#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৩৩)
( কপি করা সম্পুর্ণরুপে নিষিদ্ধ।)
আদ্রিয়ান নূরকে চিনতে পারলো না।মলিন চেহারা, পুরোনো শাড়ি, অগোছালো চুল। শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। নূর আদ্রিয়ানের দিকে তাকাতেই আদ্রিয়ান হাঁটু ভেঙে নূরের সামনে বসলো। যাওয়ার আগে সে যেই নূরকে রেখে গিয়েছিলো এ তো সেই নূর নয়। চোখের নিচে কালি জমাট বেঁধেছে,গালের দুপাশ ভেঙে গিয়েছে। নূর আদ্রিয়ানকে দেখে উঠে দাঁড়ালো,অশ্রুসিক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আদ্রিয়ানের দিকে। যেন এতোদিন ধরে হওয়া অত্যাচারের বিচার চাইছে সে।আদ্রিয়ান তার কাঁপা কাঁপা হাতে নূরের গাল স্পর্শ করতেই নূর ছোট বাচ্চার মতো ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠলো। এতোদিন পর স্ত্রীকে দেখে আদ্রিয়ান আর এক মুহুর্ত ও দেরি করলো না ঝাপটে জড়িয়ে ধরলো সামনে থাকা রমণীকে।
" কাঁদছো কেন? তোমার এই অবস্থা হলো কি করে?"
নূর কিছু বলতে পারলো না, কান্নার চোটে মুখ দিয়ে এক শব্দ ও বের হচ্ছে না।যেন অনেকদিন পর মন খুলে কাঁদার সুযোগ পাচ্ছে।নূরের কান্নার গতি বাড়তে দেখে আদ্রিয়ান তার জমাট বাঁধা চুলে হাত বুলিয়ে দিলো। এতো আওয়াজ শুনতে পেয়ে রাহেলা শাহ নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে এসে আদ্রিয়ানকে দেখে থমকে গেলেন। রাহেলা শাহ'কে আসতে দেখে নূর আদ্রিয়ানের কাছ থেকে দূরে সরে দাঁড়ালো।
" তোমার তো আরও একমাস পর ফেরার কথা ছিল আদ্রিয়ান। তাহলে আজ ফিরে এলে যে?"
" ট্রেনিং তারাতাড়ি শেষ হওয়ায় ফিরতে হয়েছে।"
" ঠিক আছে রেস্ট নাও। নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে তোমার।"
ট্রেনে করে ফিরতে দেরি হয়ে যাবে তাই আদ্রিয়ান আর্জেন্ট গাড়ি বুক করিয়েছিলো যাতে তারাতাড়ি ফিরতে পারে।ফেরার সময় নূরের জন্য বেশ কিছু জিনিস ও কিনেছে সে।ব্যাগপত্র নিয়ে নিজের ঘরে যাওয়ার পর নূর ও তার পেছন পেছন উপরে যায়।নূর আদ্রিয়ানের জন্য পানি এনে টেবিলের উপর রেখে চলে যেতে নিলে আদ্রিয়ান বলে উঠে,
" এখানে বসো।"
আদ্রিয়ানের কথা শুনে নূর সামনে এগিয়ে দেওয়া পা পিছিয়ে নেয় বিছানায় এসে বসতেই আদ্রিয়ান ট্রলি ব্যাগ থেকে ছয়টা ব্যাগ নূরের দিকে এগিয়ে দিলো। নূর বিষ্ময়কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।একে একে সবগুলো ব্যাগ খুলে দেখলো আদ্রিয়ান তার জন্য শাড়ি এনেছে।সাথে মিলিয়ে পরার জন্য গহনাও নিয়ে এসেছে।আদ্রিয়ান সেখান থেকে একটা সোনালী রঙের শাড়ি নূরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
" এই শাড়িটা এখন পড়বে।"
নূর সায় জানিয়ে বাকি শাড়ি গুলো আলমারির তুলে রাখে।ভেবেছিলো আজ শাড়ি পরে আদ্রিয়ানকে জানাবে বাচ্চার কথা।নূর এই ভেবে অস্থির হয়ে উঠলো, আদ্রিয়ান কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে।আর কিছু না ভেবে সে দ্রুত চলে গেলো গোসল করতে। আদ্রিয়ান রাহেলা শাহ'র জন্য আনা শাড়ি তার ঘরে দিয়ে আসতে গেলে দেখতে পায় তিনি মলিন চেহারা নিয়ে বসে আছে।আদ্রিয়ান তা দেখে বললো,
" কি হয়েছে মা?শরীর খারাপ আপনার?"
রাহেলা শাহ মলিন কন্ঠে বললেন,
" তুমি তো বাড়ি থাকো না। নিজের চোখে কিছুই দেখতে পাও না।আমার কথা চিন্তা করার সময় কি তোমার আছে?"
" কি হয়েছে মা।এমন করে বলছেন কেন?"
" তোমার স্ত্রী সারাক্ষণ আমার সাথে যা নয় তাই ব্যবহার করে।ঠিক মতো দুবেলা খেতে দিবে তাও ভাতের থালা কত অবহেলা নিয়ে দেয় তা তুমি জানো? আমার ঔষধ শেষ হয়েছে একমাস আগে অথচ এখনো পর্যন্ত আমি ঔষধ আনাতে পারিনি।তোমার স্ত্রী পায়রার সাথে এদিক ওদিক চলে যায় ঘুরতে অথচ আমার জন্য ঔষধ আনার সময় নেই তার।থাক আর কয়দিন ই বা বাঁচবো! এই সময় নাহয় ছেলের বউয়ের সাথে সুখ পেলাম না তাতে আর এমন কি হবে।"
আদ্রিয়ান বেশ অবাক হলো রাহেলা শাহ'র কথায়।নূর এমনটা করেছে রাহেলা শাহ'র সাথে! এ যেন বিশ্বাসযোগ্য নয়।রাহেলা শাহ আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
" তোমার বিশ্বাস না হলে আমার ঔষধের বাক্স খুলে দেখো।আমার প্রেসারের ঔষধ টুকু পর্যন্ত নেই।"
বাড়ি ফিরেই স্ত্রীর নামে এতোগুলো অভিযোগ শুনে মেজাজ চটে গেলো আদ্রিয়ানের। হঠাৎ কি যেন মনে পড়তেই সে রাহেলা শাহ'কে জিগ্যেস করে,
" নূরকে তার ফোন আপনি দেননি মা? বিগত দুই মাসে তাকে আমি এতোবার ফোন করার পরেও পাইনি কেন?"
রাহেলা শাহ আমতাআমতা করে বললেন,
" আমি দিয়েছিলাম সে নেয়নি।ফোন তো নূরের কাছেই ছিলো। তুমি কল দিলেই বলতো কাজ আছে নাহয় ঘুমাবে সে। অন্যদের সাথে ঠিকই কথা বলে নূর, হয়তো তোমার সাথে কথা বলার ইচ্ছে ছিলো না। অবশ্য দিনের বেশিরভাগ সময়ই তো সে শুয়ে বসে কাটায়।"
আদ্রিয়ান অবাকের পর অবাক হচ্ছে এক একটা কথায়। হয়তো নূর ইচ্ছে করেই তার সাথে কথা বলছে না।বাড়িতে আর কাউকে দেখতে না পেয়ে আদ্রিয়ান জিগ্যেস করলো,
" ফারজানা কোথায়?ওকে দেখছি না যে।আজ আসেনি?"
" ফারজানাকে কাজ থেকে বের করে দিয়েছে।আপাতত সংসারের কাজ আমরাই করি।তুমি বসো আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।"
" নূর গোসল করে নিক।এরপর নাহয় একসাথে খেতে বসবো।"
আদ্রিয়ানের মন থেকে সন্দেহ এখনো দূর হলো না।আদেও রাহেলা শাহ সত্যি বলছে কিনা সে জানে না।নূর সোনালী রঙের শাড়ি পরে বেরিয়েছে।সোনালী রঙে তার উজ্জ্বলতা বেড়েছে বলা যায়।আদ্রিয়ানের আনা গয়না পরে সে নিচে যায় টেবিলে পরিবেশন করতে।আজ দুবার বাচ্চার অস্তিত্ব অনুভব করেছে সে।আদ্রিয়ানকে বললে হয়তো সেও খুশি হবে।আরেকটু পরেই সন্ধ্যা নেমে আসবে তারপরই বলবে। শাড়িতে পেট একটু আধটু বোঝা যাচ্ছে।শরীর শুকিয়ে যাওয়ায় পেট তেমন বোঝা যাচ্ছে না।আদ্রিয়ান ফ্রেশ হয়ে এসে টেবিলে বসতেই দেখতে পেলো নূর টেবিলে সবকিছু গুছিয়ে রাখছে।আদ্রিয়ানের চোখ পড়লো নূরের পেটের দিকে।হঠাৎ ফোলা ফোলা লাগায় আদ্রিয়ান একটু নড়ে চড়ে বসলো।মনে মনে ভাবলো,
" নূর কি মোটা হয়েছে? নাহয় পেট এতো বড়ো লাগছে কেন।জিগ্যেস করবো একবার? না থাক মেয়েদের শরীর নিয়ে কিছু জিগ্যেস করা ঠিক না পরে যদি অন্যকিছু ভাবে।"
কিন্তু আদ্রিয়ানের মনে খুতখুত করতে লাগলো। সে জিগ্যেস করবে করবে ভেবেও করতে পারলো না।রাহেলা শাহ নূরকে চিংড়ি মাছ দিয়ে তারকারি রাঁধতে বলেছেন তাই সে বরবটি দিয়ে ছোট চিংড়ী মাছ রেঁধেছিলো। সকলে খাবারের টেবিলে বসতেই নূরের হঠাৎ পেটে ব্যথা শুরু হলো।চিনচিন ব্যথা অনুভব হওয়ায় সে কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না তবে আস্তে আস্তে ব্যথা বাড়তে শুরু করলো। রাহেলা শাহ খেতে পারলেন না বেশি, ভাতে পানি ঢেলে চলে গেলেন নিজের ঘরে। আদ্রিয়ান খাওয়া শেষে নিজের ঘরে গিয়ে বসেছে। ভাতের চাল দু পট বসিয়েছিলো নূর, যতটুকু রাহেলা শাহ তাকিয়ে দিতে বলেছেন। আজ কতমাস সে পেট ভরে খায় না। নূর ভাত বাড়তে গেলে দেখতে পায় রাহেলা শাহ সব তুলে রাখছেন ফ্রিজে। নূরকে প্লেট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন,
" প্লেটে ভাত বাড়া রয়েছে সেখান থেকে খেয়ে নাও। "
রাহেলা শাহ'র এঁটো করা ভাত গুলো নিয়েই সে বসলো খেতে। তবে এক দলা মুখে দিতেই বমি চলে আসলো, এঁটো ভাত খেতে ইচ্ছে করছে না তার। পেটের ভেতর চু চু করছে। আদ্রিয়ান ফোন নিতে গিয়ে দেখলো পকেটে ফোন নেই, হয়তো টেবিলে ফোন রেখে চলে এসেছে। নিচে এসে দেখলো নূর প্লেট রেখে ঘরে যাচ্ছে। আদ্রিয়ান ও কিছু না ভেবে ফোন নিয়ে চলে যায় ঘরে। নূর বিছানায় শুয়ে আছে তবে পেটের ভেতর শব্দ হওয়ায় বিব্রত বোধ করছে, তা দেখে আদ্রিয়ান হেসে বলে,
" তুমি কি খাওনি?"
নূর আমতাআমতা করে বললো,
" খিদে নেই। "
" পেটের ভেতর চু চু করছে আর বলছো খিদে নেই।যাও খেয়ে নাও।"
" না না থাক খাবো না। "
আদ্রিয়ান নূরের দিকে এক পলক তাকিয়ে নিচে চলে যায়, অত:পর ভাতের প্লেট থাকে নূরের জন্য ভাত নিয়ে আসে। "
" চুপচাপ খেয়ে নাও।"
" কিন্তু... "
" খেতে বলেছি আমি!"
আদ্রিয়ানের ধমক শুনে নূর খাওয়া শুরু করে, অনেকদিন পর ভালো খাবার পাচ্ছে সে। কিছু সময়ের মাঝেই তার প্লেট খালি হয়ে যায় তবুও তাকে বসে থাকতে দেখে আদ্রিয়ান জিগ্যেস করলো,
" কি হয়েছে?"
নূর নিচে তাকিয়ে থেকে মিনমিন করে বললো,
" আমাকে আরেকটু ভাত দিবেন? আমার এখনো পেট ভরেনি। "
নূরের কথায় আদ্রিয়ান বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো, সে বিচলিত কন্ঠে বললো,
" তোমাকে আমি এমন পরিস্থিতিতে কখনোই রাখিনি নূর, যে এতোটা অসহায়ের মতো খাবার খুঁজে খেতে হবে।
হঠাৎ রাহেলা শাহ আদ্রিয়ানের নাম ধরে চিৎকার করায় আদ্রিয়ান ও নূর তার ঘরে দৌড়ে যায়।রাহেলা শাহ'র পুরো মুখে ছোপ ছোপ লাল দাগ পরে গিয়েছে।তিনি নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না ঠিক করে। আদ্রিয়ান তাকে আগলে ধরে জিগ্যেস করলো,
" আপনার এলার্জি কি করে হলো মা। আপনি কি খেয়েছেন?"
রাহেলা শাহ অনেক কষ্টে উচ্চারণ করলেন,
" নূর ইচ্ছে করে তরকারিতে চিংড়ি দিয়েছে।আমি খেতে পারবো না জানা সত্ত্বেও। "
আদ্রিয়ান রাহেলা শাহ'র কথা শুনে নূরের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো,
" তোমার কমনসেন্স নেই? তুমি জানো মা চিংড়ি মাছ খেতে পারেন না তবুও চিংড়ি কেন দিয়েছো! "
" আম্মা'ই তো.... "
রাহেলা শাহ'র শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরগতিতে চলায় আদ্রিয়ান ভয় পেয়ে যায়।দ্রুত ঔষধ খুঁজতে গিয়ে দেখে ঔষধ নেই।কি করবে বুঝতে না পেরে নূরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
" দেখো ঘরে কোন প্রকার এলার্জির ওষুধ আছে কিনা। হিস্টাসিন ঔষধ টা নিয়ে আসো থাকলে।"
নূরের পেটে এমনিতেই চিনচিন ব্যথা অনুভব হচ্ছে।সে দৌড়ে যেতে নিলে ব্যথা বেড়ে যায়।পেটে অস্বাভাবিক ব্যাথা হওয়ায় সে মেঝেতে বসে পড়ে।আদ্রিয়ান নূরকে মেঝেতে বসে পড়তে দেখে বললো,
" তুমি বসে পড়লে কেন যাও না তাড়াতাড়ি!"
নূর তীব্র ব্যথা নিয়ে চোখ মুখ খিঁচে বললো,
" আপনি ডাক্তার ডাকুন প্লিজ।আমার পেটে ব্যথা করছে। আমায় বাঁচান।"
আদ্রিয়ান দোটানায় পরে গেলো কি করবে।নূর আবার বাচ্চার কথা এখন না বলে দেয় এই ভেবে রাহেলা শাহ নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম করে বললো,
" আমার ঔষধ কোথায় আদ্রিয়ান?"
আদ্রিয়ান চলে যেতে নিলে নূর তার পা ধরে তাকে আটকে ফেলে।এতদিন কোন প্রকার ব্যথা না হওয়ায় এখন হুট করে ব্যাথা অনুভব করায় নূর ভয় পেয়ে যায়।বাচ্চার কিছুই সে অনুভব করতে পারছে না।
" ডাক্তার ডাকুন প্লিজ।"
রাহেলা শাহ উঠে বসে বললেন,
" তুমি যেন আমার জন্য ঔষধ না আনতে পারো তাই নাটক করছে ও।"
আদ্রিয়ানের মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছে। নূর পা ধরে রাখায় এক প্রকার জোর করে পা সরাতে নিলে হুট করেই নূরের পেটে লাথি মেরে বসে। সবকিছু হঠাৎ করে হয়ে যাওয়ায় আদ্রিয়ান বাকরুদ্ধ। সে আপাতত রাহেলা শাহ'র জন্য ঔষধ নিতে নিজের ঘরে যায়।এবং সেখানেই পেয়ে যায় ঔষধ। তারাতাড়ি এসে তাকে খাইয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সে সুস্থ হয়ে যায়। অপরদিকে নূর মেঝেতেই অজ্ঞান হয়ে পরে আছে।আদ্রিয়ান তার কাছে এসে গালে হাত দিয়ে ডাকতেই রাহেলা শাহ বলে উঠেন,
" একটু পরেই ঠিক হয়ে যাবে তুমি ওকে রুমে নিয়ে যাও। আমার খুব মাথা যন্ত্রণা করছে। "
আদ্রিয়ান নূরকে নিয়ে ঘরে চলে যায়।নূর এখনো চোখ না খুলায় তার চিন্তা হচ্ছে।তখন ভুলবশত লাথি দিয়ে ফেলেছে বুঝতেও পারেনি।চোখে মুখে পানি দিতেই নূর পিটপিট করে চোখ খুলে তবে তাকাতে পারে না।চোখ বন্ধ হয়ে আসছে ক্রমশ। আদ্রিয়ান ভেবেছে হয়তো ক্লান্ত তাই ঘুম আসছে।সে নূরের পাশে শুয়ে পরে।নূরের চোখ পিটপিট করলেও সে তাকাতে পারে না।
" ঘুমিয়ে পরো।দেখবে সব ঠিক হয়ে গিয়েছে।"
নূর আবেশে চোখ বন্ধ করে নেয়।ঘন্টা খানিক পরেই নূরের পেটে অসহনীয় যন্ত্রণা শুরু হয়।সে দেখে পাশে আদ্রিয়ান শুয়ে আছে।হাঁটতে না পারলেও সে অনেক কষ্টে হেঁটে রাহেলা শাহ'র ঘরে আসে।রাহেলা শাহ টিভি দেখছিলেন সেই সময়।নূর ব্যথা নিয়ে বললো,
" আম্মা আমার পেটে ভীষণ যন্ত্রণা করছে। আমি একবার ডাক্তারের কাছে যাবো?"
রাহেলা শাহ পান চিবুতে চিবুতে বললেন,
" না! কোথাও যেতে হবে না কিছুক্ষণ পরেই ঠিক হয়ে যাবে। হয়তো গ্যাস্ট্রিকের জন্য এমন হচ্ছে। "
রাহেলা শাহ'র কাছ থেকে অনুমতি না পেয়ে আদ্রিয়ানের কাছে আসতেই দেখতে পায় র'ক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে তার।এমতাবস্থায় একা একা যেতে পারবে না সে।অতিরিক্ত পরিমাণ র'ক্তক্ষরণ হওয়ায় নূর মেঝেতেই শুয়ে পরে।ব্যথায় হয়তো ম'রেই যাবে এবার সে। আদ্রিয়ানের ঘুম ভাঙে নূরের গোঙানির শব্দে। সে আশে পাশে খুঁজেও নূরকে পেলো না। অত:পর নিচে তাকিয়ে দেখলো নূর র'ক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে নিচে।শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। আদ্রিয়ান নূরকে নিজের কোলে নিয়ে দেখলো র'ক্তে ভেসে যাচ্ছে চারদিক।সে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠলো,
" এই নূর কি হয়েছে তোমার।এ-এসব কি?"
নূর ভাঙা গলায় আদ্রিয়ানের কলার ধরে বলে উঠলো,
"আমি বোধহয় আর বাঁচবো না। শেষবারের মতো একবার আমার মা-বাবার চেহারা দেখতে চাই। ম'রার আগে শেষ ইচ্ছেটা পূরণ করবেন আমার?"
চলবে,,,,,,,,
( সবাই রেসপন্স করুন। ১.৩কে করে দিন জলদি।সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করুন।)
গল্পের সকল আপডেট পেতে গ্রুপে জইন হোন।
https://facebook.com/groups/4214405902220456/