ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 94

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

লেখক: Mafiya Queen 👑

পর্ব ৯৪: নোটবুকের গোপন নাম

পুরোনো বাড়ির ঘরটায় তখন অদ্ভুত নীরবতা।

টেবিলের ওপর রাখা বাদামি রঙের নোটবুকটার দিকে তাকিয়ে আছে নীরা। নোটবুকটি ডা. নাসরিন আক্তারের। এত বছর ধরে যে মানুষটি হাসপাতালের সেই রাতের সত্য নিজের মধ্যে আটকে রেখেছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত নোটবুক হয়তো এমন কিছু তথ্য দিতে পারে, যা এতদিন কেউ খুঁজে পায়নি।

আরিয়ান নীরার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

— তুমি কি মনে করো, এই নোটবুকেই সব উত্তর পাওয়া যাবে?

নীরা ধীরে মাথা নাড়ল।

— সব উত্তর হয়তো না। কিন্তু কিছু প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয়ই আছে। আর এতদিন ধরে আমরা যে নামগুলো খুঁজছি, তার মধ্যে একটা নাম এখানে পাওয়া যেতে পারে।

রাফি টেবিলের অন্য পাশে দাঁড়িয়ে বলল,

— নোটবুকটা যিনি দিয়েছেন, তিনি কি জানেন এর ভেতরে কী আছে?

নীরা বলল,

— মেহজাবিন শুধু বলেছে, খালার পুরোনো কাগজপত্রের মধ্যে এটা পেয়েছে। কিন্তু নোটবুকের সব লেখা সে পড়েনি।

আরিয়ান চেয়ার টেনে বসল।

— তাহলে সময় নষ্ট না করে শুরু করা যাক।

নীরা নোটবুকের প্রথম পৃষ্ঠা খুলল।

প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা ছিল সাধারণ চিকিৎসাসংক্রান্ত নোট। রোগীর নাম, তারিখ, ওষুধের তালিকা, হাসপাতালের কিছু প্রশাসনিক বিষয়।

এরপর একটি পৃষ্ঠায় এসে নীরা থেমে গেল।

তারিখ লেখা—

১৮ অক্টোবর ২০০৮।

তারিখটির নিচে কয়েকটি লাইন।

নীরা পড়তে শুরু করল।

“আজ জয়ন্ত সেন একটি হাতে লেখা স্বাক্ষরের নমুনা নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, এটি M-04-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। নমুনাটি দেখতে আমাকে দেওয়া হয়। আমি শুধু হাতের লেখার গঠন তুলনা করেছি। কোনো ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করিনি।”

নীরা পড়া থামাল।

— M-04!

আরিয়ান দ্রুত সামনে ঝুঁকল।

— আবার সেই একই কোড।

রাফি বলল,

— কিন্তু এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার। ডা. নাসরিন শুধু হাতের লেখা তুলনা করেছিলেন। তিনি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেননি।

নীরা আবার লেখাটির দিকে তাকাল।

— তার মানে ১৮ অক্টোবর যে স্বাক্ষরের নমুনা আনা হয়েছিল, সেটি কার, তা ডা. নাসরিন জানতেন না।

আরিয়ান বলল,

— আর জয়ন্ত সেনও হয়তো জানতেন না। তিনি শুধু একটি বন্ধ ফাইল নিয়ে এসেছিলেন।

নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— জয়ন্ত সেনের বক্তব্য আমাদের আবার যাচাই করতে হবে।

রাফি সঙ্গে সঙ্গে ফোন বের করল।

— আমি তাঁকে ফোন করছি।

কিছুক্ষণ পর ফোনে জয়ন্ত সেনের কণ্ঠ শোনা গেল।

— হ্যালো, রাফি?

— স্যার, আমরা ডা. নাসরিনের নোটবুক পেয়েছি। সেখানে ১৮ অক্টোবর ২০০৮-এর একটি লেখা আছে। আপনি সেদিন তাঁর কাছে একটি স্বাক্ষরের নমুনা নিয়ে গিয়েছিলেন?

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

— হ্যাঁ। মনে পড়ছে।

আরিয়ান ফোনের স্পিকার চালু করে দিল।

নীরা প্রশ্ন করল,

— আপনি কি জানতেন নমুনাটি কার?

— না। আমাকে একটি বন্ধ ফাইল দেওয়া হয়েছিল। সেখানে শুধু A-17 রেফারেন্স ছিল। বলা হয়েছিল, নমুনাটি M-04-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু M-04 কে, সেটা আমাকে জানানো হয়নি।

— ফাইলটি কে দিয়েছিল?

জয়ন্ত একটু ভেবে বললেন,

— সরাসরি কোনো ব্যক্তির নাম মনে নেই। ফাইলটি অফিসের মাধ্যমে এসেছিল। আমি সেটি ডা. নাসরিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম। তিনি হাতের লেখা দেখেছিলেন, কিন্তু পরিচয় নিশ্চিত করেননি।

নীরা বলল,

— আপনি কি জানতেন, পরবর্তীতে এই নমুনা কোনো চূড়ান্ত নথিতে ব্যবহার করা হবে?

— না। আমি এমন কোনো অনুমতি দিইনি। আর আমার জানা মতে, ডা. নাসরিনও পরিচয় নিশ্চিত করেননি।

আরিয়ান এবার প্রশ্ন করল,

— ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডে যে স্বাক্ষর আছে, সেটি কি আপনি দেখেছিলেন?

— না। ওই রেকর্ডের চূড়ান্ত স্বাক্ষর আমি যাচাই করিনি।

নীরা গভীর শ্বাস নিল।

— ধন্যবাদ, স্যার। আমাদের আরও কিছু তথ্য যাচাই করতে হবে।

ফোন কেটে গেল।

ঘরের ভেতর আবার নীরবতা নেমে এল।

নীরা নোটবুকের পরের পৃষ্ঠা খুলল।

তারিখ—

১৯ অক্টোবর ২০০৮।

লেখা ছিল,

“আজ জহির উদ্দিন আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আগের দিনের পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রাপকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব কি না। আমি তাঁকে স্পষ্ট জানিয়েছি, হাতের লেখার মিল থাকলেই কোনো ব্যক্তির পরিচয় প্রমাণ হয় না। পরিচয় নিশ্চিত করতে হলে আলাদা প্রমাণ প্রয়োজন।”

নীরা লেখাটি দুবার পড়ল।

— জহির চাচা কেন প্রাপকের পরিচয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন?

আরিয়ান বলল,

— কারণ C-14-এর মূল নথি, দ্বিতীয় কপি আর P-07-এর পরিচয়—সবকিছু তখন একসঙ্গে জটিল হয়ে উঠেছিল। হয়তো তিনি বুঝতে পারছিলেন, কাগজগুলোতে কিছু একটা অসংগতি আছে।

রাফি বলল,

— কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। যদি ডা. নাসরিন পরিচয় নিশ্চিত করতে অস্বীকার করে থাকেন, তাহলে পরবর্তী কোনো নথিতে এই নমুনাকে কীভাবে পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখানো হলো?

নীরা মাথা তুলল।

— ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের খুঁজতে হবে।

আরিয়ান বলল,

— আগে পুরো নোটবুকটা পড়ি। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

আরও কয়েকটি পৃষ্ঠা উল্টানোর পর নীরা একটি ভাঁজ করা কাগজ দেখতে পেল।

কাগজটি নোটবুকের মাঝখানে রাখা ছিল। খুলতেই দেখা গেল, সেখানে একটি খামের বিবরণ লেখা।

তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০০৮।

নীরা ধীরে ধীরে পড়ল।

“আজ একটি সিল করা খাম আমার কাছে এসেছে। খামের গায়ে প্রেরকের পরিচয় হিসেবে M-04 লেখা। ভেতরে একটি পুরোনো স্বাক্ষরের নমুনা-সংক্রান্ত অনুরোধপত্রের কপি থাকার কথা জানানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় খামটি খোলা হয়নি। খামের ওপর লেখা নির্দেশ অনুযায়ী, পরিচয় যাচাই না হলে প্রেরকের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে।”

নীরা অবাক হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকাল।

— ২৭ অক্টোবর আবার M-04!

আরিয়ান বলল,

— অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর যে নমুনা এসেছিল, ২৭ অক্টোবর সেই নমুনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি খাম পাঠানো হয়েছিল।

রাফি বলল,

— কিন্তু ডা. নাসরিন খামটি খোলেননি। তাহলে ভেতরে কী ছিল, সেটা তিনি কীভাবে জানলেন?

নীরা নোটবুকের নিচের লাইন দেখাল।

সেখানে লেখা—

“খামটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। কোনো নথি খোলা বা গ্রহণ করা হয়নি।”

আরিয়ান বলল,

— তিনি খামটি খোলেননি। শুধু খামের গায়ে থাকা তথ্য এবং সঙ্গে থাকা নির্দেশ অনুযায়ী সেটি ফেরত দিয়েছেন।

নীরা বলল,

— তার মানে ২৭ অক্টোবরের খামের ভেতরে আসলে কী ছিল, সেটা এখনও অজানা।

রাফি বলল,

— আর খামটি সত্যিই M-04 পাঠিয়েছিল কি না, সেটাও নিশ্চিত নয়।

নীরা এবার চুপ হয়ে গেল।

তার চোখ আটকে আছে খামের বিবরণের পাশে লেখা ছোট্ট একটি বাক্যে।

“Return to sender if identity remains unverified.”

— পরিচয় নিশ্চিত না হলে প্রেরকের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে...

আরিয়ান বলল,

— কী ভাবছ?

নীরা উত্তর দিল,

— একটা বিষয়। যদি M-04 সত্যিই একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি হয়, তাহলে তার পরিচয় যাচাই করার মতো তথ্য কোথায়? আর যদি অন্য কেউ M-04-এর নামে খাম পাঠিয়ে থাকে?

আরিয়ান কিছু বলল না।

কারণ প্রশ্নটি অযৌক্তিক ছিল না।

পরদিন সকালে নীরা, আরিয়ান ও রাফি আবার ডা. নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করল।

ডা. নাসরিন তাঁদের দেখে কিছুটা অবাক হলেন।

— তোমরা আবার এসেছ?

নীরা নোটবুকের কয়েকটি পৃষ্ঠা সামনে রাখল।

— ম্যাডাম, আপনার নোটবুকে ২৭ অক্টোবরের একটি খামের কথা লেখা আছে। আপনি কি মনে করতে পারছেন, খামটি কোথা থেকে এসেছিল?

ডা. নাসরিন কিছুক্ষণ কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলেন।

— এত বছর আগের ঘটনা। সবকিছু স্পষ্ট মনে নেই। তবে খামটি আমার কাছে এসেছিল, এটা মনে আছে।

— আপনি কি খামটি খুলেছিলেন?

— না। খামের গায়ে পরিচয় স্পষ্ট ছিল না। M-04 লেখা ছিল। কিন্তু কোনো পূর্ণ নাম, অফিসের সিল বা নির্ভরযোগ্য পরিচয়পত্র ছিল না। তাই খামটি খোলার প্রয়োজন মনে করিনি।

আরিয়ান প্রশ্ন করল,

— কেউ কি আপনাকে বলেছিল, M-04 একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি?

— হ্যাঁ। খামের সঙ্গে যে নির্দেশনা ছিল, তাতে M-04-কে প্রেরক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু আমি তো জানতাম না, ওই কোডের আড়ালে কে আছেন।

নীরা বলল,

— তাহলে আপনি কি বলতে পারবেন, খামটি সত্যিই M-04 পাঠিয়েছিলেন?

ডা. নাসরিন মাথা নাড়লেন।

— না। আমি সেটা কখনো নিশ্চিত করিনি।

রাফি বলল,

— খামটি ফেরত দেওয়ার পর কি কেউ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল?

ডা. নাসরিন কিছুক্ষণ ভাবলেন।

— সরাসরি কেউ আসেনি। তবে কয়েক দিন পর হাসপাতালের পুরোনো প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একজন ফোন করেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, আমি খামটি খুলেছিলাম কি না।

নীরা দ্রুত প্রশ্ন করল,

— তিনি কে ছিলেন?

— নামটা এখন মনে নেই। তবে তিনি বলেছিলেন, খামটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

— আপনি কী উত্তর দিয়েছিলেন?

— আমি বলেছিলাম, পরিচয় যাচাই না হওয়ায় খামটি খোলা হয়নি। এরপর আর কোনো কথা হয়নি।

আরিয়ান বলল,

— ফোনের কোনো রেকর্ড বা নোট কি আছে?

ডা. নাসরিন বললেন,

— আমার পুরোনো ডায়েরিতে হয়তো থাকতে পারে। তবে সেটি খুঁজে দেখতে হবে।

নীরা বলল,

— আমরা অপেক্ষা করব।

ডা. নাসরিন এবার নীরার দিকে তাকালেন।

— একটা কথা বলি, মা। এত বছর ধরে তোমরা যে কাগজগুলো খুঁজছ, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—অনেকেই কোনো কিছু দেখেছে, কেউ কোনো কিছু বহন করেছে, কেউ শুধু স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, আসলে কে কী অনুমোদন দিয়েছিল।

নীরা ধীরে বলল,

— আর সেই কারণেই সত্যটা এত জটিল হয়ে গেছে।

ডা. নাসরিন মাথা নাড়লেন।

— ঠিক তাই।

বিকেলে Royal Holdings-এর অফিসে ফিরে নীরা পুরোনো ফাইলগুলো আবার সাজাতে শুরু করল।

আরিয়ান তার কেবিনে বসে A-17 রেফারেন্সের কাগজগুলো দেখছিল।

রাফি একটি ফাইল নিয়ে এসে বলল,

— স্যার, A-17-এর সঙ্গে সম্পর্কিত পুরোনো ইনডেক্সের আরেকটি কপি পেয়েছি।

আরিয়ান ফাইলটি নিল।

প্রথম পাতায় লেখা ছিল—

A-17 — Final Authorization Review

নিচে কয়েকটি তথ্য:

Original dispatch: Pending acknowledgment.

Identity specimen: Received from external witness.

Verification status: Incomplete.

Review copy: Transferred to Private Archive.

Final authorization: Subject to identity confirmation.

আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,

— এখানে তো স্পষ্ট লেখা আছে, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া যাবে না।

রাফি বলল,

— কিন্তু ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডে তো স্বাক্ষর রয়েছে।

নীরা ফাইলের দিকে এগিয়ে এল।

— তাহলে আমাদের জানতে হবে, ২৮ অক্টোবরের আগে কে এই অসম্পূর্ণ পরিচয়কে সম্পূর্ণ বলে দেখিয়েছিল।

আরিয়ান বলল,

— A-17-এর Review Section-এ মাহবুব আলমের নাম ছিল। কিন্তু তিনি সেখানে reviewer বা approving officer হিসেবে ছিলেন। প্রেরক বা চূড়ান্ত নথির রক্ষক হিসেবে নয়।

নীরা বলল,

— তাহলে তাঁকেও সরাসরি দায়ী করা যাবে না। আমাদের তাঁর অনুমোদনের সীমা জানতে হবে।

রাফি মাথা নাড়ল।

— আমি পুরোনো রিভিউ রেজিস্টার খুঁজছি। সেখানে হয়তো বোঝা যাবে, তিনি ঠিক কোন অংশে অনুমোদন দিয়েছিলেন।

নীরা আবার নোটবুকের পৃষ্ঠাগুলো দেখল।

একই কোড বারবার ফিরে আসছে—

M-04।

কিন্তু কোডটির পেছনের মানুষটি এখনও অজানা।

সন্ধ্যার দিকে নীরার ফোনে একটি মেসেজ এল।

অপরিচিত নম্বর।

কোনো নাম নেই।

শুধু একটি লাইন—

“২৭ অক্টোবরের খামটি M-04 পাঠায়নি। কেউ একজন M-04-এর পক্ষ থেকে কথা বলার দাবি করেছিল।”

নীরা মেসেজটি পড়ে স্থির হয়ে গেল।

আরিয়ান পাশে এসে দাঁড়াল।

— কী হয়েছে?

নীরা ফোনটি তার দিকে এগিয়ে দিল।

আরিয়ান মেসেজটি পড়ে বলল,

— আবার একই ধরনের দাবি। এবারও কোনো প্রমাণ নেই।

নীরা বলল,

— কিন্তু কথাটা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না। কারণ ডা. নাসরিন নিজেও কখনো প্রেরকের পরিচয় নিশ্চিত করেননি।

রাফি বলল,

— তাহলে আমাদের খামের ডাক বা ডেলিভারি রেকর্ড খুঁজতে হবে। কে পাঠিয়েছিল, কোথা থেকে এসেছিল, গ্রহণের দায়িত্বে কার নাম ছিল—এসব বের করতে পারলে অনেক কিছু পরিষ্কার হবে।

আরিয়ান মাথা নাড়ল।

— ঠিক। এবার কোনো অজানা নম্বরের কথার ওপর নির্ভর করব না। মূল রেকর্ড ছাড়া আমরা কাউকে বিশ্বাস করব না।

নীরা জানালার বাইরে তাকাল।

বাইরে সন্ধ্যা নেমেছে।

তার মনে হচ্ছিল, রহস্যের একেবারে কাছাকাছি এসে তারা আবার নতুন এক অন্ধকারে ঢুকে পড়েছে।

M-04 কি সত্যিই একজন মানুষ?

নাকি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার জন্য তৈরি করা একটি কোড?

আর ২৭ অক্টোবরের খামটি যদি M-04 না পাঠিয়ে থাকে, তাহলে কে তার হয়ে কথা বলেছিল?

রাত প্রায় দশটা।

আরিয়ান নিজের কেবিনে বসে ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডটি আবার বের করল।

নীরা তার পাশে এসে দাঁড়াল।

— এত রাতেও কাজ করছ?

আরিয়ান কাগজ থেকে চোখ না সরিয়ে বলল,

— একটা বিষয় মাথায় ঘুরছে।

— কী?

আরিয়ান রেকর্ডের শেষ অংশটি নীরার সামনে ধরল।

— এই স্বাক্ষরটা দেখো।

নীরা কাগজের দিকে তাকাল।

স্বাক্ষরটি ছোট, কিন্তু স্পষ্ট।

তার নিচে লেখা ছিল—

Final Responsibility Confirmed — 28 October 2008

নীরা বলল,

— এই স্বাক্ষর কি M-04-এর?

আরিয়ান উত্তর দিল,

— জানি না। তবে ডা. নাসরিনের নোটবুক অনুযায়ী, তিনি কখনো M-04-এর পরিচয় নিশ্চিত করেননি। আর A-17 ইনডেক্সেও পরিচয় অসম্পূর্ণ ছিল।

নীরা বলল,

— তাহলে এই স্বাক্ষর দিয়ে চূড়ান্ত দায়িত্ব নিশ্চিত করা হলো কীভাবে?

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— আমাদের প্রথমে স্বাক্ষরটি শনাক্ত করতে হবে।

নীরা কাগজটির দিকে তাকিয়ে রইল।

এতদিন তারা খুঁজছিল M-04 কে।

কিন্তু এখন প্রশ্ন বদলে গেছে।

২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডে স্বাক্ষরটি কার?

ঠিক তখনই রাফির কাছ থেকে একটি ই-মেইল এল।

বিষয়:

A-17 — Original Signature Record Located

আরিয়ান দ্রুত ই-মেইল খুলল।

ভেতরে লেখা—

“স্যার, A-17-এর মূল স্বাক্ষর রেকর্ডের একটি পুরোনো রেফারেন্স পাওয়া গেছে। তবে মূল কাগজটি বর্তমানে Private Archive-এ নেই। রেজিস্টারে শেষবার যার কাছে পাঠানো হয়েছিল, তার নামের জায়গায় শুধু একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় লেখা আছে।”

নীরা উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,

— কী পরিচয়?

আরিয়ান স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,

— এখানে লেখা আছে...

“M.R. — Personal Review Copy.”

নীরা ধীরে বলল,

— M.R.?

আরিয়ান মাথা তুলল।

— কিন্তু এটা কি মিজানুর রহমান, মাহবুব রহমান, নাকি অন্য কেউ?

দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

কারণ এবার তাদের হাতে একটি নতুন সূত্র এসেছে।

কিন্তু সেই সূত্রের নামও অসম্পূর্ণ।

আর অসম্পূর্ণ নামের আড়ালেই হয়তো লুকিয়ে আছে ২৮ অক্টোবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 94 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন