ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

৩২তম পর্ব

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি

#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী

(৩২)

( কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। "

রাহেলা শাহ ফোন কেটে বেরিয়ে এসে দেখলেন নূর টেবিলে বসে আছে। তিনি শাড়ির আঁচল দিয়ে কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছে তার সামনে গেলো। আপাতত ডাক্তার ডাকবেন না বলে মনস্থির করেছেন তিনি।

" নূর তুমি নিজের ঘরে যাও।হয়তো গ্যাস্ট্রিকের জন্য এমন হচ্ছে।"

রাহেলা শাহ'র কথা শুনে নূর নিজের ঘরে চলে গেলো। মাথা ঘুরাচ্ছে তার। চোখে অন্ধকার দেখছে সে রীতিমতো। বিছানায় শরীর এলিয়ে দিতেই সকল ক্লান্তি যেন ভর করে বসলো তার শরীরে। কিছুক্ষণের পরেই একজন মহিলা প্রবেশ করলো নূরের ঘরে,তার পেছন পেছন এলেন রাহেলা শাহ। মহিলাটিকে দেখে নূর মাথায় উড়না দিয়ে উঠে বসলো।মূলত রাহেলা শাহ নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন নূর আদেও গর্ভবতী কিনা।

" আম্মা ইনি কে?"

মহিলাটি নূরের দিকে তাকিয়ে সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে বললেন,

" তুমি নাকি সকাল থেকে অসুস্থ তাই তোমার শাশুড়ি মা আমাকে ডেকে এনেছেন। অনেক ভাগ্য করে এমন শাশুড়ি পেয়েছো,অসুস্থ হতে না হতেই এত যত্নআত্তির করছেন।"

নূর মৃদু হাসলো তার কথায়।ভেতরের খবর তো কেউ জানে না,সবাই উপরের মুখোশ টাই চিনে।

মহিলাটি নূরের চেকআপ করে বললেন,

" অভিনন্দন রাহেলা আপা।আপনি দাদি হতে চলেছেন।এখন কিন্তু আরও বেশি যত্নে রাখতে হবে ছেলের বউকে।"

নূর খুশি হলেও সেই সাথে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো।রাহেলা শাহ কি আদেও নূরকে ভালো থাকতে দিবে?প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলো না নূর।সেই মহিলা চলে যাওয়ার পরপরই নূর ব্যাগ গোছাতে শুরু করলো। রাহেলা শাহ এসে দেখতে পেলেন নূর ব্যাগ গোছাচ্ছে। এ দেখে তিনি প্রশ্ন করলেন,

" এ কি! তুমি ব্যাগ গুছিয়ে কোথায় যাচ্ছো?"

নূর আমতাআমতা করে বললো,

" যতদিন না আমার বাচ্চা হচ্ছে আমি আমার বাপের বাড়ি থাকতে চাই আশা করি এতে আপনার কোন সমস্যা হবে না। "

রাহেলা শাহ নূরের কাছে এসে তার হাত থেকে ব্যাগ ছুড়ে ফেললেন,অত:পর বললেন,

" কোথাও যাবে না তুমি।এই বংশের সন্তান এই বাড়িতেই হবে।"

নূরের প্রচন্ড রাগ হলো। সে প্রতিবাদের সুরে বলে উঠলো,

" এইখানে থাকলে আপনি আমার সন্তানকে বাঁচতে দিবেন না। প্রতিটা মুহূর্তে আপনার অত্যাচার আমার সন্তানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। "

রাহেলা শাহ বাঁকা হেসে বললেন,

" এখনো সন্তান পৃথিবীতে আসেনি আর এই অনাগত সন্তানের জন্য এত মায়া? "

নূর তার কথার জবাব না দিয়ে ব্যাগ গোছাতে শুরু করলো, রাহেলা শাহ বাঁকা হেসে বললেন,

" যে সন্তানের জন্য বাড়ি ছাড়তে চাইছো সে সন্তান আদেও পিতৃ পরিচয় পাবে তো? "

রাহেলা শাহ'র কথায় নূর কিছুটা অবাক হলো। কি বলতে চাইছেন তিনি, নূরের মাথায় ঢুকলো না।

" এ সন্তান আদ্রিয়ানের। তাহলে কেন আমার সন্তান পিতৃপরিচয় পাবে না? কি বলতে চাইছেন আপনি?"

" যদি এই বাড়ির বাইরে এক পাও রাখো তুমি, তবে সারা গ্রামে আমি ঘোষনা করব এই সন্তান অবৈধ। তুমি কি ভাবছো? আদ্রিয়ান এই অবৈধ সন্তানের দায়িত্ব নিবে?সমাজে কিসের পরিচয়ে থাকবে তোমার সন্তান? "

নূর বেশ অবাক হলো তার কথায়,অত:পর চিৎকার করে বললো,

" লজ্জা করছে না আপনার, নিজের রক্তকে অবৈধ বলছেন! এতটা নিচ কি করে হতে পারেন আপনি? "

" এখনো আরো অনেক কিছুই দেখার বাকি আছে । চুপচাপ কাজ করতে যাও নয়তো তোমার জন্যই খারাপ হবে। "

নূর কাঁপা কাঁপা স্বরে রাহেলা শাহ'র পা দুটো আঁকড়ে ধরে বললো,

" আম্মা আপনি আমাকে পছন্দ করেন না আমি মানলাম।কিন্তু আমার নিষ্পাপ শিশুটাকে এর মাঝে টানবেন না।ও তো আপনারই রক্ত।"

রাহেলা শাহ শুনেও না শোনার ভান করে নূরের হাত তার পা থেকে ঝাড়ি মেরে সরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।নূর অশ্রুসিক্ত চোখে তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার পানে।

--------

পাঁচ মাসের পেট নিয়ে এক বালতি কাপড় ধুয়েছে নূর।শরীর এতো পরিমাণ শুকিয়ে গিয়েছে যে বোঝায় যাচ্ছে না সে পাঁচ মাসের প্রেগন্যান্ট। এখনো পর্যন্ত একবার ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে পারেনি।আজ রাহেলা শাহ একটু বেরিয়েছেন।নূর তার ঘরে এসে আলমারি থেকে আদ্রিয়ানের রেখে যাওয়া ফোন নিয়ে পায়রাকে ফোন করলো।ক্ষনিকের মাঝেই পায়রা ফোন রিসিভ করতেই নূর তড়িঘড়ি করে বললো,

" আপা আমার কথা শুনো।"

" হ্যাঁ বল।"

" আমায় একবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে আপু।আদ্রিয়ান ট্রেনিং থেকে ফিরলেই আমি টাকা দিয়ে দিবো।আমার হাতে এখন টাকা নেই।প্লিজ আপু।"

পায়রা অবাক হলো নূরের কথায়।তার বোন প্রেগন্যান্ট অথচ তারা কেউই জানে না এই ব্যপারে।নূরের কাঁপা কাঁপা গলার স্বর শুনেই পায়রা বুঝতে পারলো কিছু একটা হয়েছে।

" তুই চিন্তা করিস না। আমি এক্ষুনি আসছি।"

নূর যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো পায়রার কথায়।তারাতাড়ি করে ফোন রেখে দিলো যাতে সন্দেহ না করে রাহেলা শাহ। ইতিমধ্যে সন্তানের নাম ও ঠিক করে ফেলেছে নূর।মেয়ে হলে রাখবে আদ্রিতা ও ছেলে হলে রাখবে আরিয়ান। আজ নূর বেশ খুশি কারণ ডাক্তারের কাছে গেলেই জানতে পারবে ছেলে নাকি মেয়ে হবে।। বোরখা পরার জন্য আয়নার সামনে দাঁড়াতেই সে কিছুটা অবাক হলো।আগের মতো কিচ্ছু নেই তার। না আছে রুপ আর না আছে লাবণ্য।

-----------

পায়রা ইলহামকে ডাক্তারের কাছে যাবে বলে বেরিয়েছে।যদিও প্রথমে ইলহাম একা ছাড়তে চায়নি কিন্তু সাথে নূর যাবে শুনে আর মানা করে নি।পায়রা গাড়ি থেকে নামতেই নূর ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো তাকে।

" আপু আর দেরি করো না। তারাতাড়ি চলো।"

গাড়িতে উঠে বসতেই পায়রা নূরকে জিগ্যেস করলো,

" এসব কি করে হলো?আমাদের তো কিছু জানাসনি।"

" সেসব পরে বলবো। আগে বলো তোমার কি খবর?"

পায়রা লাজুক হেসে হাতের আঙ্গুল কচলাতে কচলাতে বললো,

" ডাক্তার বলেছে যময সন্তান হবে আমার।"

" কি বলছো আপু! দু-দুটো ছানা আসবে আমাদের ঘরে।আমার তো তর ই সইছে না।"

" তোর কি খবর? কয় মাস চলছে তোর? দেখে তো মনে হচ্ছে দু-তিন মাস হবে।"

" পাঁচ মাস চলছে আপু।"

পায়রা কিছুটা অবাক হলো নূরের কথায়। তাকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে না তার পাঁচ মাস চলছে।

" খাওয়া দাওয়া করছিস না ঠিক করে? কি করেছিস শরীরের? দেখে বোঝায় যাচ্ছে না।"

গাড়ি থামতেই নূর তাড়াহুড়ো করে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকলো।তর সইছে না আর তার।পায়রা আগে থেকে সিরিয়াল নেওয়ায় খুব একটা দেরি হয়নি তাদের। সে বাইরে অপেক্ষা করছিলো নূরের জন্য। কিছুক্ষণ পরেই নূর একপ্রকার নাচতে নাচতে রুম থেকে বের হলো।পায়রাকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো সে।

" কি হলো নূর! ডাক্তার কি বলেছে?"

নূর হেঁচকি দিতে দিতে বললো,

" আমার ছেলে হবে বলেছে ডাক্তার। "

পায়রা ও ভীষণ খুশি হলো নূরের কথায়। শেষ পর্যন্ত নূর নিজের সংসারকে একটা সুযোগ দিচ্ছে।পায়রা নূরকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে চলে যায়।নূর বাড়ি ফিরে দেখে রাহেলা শাহ বসে আছেন সোফায়।তাকে ভীষণ রাগান্বিত দেখাচ্ছে।নূর তার কাছে আসতেই তিনি জিগ্যেস করলেন,

" কোথায় বেরিয়েছিলে তুমি?"

" আপু এসেছিলো তার সাথে একটু ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য। তাই বেরিয়েছিলাম।"

রাহেলা শাহ তা শুনে হাফ ছেড়ে বললেন,

" তুমি আবার ডাক্তার দেখিয়েছো নাকি?"

নূর আমতাআমতা করে বললো,

" আমার হাতে টাকা নেই কি করে দেখাবো?"

" ঠিক আছে যাও ভাত বসাও চুলায়।"

নূর রুমে গিয়ে বোরখা খুলে রান্নাঘরে যায়।রিপোর্ট পায়রার কাছে রেখে দিতে বলেছিলো বাড়ি ফেরার সময়।যাতে রাহেলা শাহ সন্দেহ না করেন।রাহেলা শাহ রুমে গিয়ে দেখতে পান ফোন বাজছে।আদ্রিয়ান নিজের ঘরে বসে আছে।একের পর এক সিগারেট ফুকছে সে। তার মায়ের মোবাইলে ফোন করার দু-তিন মিনিটের ভেতর ফোন রিসিভ করেন রাহেলা শাহ। আদ্রিয়ান মলিন কন্ঠে জিগ্যেস করলো,

" নূর কোথায় মা?"

রাহেলা শাহ আমতাআমতা করে বললেন,

" নূর এখন ঘুমাচ্ছে।"

আদ্রিয়ান কিছু বললো না।চুপচাপ ফোন কেটে দিলো।

গত দু মাসে নূরকে অনবরত ফোন করেছে আদ্রিয়ান অথচ নূর একবার ও তার সাথে কথা বলেনি।শেষ সিগারেটটা ফেলে দিয়ে সে ইজি চেয়ারে বসলো।দু প্যাকেট সিগারেট মুহুর্তেই সাবাড় হয়ে দিয়েছে সে।চোখের উপর হাত রেখে বিরবির করে বললো,

"এতোই অভিমান আমার উপর নূর?এতোটাই ঘৃণা জমে আছে আমার উপর যে এই দুইমাসে একটিবার ও আমার সাথে কথা বলার প্রয়োজনবোধ করলে না।"

আজ বাড়ি ফিরবে আদ্রিয়ান।ছয়মাসের ট্রেনিং এর কথা ছিলো কিন্তু পাঁচ মাসেই তা শেষ হয়ে গিয়েছে। ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিয়েছে সে,কালকের জন্য অপেক্ষা করতে পারবে না তাই আজকেই রওনা দিবে।

--------

পায়রার পা ফুলে গিয়েছে তাই পায়ে তেল মালিশ করছেন সুরাইয়া শাহ। যদিও পায়রা মানা করেছিলো কিন্তু তিনি শুনেননি।নূরের ব্যপার টা তার খুব অবাক লাগলো।এই কয়দিনে অনেকবার ফোন করেছে রাহেলা শাহ'র কাছে। অথচ প্রতিবারই কোন না কোন বাহানা দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। তাই পায়রা সিদ্ধান্ত নেই কালই যাবে ওই বাড়িতে। আজ পা ফুলে যাওয়ায় ব্যথা করছে তাই যায়নি।

নূরের পেটে ভীষণ ব্যথা করছে। ভারী কাজ করায় এফেক্ট পরছে পেটে।পেটে হাত দিয়েই ঘর মুছতে লাগলো সে।ঘর মুছতে গিয়ে সামনে কারো অবয়ব দেখতে পেয়ে থমকে যায় নূর।কে সেই আগুন্তক, তাকে দেখতে নূর মাথা উঁচু করে তার দিকে তাকাতেই দেখতে পায়।

চলবে,,,,,

(সবাই ১.৩কে করে দিন জলদি।বেশি বেশি রেসপন্স করুন আর ফলো দিন।আজ একটা স্পয়লার আসবে গ্রুপে তাই সকলে গ্রুপে জইন হয়ে নিন।)

https://facebook.com/groups/4214405902220456/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন