ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 73

লেখক: Mafiya Queen

আনোয়ার সাহেবের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরও নীরার মাথায় একটি প্রশ্ন ঘুরছিল।

C-14 — Original Copy Not Received.

কাঠের বাক্সের গায়ে লেখা কথাগুলো যেন তার মাথার ভেতর বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।

গাড়িতে উঠে নীরা চুপচাপ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।

আরিয়ান কয়েক মিনিট পর নীরবতা ভাঙল।

— কী ভাবছ?

নীরা ধীরে বলল,

— এতদিন আমরা একটা মূল কপি খুঁজেছি। কিন্তু যদি সেই মূল কপিটাই কখনো তৈরি না হয়ে থাকে?

— তাহলে দ্বিতীয় কপি তৈরি হলো কীভাবে?

— সেটাই তো বুঝতে পারছি না।

আরিয়ান গাড়ির গতি একটু কমিয়ে দিল।

— একটা বিষয় খেয়াল করেছ? আনোয়ার সাহেব বললেন, তিনি একটি ফাইল পেয়েছিলেন। কিন্তু বাক্সে লেখা ছিল মূল কপি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ তাঁর হাতে থাকা ফাইলটি হয়তো মূল কপি ছিল না।

নীরা বলল,

— অথবা কেউ ইচ্ছা করেই মূল কপির জায়গায় অন্য কাগজ রেখেছিল।

আরিয়ান উত্তর দিল না।

দুজনেই বুঝতে পারছিল, রহস্যটা আগের চেয়ে আরও জটিল হয়ে উঠছে।

রাত ৮টা।

রয়্যাল হোল্ডিংসের আর্কাইভ রুমে রাফি পুরোনো নথি খুঁজছিল।

নীরা ও আরিয়ান পৌঁছাতেই সে একটি ফাইল এগিয়ে দিল।

— স্যার, C-14-এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটা নতুন রেকর্ড পেয়েছি।

আরিয়ান ফাইলটি খুলল।

ভেতরে ২০০৮ সালের একটি সংরক্ষণ তালিকা।

তালিকার একদম নিচে লেখা—

C-14 — Copy A: Pending.
C-14 — Copy B: Received.
Original: Not Submitted.

নীরা অবাক হয়ে বলল,

— তার মানে Copy A-ও জমা পড়েনি?

রাফি মাথা নাড়ল।

— জি। শুধু Copy B জমা হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটাকেই কয়েকটি নথিতে মূল কপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরিয়ান কাগজটি টেবিলে রাখল।

— কে এই পরিবর্তন করেছে, সেটা জানতে হবে।

রাফি আরেকটি পৃষ্ঠা বের করল।

— স্যার, আরও একটা বিষয় আছে। Copy B গ্রহণের জায়গায় একজনের স্বাক্ষর আছে। কিন্তু নাম লেখা নেই। শুধু একটি কোড।

নীরা এগিয়ে এসে দেখল।

R-21 / M.R.

তার চোখ আটকে গেল।

— M.R. আবার!

আরিয়ান বলল,

— এবার কিন্তু M.R. বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, সেটা অনুমান করে বলা যাবে না।

রাফি বলল,

— আমি পুরোনো রেকর্ড মিলিয়ে দেখছি। তবে একটা সমস্যা আছে।

— কী?

— R-21 রেজিস্টারের কয়েকটি পৃষ্ঠা অনুপস্থিত।

নীরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— এই ফাইলের সঙ্গে জড়িত প্রায় সব রেজিস্টারেরই পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে!

আরিয়ান শান্ত গলায় বলল,

— পৃষ্ঠা হারানো মানেই সবসময় কেউ সরিয়েছে, এমন নয়। আগে জানতে হবে কোন পৃষ্ঠাগুলো হারিয়েছে এবং কখন হারিয়েছে।

পরদিন সকাল।

নীরা অফিসে আসার আগেই আরিয়ানের কাছে একটি ফোন এল।

ফোনের ওপাশে ছিলেন জহির উদ্দিন।

— আরিয়ান, তোমাদের সঙ্গে জরুরি কথা আছে।

— কী হয়েছে?

— গতকাল তোমরা আনোয়ারের সঙ্গে দেখা করেছিলে, তাই না?

আরিয়ান একটু থেমে বলল,

— হ্যাঁ। কেন?

— সে কি তোমাদের কোনো চিঠি দেখিয়েছে?

— হ্যাঁ। একটি চিঠি পেয়েছি। শেষে J লেখা।

ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর জহির বললেন,

— চিঠিটা ভালো করে পরীক্ষা করো। শুধু J দেখে কাউকে সন্দেহ কোরো না।

— আপনি কি চিঠিটা চেনেন?

— আমি নিশ্চিত নই। তবে ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে এমন একটি নির্দেশের কথা শুনেছিলাম।

আরিয়ান প্রশ্ন করল,

— কার কাছ থেকে?

— তখন অফিসে একটি কথা ছড়িয়ে পড়েছিল—C-14 ফাইলটি সাময়িকভাবে ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখা হবে। কিন্তু কে নির্দেশ দিয়েছিল, সেটা আমি জানতে পারিনি।

— আপনি কি জানতেন ফাইলের মূল কপি জমা পড়েনি?

জহির এবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— না। এটা আমি প্রথম শুনছি।

আরিয়ান বলল,

— তাহলে আপনিও আমাদের সঙ্গে দেখা করুন। আমাদের সব তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

— ঠিক আছে। তবে তার আগে একটা কাজ করো।

— কী কাজ?

— ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসের ডাক গ্রহণের রেজিস্টার খুঁজে বের করো। ওই চিঠি কীভাবে আনোয়ারের কাছে পৌঁছেছিল, তার কোনো রেকর্ড সেখানে থাকতে পারে।

ফোন কেটে গেল।

দুপুরে নীরা অফিসে পৌঁছালে আরিয়ান তাকে সব জানাল।

নীরা বলল,

— ডাক গ্রহণের রেজিস্টার পাওয়া গেলে চিঠির উৎস জানা যাবে।

রাফি জানাল,

— পুরোনো ডাক রেজিস্টার আর্কাইভের বাইরে অন্য একটি সংরক্ষণ কক্ষে রাখা আছে। আমি খোঁজ নিচ্ছি।

কিছুক্ষণ পর রাফি ফিরে এল।

তার হাতে একটি মোটা রেজিস্টার।

— পেয়েছি, স্যার।

আরিয়ান দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টাতে লাগল।

তারিখ: ১২ অক্টোবর ২০০৮।

সেদিনের ডাক গ্রহণের তালিকায় একটি এন্ট্রি পাওয়া গেল।

প্রেরক: নাম উল্লেখ নেই।
প্রাপক: আনোয়ার হোসেন।
বিষয়: C-14 Confidential Instruction.

কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় ছিল প্রেরকের স্বাক্ষর।

সেখানে লেখা—

M.A.

নীরা অবাক হয়ে বলল,

— M.A. মানে কি মাহবুব আলম?

আরিয়ান বলল,

— হতে পারে। কিন্তু শুধু দুটি অক্ষর দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

রাফি বলল,

— স্যার, এখানে আরেকটা নোট আছে।

নোটে লেখা—

“প্রেরকের পরিচয় ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করা হয়েছে।”

নীরা কাগজের দিকে তাকিয়ে বলল,

— কে যাচাই করেছিল?

রাফি নিচের অংশ দেখাল।

সেখানে ছোট করে লেখা—

Verified by: M.R.

ঘরের ভেতর আবার নীরবতা নেমে এল।

বিকেল।

আরিয়ান পুরোনো নথিগুলো নিয়ে বসেছিল। নীরা পাশে বসে প্রতিটি তারিখ মিলিয়ে দেখছিল।

হঠাৎ নীরা বলল,

— আমাদের কাছে এখন তিনটি বিষয় পরিষ্কার।

আরিয়ান তাকাল।

— বলো।

— প্রথমত, C-14-এর মূল কপি জমা পড়েনি। দ্বিতীয়ত, Copy B গ্রহণ করা হয়েছিল। তৃতীয়ত, আনোয়ার সাহেবের কাছে পাঠানো চিঠিতে M.A. স্বাক্ষর ছিল, আর পরিচয় যাচাই করেছিলেন M.R.।

আরিয়ান মাথা নাড়ল।

— ঠিক।

নীরা আবার বলল,

— কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, M.A. সত্যিই মাহবুব আলম ছিলেন কি না।

ঠিক তখনই রাফির ফোন বেজে উঠল।

সে ফোন ধরে কিছুক্ষণ কথা বলল। তারপর দ্রুত আরিয়ানের কাছে এল।

— স্যার, নওরীন ম্যাডাম ফোন করেছিলেন।

— কী বলেছেন?

— তাঁর বাবার পুরোনো ব্যক্তিগত কাগজপত্রের মধ্যে একটি ডাক রসিদের সন্ধান পেয়েছেন। সেখানে ১২ অক্টোবর ২০০৮ তারিখ লেখা আছে।

নীরা চমকে উঠল।

— সেই একই তারিখ?

— জি। আর রসিদে লেখা আছে, একটি গোপন চিঠি

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 73 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন