ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 65

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

লেখক: Mafiya Queen 👑

৬৫তম পর্ব: পরিবারের অনুমোদিত প্রতিনিধি

রাফির ফোন পাওয়ার পর নীরা আরিয়ানকে বলল,

—পরিবারের অনুমোদিত প্রতিনিধি! অথচ তাঁর নাম নেই। এটা কীভাবে সম্ভব?

আরিয়ান গাড়ি চালাতে চালাতে বলল,

—পুরোনো ট্রাস্টে কিছু দায়িত্বের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা হতো। কিন্তু সেই নিয়োগের লিখিত অনুমতি থাকার কথা।

—তাহলে সেই অনুমতিপত্র কোথায়?

—সেটাই খুঁজতে হবে।

নীরা জানালার বাইরে তাকাল। তার মনে হচ্ছিল, প্রতিটি নথির পেছনে যেন আরেকটি দরজা লুকিয়ে আছে।

১. পুরোনো অনুমতিপত্র

পরদিন সকালে রাফি তাঁদের একটি নতুন তথ্য দিল।

—স্যার, C-14-এর Delivery Acknowledgement-এর সঙ্গে একটি রেফারেন্স নম্বর পাওয়া গেছে। নম্বরটি হলো PR-08/17।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—PR বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

—সম্ভবত Proxy Representative। অর্থাৎ অনুমোদিত প্রতিনিধি।

নীরা বলল,

—তাহলে PR-08/17-এর ফাইল খুঁজে বের করতে হবে।

রাফি জানাল, ফাইলটি পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের মূল রেজিস্টারে নেই। তবে একটি কপি পারিবারিক আইনজীবীর দপ্তরে থাকার কথা।

আরিয়ান বলল,

—সেখানে যোগাযোগ করো। প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে কপিটি সংগ্রহ করতে হবে।

২. আইনজীবীর দপ্তরে

দুপুরে তাঁরা পুরোনো আইনজীবীর দপ্তরে গেলেন।

সেখানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তাঁদের কথা শুনে একটি সংরক্ষিত ফাইল বের করলেন।

—PR-08/17 নম্বরটি পেয়েছি। তবে এটি সম্পূর্ণ অনুমতিপত্র নয়, শুধু নিবন্ধনের কপি।

নীরা কাগজটি হাতে নিল।

সেখানে লেখা—

প্রতিনিধির দায়িত্ব: নির্দিষ্ট নথি গ্রহণ ও সংরক্ষণ।
অনুমোদনের সময়কাল: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।
প্রতিনিধির পরিচয়: সংযুক্ত তালিকায় সংরক্ষিত।

নীরা অবাক হয়ে বলল,

—সংযুক্ত তালিকাটি কোথায়?

কর্মকর্তা ফাইলের শেষ অংশ দেখলেন।

—এখানে লেখা আছে, মূল সংযুক্তিটি ট্রাস্ট অফিসে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

আরিয়ান বলল,

—কোন তারিখে?

—২ অক্টোবর, ২০০৮।

নীরা মনে মনে তারিখটি মনে রাখল।

৩. মাহমুদের স্মৃতি

ফাইলের কপি নিয়ে তাঁরা মাহমুদের কাছে গেলেন।

মাহমুদ কাগজটি দেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

—এই সময়টা আমার মনে আছে।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

—কী মনে আছে, বাবা?

মাহমুদ বললেন,

—আজহার চাচার মৃত্যুর পর ট্রাস্টের কিছু দায়িত্ব নতুন করে ভাগ করা হচ্ছিল। তখন পরিবারের বাইরে একজনকে অল্প সময়ের জন্য নথি গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

আরিয়ান জানতে চাইল,

—আপনি কি তাঁর নাম জানেন?

মাহমুদ মাথা নাড়লেন।

—নামটা মনে পড়ছে না। তবে তিনি আমাদের পরিবারের পুরোনো বিশ্বস্ত একজনের পরিচিত ছিলেন।

নীরা বলল,

—তাহলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হবে।

মাহমুদ বললেন,

—একটা বিষয় মনে পড়েছে। দায়িত্ব দেওয়ার সময় আজহার চাচার ব্যক্তিগত সহকারীও উপস্থিত ছিলেন।

—কে ছিলেন তিনি?

—নাসিমা বেগম।

৪. নাসিমার স্মৃতিতে

নাসিমা বেগমকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হলো।

তিনি বললেন,

—আমি অনুমতিপত্রের কথা মনে করতে পারছি। কিন্তু প্রতিনিধির নাম মনে নেই।

নীরা বলল,

—আপনি কি কোনো তালিকা সংরক্ষণ করেছিলেন?

—হ্যাঁ, আমার কাছে একটি পুরোনো নোটবুক ছিল। সেখানে দায়িত্ব হস্তান্তরের কয়েকটি নাম লেখা ছিল।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—সেটি কি এখনো আছে?

—আছে। তবে নোটবুকটি অনেক দিন খোলা হয়নি।

নাসিমা তাঁদের পরদিন আসতে বললেন।

৫. নোটবুকের অচেনা নাম

পরদিন নাসিমা একটি পুরোনো নোটবুক নিয়ে এলেন।

পাতাগুলো হলদে হয়ে গেছে। নীরা ধীরে ধীরে পাতা উল্টাতে লাগল।

এক জায়গায় লেখা—

“১৮ সেপ্টেম্বর — বিশেষ নথি গ্রহণের দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে প্রদান।”

নিচে নামের জায়গায় লেখা ছিল—

মো. ফারহান কবির।

নীরা বলল,

—এই নামটি তো আগে কখনো শুনিনি!

নাসিমা বললেন,

—তিনি পরিবারের কেউ ছিলেন না। তবে আজহার সাহেবের পরিচিত একজনের মাধ্যমে এসেছিলেন।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—তাঁর পদ কী ছিল?

—তাঁকে শুধু অস্থায়ী নথি প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল না।

ইমরান বলল,

—তাহলে তিনি শুধু কাগজ গ্রহণ করতে পারতেন। অনুমোদন দিতে পারতেন না।

নাসিমা মাথা নাড়লেন।

—ঠিক তাই।

৬. ফারহান কবিরের খোঁজ

রাফি দ্রুত পুরোনো কর্মী ও ঠিকানার তালিকা যাচাই করল।

কিছুক্ষণ পর সে জানাল,

—স্যার, ফারহান কবির নামে একজনের তথ্য পেয়েছি। তিনি বর্তমানে ঢাকাতেই থাকেন। তবে তাঁর পেশা এখন আলাদা।

নীরা বলল,

—তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব?

—একটি পুরোনো ফোন নম্বর আছে। চেষ্টা করছি।

কিছুক্ষণ পর ফোনে যোগাযোগ হলো।

একজন বয়স্ক পুরুষ উত্তর দিলেন।

—হ্যালো?

আরিয়ান নিজের পরিচয় দিয়ে বলল,

—আমরা ২০০৮ সালের Rahman Family Trust-এর কিছু নথি নিয়ে কথা বলতে চাই।

ওপাশ থেকে লোকটি বললেন,

—আমি বুঝতে পেরেছি। আপনারা সম্ভবত PR-08/17 খুঁজছেন।

নীরা আরিয়ানের দিকে তাকাল।

লোকটি আবার বললেন,

—আমি সেই দায়িত্বে ছিলাম। তবে একটা কথা বলি, আমি কখনো কোনো নথিতে অনুমোদন দিইনি।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—আপনি কি C-14 ফাইলটি গ্রহণ করেছিলেন?

—হ্যাঁ। কিন্তু পুরো ফাইল নয়। আমাকে একটি বন্ধ প্যাকেট দেওয়া হয়েছিল।

নীরা দ্রুত প্রশ্ন করল,

—প্যাকেটটি কে দিয়েছিল?

লোকটি কিছুক্ষণ নীরব রইলেন।

তারপর বললেন,

—প্যাকেটটি আমাকে দিয়েছিলেন নাসিমা বেগম। কিন্তু তিনি নিজে প্রেরক ছিলেন না। তিনি শুধু বলেছিলেন, নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে।

আরিয়ান বলল,

—কোথায় পৌঁছে দিয়েছিলেন?

ফারহান কবির উত্তর দিলেন,

—জহির উদ্দিনের দপ্তরে।

নীরা বিস্মিত হয়ে গেল।

আবার জহির!

কিন্তু এবার আরও একটি প্রশ্ন তৈরি হলো।

নাসিমা কি শুধু মধ্যস্থতাকারী ছিলেন, নাকি তিনি জানতেন প্যাকেটের ভেতরে কী ছিল?

৭. পুরোনো প্যাকেটের শেষ চিহ্ন

ফারহান কবির বললেন,

—আমার কাছে একটি গ্রহণ রসিদ আছে। এত বছর ধরে রেখে দিয়েছি, কারণ দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও আমাকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল।

নীরা বলল,

—কী কাগজ?

—সেখানে লেখা ছিল, আমি প্যাকেটটি জহির উদ্দিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু প্যাকেটের ভেতরের নথির তালিকা আমাকে দেখানো হয়নি।

আরিয়ান বলল,

—আপনি কি সেই রসিদটি আমাদের দেখাতে পারবেন?

—পারব। তবে আপনাদের সামনে একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। আমি যে প্যাকেটটি পৌঁছে দিয়েছিলাম, সেটি খোলা অবস্থায় ছিল না। তাই ভেতরে কী ছিল, তা আমি জানি না।

ফোন রাখার আগে ফারহান আরও একটি কথা বললেন—

—রসিদের নিচে যাঁর স্বাক্ষর আছে, তাঁকে আমি চিনতাম। তিনি প্যাকেটটি পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিলেন।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

—কে তিনি?

ফারহান ধীরে উত্তর দিলেন,

—সালেহ রহমান।

নীরা চুপ হয়ে গেল।

সালেহ রহমানই তাঁকে বলেছিলেন, তিনি শুধু ট্রাস্টের নথি রক্ষা করেছিলেন।

তাহলে তিনিই কি প্যাকেটটি পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিলেন?

আর যদি দিয়ে থাকেন, তবে তিনি কেন আগে বিষয়টি জানাননি?

আরিয়ান নীরার দিকে তাকিয়ে বলল,

—আগামীকাল সালেহ চাচার সঙ্গে আবার কথা বলতে হবে।

নীরা জানালার বাইরে তাকাল।

একটি বন্ধ প্যাকেট, তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং একটি অজানা নথি।

এবার সত্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু সেই প্যাকেটের ভেতরে কী ছিল?

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 65 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন