রাত তখন প্রায় এগারোটা।
রয়্যাল হোল্ডিংসের কেবিনে বসে নীরা বারবার অচেনা নম্বর থেকে আসা মেসেজটি পড়ছিল।
“আপনারা ভুল পাতায় পি-০৭-কে খুঁজছেন। শেষ পাতার স্বাক্ষরটি আসল, কিন্তু সেখানে লেখা পরিচয়টি সম্পূর্ণ নয়। আসল রেকর্ডটি এখনো ০৩ নম্বর আর্কাইভের ভেতরেই আছে।”
মেসেজটির প্রতিটি শব্দ যেন নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
নীরা ফোনটি টেবিলে রেখে বলল,
—আমার মনে হচ্ছে, কেউ আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করছে।
আরিয়ান ল্যাপটপ বন্ধ করে তার দিকে তাকাল।
—হতে পারে। তবে শুধু মেসেজ দেখে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
—কিন্তু লোকটা জানে আমরা কোন পাতায় কী পেয়েছি!
—সেটা ঠিক। তার মানে সে পুরোনো রেকর্ড সম্পর্কে জানে। অথবা এমন কারও কাছ থেকে তথ্য পাচ্ছে, যে এসব নথির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
—তুমি কি মনে করো, নাসিমা বেগম সব জানেন?
আরিয়ান উত্তর দিল,
—তিনি অনেক কিছু জানেন। কিন্তু সবকিছু জানেন, এমন প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।
নীরা বলল,
—তাহলে কাল তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে।
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
—কাল সকালেই।
সকাল ১০টা — নাসিমা বেগমের বাড়ি
নাসিমা বেগম বসার ঘরে বসে পুরোনো কিছু কাগজ গোছাচ্ছিলেন।
দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হতেই তিনি মাথা তুললেন।
কিছুক্ষণ পর নীরা ও আরিয়ানকে দেখে অবাক হলেন।
—তোমরা? এত সকালে?
নীরা সালাম দিয়ে বলল,
—একটা জরুরি বিষয় নিয়ে এসেছি।
নাসিমা তাদের বসতে দিলেন।
—কী হয়েছে?
আরিয়ান ব্যাগ থেকে একটি কাগজ বের করল।
—আমরা ০৩ নম্বর আর্কাইভ রুমের একটি পুরোনো রেজিস্টার পেয়েছি।
নাসিমা কাগজটি হাতে নিলেন।
রেজিস্টারের ১৭ নম্বর পাতার ফটোকপি।
সেখানে স্পষ্ট লেখা—
Special Custody Reference — 2008
আর নিচে অস্পষ্টভাবে—
N. Begum.
নাসিমা কিছুক্ষণ কাগজটির দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ধীরে বললেন,
—এটা কোথায় পেয়েছ?
নীরা বলল,
—পুরোনো ট্রাস্ট অফিসে।
—কে তোমাদের এটা দেখিয়েছে?
আরিয়ান উত্তর দিল,
—আমরা নিজেরাই খুঁজে পেয়েছি।
নাসিমা কাগজটি টেবিলে রেখে বললেন,
—তাহলে তোমাদের কিছু কথা বলা দরকার।
নীরা সামনের দিকে ঝুঁকল।
—আপনি কি ২০০৮ সালে পি-০৭-এর সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন?
নাসিমা এবার সরাসরি উত্তর দিলেন না।
বরং উঠে পাশের ঘরে গেলেন।
কিছুক্ষণ পর একটি পুরোনো কাঠের বাক্স নিয়ে ফিরে এলেন।
বাক্সটি টেবিলের ওপর রেখে বললেন,
—আমি এতদিন এই বাক্সটি কাউকে দেখাইনি। কারণ এর ভেতরে এমন কিছু কাগজ আছে, যেগুলো নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না।
নীরা বিস্মিত হয়ে বলল,
—কী আছে এর ভেতরে?
নাসিমা ধীরে বাক্সটি খুললেন।
ভেতরে কয়েকটি পুরোনো চিঠি, ছোট একটি ডায়েরি, কিছু রসিদ এবং একটি কাপড়ে মোড়ানো কাগজ।
তিনি প্রথমে ডায়েরিটি বের করলেন।
—এটা আমার ব্যক্তিগত ডায়েরি। ২০০৮ সালের কিছু ঘটনা এখানে লিখে রেখেছিলাম।
আরিয়ান বলল,
—আমরা কি দেখতে পারি?
—দেখো।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮
নাসিমা ডায়েরির একটি নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা খুললেন।
সেখানে তারিখ লেখা—
১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮।
তার নিচে কয়েকটি লাইন।
“আজ ট্রাস্ট অফিস থেকে একটি সিল করা খাম গ্রহণ করেছি। খামের ভেতরে সি-১৪-এর দ্বিতীয় কপি ছিল। মূল কপি ছিল না। আমাকে বলা হয়েছে, কপিটি আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে।”
নীরা লেখাটি পড়ে বলল,
—আপনি আগে আমাদের বলেছিলেন, আপনি শুধু দ্বিতীয় কপিটি পেয়েছিলেন।
নাসিমা মাথা নাড়লেন।
—হ্যাঁ। কারণ আমি সেটাই পেয়েছিলাম।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
—খামটি আপনাকে কে দিয়েছিল?
—একজন প্রতিনিধি। নাম ছিল ফারহান কবির।
নীরা বলল,
—আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, নথিটি তিনি শুধু পৌঁছে দিয়েছিলেন।
—ঠিক বলেছেন। ফারহান শুধু বাহক ছিল। সে নথির ভেতরে কী আছে, তা জানত না।
আরিয়ান বলল,
—তাহলে আপনাকে কে নির্দেশ দিয়েছিল?
নাসিমা ডায়েরির আরেকটি অংশ দেখালেন।
সেখানে লেখা—
“The copy must remain separate. Do not accept original custody without written confirmation.”
নীরা বলল,
—এটা কার নির্দেশনা?
নাসিমা উত্তর দিলেন,
—আমাকে বলা হয়েছিল, এটি আজহার রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
—কিন্তু নির্দেশনাটি কে দিয়েছিলেন?
নাসিমা মাথা নাড়লেন।
—সরাসরি যিনি আমাকে দিয়েছিলেন, তাঁর নাম আমি মনে করতে পারছি না। অনেক বছর হয়ে গেছে।
নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
—আপনি কি পি-০৭ নামটি শুনেছিলেন?
নাসিমা এবার ডায়েরির একটি পাতা উল্টালেন।
সেখানে লেখা—
P-07 — Original Custody
N.B. — Copy Preservation
নীরা অবাক হয়ে গেল।
—এখানে তো পরিষ্কারভাবে আলাদা দুটি দায়িত্ব লেখা!
নাসিমা বললেন,
—হ্যাঁ। আমার দায়িত্ব ছিল দ্বিতীয় কপিটি সংরক্ষণ করা। মূল কপিটি অন্য কারও কাছে ছিল।
আরিয়ান বলল,
—তাহলে আপনি পি-০৭ নন।
—না। কখনোই ছিলাম না।
নীরা এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
কিন্তু রহস্যের সমাধান এখনো হয়নি।
সেই গোপন রসিদ
নাসিমা বাক্সের ভেতর থেকে আরেকটি কাগজ বের করলেন।
কাগজটি ভাঁজ করা ছিল।
তিনি সেটি খুলে আরিয়ানের সামনে রাখলেন।
—এটা আমি অনেক পরে পেয়েছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি এর গুরুত্ব কী।
কাগজটির ওপর লেখা—
Document Transfer Reference: C-14
তারিখ—
19 September 2008
নীরা দ্রুত পড়তে লাগল।
প্রাপক: Temporary Archive Section.
প্রেরক: J.U.
নিচে একটি মন্তব্য—
“Original separated from copy. Further transfer to be recorded independently.”
আরিয়ান বলল,
—এটা জহির উদ্দিনের কাছ থেকে পাঠানো হয়েছিল।
নাসিমা মাথা নাড়লেন।
—সম্ভবত।
নীরা জিজ্ঞেস করল,
—আপনি এই কাগজটি কোথায় পেয়েছিলেন?
—একটি পুরোনো ফাইলের ভেতরে। আমার কাছে যে দ্বিতীয় কপিটি ছিল, তার সঙ্গে এটি রাখা হয়নি। অনেক পরে অন্য একটি বাক্সে পেয়েছিলাম।
আরিয়ান বলল,
—তাহলে কেউ হয়তো আলাদা আলাদা জায়গায় নথিগুলো রেখেছিল।
নাসিমা বললেন,
—আমারও তাই মনে হয়।
নীরা বলল,
—কিন্তু কেন?
নাসিমা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—সেই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও নেই।
নাসিমার অজানা স্মৃতি
কিছুক্ষণ পর নীরা ডায়েরির শেষের দিকে একটি ছোট্ট নোট দেখতে পেল।
সেখানে লেখা—
“The person who received the original did not sign in the ordinary register. The confirmation was kept separately.”
নীরা অবাক হয়ে বলল,
—এখানে বলা হয়েছে, মূল কপি যিনি গ্রহণ করেছিলেন, তিনি সাধারণ রেজিস্টারে স্বাক্ষর করেননি।
আরিয়ান বলল,
—তাহলে তাঁর স্বাক্ষর আলাদা কোনো নথিতে থাকার কথা।
নাসিমা মাথা নাড়লেন।
—হ্যাঁ। আমাকে একবার বলা হয়েছিল, মূল কপির গ্রহণের প্রমাণ আলাদা রেজিস্টারে রাখা হবে।
নীরা প্রশ্ন করল,
—সেই রেজিস্টার কোথায়?
নাসিমা কিছুক্ষণ ভাবলেন।
তারপর বললেন,
—আজহার রহমানের ব্যক্তিগত নথির সঙ্গে একটি ছোট কালো রেজিস্টার ছিল। আমি সেটি কখনো হাতে পাইনি। তবে একবার জহির সাহেবকে সেটি নিয়ে যেতে দেখেছিলাম।
আরিয়ান দ্রুত বলল,
—কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন?
—পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের নিচতলার রেকর্ড রুমে।
নীরা বলল,
—০৩ নম্বর আর্কাইভ রুম?
নাসিমা মাথা নাড়লেন।
—হতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত নই।
আরিয়ান বলল,
—তাহলে কালো রেজিস্টারটি এখনো সেখানে থাকার সম্ভাবনা আছে।
নাসিমা বললেন,
—যদি কেউ সেটি সরিয়ে না থাকে।
অচেনা নম্বরের রহস্য
হঠাৎ আরিয়ানের ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে অচেনা নম্বর।
সে কল রিসিভ করল।
—হ্যালো?
ওপাশ থেকে কোনো উত্তর এল না।
শুধু কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর একটি পুরুষ কণ্ঠ শোনা গেল।
—আপনারা নাসিমা বেগমের কাছে গিয়েছেন?
আরিয়ান গম্ভীর হয়ে বলল,
—আপনি কে?
—আমি কে, সেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
—তাহলে ফোন করেছেন কেন?
লোকটি বলল,
—পি-০৭-এর পরিচয় জানতে চাইলে ১৯ সেপ্টেম্বরের রেজিস্টার খুঁজুন। ১৭ সেপ্টেম্বরের কাগজে উত্তর পাবেন না।
আরিয়ান বলল,
—আপনি কীভাবে জানেন আমরা কোন কাগজ খুঁজছি?
লোকটি কোনো উত্তর দিল না।
শুধু বলল,
—আর একটা কথা। রাশেদ রহমানের স্বাক্ষরটি সত্যি। কিন্তু তিনি যাকে পি-০৭ ভেবেছিলেন, তিনি আসলে চূড়ান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন না।
এরপর কল কেটে গেল।
আরিয়ান কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
নীরা জিজ্ঞেস করল,
—কে ছিল?
আরিয়ান কলের কথাগুলো জানাল।
নাসিমা বেগমের মুখের ভাব বদলে গেল।
—এটা কীভাবে সম্ভব?
নীরা বলল,
—কী হয়েছে?
নাসিমা ধীরে বললেন,
—রাশেদ সাহেব একবার আমাকে বলেছিলেন, মূল কপিটি যে ব্যক্তির কাছে থাকবে, তার নাম সাধারণ রেজিস্টারে লেখা হবে না। কিন্তু সেই ব্যক্তি চূড়ান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন না।
আরিয়ান বলল,
—তাহলে অচেনা লোকটির কথার সঙ্গে আপনার কথাও মিলে যাচ্ছে।
নাসিমা মাথা নাড়লেন।
—হ্যাঁ। কিন্তু তাহলে প্রশ্ন হলো, চূড়ান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কে ছিলেন?
কালো রেজিস্টারের সূত্র
নীরা উঠে দাঁড়াল।
—আমাদের আবার ০৩ নম্বর আর্কাইভ রুমে যেতে হবে।
আরিয়ান বলল,
—আজই যাওয়া উচিত।
নাসিমা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—তোমাদের একটা কথা জানানো দরকার।
নীরা তাঁর দিকে তাকাল।
—বলুন।
—আজহার রহমানের ব্যক্তিগত কালো রেজিস্টারটি শেষবার আমি দেখেছিলাম ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
—কোথায়?
—পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের নিচতলার একটি লোহার আলমারিতে।
নীরা বলল,
—সেই আলমারির চাবি কার কাছে ছিল?
নাসিমা ধীরে বললেন,
—চাবিটি প্রথমে সালেহ রহমানের কাছে ছিল। পরে তিনি জহির সাহেবের কাছে দিয়েছিলেন।
আরিয়ান বলল,
—কেন?
—কারণ জহির সাহেবকে কিছু নথি যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
নীরা বলল,
—তাহলে জহির সাহেব জানতেন কালো রেজিস্টার কোথায় আছে।
নাসিমা মাথা নাড়লেন।
—হ্যাঁ। আর একটা কথা মনে পড়েছে।
—কী কথা?
—সেই রেজিস্টারের মলাটে একটি ছোট নম্বর লেখা ছিল।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
—কোন নম্বর?
নাসিমা উত্তর দিলেন,
“১৭।”
শেষ দৃশ্য
সন্ধ্যা ৭টা।
নীরা ও আরিয়ান আবার পুরোনো ট্রাস্ট অফিসে পৌঁছেছে।
রাফি আগে থেকেই নিচতলার রেকর্ড রুম পরীক্ষা করছিল।
তিনজন মিলে লোহার আলমারিটি খুঁজে পেল।
আলমারির দরজায় মরিচা পড়েছে।
রাফি তালাটি পরীক্ষা করে বলল,
—স্যার, এটা অনেক পুরোনো। তবে তালা এখনো বন্ধ।
আরিয়ান বলল,
—সালেহ সাহেবের কাছ থেকে পাওয়া চাবিগুলো পরীক্ষা করো।
রাফি একে একে কয়েকটি চাবি চেষ্টা করল।
প্রথম দুটি কাজ করল না।
তৃতীয় চাবিটি ঘোরাতেই তালা খুলে গেল।
দরজা খোলার পর ভেতরে কয়েকটি ফাইল ও পুরোনো রেজিস্টার দেখা গেল।
নীরা একে একে সব পরীক্ষা করতে লাগল।
হঠাৎ তার হাত একটি কালো মলাটের রেজিস্টারে থেমে গেল।
মলাটে সোনালি অক্ষরে লেখা—
PRIVATE CUSTODY REGISTER — 17
নীরা উত্তেজিত গলায় বলল,
—আরিয়ান! পেয়েছি!
আরিয়ান দ্রুত এগিয়ে এল।
রেজিস্টারটি টেবিলের ওপর রাখা হলো।
প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা খুলতেই দেখা গেল, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথির হস্তান্তরের হিসাব।
তারপর একটি পৃষ্ঠায় লেখা—
C-14 — Original Document
Temporary Holder — P-07
Final Custodian — Pending Confirmation
নীরা বলল,
—আবার একই কথা!
আরিয়ান পরের পাতা উল্টাল।
সেখানে একটি নতুন তারিখ।
18 October 2008.
তার নিচে একটি লাইন—
“Temporary custody closed. Final responsibility transferred under separate authorization.”
নীরা বিস্ময়ে বলল,
—তাহলে ১৮ অক্টোবরই চূড়ান্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছিল!
আরিয়ান দ্রুত নিচের অংশ পড়তে লাগল।
কিন্তু প্রাপকের নামের জায়গাটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
শুধু একটি অক্ষর দেখা যাচ্ছে—
“M...”
নীরা বলল,
—নামটা কে ছিঁড়েছে?
রাফি পাতাটি ভালো করে পরীক্ষা করল।
—মনে হচ্ছে অনেক আগে থেকেই এভাবে আছে।
আরিয়ান বলল,
—এটা সংরক্ষণ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন নষ্ট না হয়।
নীরা শেষ পাতার দিকে তাকাল।
সেখানে একটি ছোট মন্তব্য লেখা—
“The final custodian was not the temporary holder. The identity shall be verified through the original authorization letter.”
আর তার নিচে একটি রেফারেন্স নম্বর—
A-17/18-10.
নীরা ধীরে বলল,
—তাহলে আসল অনুমোদনপত্রটি এখনো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
—হ্যাঁ। আর এবার আমরা জানি, কোথায় খুঁজতে হবে।
ঠিক তখনই রাফির ফোনে একটি মেসেজ এল।
সে মেসেজটি পড়ে আরিয়ানের দিকে তাকাল।
—স্যার...
—কী হয়েছে?
রাফি ফোনটি এগিয়ে দিল।
মেসেজে লেখা—
“কালো রেজিস্টারটি খুঁজে পেয়েছেন, ভালো হয়েছে। কিন্তু ১৮ অক্টোবরের হস্তান্তরের নামটি খুঁজে লাভ নেই। কারণ সেই নামটি আর কোনো সাধারণ নথিতে নেই।”
নীরা মেসেজটি পড়ে বলল,
—কে পাঠিয়েছে?
রাফি উত্তর দিল,
—একই অচেনা নম্বর।
আরিয়ান ফোনটি হাতে নিল।
তার চোখে এবার স্পষ্ট দৃঢ়তা।
—যে-ই হোক, সে আমাদের চেয়ে বেশি কিছু জানে।
নীরা বলল,
—তাহলে তাকে খুঁজে বের করতে হবে।
আরিয়ান কালো রেজিস্টারটি বন্ধ করল।
—শুধু তাকে নয়। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে সেই অনুমোদনপত্রও।
নীরা শেষবারের মতো রেজিস্টারের ছেঁড়া পাতাটির দিকে তাকাল।
একটি নামের মাত্র প্রথম অক্ষর।
M...
কে সেই মানুষ?
মাহমুদ রহমান?
মিজানুর রহমান?
নাকি এমন কেউ, যার নাম তারা এখনো ভাবেনি?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
যদি ১৮ অক্টোবর চূড়ান্ত দায়িত্ব হস্তান্তর হয়ে থাকে, তাহলে এত বছর ধরে সবাই কেন শুধু অস্থায়ী দায়িত্বের পেছনে ছুটেছে?
নীরা বুঝতে পারল, রহস্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এবার শুরু হতে যাচ্ছে।
চলবে...
পর্ব ৮৬ সমাপ্ত।