ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

২৮তম পর্ব

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি

#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী

(২৮)

( অনুমতি বিহীন কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ)

ইলহাম ভেবেছে হয়তো পায়রার শরীর খারাপ থাকায় গন্ধ লাগছে তাই সে আর জোর করলো না।

" কি খাবে তাহলে?"

পায়রা বেশ উচ্ছ্বাস নিয়ে বললো,

" ঝাল ঝাল নুডুলস খাবো। বেশি করে ঝাল দিয়ে।"

ইলহাম পায়রার আবদার শুনে বললো,

" রাতে ঝাল নুডুলস খেলে পেট খারাপ করবে।অন্য কিছু বলো।"

" না! আমার নুডুলস খেতে ইচ্ছে করছে। আমি নুডুলসই খাবো।"

ইলহাম দীর্ঘশ্বাস ফেললো আবদারে।অত:পর পায়রার হাত ধরে তাকে দাঁড় করিয়ে বললো,

" তাহলে চলুন মেডাম। গরম গরম নুডুলস বানিয়ে দেই।"

কাউন্টারে পা দুলিয়ে বসে আছে পায়রা আর ইলহামের রান্না দেখছে।নিপুণ হাতে কাটা সবজি দেখে পায়রা বললো,

" আপনি তো বেশ ভালোই রান্না পারেন দেখছি।গ্রাম ও সামলান সাথে রান্নাও।"

ইলহাম মৃদু হেসে বললো,

" বউটা কার দেখতে হবে তো।"

ধুয়া উঠা নুডুলস প্লেটে পরিবেশ করে পায়রার মুখের সামনে ধরলো ইলহাম।রাত বাজে বারোটা, পায়রার চোখে ঘুম নেই।অন্যরকম এক অনুভূতি তাকে ঘিরে রয়েছে। ইলহাম তার পাশে শুয়ে আছে। মানুষটার উপর আজ বেশ ধখল গিয়েছে তাই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। পায়রার ঘুম আসছে না। তবু সে চুপচাপ শুয়ে রইলো। ইলহামকে একটিবারের জন্যেও ডাকলো না

ভোরের আজান কানে আসতেই ঘুম ভেঙে যায় আদ্রিয়ানের।আজকাল ঘুম খুব একটা হয় না।হলেও চার কিংবা পাঁচ ঘন্টার বেশি স্থায়ী থাকে না । বাড়ি এসেছে পর্যন্ত নূরের সাথে তেমন একটা কথা হচ্ছে না আদ্রিয়ানের।কেউই কারো সাথে কথা বলে না, ভুলক্রমে সামনে এলেও উপেক্ষা করে চলে যায়।আদ্রিয়ান আগের মতো ঘুম থেকে উঠে ছাদে চলে যায় ব্যায়াম করতে।নূর আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠতেই দেখে বিছানায় সে একা।এখন বাজে সকাল সাতটা। আপাতত কলেজ নেই তার। ফ্রেশ হয়ে ঘর গুছিয়ে চলে যায় নিচে।নিচে গিয়ে দেখতে পায় ফারজানা সবাইকে চা দিয়ে দিয়েছে। নূর এগিয়ে আসতেই ফারজানা গরম গরম এক কাপ চা এগিয়ে দেয় তার দিকে। নূর চা খেয়ে রান্নাঘরে গিয়ে আজকে দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নিতে থাকে আর ফারজানার সাথে টুকটাক কথা বলছে।ফারজানা কাল গ্রামের বাড়ি চলে যাবে, সেখানেই বেশ কিছু দিন থাকবে।আজ দুপুরের পরপরই বের হবে সে।ইতিমধ্যেই নূর রান্না করতে শিখে গিয়েছে।এখন আর কোন কিছু নিয়েই তার বিপদে পড়তে হয় না। এক চুলোয় ডাল বসিয়ে আরেক চুলোয় বেগুন ভাজা চাপালো।অনেকগুলো ময়লা কাপড় জমা হয়ে আছে বিধায় সে ঠিক করলো আজ সবগুলো পরিস্কার করবে।যেই ভাবা সেই কাজ, রুমের দিকে এগোতেই দেখে আদ্রিয়ান ছাদ থেকে নেমে আসছে। পরনের সেন্টু গেঞ্জি ঘামে ভিজে আটসাট হয়ে লেপ্টে আছে তার শরীরে। আজ হঠাৎ ছাদে যেতে দেখে নূর ভ্রু কুঁচকে তাকায়।আদ্রিয়ান তাকে উপেক্ষা করে রুমের ভিতর চলে যায়। অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হবে এখন তার। নূর সবগুলো কাপড় নিয়ে ভিজিয়ে রাখলো, ভেবেছে পরে সব পরিস্কার করবে।আদ্রিয়ান গোসল সেরে তৈরি হয়ে নেয়। অফিসে যাওয়ার জন্য। নতুন চাকরি হেলাফেলা করলে চলবে না। আদ্রিয়ানকে তৈরি হতে দেখে নূর নিচে যায়।নাস্তা সাজিয়ে সে রান্না ঘরে চলে যায় কাজ করতে। গতকাল থেকে তাদের মাঝে টু শব্দ ও হয়নি।অবশ্য এতে নূরের কিছু যায় আসে না। যে সম্পর্কে ভালোবাসা নেই সেই সম্পর্ক কখনো আর বাকি দশটা সম্পর্কের মত হয় না। রাহেলা শাহ নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখে আদ্রিয়ান বেরিয়ে যাচ্ছে। আদ্রিয়ান তাকে মাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে তার দিকে।অত:পর বিদায় জানিয়ে চলে যায়।রাহেলা শাহ রান্নাঘরে এসে ফারজানাকে বললেন,

" তুই তো আজকে চলে যাবি। শোন যাওয়ার আগে ঘর তোর ভালো করে মুছে দিয়ে যাবি ।"

" ঠিক আছে বড়ো চাচি।"

ফারজানা মিন মিন করে বললো,

" সারাক্ষণ শুধু কাজের অর্ডারই দিয়ে চলে।"

রাহেলা শাহ চলে গেলে সে নূরের দিকে তাকিয়ে করুণ কন্ঠে বললো,

" দেখেছো ভাবি।বিকালে আমার ট্রেন।মারে নিয়া যাইতে হইবো আর তোমার শ্বাশুড়ি এখন বলে কিনা পুরো বাড়ি মুছে দিয়ে যেতে।"

ফারজানার করুণ সুর শুনে নূরের বেশ হাসি পেলো।বেচারী দুঃখে কষ্টে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে। নূর ফারজানার দুঃখ বুঝতে পেরে বললো,

" তোমার করতে হবে না।তুমি চলে যাও আমি করে দেবো।"

" সত্যি বলছো ভাবি?"

" হ্যাঁ সত্যি।"

ফারজানা ওই মুহুর্তেই ঠাস করে বসা থেকে উঠে নূরের হাত ধরে উচ্ছ্বাসাইট কন্ঠে বললো,

" তোমার মতো ভাবী যেন সবার ঘরে ঘরে হয়।এবার আমি যাই কেমন।আসার সময় কক্সবাজারের আচার আনমু তোমার লাইগা।"

ফারজানা ছুটে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে।নূর ডিম ভেজে সব গুছিয়ে রাখলো। একটা বালতিতে পানি ভরে নিয়ে গেলো ঘর মুছতে।

পায়রা ঘুম থেকে উঠেছে সবেমাত্র। রাতে ঘুম না হওয়ায় ঘুম ভেঙ্গেছে দেরিতে। উঠে দেখে ইলহাম তৈরি হচ্ছে অফিস যাওয়ার জন্য।

" ইশ! কতো বেলা হয়ে গেলো।আপনি আমায় ডাকলেন না কেন?"

ইলহাম পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে বললো,

" বাড়িতে তেমন কাজ নেই। তাই ডাকিনি।"

" নাশতা করবেন না? আপনি একটু বসুন আমি ঝটপট বানিয়ে দিচ্ছি। "

" আমি তোমার জন্য পাস্তা বানিয়ে রেখেছি। খেয়ে নিও। "

ইলহামের কথা শুনে পায়রা আর কিছু বললো না।কারণ ইলহাম প্রায় সময় তার জন্য নাস্তা বানিয়ে রেখে যায়। পায়রা ফ্রেশ হয়ে নিচে যেতেই ইলহাম ও তার সাথে চেয়ারে বসে পরে।প্রতিদিনের মতো আজ ও দুজন একসাথে বসে নাশতা করতে।এক চামচ মুখে দেওয়া মাত্রই পায়রা দৌড়ে যায় বেসিনে।হঠাৎ বেসিনে যেতে দেখে ইলহাম ও তার পেছন পেছন দৌড়ে যায়। পায়রাকে আবারও বমি করতে দেখে ইলহাম চিন্তিত স্বরে বললো,

" কি হয়েছে তোমার? কাল রাতেও বমি করলে আবার এখনও।"

পায়রা ক্লান্ত শরীর নিয়ে চেয়ারে বসলো, অত:পর ক্লান্ত কন্ঠে বললো,

" বুঝতে পারছি না কি হয়েছে।"

" আমি ডাক্তার ডাকছি।তুমি রুমে গিয়ে বিশ্রাম নাও।"

" লাগবে না।আমি ঠিক আছি।"

" কিচ্ছু ঠিক নেই।আমি কোন রিস্ক নেবো না।"

ইলহাম সাথে সাথেই ডাক্তার ডাকলো।দুশ্চিন্তায় গলা শুকিয়ে গিয়েছে তার। ডাক্তার পায়রার চেকআপ করে ইলহামের দিকে গম্ভীর চাহনিতে তাকাতেই ইলহামের মনে হলো যেন তার প্রাণ এখনি বেরিয়ে যাবে।কোন দুঃসংবাদ আসছে না তো। সে বিচলিত স্বরে বললো,

" কি হয়েছে আংকেল?"

ইলহামের কন্ঠস্বর বুঝতে পেরে ডাক্তার পরমুহূর্তেই অধরে হাসির রেখা ফুটিয়ে তোলে বললো,

" শাহ পরিবারে নতুন মেহমান আসতে চলেছে।মিষ্টি খাওয়াও ইলহাম।"

ডাক্তারের কথায় ইলহাম বিরক্তিকর কন্ঠে বললো,

" আপনি আগে আমার স্ত্রীর কি হয়েছে সেটা বলুন।"

" তুমি বাবা হতে চলেছো।এক সপ্তাহ চলছে।দু'ঘন্টার মাঝে মিষ্টি চাই আমার।"

ইলহামের মুখ দিয়ে যেন কথা বেরোচ্ছে না। সে বাকরুদ্ধ ডাক্তারের কথায়।পায়রা লজ্জ্বায় মাথা নত করে বসে আছে।ইলহাম ডাক্তারকে দরজা অব্দি এগিয়ে দিয়ে এসে দৌড়ে নিজেদের ঘরে চলে এলো।কাঁপা কাঁপা পায়ে পায়রার কাছে এসে তার পাশে বসলো।পায়রা তাকাচ্ছে না তার দিকে।কিছু সময় পর ইলহাম পায়রার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে তাতে কপাল ঠেকালো।অত:পর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।ইলহামকে এই প্রথমবার চোখের জল ফেলতে দেখছে পায়রা।সে ভেবেছে ইলহাম হয়তো খুশি নয়।পায়রা ব্যস্ত হয়ে ইলহামকে বললো,

" কি হয়েছে আপনি হঠাৎ কাঁদছেন কেন? আপনি কি খুশি হননি?"

ইলহাম নাক টেনে বললো,

" হালবাদ খুশি। জানো পায়রা, বাবার আদর পাইনি আমি।জন্মের সময়ই মারা যান তিনি।বড়ো ভাই ছিলো বাবার মতো। আজ দেখো আমিও বাবার হতে চলেছি।ছোট্ট দুখানা হাত আমার হাতের আঙ্গুল ধরে ছোট ছোট পায়ে হাঁটবে।হেসে খেলে বেড়াবে।আমি খুব খুশি।"

পায়রাও হেসে ফেললো ইলহামের শিশুসুলভ আচরণে।ইলহাম দ্রুত তার আম্মাকে ফোন করলো।সুরাইয়া শাহ পান চিবুচ্ছিলেন। ইলহামের ফোন পেয়েই অধরে হাসি ফুটে উঠে। তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন,

" কেমন আছো ইলহাম,আব্বা।"

" ভালো আছি আম্মা।আপনাকে একটা সুখবর দেওয়ার ছিলো।"

" কি সুখবর?"

" আপনার সঙ্গ দিতে একজন আসছে। "

সুরাইয়া শাহ ভেবেছেন হয়তো কোন মেহমান আসবে। তাই তিনি আবারও প্রশ্ন করলেন,

" কেউ বেড়াতে আসছে? কে সে?"

" আপনার নাতি নাতনী আসবে।"

সুরাইয়া শাহ হয়তো আশা করেননি এমন কিছু। হঠাৎ অনাকাঙ্খিত খবর পেয়ে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান।

" আমার নাতি নাতনী আসবে? সত্যি বলছো ইলহাম?"

" হ্যাঁ আম্মা।আজকেই জানতে পেরেছি।"

" আল্লাহ মুখ তুলে দেখেছেন এই পরিবারের উপর।"

অতপির তিনি চিৎকার করে সবাইকে ডাকতে লাগলেন,

" ওরে তোমরা কে কোথায় আছো! আমার নাতি নাতনী আসবে!"

রাহেলা শাহ বাগানে পানি দিচ্ছিলেন।সুরাইয়া শাহ'র চিৎকার শুনে তার ঘরে আসেন।নূর ও বাথরুমে কাপড় পরিস্কার করছিলো।সেও ছুটে আসে।সুরাইয়া শাহ হাসতে হাসতে বলেন,

" শাহ পরিবারে বংশধর আসছে।আমার নাতি নাতনী আসছে।"

নূর হতবাক তার কথায়।তারমানে পায়রা মা হতে চলেছে।রাহেলা শাহ ও খুশি হোন পায়রার এই সুখবর পেয়ে।তিনি নিজে ফোন করে পায়রাকে শুভেচ্ছা জানায়।সুরাইয়া শাহ ইলহামকে বললেন,

" এই সময় খুব সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হয়। তুমি বরং বউমাকে নিয়ে বাড়িতে চলে এসো। ওই বাড়িতে তুমি কাজে চলে গেলে পায়রা একা হয়ে যাবে। "

ইলহাম ও বুঝতে পারলো তার মায়ের কথা।সে তার মায়ের কথায় সায় দিয়ে বললো,

" ওই বাড়িতে না হয় পরে যাব আপাতত তুমি আমাদের বাড়িতে চলে এসো। আমি আসছি তোমাকে নিতে। "

কথা শেষ করে ইলহাম তার দলের একটা ছেলেকে ফোন করে বলে,

" শোন শাওন। আজ গ্রামের প্রত্যেকটা অনাথআশ্রমে মিষ্টি দিয়ে আসবি।আমার সন্তান আসছে পৃথিবীতে। "

ফোনের ওপর প্রান্তে থাকা ছেলেটি ইলহামকে বলে,

" সত্যি ভাই।আপনে বাবা হইতে যাইতাছেন?"

" হ্যাঁ। "

পায়রা ইলহামের পাগলামো দেখছে।ইলহাম ঝটপট নিজের ফোন পকেটে রেখে বললো,

" তুমি একটু অপেক্ষা করো আমি আম্মাকে নিয়ে আসছি।

সুরাইয়া শাহ বেজায় খুশি ছেলের প্রস্তাবে।তিনি রাহেলা শাহ'কে বললেন,

" আমার ছেলে আমাকে নিতে আসছে। শোনো আমি চলে গেলে নূরের সাথে খারাপ ব্যবহার করো না।মেয়েটা বড্ড ভালো।"

সুরাইয়া শাহ'কে এভাবে আনন্দে দেখে রাহেলা শাহ নিজেও বেজায় খুশি। তিনি সুরাইয়া শাহ'র শাড়ি একে একে গুছিয়ে দেন। কিছু সময়ের মাঝেই ইলহাম চলে আসে সুরাইয়া শাহ'কে নিতে।তাকে দেখে নূর ছুটে যায় তার কাছে।

" আপু কি সত্যিই?"

ইলহাম বড়ো সাইজের একটি মিষ্টি নূরের মুখে ঢুকিয়ে বললো,

" এখানে দুই প্যাকেট মিষ্টি আছে। এক প্যাকেট বাড়ির সবার। আরেক প্যাকেট শুধু তোমার। "

নূর বুঝতে পারলো ইলহাম সত্যি কথাই বলছে।সুরাইয়া শাহ দেরি না করে ব্যাগ পত্র নিয়ে এগিয়ে আসলেন।রাহেলা শাহ ইলহামের দিকে তাকিয়ে বললো,

" তুমি ফোন রাখা মাত্রই যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পরেছে আম্মা।নিয়ে যাও।"

" ঠিক আছে ভাবি।তাহলে আমরা বের হলাম।"

ইলহাম তার মা'কে নিয়ে বেরিয়ে যায়।নূরের কাছে ফোন না থাকায় সে পায়রার সাথে কথা বলতে পারছে না। রাহেলা শাহ'কে বললে তিনি কখনো ফোন দেবেন না জানে নূর। তাই জিগ্যেস করলো না।ভেবেছে হয়তো আদ্রিয়ান আসলেই জিগ্যেস করবে একবার।আদ্রিয়ান কবে আসবে ছটফট ছটফট করছে সে।আজ মনে হচ্ছে দিনই যাচ্ছে না।আদ্রিয়ান আসবে সেই সন্ধ্যায়।ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নিজের অস্থিরতাকে দূর করার জন্য সে বাকি কাজগুলো ঝটপট সেরে নিলো।হঠাৎ কলিংবেল বাজায় আতকে উঠলো সে। এই ভর দুপুরে কে আসবে আবার।দু তিনবার বেল বাজার পর নূর দরজা খুলে দেখলো আদ্রিয়ান এসেছে।আদ্রিয়ানকে জিগ্যেস করবে তার আগেই আদ্রিয়ান তার মায়ের ঘরে চলে গেলো।রাহেলা শাহ যোহরের নামাজ আদায় করছিলেন।নামাজ শেষে আদ্রিয়ানকে দেখতে পেয়ে জিগ্যেস করলো,

" এই সময় তুমি?"

" আমাকে ট্রেনিং এর জন্য পাঁচমাস ঢাকায় থাকতে হবে।"

" কি বলছো? পাঁচমাস?"

" হ্যাঁ আম্মা।কাল সকালেই রওনা দিতে হবে।অফিস থেকে আরো নয় জনকে যেতে বলেছে।"

নূর এসেছিলো আদ্রিয়ানের ফোন নিতে কিন্তু তার চলে যাওয়ার খবর শুনে সে নিজেও কিছুটা অবাক হলো।আদ্রিয়ান নিজের ঘরে এসে কাপড়-চোপড় গোছাতে আরম্ভ করলো।নূর তার আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। আর ধৈর্য ধরতে না পেরে অবশেষে বললো,

" আপনার ফোনটা একটু দেওয়া যাবে? শুনেছি আপু নাকি পোয়াতি। "

নূরের কথায় আদ্রিয়ান ও অবাক।এতো বড়ো একটা খবর আর সেই জানে না।পকেট থেকে ফোন এগিয়ে দিতেই নূর খপ করে নিয়ে নিলো।অত:পর ফোন দিলো পায়রার ফোনে।কয়েকবার রিং পড়ার পর ফোন তুললো পায়রা।আদ্রিয়ানের নাম্বার থেকে ফোন আসায় সে অবাক হয়। আদ্রিয়ান আবার তাকে ফোন করতে যাবে কেন। ফোন ধরার সাথে সাথে নূর উৎসাহিত হয়ে বললো,

" আপু যা শুনেছি সব কি সত্যি? "

" হ্যাঁ। আজ জানতে পারলাম এক সপ্তাহ ধরে আমার গর্ভে আরো একজনের বসবাস রয়েছে।"

" জানো আপু আমি খুব খুশি। আমি কতটা খুশি তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না।"

খপ করে নূরের হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলো আদ্রিয়ান।অত:পর পায়রাকে বললো,

" চাচ্চুকে ফোন দাও জলদি। "

পায়রা আদ্রিয়ানের কণ্ঠস্বর পেয়ে বললো,

" দিচ্ছি।"

ইলহামকে ফোন দিতেই আদ্রিয়ান রেগে বললো,

" বাটপার।এতো বড়ো খবর টা আমার কাছ থেকে লুকালে কেন?"

ইলহাম আদ্রিয়ানের প্রশ্নের জবাবে বললো,

" মুখ সামলে কথা বল আমি তোর বড়। "

" সাইডে রাখো তো এসব।এখন বলো আমাকে বলোনি কেন?"

" তুই অফিসে ছিলি তাই জানাইনি।মিষ্টি পাঠিয়ে দিয়েছি খেয়ে নিস। "

" শুধু মিষ্টি পাঠালেই চলবে না।আরও কিছু লাগবে।"

" কি লাগবে তোর?"

চলবে,,,,,,,

( 1.3k করে দিবেন আপনারা প্লিজ।রেসপন্স কমিয়ে দিয়েছেন। 1.3k হলে পরের পর্ব আসবে।সবাই দুলাইন মন্তব্য করে যাবেন।)

সকলে গ্রুপে জইন হোন

https://facebook.com/groups/4214405902220456/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন