ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 93

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব ৯৩: নোটবুকের অজানা নাম

লেখক: Mafiya Queen 👑

সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল।

জানালার বাইরে হালকা রোদ। রাস্তার পাশে মানুষের ব্যস্ততা। অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সবাই।

কিন্তু নীরার সকালটা স্বাভাবিক ছিল না।

তার সামনে ছড়িয়ে আছে একের পর এক পুরোনো কাগজ। প্রতিটি কাগজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি নাম, একটি তারিখ কিংবা এমন কোনো ঘটনা, যার সম্পূর্ণ সত্য এখনো তাদের অজানা।

গতকাল মিজানুর রহমানের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো সে বারবার পড়েছে।

১৮ অক্টোবর ২০০৮।

একটি ডকুমেন্ট সংরক্ষণের প্রক্রিয়া।

একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয়।

একটি হারিয়ে যাওয়া স্বাক্ষরের নমুনা।

আর এবার সামনে এসেছে ডা. নাসরিন আক্তারের নাম।

নীরা কাগজের ওপর আঙুল রেখে বিড়বিড় করে বলল,

—একজন মানুষ কতগুলো সত্য লুকিয়ে রাখতে পারে? আর কতগুলো মানুষ একটা সত্যকে অসম্পূর্ণ রেখে যেতে পারে?

ঠিক তখন দরজায় টোকা পড়ল।

আরিয়ান ভেতরে ঢুকল।

—এখনো এগুলো নিয়েই বসে আছ?

নীরা মাথা তুলল।

—তুমি কি কখনো ভেবেছ, আমরা আসলে কী খুঁজছি?

আরিয়ান চেয়ার টেনে বসল।

—সত্য।

—কিন্তু কোন সত্য? কামালের আর্থিক অপরাধের সত্য আমরা অনেকটাই জেনেছি। রাশেদ সাহেবকে কীভাবে ফাঁসানো হয়েছিল, সেটাও পরিষ্কার হচ্ছে। কিন্তু C-14-এর রহস্য যেন আলাদা একটা জগৎ।

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

—কারণ এই নথির সঙ্গে শুধু একজন মানুষের অপরাধ জড়িত নেই। এখানে একাধিক মানুষের দায়িত্ব, অনুমতি আর স্বাক্ষর জড়িয়ে আছে।

নীরা বলল,

—আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, প্রত্যেকে বলছে সে শুধু নিজের ছোট্ট দায়িত্বটুকু পালন করেছে।

আরিয়ান মৃদু গলায় বলল,

—সেই ছোট ছোট দায়িত্বের মাঝখানেই হয়তো বড় সত্যটা হারিয়ে গেছে।

নীরা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।

—আমাদের ডা. নাসরিনের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

—আমি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আজ বিকেলেই দেখা করতে পারব।

—তাহলে আর দেরি কেন?

আরিয়ান নীরার দিকে তাকিয়ে বলল,

—তুমি কি ঠিক আছ?

নীরা একটু হেসে বলল,

—এই রহস্যের মধ্যে ঠিক থাকার সুযোগ কোথায়?

আরিয়ান আর কিছু বলল না।

শুধু বলল,

—চলো। আজ অন্তত একটা প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ফিরব।

১. পুরোনো স্মৃতির দরজা

বিকেল চারটার দিকে তারা ডা. নাসরিন আক্তারের বাসায় পৌঁছাল।

বাড়িটি বেশ শান্ত। সামনের ছোট বাগানে কয়েকটি ফুলের গাছ। বারান্দায় রাখা চেয়ারগুলো দেখে মনে হয়, এখানে বিকেলগুলো বেশির ভাগ সময় বই পড়েই কাটে।

ডা. নাসরিন তাঁদের দেখে এগিয়ে এলেন।

—এসো, তোমাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।

নীরা সালাম দিয়ে বসে পড়ল।

—কেমন আছেন, ডাক্তার আপা?

—আলহামদুলিল্লাহ। তোমরা কেমন আছ?

—ভালো আছি।

আরিয়ান বলল,

—আপনাকে একটু পুরোনো বিষয় নিয়ে বিরক্ত করতে হলো।

ডা. নাসরিন হালকা হাসলেন।

—তোমাদের এই পুরোনো বিষয়গুলো এখন আর আমাকে অবাক করে না। বলো, কী জানতে চাও?

আরিয়ান ব্যাগ থেকে কয়েকটি কাগজ বের করল।

—২০০৮ সালের ১৮ অক্টোবরের একটি নথিতে আপনার নাম পেয়েছি। সেখানে আপনাকে External Witness হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডা. নাসরিন কাগজটি হাতে নিলেন।

চশমা ঠিক করে ধীরে ধীরে পড়লেন।

কিছুক্ষণ পর তাঁর মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।

—এই নথিটা কোথায় পেলে?

নীরা বলল,

—পুরোনো ট্রাস্ট বোর্ডের আর্কাইভে।

—তাহলে তোমরা অনেক দূর এগিয়েছ।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—আপনি কি সেদিন কোনো নথি যাচাই করেছিলেন?

ডা. নাসরিন কিছুক্ষণ ভাবলেন।

—পুরো ঘটনাটা মনে নেই। তবে হ্যাঁ, একটা স্বাক্ষরের নমুনা আমাকে দেখানো হয়েছিল।

নীরা সামনের দিকে ঝুঁকে বসল।

—কার স্বাক্ষর?

—সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারব না। তবে মনে আছে, আমাকে বলা হয়েছিল এটি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্বাক্ষরের নমুনা।

আরিয়ান বলল,

—আপনি কি সেই ব্যক্তিকে চিনতেন?

—না। আমি ব্যক্তিকে দেখিনি। শুধু কাগজে থাকা স্বাক্ষর দেখেছিলাম।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

—তাহলে আপনি কীভাবে বুঝেছিলেন যে স্বাক্ষরটি আসল?

ডা. নাসরিন সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

—আমি কখনো বলিনি যে সেটি আসল।

নীরা থমকে গেল।

—মানে?

—আমি শুধু বলেছিলাম, দুটি স্বাক্ষরের মধ্যে কিছু হাতের লেখার মিল রয়েছে। কিন্তু সেই মিল দিয়ে কোনো ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না।

আরিয়ান বলল,

—আপনি কি লিখিতভাবে সেটি উল্লেখ করেছিলেন?

—সম্ভবত। তখন আমি সবকিছু নিজের কাছে লিখে রাখতাম। কারণ পুরোনো কাগজপত্র নিয়ে কাজ করার সময় ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার আশঙ্কা থাকত।

নীরা বলল,

—আপনার সেই নোটগুলো কি এখনো আছে?

ডা. নাসরিন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

—একটা পুরোনো নোটবুক ছিল। অনেক দিন আগে কিছু ব্যক্তিগত কাগজের সঙ্গে আলাদা করে রেখেছিলাম।

নীরা আগ্রহ নিয়ে বলল,

—সেটা কি পাওয়া যাবে?

—হয়তো। তবে আমার নিজের কাছে নেই।

২. যে নোটবুক হারিয়ে গিয়েছিল

ডা. নাসরিন উঠে পাশের ঘরে গেলেন।

কিছুক্ষণ পর একটি পুরোনো ছবির অ্যালবাম ও কয়েকটি কাগজ নিয়ে ফিরে এলেন।

তিনি বললেন,

—আমার ভাগ্নি মেহজাবিন কয়েক বছর আগে আমার কিছু পুরোনো কাগজ নিজের কাছে রেখেছিল। তখন বাসা পরিবর্তন করছিলাম। নোটবুকটাও হয়তো সেগুলোর মধ্যে আছে।

আরিয়ান বলল,

—আমরা কি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি?

—অবশ্যই। আমি এখনই ফোন করছি।

তিনি ফোন বের করে কল দিলেন।

কিছুক্ষণ কথা বলার পর বললেন,

—মেহজাবিন, তোমার কাছে আমার পুরোনো বাদামি নোটবুকটা আছে কি?

ওপাশ থেকে কী উত্তর এল, তা নীরা শুনতে পেল না।

ডা. নাসরিন বললেন,

—হ্যাঁ, সেই পুরোনো নোটবুক। যেখানে ২০০৮ সালের কিছু তথ্য লিখেছিলাম।

আবার কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর তিনি বললেন,

—আচ্ছা, তুমি একটু খুঁজে দেখো। পেলে আমাকে জানিও।

কল শেষ করে তিনি নীরার দিকে তাকালেন।

—ও খুঁজে দেখবে। আশা করি পাবে।

নীরা বলল,

—ডাক্তার আপা, একটা কথা জানতে চাই।

—বলো।

—আপনি কি কখনো ভেবেছিলেন, আপনার দেখা সেই স্বাক্ষরের নমুনা কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে?

ডা. নাসরিন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

—সত্যি বলতে, তখন বিষয়টিকে এত বড় মনে হয়নি। আমাকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে বলা হয়েছিল। আমি আমার সীমার মধ্যে থেকে কাজ করেছি। কিন্তু এখন তোমাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার ছোট্ট পর্যবেক্ষণটাকেও হয়তো অন্যভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

আরিয়ান বলল,

—আমরা কাউকে দোষ দিতে আসিনি। শুধু জানতে চাই, আসলে কী ঘটেছিল।

ডা. নাসরিন শান্তভাবে বললেন,

—সত্য জানতে হলে প্রত্যেকের বক্তব্য শুনবে। শুধু কাগজে নাম থাকলেই কাউকে দোষী ভেবো না।

নীরা মাথা নাড়ল।

কথাটা তার মনে গেঁথে গেল।

৩. একটি পুরোনো স্মৃতি

কথা বলতে বলতে ডা. নাসরিন হঠাৎ নীরার দিকে তাকালেন।

—নীরা, তোমার জন্মের রাতের কথা কি এখনো মনে পড়ে?

নীরা মৃদু হেসে বলল,

—আমার নিজের তো মনে থাকার কথা নয়। তবে আপনি অনেক কিছু বলেছিলেন।

ডা. নাসরিনের মুখে কোমল একটা অভিব্যক্তি ফুটে উঠল।

—সেদিন হাসপাতালের পরিবেশটা খুব ব্যস্ত ছিল। অনেক রোগী ছিল। তোমার মায়ের অবস্থাও আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছিলাম।

নীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।

—সেদিনের হাসপাতালের মূল রেজিস্টার আমি পরে পরীক্ষা করেছিলাম। সেখানে কোনো পরিবর্তন ছিল না। কিন্তু একটি সংযুক্ত কপিতে অসংগতি ছিল।

আরিয়ান বলল,

—সেই কপির সঙ্গে কি C-14-এর কোনো সম্পর্ক ছিল?

ডা. নাসরিন মাথা নাড়লেন।

—আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না। দুটি আলাদা বিষয়কে এক করে দেখার কোনো কারণ নেই।

নীরা বলল,

—আমরাও সেটাই চাই না।

ডা. নাসরিন বললেন,

—তোমার জন্মের রেকর্ড নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছিল, সেগুলোর উত্তর হাসপাতালের নথিতেই আছে। তোমার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই।

নীরা কিছুটা স্বস্তি পেল।

সে বলল,

—আমি জানি, ডাক্তার আপা। এখন আর নিজের পরিচয় নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই। আমি শুধু জানতে চাই, সেদিন কারা কী উদ্দেশ্যে নথি নিয়ে কাজ করেছিল।

ডা. নাসরিন মাথা নাড়লেন।

—তাহলে তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে।

৪. মেহজাবিনের ফোন

সন্ধ্যা নামার একটু আগে ডা. নাসরিনের ফোন বেজে উঠল।

তিনি কল ধরলেন।

—হ্যাঁ, মেহজাবিন?

ওপাশ থেকে কিছু বলার পর তিনি বললেন,

—পেয়েছ?

নীরা ও আরিয়ান একে অপরের দিকে তাকাল।

ডা. নাসরিন এবার একটু উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন,

—আচ্ছা, তুমি রেখে দাও। আমরা আসছি।

ফোন রেখে তিনি বললেন,

—নোটবুকটা পাওয়া গেছে।

নীরা দ্রুত জিজ্ঞেস করল,

—কোথায়?

—পুরোনো কাগজের বাক্সে। মেহজাবিনের বাসায়।

আরিয়ান বলল,

—আমরা কি এখনই যেতে পারি?

—হ্যাঁ। তবে নোটবুকটা খুব পুরোনো। সাবধানে দেখতে হবে।

নীরা উঠে দাঁড়াল।

তার মনে হচ্ছিল, এত দিনের রহস্যের একটা দরজা হয়তো আজ খুলতে যাচ্ছে।

৫. নোটবুকের প্রথম পৃষ্ঠা

মেহজাবিনের বাসায় পৌঁছানোর পর তারা একটি ছোট কাঠের বাক্স দেখতে পেল।

বাক্সের ভেতরে কয়েকটি পুরোনো ডায়েরি, চিঠি, হাসপাতালের কাগজ এবং একটি বাদামি নোটবুক।

মেহজাবিন বলল,

—খালা, এগুলো অনেক দিন ধরে এখানে রাখা। আমি কখনো খুলে দেখিনি।

ডা. নাসরিন নোটবুকটি হাতে নিয়ে বললেন,

—এটাই।

নীরা সাবধানে নোটবুকটি খুলল।

প্রথম পাতায় লেখা—

Dr. Nasrin Akter
Personal Observation Notes
2008

পরের পাতায় হাসপাতালের কয়েকটি সাধারণ নোট।

তারপর সেপ্টেম্বর মাসের কিছু তারিখ।

নীরা দ্রুত অক্টোবরের পাতায় গেল।

হঠাৎ থেমে গেল সে।

১৮ অক্টোবরের পাশে একটি ছোট্ট নোট লেখা।

আরিয়ান কাছে এসে পড়ল।

“আজ একটি পুরোনো স্বাক্ষরের নমুনা দেখানো হয়েছে। নমুনাটি কার, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো পরিচয়পত্র বা অনুমোদিত দলিল দেওয়া হয়নি।”

নীরা বলল,

—এখানে তো স্পষ্ট লেখা আছে, পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

আরিয়ান পরের লাইন পড়ল।

“স্বাক্ষরের গঠন ও লেখার ধরনে কিছু মিল পাওয়া গেলেও ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”

ডা. নাসরিন বললেন,

—হ্যাঁ, এটাই আমার বক্তব্য ছিল।

নীরা বলল,

—কিন্তু এই নমুনাটা কে নিয়ে এসেছিল?

তারা পরের লাইন খুঁজতে লাগল।

সেখানে লেখা—

“নমুনা প্রদর্শনকারী ব্যক্তির পরিচয় আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।”

নিচে একটি নামের আদ্যক্ষর।

J.S.

আরিয়ান বলল,

—J.S.?

নীরা বলল,

—জয়ন্ত সেন?

ডা. নাসরিন কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন,

—নামটা শুনে পরিচিত মনে হচ্ছে। তবে এত বছর পর শুধু আদ্যক্ষর দেখে নিশ্চিত হওয়া ঠিক হবে না।

নীরা নোটবুকটি সাবধানে ধরে বলল,

—তাহলে আমাদের জয়ন্ত সেনের সঙ্গে আবার কথা বলতে হবে।

৬. আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নোট

নীরা নোটবুকের পরের পাতাটি উল্টাল।

১৯ অক্টোবরের তারিখ।

সেখানে লেখা—

“আগের দিনের স্বাক্ষরের নমুনা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ আমার কাছে নেই।”

আরিয়ান বলল,

—অর্থাৎ পরের দিন কেউ আবার এই নমুনার বিষয়ে জানতে এসেছিল।

ডা. নাসরিন বললেন,

—হ্যাঁ। মনে হচ্ছে, কেউ চেয়েছিল আমার পর্যবেক্ষণকে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

—আপনি কি তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন?

—না। আমি স্পষ্ট বলেছিলাম, আমার বক্তব্যকে পরিচয় যাচাইয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

আরিয়ান বলল,

—সেই ব্যক্তির নাম কি এখানে আছে?

ডা. নাসরিন নোটবুকটি নিজের হাতে নিলেন।

একটু নিচে একটি লাইন দেখিয়ে বললেন,

—এখানে নামটা লেখা আছে।

নীরা পড়ল।

Jihir Uddin.

নীরার চোখ বড় হয়ে গেল।

—জিহির সাহেব!

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

—তাহলে জিহির সাহেব ১৯ অক্টোবর আপনার কাছে এসেছিলেন?

ডা. নাসরিন মাথা নাড়লেন।

—নোট অনুযায়ী তাই মনে হচ্ছে।

নীরা বলল,

—তিনি কী জানতে চেয়েছিলেন?

ডা. নাসরিন নোটের শেষ অংশ পড়লেন।

“He asked whether the handwriting observation could be considered sufficient for identity confirmation. I declined to certify the identity.”

নীরা ধীরে ধীরে বলল,

—তিনি জানতেন যে পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। তারপরও জানতে চেয়েছিলেন, এই পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করা যায় কি না।

আরিয়ান বলল,

—এখন আমাদের জানতে হবে, তিনি কেন সেটা জানতে চেয়েছিলেন।

৭. একটি খালি জায়গা

নীরা নোটবুকের আরও কয়েকটি পাতা উল্টাল।

কিন্তু ২০ অক্টোবরের পরের কয়েকটি পাতা ফাঁকা।

তারপর ২৮ অক্টোবরের একটি নোট।

সেখানে শুধু লেখা—

“Previous specimen request closed. No further verification completed by me.”

আর কিছু নেই।

নীরা অবাক হয়ে বলল,

—মাঝের আট দিনের কোনো নোট নেই কেন?

ডা. নাসরিন বললেন,

—আমি সব সময় প্রতিদিন লিখতাম না। কাজের চাপ থাক

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 93 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন