেই কবে থেকে বলছে বাড়ি ফিরে যেতে কিন্তু নূরের কোন হুশ'ই নেই।ইলহাম ও পায়রার বাড়ি বেশিদূর নয়।আদ্রিয়ান নূরের হাত শক্ত করে চেপে ধরেছে,নূর ব্যথায় কুঁকিয়ে উঠে।
" হাত ছাড়ুন।"
" তোর আমাকে মানুষ মনে হয় না? সেই কখন থেকে কুকুরের মত তোর পেছন পেছন ঘুরছি,সমস্যা কি তোর? বাপের বাড়ি পেয়েছিস তোর?"
" আমি তো আপনাকে বলিনি আমার পেছন পেছন ঘুরতে।আপনি নিজে আমায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। মনে আছে তো আদ্রিয়ান শাহ? "
" বাড়াবাড়ি করবি না বলে দিচ্ছি।বাড়ি চল।"
" যাবো না আমি।"
আদ্রিয়ান অবাক হচ্ছে নূরের ব্যবহারে।যেই মেয়ে তার ভয়ে গুটিয়ে থাকতো সেই মেয়ে কিনা এখন তার মুখের উপর মানা করে দিচ্ছে।ইলহাম বাইরে বেরিয়েছিলো পায়রার জন্য কিছু জিনিস নিতে কিন্তু মাঝপথে আদ্রিয়ান ও নূরকে দেখে কিছুটা অবাক হয়।ইলহাম তাদের দিকে এগিয়ে আসতেই নূর তার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
" তোমরা এখানে কি করছো?"
নূর তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলো,
" আপুর কাছে এসেছি।আমাকে আপুর কাছে নিয়ে যান।"
নূর যে মিথ্যে বলছে তা ইলহাম মুহুর্তেই টের পেয়ে যায়। নূরের চেহারা বলে দিচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। ইলহাম নূরকে উদ্দেশ্য করে বললো,
" আরেকটু সামনে এগিয়ে যে বাড়িটা পরবে, ওইটাই আমাদের নতুন বাড়ি।"
ইলহামের কথা শুনা মাত্রই নূর দ্রুত গতিতে সেদিকে পা বাডালো। নূরকে হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে আদ্রিয়ান রাগের মাথায় পাশে থাকা গাছে লাথ মারতেই ইলহাম জিগ্যেস করলো,
" কি হয়েছে? তোরা হঠাৎ এখানে? "
আদ্রিয়ান ইলহামকে সব খুলে বলতেই ইলহাম স্মিত হেসে বললো,
" আজকের রাতটা এখানে থাকুক তুই বরং কালকে নিয়ে যাস ওকে। এখন হয়তো মাথা ঠিক নেই তাই এমন পাগলামি করছে। "
ইলহামের কথায় আদ্রিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁটতে শুরু করে। ইলহাম ও তার পাশে হাঁটছে।
" নূর কেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলো জিজ্ঞেস করলেই পারতি। হঠাৎ এভাবে রিয়েক্ট করতে গেলি কেন ওর সাথে।"
" আমি নিজেও বুঝতে পারছিলাম না আমি কেন ওর সাথে এমন করছিলাম। সকাল থেকেই ওকে দেখলে মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছিলো।বুঝতে পারছি না হঠাৎ এত অনিহা কেন দেখা দিয়েছে। "
" এভাবে চলতে থাকলে তুই একসময় নূরকে হারিয়ে ফেলবি।একবার যদি দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তাহলে ফেরানো অসম্ভব। "
" তুমি সবটাই জানো আমি কেন ওকে বিয়ে করেছিলাম। সবকিছু জানার পরও আমার কাছ থেকে কোন কিছু আশা করা নিতান্তই ভ্রান্ত ধারণা। "
" বিয়ে যেভাবেই হোক, নূর তোর স্ত্রী। শাহনাবের উপর বদলা নিতে গিয়ে এতসব করলি অথচ এতসবের মাঝে কিন্তু নূরের কোন দোষ ছিলো না।"
" আমি চেয়েছিলাম শাহনাবকে তিলে তিলে মা'রতে। এই পরিকল্পনায় আমি সফল ও হয়েছি।"
" শাহনাব দেশ ছেড়েছে, এবার সবকিছু শেষ কর।সংসার টা গুছিয়ে নে।"
" নূরকে আমি সহ্য করতে পারছি না। ইদানিং ওকে দেখলেই আমার কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগছে। "
ইলহাম বুঝতে পারলো না আদ্রিয়ান কেন এসব করছে। এতোদিন তো সবকিছু স্বাভাবিক ই ছিলো।
---------------
" হুজুর, আদ্রিয়ান নূরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো কিন্তু আবার খুঁজতে বেরিয়েছে।তবে কি আদ্রিয়ানের উপর সঠিকভাবে প্রভাব পড়েনি?"
" সবই হবে আস্তে আস্তে ধৈর্য ধর। কিছুদিনের মাঝেই আদ্রিয়ানের মন থেকে ওই মেয়ে চিরতরে উঠে যাবে।"
" ঠিক আছে যেমনটা আপনি ভালো বুঝেন।"
আদ্রিয়ান নূরকে খুঁজতে যাওয়ায় রাহেলা শাহ চিন্তায় পরে গিয়েছিলেন।সকাল থেকে তো সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিলো তবে সন্ধ্যায় কেন হুট করে প্রভাব বন্ধ হয়ে গেলো বুঝতে পারছে না রাহেলা শাহ। তাই তিনি ছাদে এসে উদিগ্ন হয়ে হুজুরকে ফোন করেছেন এই বিষয়ে জানতে।এর মাঝেই শুনতে পেলো মেইন গেইটের দরজা কেউ খুলছে। তিনি ছাদের কিনারায় গিয়ে দেখতে পান আদ্রিয়ান এসেছে তবে পেছনে নূরকে দেখতে না পেয়ে তার অধরে বিজয়ের হাসি দেখা দেয়।তিনি দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আদ্রিয়ানের সামনে যেতেই দেখে তার ক্লান্ত চেহেরা।তিনি নানা ভঙ্গিতে আদ্রিয়ানের কাছে এসে জিগ্যেস করলেন,
" কোথায় গিয়েছিলে আদ্রিয়ান? আমি তো চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম।"
" নূরকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলাম কিন্তু..... "
রাহেলা শাহ উৎসুক কন্ঠে জিগ্যেস করলেন,
" কিন্তু কি?"
নূর আসবে না বলে দিয়েছে।আপাতত চাচ্চুর বাড়িতে আছে ও।"
এই প্রথম নূরের কোন কথা ভালো লাগলো রাহেলা শাহ'র। তিনি আমতাআমতা করে বললেন,
"তাহলে আর কি করার।যে মেয়ে স্বামীর সাথে এমন ব্যবহার করতে পারে তাকে ফিরিয়ে না আনায় উচিত। "
আদ্রিয়ান চুপ করে রইলো রাহেলা শাহ'র কথায়। রাহেলা শাহ ইনিয়ে বিনিয়ে বললেন,
" তুমি চিন্তা করো না। এর চেয়ে হাজার গুণে ভালো মেয়ে আমি তোমাকে এনে দিবো।ভালোঘরের মেয়ে আনবো এইবার তোমার জন্য । "
আদ্রিয়ান তেঁতে উঠলো রাহেলা শাহ'র কথায়,
" এসব আপনি কি বলছেন মা? এখানে দ্বিতীয় বিয়ের প্রশ্ন আসলো কিভাবে? "
"দেখো আদ্রিয়ান আমি তোমার ভালোর জন্যই বলছি। সেই প্রথম থেকে দেখে আসছি তোমার আর নূরের মাঝে কেমন সম্পর্ক বিদ্যমান। তুমি নূরকে তালাক দিয়ে দাও আমি তোমার বিয়ের বন্দোবস্ত করছি । "
" আপনি পাগল হয়ে গিয়েছেন আম্মা।আমি কাল সকালেই নূরকে ফিরিয়ে আনবো।"
আদ্রিয়ান রেগে নিজের ঘরে চলে যাওয়ায় রাহেলা শাহ হাতের ফোন ছুড়ে মারলেন সোফায়।অত:পর মাথায় হাত দিয়ে বললেন,
" বিয়ে আমি তোমায় করিয়েই ছাড়বো আদ্রিয়ান।নাহয় আমার নাম ও রাহেলা শাহ না।"
-----------------
নূর পায়রার পাশে বসে আছে। পায়রা নূরের জন্য ভাত ও গরুর মাংস প্লেটে তুলে এনেছে।নিজের হাতে খাইয়ে দিলো নূরকে।
" আদ্রিয়ান আবার তোর গায়ে হাত তুলেছে?"
নূর ভেজা চুল মুছতে মুছতে মলিন কন্ঠে বললো,
" না কিন্তু...."
"কি হয়েছে খুলে বল।"
" বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে আমায়। আমি মাইগ্রেনের ঔষধ নিতে গিয়েছিলাম কিন্তু উনি আমার চরিত্রে অপবাদ দিয়ে আমায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছে।"
" বিনা কারণে তোর চরিত্রে দাগ লাগিয়েছে?"
" হ্যাঁ, আম্মা ও তার ছেলের সাথে তাল মিলিয়ে আমায় চরিত্রহীনা বলেছে।"
পায়রার শরীর জ্বলছে নূরের কথায়।নূর একে একে তার সাথে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা খুলে বললো পায়রাকে। পায়রার নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। একই বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও নিজের বোনের উপর হওয়া এতো অত্যাচারের কিছুই সে জানতে পারলো না।
" আমায় ক্ষমা করে দে নূর। তোর খারাপ সময়ে আমি তোর পাশে থাকতে পারিনি। "
" তোমার কোন দোষ নেই আপু।যে স্বামী তার স্ত্রীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারে না তার কাছে ভালোবাসা কি করে আশা করবো? "
" আদ্রিয়ান তো নিজের ইচ্ছেতেই তোকে বিয়ে করেছিল তাহলে? "
" এক প্রকার জোর করেই বিয়ে করেছেন উনি আমাকে অথচ দিনের পর দিন উনি উনার মা আমার উপর অত্যাচার চালিয়ে গিয়েছে। সেবার সামান্য একটা শাড়ি পুড়িয়ে ফেলার অপরাধে আমার হাত পুড়ে ফেলেছিলেন আম্মা।"
নূর তার থ্রি-পিসের পেছনের অংশ উন্মুক্ত করে পায়রাকে দেখায়।পায়রা দেখে হতবাক হয়ে যায়।হাতের বাহুতে ও পায়ে কালচে দাগ পরে গিয়েছে বেল্টের মারের দাগের।
" জানো আপু, মাড় ফেলতে গিয়ে ভাতের হাড়ি হাত ফসকে পড়ে যাওয়ায় আমার হাত পুড়িয়ে ফেলেছিলো আম্মা।"
পায়রা ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠে নূরের কথায়।
" এতকিছু ঘটে গেলো আর তুই আমাকে জানার প্রয়োজন বোধও করলি না। "
" তোমাকে জানালে অশান্তি করতো।আমার জন্য বাড়িছাড়া হয়েছো তোমরা। "
পায়রা এঁটো প্লেট নিয়ে রান্নাঘরে রেখে আসে। ইলহাম ভেতরে এসে জিনিসপত্রের ব্যাগটা রাখলো টেবিলে।পায়রা ইলহামের দিকে এক গ্লাস লেবুর শরবত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
" আপনার সাথে কথা আছে। "
ইলহাম লেবুর শরবতটা শেষ করে বললো,
" হ্যাঁ বলো কি বলবে।"
" আদ্রিয়ান দিনের পর দিন নূরের উপর অত্যাচার করে এসেছে।নূর ও একটা মানুষ। এভাবে আর কতদিন চলবে?"
" কি বলতে চাইছো তুমি?"
" আমি চাই নূর ও আদ্রিয়ানের ডিভোর্স হোক। তাহলে নূর ও ভালো থাকবে, আদ্রিয়ান ও নিজের মনের মতো কাউকে ঘরে তুলতে পারবে।"
" তোমার মাথা ঠিক আছে পায়রা? আদ্রিয়ান এসব শুনলে কি ভাববে বুঝতে পারছো?"
" আমি কিচ্ছু বুঝতে চাই না। আপনি কোন একটা পদক্ষেপ নিন নয়তো আমি আমার পরিবারকে জানাবো। "
" তুমি বুঝতে পারছ না পায়রা। এটা ওদের পারিবারিক বিষয়। এখানে তুমি আমি বললেই সব ঠিক হয়ে যাবে না।"
" তাই বলে ও আমার বোনের উপর দিনের পর দিন নির্যাতন করে যাবে? আমি কিন্তু সালিশ বসাবো। "
ইলহাম বুঝতে পারছে না কি বলবে। সে আপাতত পায়রা কে শান্ত করতে বললো,
" আচ্ছা ঠিক আছে। কাল আমরা এই বিষয়ে কথা বলবো।তুমি বিশ্রাম নাও। "
পায়রা ইলহামের কথায় সায় জানিয়ে নূরকে আলাদা ঘর দেখিয়ে দেয় ঘুমানোর জন্য।
---------
আদ্রিয়ান বেলকনিতে একটা চেয়ারে বসে সিগারেট ফুঁকছে।হাতে ল্যাপটপ। কাল অফিসে চারটা ফাইল জমা দিতে হবে অথচ সে কোনভাবেই কাজে মন বসাতে পারছে না।সবকিছু অসহ্য লাগছে। রাহেলা শাহ'র কথা বারংবার কানে বাজছে তার।
" মায়ের মাথায় কেন যে দ্বিতীয় বিয়ের ভুত চাপলো কে জানে।কিছুই বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে। "
রাত গভীর হতে শুরু করেছে এর মাঝেই।অন্ধকারে বসে আছে আদ্রিয়ান। ঘরের লাইট বন্ধ।হঠাৎ সে চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করল মাথাটা ভীষণ ব্যথা করছে। ভ্রু'র খানিকটা উপরে টান ধরে গিয়েছে।হঠাৎ এমন কেন হচ্ছে বুঝতে পারছে না। মনে হচ্ছে এক্ষুণি হয়তো মাথা ঘুরে পরে যাবে।কোনমতে ল্যাপটপ রেখে হাতড়ে হাতড়ে বিছানায় এসে বসে। চোখের সামনে অন্ধকার ভেসে উঠছে। যেন সে কিছুই দেখতে পারছে না।কিছু মুহুর্তের মাঝেই ঢলে পড়লো বিছানায়।দরজা ধাক্কানোর আওয়াজে ঘুম ভাঙে আদ্রিয়ানের।কাল রাতের কিছুই মনে নেই তার।শুধু এই টুকুই মনে আছে সে বেলকনিতে ছিলো। চোখ পুরোপুরি মেলে তাকাতেই দেখতে পায় সূর্যের আলোর তীর্যক রশ্মী তার চোখ বরাবর পরেছে।এখন আর রাতের মতো ব্যথা নেই।তখন কেন ব্যথা করছিলো বুঝতে পারছে না।রাহেলা শাহ দরজা ধাক্কিয়ে যাচ্ছে সেই কখন থেকে। তার কন্ঠে চিন্তার ছাপ।আদ্রিয়ান ফোন হাতে নিতেই দেখতে পায় সকাল নয়টা বাজার আর দশ মিনিট বাকি রয়েছে।। এতো দেরি করে ঘুম ভাঙ্গলো তার। আজ অফিসে যেতে লেইট হয়ে যাবে তার। দরজা ধাক্কানোর আওয়াজে বিরক্ত হয়ে উঠে দরজা খুলে দেয়।দরজা খুলে দেখে রাহেলা শাহ উদিগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আদ্রিয়ানকে দরজা খুলতে দেখে বললো,
" এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে? সে কখন থেকে দরজা ধাক্কাচ্ছি। "
আদ্রিয়ান কিছু না বলে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।দ্রুত তৈরি হতে হবে নয়তো লেট হয়ে যাবে। কিছু না ভেবে দ্রুত তৈরি হয়ে নিলো আদ্রিয়ান।রাহেলা শাহ আদ্রিয়ানের জন্য নাস্তা তৈরি করে রেখেছিলেন তবে আদ্রিয়ানকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যেতে দেখে বললো,
" খেয়ে যাবে না আদ্রিয়ান?"
" না, সময় নেই।"
দ্রুত বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরলো সে।ভাগ্যিস কাল শিমুল কাকাকে বলেছিলো বাইকের তেল ভরে রাখতে না হয় আজ বিপদে পড়তে হতো।ঘড়িতে সময় দেখে তার নিজের উপরেই নিজের রাগ হতে লাগলো। সকালে নূরকে আনতে যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু তা হয়তো আর হয়ে উঠবে না।
মোরশেদা বেগমের শরীর ভালো না৷ আজ সকালেই পায়রাকে ফোন করেছিলেন আসার জন্য। নূর পায়রার সাথে আছে জানার পর দুজনকে একসাথে আসতে বলেছিলেন।মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে পায়রা সেই মুহূর্তেই যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।ইলহাম দলের মিটিংয়ে রয়েছে।পায়রা ইলহামকে ফোন দিয়ে জানায় মোরশেদা বেগমের অসুস্থতার কথা।
" শুনুন। আম্মুর শরীর খুব একটা ভালো নয়। তাই আমি আর নূর চাচ্ছিলাম একটু বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে।"
" ঠিক আছে আমি দিয়ে আসব। "
" দিয়ে আসতে হবে না।আমরা এক্ষুনি যেতে চাচ্ছিলাম আপনি গাড়ি পাঠিয়ে দিলেই হবে। "
" আচ্ছা আমি শফিককে বলছি তোমাদের ছেড়ে আসতে।"
ইলহাম তার পার্সোনাল ড্রাইভারকে পায়রা ও নূরকে তাদের বাড়িতে দিয়ে আসতে।নূর পায়রার থেকে তার একটা থ্রি-পিস নেয় পড়ার জন্য। হালকাগোলাপি রঙের থ্রি-পিসে তাকে অপরুপ লাগছে।
ঘন্টা দেড়েকের মাঝেই তারা পৌঁছে যায় তাদের বাড়ির সামনে। অপরদিকে আদ্রিয়ান অফিসের কাজ শেষ করে লাঞ্চ টাইমে ইলহামের বাড়ি আসে নূরকে নিতে কিন্তু দরজায় তালা ঝুলতে দেখে সে খানিকটা অবাক হয়।ইলহামকে ফোন করতে নিলে দেখতে পায় তার ফোনে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
চলবে,,,,,,,
রেসপন্স করুন সবাই।দুলাইন মন্তব্য করবেন।গ্রুপে জইন হোন
https://facebook.com/groups/4214405902220456/