ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

২৬তম পর্ব

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি

#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী

(২৬)

( অনুমতি বিহীন কপি করা নিষিদ্ধ।)

" হঠাৎ তালা দেওয়া কেন ; চাচ্চু তো জানতো আমি আসবো।"

ইলহামের ফোনে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই মুহুর্তে কি করবে সেটাও জানা নেই তার। ইলহামকে কোথায় পাবে সেই ধারণাও নেই আদ্রিয়ানের। ইলহাম মিটিং শেষ করে একেবারে শ্বশুরবাড়ি যাবে বলে ঠিক করলো।পায়রার সাথে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই ফোন বন্ধ হয়ে যায়। আদ্রিয়ান ইলহামের বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। পায়রাকে ফোন করছে সেই কখন থেকে। ফোনে রিং পরছে কিন্তু ফোন ধরছে না পায়রা। আদ্রিয়ানের ধৈর্য হারিয়ে বিরবির করে বলে উঠে,

" জামাই ফোন বন্ধ করে রেখেছে আর তার বউ ফোন'ই তুলছে না।এদের তো ফোনই ব্যবহার করা উচিত না।"

কি করবে বুঝতে পারছে না সে, এই মুহুর্তে নূর কোথায় জানা নেই আদ্রিয়ানের। কিছু সময় পর ইলহামের গাড়ি আসতে দেখে আদ্রিয়ান উঠে দাঁড়ায়।ইলহাম কাপড় বদলে যেতে চেয়েছিলো তাই আবার বাড়ি ফিরেছে। এই অবস্থায় তো আর শ্বশুর বাড়ি যাওয়া যায় না।গাড়ি থেকে নেমে আদ্রিয়ানকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করে,

" তুই এখানে কি করছিস? অফিস যাসনি?"

আদ্রিয়ান রেগে আশে পাশে তাকিয়ে দেখে কিছুদূরেই একটা ইট পড়ে রয়েছে। আর দেরি না করে সেই ইট নিয়ে তেড়ে আসে ইলহামের দিকে। ইলহাম আদ্রিয়ানের এহেন কান্ডে পিছু হটে দৌঁড়াতে শুরু করে।

" কি করছিস তুই?আমায় মা'রার ধান্দা করছিস নাকি। "

" ফোন বন্ধ কেন তোমার? তোমার বউ নূরকে নিয়ে কোথায় পালিয়েছে?"

দৌড়াতে দৌড়াতে ইলহাম এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে আদ্রিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে,

" তোর বউকে নিয়ে কোথাও পালায়নি।থাম তুই।"

ইলহামের কথায় আদ্রিয়ান থেমে যায়। হাতে থাকা ইট ছুড়ে ফেলে দেয়। ইলহাম হাপাতে হাপাতে বলে,

" বাপের বাড়ি গিয়েছে দুজনেই।আমিও সেখানেই যাচ্ছিলাম।"

আদ্রিয়ান ক্ষেপে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,

" আমাকে জানালে না কেন? একটা ফোন করে জানালে কি ফোনে বেশি টাকা কাটতো?"

" আমি নিজেই জানতে পেরেছি সকালে।"

" এতো বড়ো সাহস ওর!আমাকে না বলেই ডেং ডেং করে বাপের বাড়ি রওনা দিয়েছে। "

আদ্রিয়ানকে বাইকের কাছে যেতে দেখে ইলহাম বলে উঠে,

" আমার জন্য অপেক্ষা কর।আমি কাপড় বদলে আসছি। তারপর দুজন একসাথে বের হবো।"

আদ্রিয়ান ইলহামের অপেক্ষা না করে বাইক নিয়ে রওনা হলো নূরের বাড়ির পথে।আধ ঘন্টার মাঝেই পৌঁছে যায় সেখানে।নূর উঠোনে থাকা গাছ থেকে লেবু ছিড়ছিলো।বাড়িতে তারা আসার সুবিধার্থে তার চাচাতো ভাই বোনেরাও এসেছে। মোরশেদা বেগম এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন। দুই মেয়েকে একসাথে পেয়ে যেন সব কষ্ট নিমেষেই চলে গিয়েছে।নূর সকলের জন্য শরবত বানাতে লেবু নিতে এসেছিলো। হঠাৎ বাইকের আওয়াজ পেয়ে গলির দিকে তাকাতেই দেখে আদ্রিয়ান বাইক দাঁড় করিয়ে তার দিকেই হতদন্ত হয়ে আসছে।আদ্রিয়ানকে আসতে দেখে নূর রীতিমতো অবাক।হঠাৎ এখানে আসতে যাবে কেন আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ানকে বেশ রাগান্বিত দেখাচ্ছে।সে এসেই ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো নূরের গালে।উঠোনে থাকা বাকি মানুষজন বাকরুদ্ধ আদ্রিয়ানের এহেন কর্মকান্ডে । নূর ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে।নূরের চাচাতো বোন সাইমা নূরকে ডাকতে এসেছিলো কিন্তু আদ্রিয়ানকে দেখে সে থমকে যায়।আদ্রিয়ান নূরের দু বাহু শক্ত করে চেপে ধরে বললো,

"বাবার বাড়ি এসেছো আমাকে জানানো যেতো না? সকালে নিতে আসবো বলেছিলাম না। অফিসের কাজ ফেলে কুকুরের মতো এদিক সেদিক ছুটে খুঁজে বেরাচ্ছি তোমাকে, আর তুমি রঙ ঢঙ করতে এসেছো।"

" আপনাকে কে বলেছে এখানে আসতে?আমি তো কালই বলেছিলাম আমি আর ফিরতে চাই না। "

সাইমা নূরের কাছে আসতেই নূর আদ্রিয়ানের কাছ থেকে দূরে সরে যায়।আদ্রিয়ানের সুদর্শন চেহারা দেখে সাইমা নূরের কানে কানে ফিসফিস করে বলে,

" নূর, এই ছেলেটা কে রে? তোদের বাড়িতে কি করছে?"

নূর সাইমার কথা শুনে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নেয়।পেছন থেকে মোরশেদা বেগম নূরকে উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে বলে উঠে,

" জামাইকে এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখবি? ভেতরে নিয়ে বসা।"

আদ্রিয়ান নূরের স্বামী জানতে পেরে সাইমা বেশ অবাক হয়।নূর মায়ের কথা শুনে মন না চাইতেও আদ্রিয়ানকে ভেতরে নিয়ে যায়।সাইমাও নূরের পিছু পিছু ভেতরে ঢুকে।সোফায় আরাম করে বসেছে আদ্রিয়ান,এতো মানুষের ভিড়ে তার খুবই অস্বস্তি লাগছে কিন্তু তবুও কিছু বললো না।নূর আদ্রিয়ানকে শরবত এনে দেয় তবে একবারও তার দিকে তাকায় না। সাইমা আদ্রিয়ানের পাশে বসেছে তবে আদ্রিয়ান সেদিকে তাকালো না।পায়রা রান্না বসিয়েছে, মা অসুস্থ থাকায় কাজ দুবোনেরই করতে হবে।এরই মাঝে ইলহাম ও চলে গেছে ব্যাগভর্তি ফলমূল, মিষ্টি, ও বাজার নিয়ে এসেছে।ইলহামের হাতভর্তি বাজার দেখা আদ্রিয়ান লজ্জা পায় কিছুটা। বিয়ের পর প্রথম শশুর বাড়ি এসেছে তাও খালি হাতে। নূরের চাচাতো ভাই জাহিদ ক্লাস টেনে পড়ে।তার হাতে বাজার বুঝিয়ে দিয়ে আদ্রিয়ানের পাশে বসেছে। আদ্রিয়ান বিরবির করে ইলহামকে বললো,

" বাজার করবে আমায় বলোনি কেন? এখন সবাই কি মনে করবে।"

" আমি তো তোকে বলতে গিয়েছিলাম তুই শুনেছিস আমার কথা? হতদন্ত হয়ে বেরিয়ে পড়লি। অত চিন্তার কিছু নেই আমি তোর ভাগের টাও নিয়ে এসেছি।"

ইলহামের কথায় কিছুটা সস্থি পায় আদ্রিয়ান।

রেজাউল খান বাজারে গিয়েছিলেন, দুহাত ভর্তি বাজার করে বাড়ি ফিরে দেখতে পায় তাদের।আদ্রিয়ানের সাথে প্রথম থেকেই তাদের সম্পর্ক ভালো না থাকায় আদ্রিয়ান কিছুটা অসস্থিবোধ করে। নূর নাশতা নিয়ে আসতেই সাইমা নেকা সুরে বলে উঠে,

" তোর বর কেমন লাজুক দেখেছিস নূর।পাশে শালি বসে আছে অথচ কথাও বলছে না।"

নূর সাইমার কথা আমতাআমতা করে বলে,

" তুই কথা বল।আমার কাজ আছে। "

সাইমার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত লাগছে আদ্রিয়ানের।তার চাহনিতে বিব্রতবোধ করছে ভীষণ।

" ভাইয়া ডাকবো নাকি দুলাভাই ডাকবো আপনাকে?"

আদ্রিয়ান উত্তর দিলো না, এমন ভাব করলো যেন সে সাইমার কথা শুনতে পায়নি।আদ্রিয়ানের এহেন কান্ডে সাইমা কিছুটা অপমানিতবোধ করে। আদ্রিয়ানের কাছ থেকে কোনপ্রকার সাড়া না পেয়ে ইলহামের সাথে কথা বলে সাইমা।ইলহামের সাথে টুকটাক কথা হলেও আদ্রিয়ান নিজের মতোই বসে রয়েছে।তার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।সকালে না খেয়ে আসায় নাশতা গুলো পুরোপুরি শেষ করলো সে। অবশ্য তেলের নাশতা এড়িয়ে চললেও আজ খেয়ে নিলো সে।মোরশেদা বেগম পায়রা ও নূরকে তাড়া দিয়ে চলেছে দুপুরের খাবার পরিবেশন করার জন্য। সাইমা তখন থেকে আদ্রিয়ানের আশে পাশেই ঘুরঘুর করছে।সাইমার ছোট বোন ইশিতা সাইমাকে উদ্দেশ্য করে বললো,

" নূর আপু আর পায়রা আপুর জামাই খুব বড়োলোক আপা।শাহ বাড়ির উত্তরাধিকার বলে কথা।"

" আদ্রিয়ান ভাইয়া কিন্তু দেখতে কোন হিরোর চেয়ে কম না।কি সুন্দর লম্বা চউড়া দেখতে।"

সাইমার কথায় ইশিতা খিলখিল করে হেসে উঠে। অত:পর সাইমাকে বলে,

" নূর আপুও কম সুন্দর নাকি।"

" নূরের চেয়ে আমার সাথে ভালো মানাতো তাই না বল।"

" তুমি তো কালো, নূর আপু সুন্দর। তোমার সাথে দুলাভাইয়ের মানাবে কি করে।"

ইশিতার কথা রেগে যায় সাইমা। ক্ষীণ কন্ঠে বললো,

" আমি কালো নই শ্যামলা।ওই গায়ের রঙটা একটু চাপা নাহয় আমিও কোনদিক থেকে কম না।"

" বোনের স্বামী নজর দিও না কিন্তু।"

" নিজের বোন তো নয় চাচাতো বোন হয়।তোকে ভাবতে হবে না এসব।"

ইশিতা তার বেণি করা চুলে হাত বুলাতে বুলাতে চলে গেলো। নূর আম ভর্তা বানাচ্ছে। জাহিদ আম চুরি করে এনেছে রশিদ মাস্টারের বাড়ির গাছ থেকে।তাই দিয়েই ভর্তা বানাচ্ছে। নূরের আশেপাশে জাহিদকে ঘুরঘুর করতে দেখে আদ্রিয়ানের চোখে বেশ লাগছে। পায়রা নাশতার ট্রে নিয়ে যেতে এসে দেখলো আদ্রিয়ান এসেছে।অবশ্য পায়রা আর আদ্রিয়ানের মাঝে সম্পর্ক প্রায় সাপে নেউলের মত। দুজনের ই কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না তেমন একটা। পায়রা আদ্রিয়ানকে দেখে মুখ ভেঙ্গিয়ে চলে যায়। ইলহাম তা দেখে হুট করে হেসে ফেলে,এতে আদ্রিয়ান ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,

" তোমার বউ আমাকে ভেঙ্গিয়ে চলে গেলো আর তুমি কিছু বললে না।"

" আমি কি বলবো? তোদের মাঝে সম্পর্ক কেমন আমার জানা আছে। "

ইলহামের কাছে আশানুরূপ উত্তর না পেয়ে আদ্রিয়ান ফোন হাতে নেয়।দেখতে পায় তার মা ফোন করেছে। পরপর চারটা মিসড কল পেয়ে আদ্রিয়ান বিচলিত হয়ে রাহেলা শাহকে ফোন করে।রাহেলা শাহ ভেবেছিলেন আদ্রিয়ান হয়তো অফিসে আছে এখনো।

" ফোন কেন করেছিলেন মা?"

" তোমার ফিরতে কতক্ষন লাগবে আদ্রিয়ান? "

"আজ হয়তো ফেরা হবেনা মা।"

" কেন? কোথায় আছো তুমি? "

" নূরের বাড়ি এসেছি। আজ রাতটা হয়তো এখানেই কাটাতে হবে। "

নূরের বাড়ি এসেছে শুনতে পেয়ে রাহেলা শাহ যেন আকাশ থেকে পড়ে।হুজুর তো বলেছিলো সব ঠিক হয়ে যাবে তবে এখন তো সব উল্টো হচ্ছে।আদ্রিয়ানের বারবার ছুটে যাওয়া পছন্দ হচ্ছে না রাহেলা শাহ'র।

" তুমি নূরের বাড়ি কেন গিয়েছো আদ্রিয়ান।নূর তো একবার বলেই দিয়েছে সে আর ফিরতে চায় না। নূর তোমার থেকে মুক্তি চায়। তুমি ছেড়ে দাও এসব।ফিরে এসো বাড়িতে।"

মায়ের কথা শোনা মাত্র আদ্রিয়ান আপনাআপনি বলে উঠলো,

"ঠিক আছে আসছি।"

আদ্রিয়ানকে উঠে যেতে দেখে ইলহাম জিগ্যেস করলো,

" কোথায় যাচ্ছিস?"

" বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।মা-মা বাড়ি ফিরতে বলেছে?"

" ভাবী বলেছে;কোন দরকারে?"

" দরকার না।মা বাড়ি ফিরতে বলেছে।"

হঠাৎ এমন ভাবে কথা বলায় ইলহামের কিছুটা সন্দেহ হয়।আদ্রিয়ানকে সে ছোট থেকেই চিনে আসছে জেনে আসছে।কারো কথায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো ছেলে আদ্রিয়ান নয়।তবে কি এমন হলো যে কিছুদিনের মাঝেই তার আচরণে পরিবর্তন ঘটতে শুরু করলো।ইলহাম স্বাভাবিক ভাবেই আদ্রিয়ানকে বললো,

" সব আয়োজন করে ফেলেছে।খেয়ে নে আগে।"

ইলহামের কথায় আদ্রিয়ান নিজের জায়গায় বসলো।ইলহাম খুবই চাটুকারিতার সাহায্যে আদ্রিয়ানকে পরখ করছে।আদ্রিয়ানের কপালের রগ ভেসে উঠেছে।কোন তো কারণ আছে এসবের পেছনে।দুপুর বাজে তিনটা। সব একা হাতে তৈরি করতে করতে এতটা দেরি হয়ে গেল। আপাতত খেতে বসেছে সবাই।আদ্রিয়ানের পাশে বসেছে সাইমা।আদ্রিয়ানকে এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছে, তা দেখে পায়রা নূরের কানে ফিসফিস করে বললো,

" গ্রামের ছেলেদের নজর দেওয়া শেষ তাই হয়তো তোর স্বামীর উপর নজর পরেছে।"

পায়রার কথায় নূর সাইমার দিকে তাকায়।সাইমা লজ্জা লজ্জা একটা ভাব নিয়ে আদ্রিয়ান কে সবকিছু এগিয়ে দিচ্ছে। যেন সেই নতুন বউ। নূরের কিছুটা রাগ লাগলো সাইমার কর্মকাণ্ডে। সে সাইমা কে উদ্দেশ্য করে বললো,

" সাইমা তুই খা। তোকে কষ্ট করে এগিয়ে দিতে হবে না। পরিবেশন করার জন্য আমি আর আপু আছি। "

এতোগুলো মানুষের সামনে এভাবে কথা বলায় সাইমার গায়ে লাগলো।সে রাগ সংবরণ করে বললো,

" তোর বরকে এগিয়ে দিচ্ছে দেখে মাইন্ড করছিস না তো? শালি হিসেবে আমার অধিকার আছে না! "

আদ্রিয়ান মাছের বাটি নিজের হাতে নিয়ে বলে,

" আমার টা আমি নিতে পারবো।তুমি বরং চাচ্চুকে দাও।"

মোরশেদা বেগম বেগুনের তরকারি আদ্রিয়ানের দিকে এগিয়ে দিতেই আদ্রিয়ান একটু হাঁসফাঁস করে উঠে। বেগুনে তার এলার্জি। আদ্রিয়ান খাচ্ছে না দেখে মোরশেদা বেগম জিগ্যেস করলো,

" কি হলো বাবা খাচ্ছো না কেন? "

আদ্রিয়ান কিছু বলার আগেই নূর হুট করে জবাব দিলো,

" গরিবের খাবার তো তাই হয়তো রুচিতে বাঁধছে।আম্মু তুমি বরং মাংসের বাটি টা দাও।"

নূর যে অপমান করেছে তাকে সে ঢের বুঝতে পারছে। এভাবে বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে অপমান করায় তার রাগ লাগছে।ইলহামকে বেগুনের তরকারি নিতে নিতে বললো,

" আদ্রিয়ানের বেগুনে এলার্জি আছে তাই খেতে পারছে না।তোমার তো জানার কথা নূর।"

মোরশেদা বেগম ও ধমকের সুরে নূরকে বললো,

" তুই খেয়াল রাখবি না এসবের? কোনটাতে এলার্জি আছে কোনটাতে নেই।তুই আর বড়ো হলি না নূর।"

নূরকে বকা খেতে দেখে শান্তি লাগছে আদ্রিয়ানের।কাল থেকে ওর কর্মকাণ্ড দেখে আসছে। সে ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রেখে বললো,

" হয়তো ভুলে গিয়েছে।সমস্যা নেই।"

নূর বিরবির করে বললো,

" সবার সামনে ভালো সাজছে। উনার আসল রুপ একমাত্র আমিই জানি।"

খাওয়া শেষে সকলে ছাদে গিয়ে বসেছে গল্প করতে। এর মাঝেই জাহিদ নূরকে বললো,

" শাহনাব ভাইয়াদের গাছের আম খুব মজা আদ্রিয়ান ভাইয়া।নূর আপুর জন্য সবসময় পাঠাতো আমার হাতে দিয়ে।"

শাহনাবের নাম শুনে মুহুর্তেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় আদ্রিয়ানের।নূর ঢোক গিলে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে। আদ্রিয়ানের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় সে আগে থেকেই তার দিকে তাকিয়ে আছে। আম ভর্তা খাওয়া শেষ হলে সবাই মিলে ঠিক করে গান শুনবে।ইলহাম আগেই বলে দিয়েছে সে কোন গান জানে না, তাই সে গাইতেও পারবে না।অতএব আদ্রিয়ানের পালা।জাহিদ বেশ উচ্ছ্বাস নিয়ে আদ্রিয়ানকে বললো,

" আমার গিটার আছে ভাইয়া, তুমি শুধু গান শুরু করো।"

এতোগুলো মানুষের সামনে গান গাওয়ার কথাটা বিব্রতকর ঠেকলো আদ্রিয়ানের নিকট।বিকেলের হাওয়ায় কৃষ্ণচূড়া ফুল দুলছে মনোরম আবেশে। আকাশ জুড়ে শুভ্র মেঘেরা ভেসে বেড়াচ্ছে।সূর্য উঁকি দিচ্ছে চলে যাওয়ার পায়তারা নিয়ে। পায়রা সকলের জন্য গরম গরম চা আর আলুর পকোড়া বানিয়ে এনেছে।আদ্রিয়ানকে সকলে ঘিরে ধরেছে গান গাওয়ার জন্য। জাহিদ গিটার নিয়ে অতি আগ্রহে বসে আছে।অবশেষে জাহিদের হাত থেকে গিটার নিয়ে সুর তোলে আদ্রিয়ান অত:পর গুনগুন করে গেয়ে উঠলো,

এমনও নিদানের দিনে বিনীত প্রার্থনা গো, লক্ষ্য-কোটি ভুল আর ত্রুটি করিও মার্জনা গো,

শোনাইবো তোমারে আজ করেছি বাসনা গো,

ঐরাবতের হৃদয় হতে ক্ষুদ্র এ রচনা

আমি কি করিব? কোথায় যাব?

কোন সাধনে পাব গো?

আর একটি বার তোমারই দর্শন।

থামলো আদ্রিয়ান।চোখ তুলে তাকালো নূরের দিকে,নূর আগ হতেই তাকিয়ে আছে তার দিকে। জাহিদ পাশ থেকে চেঁচিয়ে আদ্রিয়ানকে বাহবা দিয়ে বললো,

" বাহ! দুলাভাই ফাটিয়ে দিয়েছো।"

সাইমাও বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো,

" আপনি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই আপনার গানের গলা।"

সবাই প্রশংসা করলেও একমাত্র চুপ করে রইলো নূর।ইশিতা আদ্রিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বললো,

" ভাইয়া নিশ্চয়ই আপুর জন্য এই গানটা গেয়েছেন তাই না।দেখো আপু ভাইয়া তোমাকে কতো ভালোবাসে।"

নূর মনে মনে বললো,

" ভালোবাসা না ছাই।গান গাইতে দেখে ভালোবাসা বলছে সবাই।মারতে দেখলে কি বলতো কে জানে।"

চলবে,,,,,,

নয়টার আগে এই পর্বে যদি 1.5k রিয়েক্ট উঠে তাহলে রাতে আরেকটা পর্ব দিবো।দেরিতে দেওয়ার জন্য দুঃখীত নেট খুবই স্লো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন