রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা।
Royal Holdings-এর অফিসের বেশির ভাগ আলো নিভে গেছে। শুধু আরিয়ানের কেবিনে আলো জ্বলছে।
টেবিলের ওপর ছড়িয়ে আছে ২০০৮ সালের পুরোনো নথি, A-17-এর ইনডেক্স এবং ডা. নাসরিনের নোটবুকের কয়েকটি ছবি।
নীরা চুপচাপ বসে আছে।
তার সামনে একটি শব্দ বারবার চোখে পড়ছে—
M.R. — Personal Review Copy.
আরিয়ান ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে বলল,
— আমাদের হাতে এখন তিনটি আলাদা তথ্য আছে।
নীরা বলল,
— বলো।
— প্রথমত, ১৮ অক্টোবরের স্বাক্ষরের নমুনা M-04-এর বলে দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, A-17-এর চূড়ান্ত অনুমোদন তখনো অসম্পূর্ণ ছিল। তৃতীয়ত, মূল স্বাক্ষর রেকর্ডের একটি রিভিউ কপি M.R. পরিচয়ে পাঠানো হয়েছিল।
নীরা বলল,
— আর আমরা জানি না M.R. কে।
রাফি ফাইল হাতে নিয়ে কেবিনে ঢুকল।
— স্যার, একটা বিষয় পেয়েছি।
আরিয়ান তাকাল।
— কী?
— ২০০৮ সালের পুরোনো কর্মীদের তালিকায় M.R. আদ্যক্ষরের তিনজনের নাম আছে।
নীরা সোজা হয়ে বসল।
— কারা?
রাফি কাগজটি সামনে রাখল।
— মিজানুর রহমান, মাহবুব আলমের অফিসের একজন কর্মী যার নামের আদ্যক্ষর M.R., আর একজন বাইরের রেকর্ড পরামর্শক। তবে তৃতীয় ব্যক্তির পূর্ণ নাম ওই তালিকায় নেই।
আরিয়ান বলল,
— তাহলে শুধু আদ্যক্ষর দেখে কাউকে শনাক্ত করা যাবে না।
নীরা মাথা নাড়ল।
— আমাদের আগে জানতে হবে, M.R. কোন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
রাফি বলল,
— সেই তথ্য বের করার চেষ্টা করছি।
আরিয়ান ঘড়ির দিকে তাকাল।
— কাল সকালে পুরোনো রিভিউ রেজিস্টারটা নিয়ে এসো। এবার আমরা শুধু নাম খুঁজব না, দায়িত্বের সীমাটাও বুঝব।
১. মিজানুর রহমানের কাছে
পরদিন সকাল।
নীরা ও আরিয়ান মিজানুর রহমানের বাসায় পৌঁছাল।
তাদের দেখে মিজানুর সাহেব কিছুটা অবাক হলেও বসতে বললেন।
— কী ব্যাপার? আবার কোনো পুরোনো কাগজের সন্ধান পেয়েছ?
নীরা বলল,
— জি। এবার M.R. পরিচয় নিয়ে।
আরিয়ান একটি কাগজ সামনে রাখল।
— A-17-এর রিভিউ কপির রেজিস্টারে এই আদ্যক্ষর পাওয়া গেছে। আপনার নামও M.R. দিয়ে শুরু। তাই বিষয়টি যাচাই করতে এসেছি।
মিজানুর কাগজটি হাতে নিলেন।
কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে দেখলেন।
তারপর বললেন,
— আমার নাম এখানে থাকলেই যে এই কাগজটি আমি গ্রহণ করেছি, এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না।
নীরা বলল,
— আমরা সেটাই জানতে চাই। ২০০৮ সালের ১৮ অক্টোবর আপনি কি A-17-এর কোনো রিভিউ কপি পেয়েছিলেন?
মিজানুর কিছুক্ষণ ভেবে উত্তর দিলেন,
— সেদিন আমি ট্রাস্ট বোর্ডের কিছু নথি সংরক্ষণের কাজে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন দিইনি।
আরিয়ান বলল,
— আপনার কাছে কি সেই দিনের কোনো রসিদ বা অফিস কপি আছে?
মিজানুর উঠে পাশের আলমারি থেকে একটি ফাইল বের করলেন।
— আমার কাছে একটি ব্যক্তিগত নথি আছে। অনেক দিন ধরে রেখেছি।
তিনি ফাইল খুলে একটি কাগজ বের করলেন।
কাগজের ওপরে লেখা—
Witness Clarification — 18 October 2008
নীরা দ্রুত পড়তে শুরু করল।
সেখানে লেখা ছিল,
“আমি উপস্থিত থেকে নথি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছি। কোনো চূড়ান্ত প্রাপককে শনাক্ত বা অনুমোদন করিনি। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মূল স্বাক্ষরের নমুনা পৃথকভাবে সংরক্ষণের কথা ছিল।”
নীরা বলল,
— তাহলে আপনি শুধু সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার সাক্ষী ছিলেন?
— ঠিক তাই।
আরিয়ান প্রশ্ন করল,
— আপনি কি কখনো A-17-এর মূল স্বাক্ষরের নমুনা দেখেছিলেন?
— আমাকে একটি কপি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সেটি আসল নমুনা ছিল কি না, তা যাচাই করার দায়িত্ব আমার ছিল না।
নীরা বলল,
— কপিটি কি আপনার কাছে আছে?
মিজানুর মাথা নাড়লেন।
— না। আমার কাছে শুধু এই Clarification কপিটা আছে।
আরিয়ান কাগজটি আবার দেখল।
— এখানে আপনার স্বাক্ষর আছে। কিন্তু নিচে লেখা আছে, ‘Final Recipient Not Verified।’
মিজানুর বললেন,
— কারণ সেটাই সত্য ছিল। আমি তখনও জানতাম না, নথিটি শেষ পর্যন্ত কার কাছে যাবে।
নীরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— তাহলে আপনার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি পরে চূড়ান্ত দায়িত্ব গ্রহণের কথা বলে থাকে, সেটি ভুল হবে।
মিজানুর গম্ভীর হয়ে বললেন,
— আমার অনুমতি ছাড়া আমার নাম ব্যবহার করা হলে সেটি অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
২. তৃষার স্মৃতি
ঠিক তখন তৃষা ঘরে ঢুকল।
— বাবা, নীরা আপুরা এসেছেন?
মিজানুর বললেন,
— হ্যাঁ। পুরোনো নথির বিষয়ে কথা হচ্ছে।
তৃষা নীরার পাশে বসে বলল,
— তোমরা কি এখনো সেই C-14 নিয়েই কাজ করছ?
নীরা হালকা হাসল।
— হ্যাঁ। এবার A-17-এর একটি নতুন সূত্র পেয়েছি।
তৃষা বলল,
— A-17?
আরিয়ান বলল,
— তুমি কি এই রেফারেন্সের কথা আগে শুনেছ?
তৃষা কিছুক্ষণ চিন্তা করল।
— পুরোপুরি মনে নেই। তবে বাবার পুরোনো অফিসের কিছু কাগজে A-17 দেখেছিলাম। সেখানে একটা কথা লেখা ছিল—‘Original dispatch pending acknowledgment.’
নীরা বলল,
— এর মানে কী?
তৃষা উত্তর দিল,
— যতদূর বুঝেছিলাম, মূল নথি পাঠানো হয়েছিল বা পাঠানোর প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু প্রাপক গ্রহণ করেছে—এমন নিশ্চিত স্বীকৃতি তখনো পাওয়া যায়নি।
আরিয়ান বলল,
— তাহলে রিভিউ কপি আর মূল নথি আলাদা ছিল?
তৃষা মাথা নাড়ল।
— হ্যাঁ। আমার মনে আছে, একটি নির্দেশ ছিল—C-14-এর দ্বিতীয় কপির সঙ্গে A-17-এর রিভিউ কপি একসঙ্গে সংরক্ষণ করা যাবে না।
নীরা বলল,
— তুমি কি সেই কাগজটি খুঁজে পেতে পারবে?
তৃষা বলল,
— চেষ্টা করব। পুরোনো কিছু ইনডেক্সের ছবি আমার কাছে থাকতে পারে।
মিজানুর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— সাবধানে দেখবে। পুরোনো কাগজের প্রতিটি তথ্যের উৎস যাচাই করা জরুরি।
তৃষা মাথা নাড়ল।
৩. রাফির নতুন আবিষ্কার
দুপুরে অফিসে ফিরে নীরা দেখল রাফি অপেক্ষা করছে।
তার হাতে একটি পুরোনো রেজিস্টারের স্ক্যান কপি।
— স্যার, রিভিউ রেজিস্টার পেয়েছি।
আরিয়ান কাগজটি নিল।
প্রথম কয়েকটি পাতায় সাধারণ নথি সংরক্ষণের তথ্য ছিল।
তারপর ১৮ অক্টোবরের এন্ট্রি।
A-17 — Original Signature Record
নিচে তিনটি আলাদা কলাম।
১. নমুনা গ্রহণকারী।
২. পর্যবেক্ষণকারী।
৩. রিভিউ কপি গ্রহণকারী।
নীরা বলল,
— এবার অন্তত বোঝা যাবে, কে কোন দায়িত্বে ছিল।
রাফি প্রথম কলাম দেখাল।
— নমুনা গ্রহণকারী হিসেবে কোনো পূর্ণ নাম নেই। শুধু External Office লেখা।
দ্বিতীয় কলামে—
Dr. Nasrin Akter — Observation Only.
তৃতীয় কলামে—
M.R. — Personal Review Copy.
আরিয়ান বলল,
— এখানে M.R.-এর স্বাক্ষর আছে?
রাফি উত্তর দিল,
— না। শুধু গ্রহণের সংক্ষিপ্ত এন্ট্রি আছে। স্বাক্ষরের জায়গাটি ফাঁকা।
নীরা অবাক হয়ে বলল,
— তাহলে M.R. কপি পেয়েছিল—এমন দাবিরও পূর্ণ প্রমাণ নেই?
রাফি বলল,
— ঠিক তাই। রেজিস্টারে নামের আদ্যক্ষর আছে, কিন্তু গ্রহণকারীর স্বাক্ষর নেই।
আরিয়ান কাগজটি টেবিলে রাখল।
— তাহলে এই এন্ট্রি দিয়ে প্রমাণ করা যাবে না যে M.R. নিজে কপি গ্রহণ করেছিলেন।
নীরা বলল,
— কিংবা তিনি কাগজটির বিষয়বস্তু জানতেন।
রাফি মাথা নাড়ল।
— আরেকটি বিষয় আছে। এই এন্ট্রির পাশে ছোট করে লেখা—
“Copy only. Original acknowledgment pending.”
নীরা বলল,
— অর্থাৎ M.R. পরিচয়ে যে কপি পাঠানো হয়েছিল, সেটি মূল নথি ছিল না।
আরিয়ান বলল,
— ঠিক। মূল নথির গ্রহণের স্বীকৃতি তখনো পাওয়া যায়নি।
৪. মাহবুব আলমের পুরোনো সচিব
আরিয়ান এবার মাহবুব আলমের ব্যক্তিগত সচিব আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করল।
আনোয়ার সাহেব ফোন ধরতেই আরিয়ান বলল,
— আপনার কাছে ২০০৮ সালের A-17 রিভিউ কপির কোনো তথ্য আছে?
আনোয়ার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
— A-17... নামটা পরিচিত মনে হচ্ছে।
নীরা স্পিকারের কাছে এসে বসল।
— আপনি কি সেই সময় মাহবুব সাহেবের অফিসে কাজ করতেন?
— হ্যাঁ। আমি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলাম।
আরিয়ান বলল,
— ১৮ অক্টোবর বা তার আশপাশের সময়ে কোনো M.R. পরিচয়ে কাগজ আপনার অফিসে এসেছিল?
আনোয়ার বললেন,
— আমার মনে আছে, একবার একটি রিভিউ কপি এসেছিল। তবে সেটি সরাসরি আমার হাতে কে দিয়েছিল, তা নিশ্চিত নই।
নীরা প্রশ্ন করল,
— কপিটি কি মাহবুব সাহেবের কাছে পৌঁছেছিল?
— সম্ভবত। তবে আমি নিজে তাঁকে হাতে দিয়েছিলাম কি না, সেটা মনে করতে পারছি না।
আরিয়ান বলল,
— আপনার অফিসে কি কোনো গ্রহণ রেজিস্টার ছিল?
— ছিল। কিন্তু পুরোনো রেজিস্টার এখন কোথায় আছে, নিশ্চিত নই।
নীরা বলল,
— আপনি কি কোনো ব্যক্তির নাম মনে করতে পারছেন, যিনি কপিটি নিয়ে এসেছিলেন?
আনোয়ার কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,
— একজন অফিসকর্মী এসেছিলেন বলে মনে হয়। তবে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন না। শুধু কাগজ পৌঁছে দিয়েছিলেন।
আরিয়ান বলল,
— তাঁর নাম?
— মনে পড়ছে না।
ফোন শেষ হওয়ার পর নীরা বলল,
— আবার সেই একই সমস্যা। কাগজ এসেছে, কেউ দেখেছে, কেউ রেখেছে—কিন্তু কে গ্রহণ করেছে, তার নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
আরিয়ান বলল,
— এই কারণেই আমাদের প্রতিটি নথির মূল কপি প্রয়োজন।
৫. মূল রেকর্ডের সন্ধান
বিকেলের দিকে রাফি একটি নতুন তথ্য নিয়ে এল।
— স্যার, A-17-এর মূল স্বাক্ষর রেকর্ডের পুরোনো সংরক্ষণস্থলের একটি নাম পাওয়া গেছে।
আরিয়ান দ্রুত জিজ্ঞেস করল,
— কোথায়?
— Private Archive Review Section-এর পুরোনো ইনভেন্টরিতে। সেখানে লেখা আছে, মূল রেকর্ডটি সাময়িকভাবে একটি আলাদা ফাইলে রাখা হয়েছিল।
নীরা বলল,
— কার কাছে?
রাফি কাগজটি সামনে রাখল।
— এখানে শুধু একটি রেফারেন্স আছে। P-Archive/17.
আরিয়ান বলল,
— এটা কি সেই Private Archive, যেখানে C-14-এর কিছু কপি রাখা হয়েছিল?
রাফি বলল,
— একই বিভাগের নাম। তবে একই ফাইলে রাখা হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই।
নীরা বলল,
— আমাদের কি ওই আর্কাইভে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া সম্ভব?
আরিয়ান বলল,
— চেষ্টা করব। তবে আগে জানতে হবে, মূল রেকর্ডটি সেখানে এখনো আছে কি না।
রাফি বলল,
— ইনভেন্টরির শেষ আপডেটে লেখা আছে, ‘File not physically verified.’
নীরা হতাশ হয়ে বলল,
— আবারও হারিয়ে গেছে?
আরিয়ান শান্ত গলায় বলল,
— হারিয়েছে, নাকি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়েছে, সেটা এখনো জানি না।
নীরা বলল,
— আমি শুধু একটা বিষয় বুঝতে পারছি না। এত গুরুত্বপূর্ণ নথি কেন বারবার অসম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে?
আরিয়ান বলল,
— হয়তো তখনকার প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দুর্বলতা ছিল। আবার কেউ সেই দুর্বলতার সুযোগও নিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা যাবে না।
নীরা মাথা নেড়ে বলল,
— আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না। আমি শুধু চাই, যার যা দায়িত্ব ছিল, সেটা পরিষ্কার হোক।
৬. একটি পুরোনো চিঠি
সন্ধ্যার কিছু আগে মিজানুর রহমান নীরাকে ফোন করলেন।
— নীরা, একটা কথা মনে পড়েছে।
নীরা দ্রুত বলল,
— জি, বলুন।
— ২০০৮ সালে A-17 নিয়ে কাজ চলার সময় আমার কাছে একটি চিঠির কপি এসেছিল। চিঠিতে লেখা ছিল, মূল স্বাক্ষরের নমুনা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত দায়িত্ব পরিবর্তন করা যাবে না।
নীরা বলল,
— চিঠিটি কি আপনার কাছে আছে?
— সম্ভবত পুরোনো ফাইলের মধ্যে আছে। আমি খুঁজে দেখছি।
আরিয়ান পাশে বসে কথাগুলো শুনছিল।
সে ফোনের দিকে ঝুঁকে বলল,
— চিঠিতে কার স্বাক্ষর ছিল?
মিজানুর উত্তর দিলেন,
— মনে হচ্ছে, জয়ন্ত সেনের। তবে নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলছি না।
নীরা বলল,
— আপনি পেলে আমাদের জানাবেন?
— অবশ্যই।
কল শেষ হলো।
আরিয়ান বলল,
— যদি চিঠিটি সত্যিই থাকে, তাহলে A-17-এর অসম্পূর্ণ অনুমোদনের বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
নীরা বলল,
— আর যদি সেই নির্দেশের পরও ২৮ অক্টোবর FINAL রেকর্ড তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের জানতে হবে, সেটি কার অনুমতিতে হয়েছিল।
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
— এবার আমরা খুব কাছাকাছি।
৭. ২৮ অক্টোবরের স্বাক্ষর
রাতের দিকে নীরা আবার ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডটি বের করল।
সে স্বাক্ষরটির পাশে আঙুল রাখল।
— আরিয়ান, একটা বিষয় দেখো।
— কী?
— এখানে লেখা আছে ‘Final Responsibility Confirmed’। কিন্তু A-17-এর ইনডেক্সে তখনো ‘Original acknowledgment pending’ ছিল।
আরিয়ান বলল,
— হ্যাঁ। দুটি রেকর্ডের মধ্যে অসংগতি আছে।
নীরা বলল,
— তাহলে হয়তো FINAL রেকর্ডে এমন একজনের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, যার দায়িত্ব শুধু রিভিউ কপি দেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।
আরিয়ান বলল,
— সেটাও একটি সম্ভাবনা। কিন্তু স্বাক্ষরটি শনাক্ত না করে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
নীরা বলল,
— M.R. কি এই স্বাক্ষর করেছেন?
আরিয়ান উত্তর দিল,
— এখনো জানি না।
ঠিক তখন রাফি দরজায় এসে দাঁড়াল।
— স্যার, একটি পুরোনো স্ক্যান পাওয়া গেছে।
আরিয়ান তাকাল।
— কীসের?
— ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডের আরেকটি কপি। আগের কপির সঙ্গে এর একটি পার্থক্য আছে।
নীরা দ্রুত উঠে দাঁড়াল।
— কী পার্থক্য?
রাফি কাগজটি টেবিলে রাখল।
দুটি কপি পাশাপাশি রাখা হলো।
প্রথম কপিতে স্বাক্ষরটি স্পষ্ট।
দ্বিতীয় কপিতে একই জায়গায় স্বাক্ষর থাকলেও নিচে একটি অতিরিক্ত ছোট্ট নোট লেখা।
“Signed on behalf of authorized reviewer.”
নীরা বিস্মিত হয়ে বলল,
— কার পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হয়েছিল?
আরিয়ান নোটটির দিকে তাকিয়ে রইল।
— এখানে তো কোনো প্রতিনিধির নাম নেই।
রাফি বলল,
— শুধু এই কথাটুকুই আছে। আর নোটটির পাশে একটি ছোট রেফারেন্স—
R-28/10/04.
নীরা ধীরে ধীরে বলল,
— তাহলে ২৮ অক্টোবরের স্বাক্ষরটি হয়তো মূল অনুমোদনকারীর নয়। অন্য কেউ তাঁর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছে।
আরিয়ান কাগজটি হাতে তুলে নিল।
তার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।
— কিন্তু কার অনুমতিতে?
নীরা জানালার দিকে তাকাল।
এতদিন তারা M-04-কে খুঁজছিল।
তারপর M.R.-এর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠল।
এবার সামনে এসেছে আরেকটি বিষয়—
কেউ একজন অন্য কারও পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছিল।
কিন্তু সেই ব্যক্তি কে?
আর যাঁর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তিনি কি আদৌ অনুমতি দিয়েছিলেন?
নীরা ধীরে বলল,
— আরিয়ান, আমার মনে হয় আমাদের এবার R-28/10/04 খুঁজতে হবে।
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
— হ্যাঁ। কারণ ওই রেফারেন্সই হয়তো জানাবে, ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডে আসলে কে স্বাক্ষর করেছিল।
চলবে...