ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

৩০তম পর্ব

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি

#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী

(৩০)

( অনুমতি বিহীন কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। "

আদ্রিয়ান টেবিলে খেতে বসেছে। নূর মাছ মাংস এগিয়ে দিচ্ছে তাকে।রাহেলা শাহ ও তার সাথে খেতে বসেছেন।নূর চেয়েছিলো একসাথে খেয়ে নিতে কিন্তু রাহেলা শাহ'র কঠোর চাহনি চোখে পরার পর আর সাহস হয়নি। আদ্রিয়ান নূরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটা খালি প্লেটে ভাত নিলো তা দেখে রাহেলা শাহ বললেন,

" এখানে কার জন্যে ভাই নিচ্ছো আদ্রিয়ান? তোমার প্লেটে কি কিছু হয়েছে?"

আদ্রিয়ান শান্ত কন্ঠে বললো,

" নূরের জন্য। "

অত:পর নূরের দিকে তাকিয়ে বললো,

" খেতে বসো।"

আদ্রিয়ানের কথায় নূর একবার রাহেলা শাহ'র দিকে তাকালো, তিনি রীতিমতো ফুসছেন নূরের প্রতি ছেলের যত্ন দেখে।তবুও ছেলের কথা ভেবে তিনি কিছু বললেন না।নূর আদ্রিয়ানের কথা শুনে খেতে বসলো তার পাশে।

ইলহাম একজন কাজের লোক ঠিক করেছে তার বাসায় কাজ করার জন্য। আজ পায়রাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলো। সেখানে বলেছে পায়রার রক্ত শূন্যতা রয়েছে।যা নিয়ে ইলহাম রীতিমতো চিন্তায় আছে। সে চায় না পায়রা কোনপ্রকার কাজ করুক।সুরাইয়া শাহ পায়রার পাশে বসে গল্প করছেন।ইলহাম ফোনে কথা বলছে,কথা শেষ হলে তাদের কাছে এসে বসে।সুরাইয়া শাহ ইলহামের উদ্দেশ্যে বলেন,

" আমি বলছিলাম কি পায়রাকে নিয়ে ওই বাড়ি চলো।সকলে একসাথে থাকলে ভালো লাগবে।"

মায়ের কথা শুনে ইলহামের মুখ গম্ভীর হয়ে গেলো। সে হাতের ঘড়ি খুলতে খুলতে বললো,

" না আম্মা।ওই বাড়িতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।আপনি তো আছেনই এখানে সবকিছু দেখিয়ে দেওয়ার জন্য। "

" পায়রার ভালোর জন্যই বলছিলাম।একা থাকলে মনমরা হয়ে থাকবে।ওখানে নূর ও আছে যেহেতু দুজনে আনন্দে থাকবে।"

" ভাবি নূরকে পায়রার সাথে তেমন একটা সহ্য করতে পারে না। আমি চাই না আমাদের স্বামী-স্ত্রীর জন্য কারো সমস্যা হোক।"

" তাই বলে তুমি তোমার নিজের বাড়ি যাবে না ইলহাম? ওই ভিটা বাড়ি তোমার আব্বার।তোমার অধিকার রয়েছে সেখানে।"

ইলহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,

" আমার জায়গা জমি চাই না আম্মা।আমার যথেষ্ট পরিমাণ রয়েছে।আমি এতেই খুশি।আমার সবকিছুই আমার স্ত্রী, এছাড়া আমার আর কিছুর প্রতি চাওয়া পাওয়া নেই।"

সুরাইয়া শাহ দমে গেলেন ইলহামের কথায়।পায়রা নতুন কাজের মেয়েটাকে সব বুঝিয়ে দিচ্ছে।পাপিয়া মেয়েটার বয়স বেশি হবে না। উনিশ বা কুড়ি হবে হয়তো। আজকাল কাজের লোক খুব একটা পাওয়া যায় না। ইলহামকে তার দলের একটা ছেলে ঠিক করে দিয়েছে কাজের মেয়ে।পায়রা মেয়েটিকে সব বুঝিয়ে দিলো, কোথায় কি আছে সব চিনিয়ে দিয়েছে।

" তুমি কাল থেকে কাজে এসো।"

মেয়েটি মাথা নেড়ে সায় জানিয়ে চলে গেলো। রাতের রান্না করা হয়নি। ইলহাম বাহিরে থেকে খাবার নিয়ে এসেছে। পায়রা টেবিলে সবকিছু সাজিয়ে সুরাইয়া শাহ ও ইলহামকে ডেকে আনলো খাবার খেতে।আজ ইলহাম খুব খুশি,যা তার চোখে মুখে ভেসে উঠছে।

রাত্রি খুব একটা হয়নি।তবে আজকের আবহাওয়া খুবই শান্ত। আদ্রিয়ান সোফায় বসে আছে।রাহেলা শাহ গল্প করছেন আদ্রিয়ানের সাথে।আদ্রিয়ানের ধ্যান সেদিকে নেই।নূর টেবিল থেকে সবকিছু রান্নাঘরে নিয়ে যাচ্ছে।তার নূপুরের ঝুমুর ঝুমুর শব্দ মোহিত করছে আদ্রিয়ানকে।সে খুব মনোযোগের সহিত সেই শব্দ শুনছে।নূর নিজের মতো কাজ করছে। আদ্রিয়ানের দিকে তার খেয়াল নেই।

" আদ্রিয়ান তুমি কি শুনছো আমার কথা?"

রাহেলা শাহ'র কথায় আদ্রিয়ানের ধ্যান ভাঙ্গে । সে আমতাআমতা করে বলে,

" জি শুনছি।"

" বলছিলাম কি।এখন যেহেতু যেহেতু ইলহাম আলাদা হয়ে গিয়েছে তার ঘর সংসার নিয়ে, তোমার উচিত জায়গা জমি নিয়ে কথা বলা। "

" আমি ঠিক আপনার কথা বুঝতে পারিনি মা।"

" তোমার আব্বার ভাগের অংশ বুঝে নেওয়ার কথা বলছি।আর কতদিন এভাবে চলবে।"

আদ্রিয়ানের মেজাজ খারাপ হয়ে যায় রাহেলা শাহ'র কথা শুনে।সে বিরক্ত নিয়ে বলে,

" জায়গা জমি ভাগ করতে হচ্ছে কেন? যেভাবে এতদিন ছিলাম এখনো সেই ভাবেই থাকবো সমস্যা কি?"

" এখন তোমার আলাদা সংসার হয়েছে কয়দিন পর যদি সন্তান হয় তখন?"

" তখনের ব্যপার তখন দেখা যাবে।আমি এসব ব্যাপারে কোন কথা বলতে চাই না। "

রাহেলা শাহ মিনমিন করে বললেন,

" এই ছেলের মাথায় বুদ্ধিসুদ্ধি একেবারে নেই।"

ঘড়িতে বাজে দ্বাদশ প্রহর।আদ্রিয়ানকে কালকে ভোরে উঠতে হবে তাই সে বললো,

" আমি ঘুমাতে যাচ্ছি।কাল তাড়াতাড়ি রওনা দিতে হবে। "

আদ্রিয়ান উপরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আবার মনে করে যেন থেমে যায় অতঃপর বলে উঠলো,

" নূর তুমিও চলে এসো। আমার কিছু জিনিস এখনও খুঁজে পাচ্ছিনা। "

নূর আদ্রিয়ানের কথা শুনে হাতের কাজ ফেলে রেখে ওড়নায় হাত মুছে উপরে চলে যায়।রাহেলা শাহ দেখলেন রান্না ঘরের কাজ আরো অনেকটাই বাকি রয়ে গিয়েছে। তিনি তা দেখে লাইট বন্ধ করে নিজের ঘরে যেতে যেতে মিনমিন করে বললেন,

" সব কাজ ফেলে রেখে চলে গিয়েছে।কাল সব কাজ একসাথে করাবো মহারানীকে দিয়ে।"

নূর রুমে আসতেই দেখতে পেলো আদ্রিয়ান ব্যাগ ও ট্রলি এক সাইডে রেখে শুয়ে পরেছে। নূর আদ্রিয়ানের সামনে এসে বললো,

" আপনি কি খুঁজে পাচ্ছিলেন না বলছিলেন। "

আদ্রিয়ান চোখ বন্ধ অবস্থায় বলে উঠলো,

" ঘুমিয়ে পরো।সকালে খুঁজে নিবো।"

"কিন্তু.... "

" শুয়ে পরতে বলেছি।"

নূর হাত মুখ ধুয়ে শুয়ে পরলো। সারাদিন বিছানায় পিঠ ঠেকাতে পারেনি।অবশেষে কাজ শেষ হলো।আদ্রিয়ান যদি না ডাকতো তবে হয়তো ঘন্টা দুয়েক পরেই আসতে হতো কাজ শেষ করে।খানিকক্ষণের মাঝেই ঘুম এসে ধরা দিলো নূরের চোখে।আদ্রিয়ান ঘুমায়নি।সে তাকিয়ে আছে নূরের চেহারার দিকে।সেই প্রথমদিনের নূর ও আজকের নূরের মাঝে অনেক তফাৎ দেখতে পাচ্ছে সে।আগের মতো লাবণ্য নেই চেহারায়।গালের দুপাশের চাপা ভেঙে গিয়েছে।গলার হাড় বোঝা যাচ্ছে শুকিয়ে যাওয়ার কারণে। তবুও যেন অপরুপ লাগছে নূরকে। চাঁদের আলোয় তার চেহারায় আলাদা মায়া ভর করেছে।এই মায়ায় বন্দী হয়ে পরেছে আদ্রিয়ান।আদ্রিয়ান আস্তে করে উঠে বেলকনিতে চলে গেলো।নূর টের পেলো না অবশ্য। আকাশের দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছে সে। মেঘলা আকাশে ঝিলমিলি তারা জ্বলজ্বল করছে, মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে নিজের মতো। চাঁদ তার সমস্ত সৌন্দর্য যেন নূরের মাঝে ঢেলে দিয়েছে।হঠাৎ কি যেন ভেবে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো তার চোখ থেকে।সে ধীরে ধীরে বললো,

" তুমি তো নিজের মনের কথা খুব সহজেই বলে দিতে পারো নূর।কিন্তু আমি যে খুব একা।কাকে বলবো নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গভীর শব্দগুলো।আমার মাঝে তোমার মতো অতো সাহস নেই নূর।এবার তুমি যা বলবে তাই হবে।ট্রেনিং থেকে ফেরার পর তুমি যদি আমার কাছ থেকে মুক্তি চাও তবে তাই হবে।মুক্তি দিয়ে দেবো আমি তোমায়।আর কখনো এই আদ্রিয়ান শাহ'র চেহারা দেখতে পাবে না তুমি।তুমি ইচ্ছেতেই এবার সব হবে।"

নূর বোধহয় শুনলো না কিছু। সে ঘুমাচ্ছে নিজের মতো করে।অপর পাশের মানুষ যে এতোগুলো কথা বললো তার কিছু নূর শুনলো না।রাত বাজে তিনটে।আদ্রিয়ান এখনো ঘুমায়নি। সে বেলকনিতে বসে আছে আর নূরের দিকে তাকিয়ে আছে।সে ভাবছে নূরকে নিয়ে।রাহেলা শাহ যে নূরকে দুচোখে দেখতে পারেননা তা সে ভালোই বুঝতে পেরেছে।সে না থাকলে কি হবে নূরের।কাল থেকে কি নূর ঠিকঠাক ভাবে খেতে পাবে তো।এসব ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যাচ্ছে।আদ্রিয়ানের গাড়ি ছাড়বে ভোর ছয়টায়।আর তিন ঘন্টা বাকি।আদ্রিয়ান চাইলে ঘুমিয়ে যেতে পারতো কিন্তু সে ঘুমালো না।চোখ ভরে দেখছে নূরকে।কালকের পর ছয়মাস আর দেখতে পারবে না এই মেয়ের রাগ 'অভিমান,কান্না। কিছুই না।এসব ভাবতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো আদ্রিয়ানের। তার চলে যাওয়ার পর কি নূর ভুলে যাবে তাকে? উল্টোপাল্টা সকল চিন্তাধারা ঘিরে ধরেছে তাকে।সময় কিভাবে কিভাবে যেন পেরিয়ে গেলো।নূরের ঘুম ভেঙেছে সবেমাত্র। আজ তারাতাড়ি উঠতে হবে তাই এলার্ম দিয়ে রেখেছিলো তবে তার আগেই ঘুম ভেঙে গিয়েছে।ঘড়িতে এখন সাড়ে চারটা বাজছে। নূর পাশে তাকিয়ে দেখতে পায় আদ্রিয়ান নেই।নূর ভেবেছে আদ্রিয়ান হয়তো তার আগেই উঠে পড়েছে আর সে দেরি করে ফেলেছে। ব্যাস তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ধপাস করে পড়ে গেলো মেঝেতে।আদ্রিয়ান ছুটে এসে তাৎক্ষণাত ধরে ফেললো নূরকে।

" ষ্টুপিড! এতো তাড়াহুড়ো করছিলে কেন?"

আদ্রিয়ানকে দেখে নূর বলে উঠলো,

" আপনি উঠে পরেছেন।আমি ভেবেছিলাম হয়তো দেরি হয়ে গিয়েছে তাই।"

নূর আদ্রিয়ানের চোখের দিকে তাকাতেই লক্ষ্য করলো আদ্রিয়ানের চোখ দুটো লালবর্ণ ধারণ করেছে না ঘুমানোয়।নূর উঠে দাঁড়ালো।আদ্রিয়ান নূরের কাছ থেকে সরে যেতেই নূর আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে জিগ্যেস করলো,

" আপনি ঘুমাননি?"

আদ্রিয়ান থতমত খেয়ে গেলো নূরের প্রশ্নে।সে ফিরে তাকালো না। না তাকিয়েই উত্তর দিলো,

"ঘুমিয়েছি।ঘুম বেশি হয়নি তাই।"

নূর আর কিছু জিগ্যেস করলো না। লাইট জ্বালিয়ে বিছানা পরিস্কার করে ফ্রেশ হয়ে নিলো।আদ্রিয়ান নূরের কর্মকান্ড দেখছে।নূপুরের ঝুনঝুন শব্দ কি আর এই ছয়মাসে শুনতে পাবে সে? এর উত্তর জানা নেই তার।নূর তাড়াহুড়ো করে সব কাজ করছে।এক চুলোয় রুটি সেকতে লাগলো।আরেক চুলোয় চা বসিয়ে দিয়েছে। রাহেলা শাহ ও উঠে পরেছেন।আদ্রিয়ান সবকিছু গুছিয়ে নিলো বাকি যা ছিলো।সাড়ে পাঁচটায় বের হতে হবে তাকে।আদ্রিয়ান রাহেলা শাহ'র ঘরে আসতেই দেখতে পান তিনি তসবি গুনছেন। আদ্রিয়ান তার এসে বসলো।রাহেলা শাহ আদ্রিয়ানকে দেখে তসবি রেখে বললেন,

"কিছু বলবে আদ্রিয়ান?"

আদ্রিয়ান পকেট থেকে একটা ফোন বের করে রাহেলা শাহ'র দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

" আমি চলে গেলে নূরকে এই ফোনটা দিবেন আম্মা।আমি এটাতে ফোন করবো ওকে।"

রাহেলা শাহ চাপা হেসে ফোনটা নিজের হাতে নিয়ে বললেন,

" আমি দিয়ে দিবো নূরকে তুমি ফোন করলে।"

" আরও একটা কথা মা।"

" হ্যাঁ বলো।"

"নূরকে দেখে রেখো মা।একটু খেয়াল রেখো ওর।"

" ওসব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না আদ্রিয়ান।আমি সব দেখে শুনে রাখবো।"

" আপনার উপর আমার ভরসা আছে আম্মা।"

" তুমি নাস্তা করে নাও। ছয়টার আগে বের হতে হবে তোমায়।"

আদ্রিয়ান সায় জানিয়ে চলে গেলো।নূর আজ আদ্রিয়ানের পছন্দের সব নাশতা তৈরি করেছে।টিফিন ও তৈরি করেছে তবে খুব ভয়ে ভয়ে।আদেও আদ্রিয়ান নেবে তো তার তৈরি করা টিফিন।আদ্রিয়ান টেবিলে বসতেই দেখতে পেলো তার পছন্দের নবাবি সেমাই, পাস্তা ও পরোটা। আদ্রিয়ান খুব আয়েশ করে খায় সবগুলো নাস্তা।অবশ্য কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছে।আদ্রিয়ান নিজের ঘরে চলে গেলো খেয়ে।কালো রঙের একটি শার্ট পরে নিলো।নূর রুমে এসে দেখলো আদ্রিয়ান সব গোছগাছ করে নিজের চুল ঠিক করে নিলো অত:পর ব্যাগ ও ট্রলি নিয়ে নিলো।নূর তার থেকে কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে আছে।আচমকা আদ্রিয়ান তার সামনে এগিয়ে এলো। হুট করেই জড়িয়ে ধরলো নূরকে।নূর হতবাক আদ্রিয়ানের কর্মকান্ডে।বেশ কিছুক্ষণ পর আদ্রিয়ান নূরের কপালে ভালোবাসার পরশ এঁকে বললো,

" সাবধানে থাকবে। নিজের খেয়াল রাখবে।"

নূর শুধু নিজের মাথা নাড়লো।আদ্রিয়ান তার থেকে দূরে সরে ব্যাগ হাতে নিয়ে বললো,

" মায়ের কাছে ফোন দিয়েছি।নিয়ে নিও।"

ফোনের কথা শুনে নূরের মন নেঁচে উঠলো।ফোন থাকলে আপার সাথে কথা বলতে পারবে। নূরের অধরে সদ্য ফোটা হাসি দেখে আদ্রিয়ান মুচকি হেসে রুম থেকে বেরিয়ে পরলো। রাহেলা শাহ গেইটে দাঁড়িয়ে আছেন।আদ্রিয়ান সকলকে বিদায় দিয়ে বেরিয়ে পরলো। নূর ভেবেছিলো আদ্রিয়ান চলে গেলে আরেকটু ঘুমাবে। যেহেতু নাস্তা তৈরি করে রয়েছে।যেই ভাবা সেই কাজ।নূর সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে গেলে রাহেলা শাহ নূরকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠেন,

" কোথায় যাচ্ছো?"

" জ্বি আম্মা,রুমে যাচ্ছি।"

" রান্নাঘরে কাল রাতের বাসন পরে আছে।সব ধুয়ে ফেলো।"

রাহেলা শাহ'র কথা শুনে নূরের মন খারাপ হয়ে গেলো।তবুও সে মলিন কন্ঠে বললো,

" আম্মা আরেকটু পরে করবো।আর তো কাজ নেই।"

রাহেলা শাহ হুট করে নূরকে ধমক দিয়ে বললেন,

" অনেক কাজ রয়েছে।আগে এসব ধুয়ে ফেলো।আর শুনো আজ থেকে ফারজানাকে বিদায় করে দিয়েছি।তুমিই সব কাজ করবে।"

রাহেলা শাহ'র কথায় নূরের মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো যেন।এতোগুলো কাজ সে একা হাতে কিভাবে করবে।এর মাঝে রাহেলা শাহ আবার বলে উঠলেন,

" গোয়াল ঘর টা পরিস্কার করবে এরপর।গরুর দুধ ও নেয়া লাগবে।"

গোয়াল ঘরের গন্ধের কথা মনে পরলেই বমি চলে আসছে নূরের।সে কিকরে এসব করবে।নূর কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো,

" আম্মা এসব তো ছেলেদের কাজ।আমি এসব পারি না।"

রাহেলা শাহ কঠোর কন্ঠে নূরের প্রশ্নের জবাব দিলো,

" এক সময় আমরাও করেছি । এসব এত কঠিন কাজ না।বাহানা না করে তাড়াতাড়ি যাও । আর হ্যাঁ। গরু ঘরের পাশে ভুসি রাখা আছে সেগুলো গরুকে দিবে।"

নূর ছোটবেলায় মামাকে দেখেছিলো গরুকে ভুসি খাওয়াতে।গরু দেখলেই তো ভয় করে তার, কিভাবে এসব করবে বুঝতে পারছে না।রাহেলা শাহ নারিকেল পাতার ঝাড়ু নূরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

" আগে বাসন ধুয়ে পরিস্কার করবে।তারপর গরুঘর।"

নূর রান্নাঘরে এসে কাল রাতের সব প্লেট ধুয়ে পরিস্কার করলো তবে গোয়ালঘরের দিকে যেতে চাইলো না।গোয়াল ঘরের সামনে আসতেই বিশ্রী গন্ধ নাকে ভেসে আসলো।নূর উড়না দিয়ে নাক চেপে ধরেছে।

" ইশশ! কি গন্ধ!"

নূর পিছু হটে যেতে নিলে দেখতে পায় রাহেলা শাহ দাঁড়িয়ে আছেন সেখানে।তিনি নূরের বাহু শক্ত করে ধরে বললেন,

" যাও দ্রুত পরিস্কার করো।"

গোয়াল ঘরে যেতেই দেখতে পায় ঘাস,গোবর ময়লা এদিক ওদিক পরে আছে।মশা ভেনভেন করছে আশে পাশে। নূরের গা গুলিয়ে বমি চলে এলো। সে বমি করতে গিয়েও করলো না।উড়না কোমড়ে পেঁচিয়ে ঝাড়ু দিতে যাবে কিন্তু তখনি রাহেলা শাহ চিৎকার করে বলে উঠেন,

" আগে গোবর তুলো।গোবরগুলো একটা বস্তায় ঢুকিয়ে রেখে তারপর ঝাট দিতে হবে।"

হাতে গোবর ঘাটতে হবে দেখে নূরের কান্না করতে ইচ্ছে করছে।জীবনে কখনো এসব কাজ করেনি সে।চুলগুলো বেশ বিরক্ত করছে।বিশেষ করে সামনের চুলগুলো। নূর একটা কাটা দিয়ে চুল বেঁধে গোবরগুলো তুলে নেয়।এর মাঝে দুবার বমি করে দিয়েছে সে।গোবর তুলে ঝাড়ু দিতেই দেখতে পায় আবার গোবর ফেলেছে গরু।তা দেখে নূর এবার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো।আবারও পরিস্কার করতে হবে।আর কোন উপায় না পেয়ে আবারো পরিষ্কার করতে লাগলো। এবার ভুসি মেখে দিতে হবে। গরুর বড় বড় শিং দেখেই ভয় করছে নূরের।কিভাবে ভুসি খেতে দিবে গরুকে।ভয়ে ভয়ে ভুসি নিলো হাতে কিন্তু কিভাবে মাখবে বুঝতে পারলো না।পানিতে মেশাতে গিয়ে দেখলো মিশলো না।সে এবার না বুঝে অর্ধেক ভুসি পানিতে মিশিতে দিলো।রাহেলা শাহ নূরের কাজ দেখতে এসে ভুসির কর্মকাণ্ড দেখতে পেয়ে ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দিলো নূরের গালে।

" মুখপুরী!এতগুলো বুঝি নষ্ট করলে তুমি।আজ তোমাকে এই গোয়ালঘরে ভাত খেতে দিবো। এই হবে তোমার শাস্তি। "

" আমায় ক্ষমা করে দিন আম্মা।আমি ইচ্ছে করে করিনি। আমি বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে বানাবো তাই... "

রাহেলা শাহ ঠিক করে বানিয়ে দিলেন গরুর ভুসি।অত:পর নূরকে বললেন,

" গোয়ালঘরের পাশের বাথরুম টাও পরিস্কার করে ফেলো একেবারে।অনেকদিন ধরে এভাবে পরে আছে।এরপর ছাদে যেই পাতিলগুলো রাখা আছে সেসব ধুয়ে নতুনের মত পরিষ্কার করবে। "

নূর গোয়াল ঘরের পাশের বাথরুম টা দেখে অবাকের চরম পর্যায়ে। তার জীবনে সে এরকম যখন জঘন্য বাথরুম কখনো দেখিনি এখানে ওখানে ময়লা পড়ে আছে।নোংরা। নূর হঠাৎ আবারও বমি করে দিলো।রাহেলা শাহ সরে গেলেন নূরের পাশ থেকে।নূর গড়গড় করে বমি করছে।পেটে যা ছিলো সবই বেরিয়ে এসেছে এতোবার বমি করার পর। রাহেলা শাহ নূরের অবস্থা দেখে মুখ ভেঙ্গিয়ে বললেন,

" কাজ করতে বললেই যত নাটক বেড়ে যায় উনার ।খাওয়ার সময় ঠিকই তিন প্লেট খেতে পারে।"

নূরের শরীর দূর্বল হয়ে পরেছে।রাহেলা শাহ'র কথা শুনে তার প্রচন্ড খারাপ লাগলো।শেষ পর্যন্ত কিনা খাবার নিয়ে খোটা।

চলবে,,,,,,,,,,

( সবাই রেসপন্স করবেন ও গঠনমূলক কমেন্ট করবেন।1.3k করে দিন জলদি।তাহলে পরবর্তী পর্ব আসবে।)

গ্রুপে জইন হয়ে নিন সকলে,,,,

https://facebook.com/groups/4214405902220456/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন