শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি
পর্ব ৯৬: অনুমতির আড়ালে
লেখক: Mafiya Queen 👑
সকাল থেকেই নীরার মন অস্থির।
গত রাতের পাওয়া কাগজটি সে বারবার দেখেছে।
R-28/10/04.
মাত্র একটি রেফারেন্স। অথচ এই ছোট্ট রেফারেন্সের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন।
কে স্বাক্ষর করেছিল?
কার পক্ষ থেকে করেছিল?
আর যার পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তিনি কি আদৌ অনুমতি দিয়েছিলেন?
নীরা অফিসে ঢুকতেই রাফি এগিয়ে এল।
— ম্যাম, স্যার আপনাকে কেবিনে ডাকছেন।
— কোনো নতুন খবর?
— স্যার নিজেই বলবেন।
নীরা আর কিছু না বলে আরিয়ানের কেবিনে গেল।
আরিয়ান ল্যাপটপে কয়েকটি পুরোনো ফাইল খুলে বসে ছিল।
নীরাকে দেখে বলল,
— এসো। একটা খবর পেয়েছি।
নীরা চেয়ার টেনে বসল।
— R-28/10/04?
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
— হ্যাঁ। পুরোনো রেজিস্টারে এই রেফারেন্সের একটি এন্ট্রি পাওয়া গেছে।
— কোথায়?
— ট্রাস্ট বোর্ডের প্রশাসনিক রেকর্ডে। তবে পুরো ফাইল পাওয়া যায়নি।
নীরা বলল,
— যতটুকু পেয়েছ, দেখাও।
আরিয়ান স্ক্রিনটি তার দিকে ঘুরিয়ে দিল।
সেখানে লেখা—
Reference: R-28/10/04
Document: Final Responsibility Record
Purpose: Representative Signature Verification
Status: Pending Original Authority Confirmation
নীরা কয়েকবার পড়ল।
— Representative Signature Verification! তাহলে সত্যিই অন্য কারও পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হয়েছিল।
আরিয়ান বলল,
— হ্যাঁ। কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হলো—Original Authority Confirmation Pending.
নীরা ধীরে বলল,
— অর্থাৎ যাঁর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তাঁর অনুমতি তখনো নিশ্চিত ছিল না।
আরিয়ান বলল,
— ঠিক তাই।
নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
— তাহলে অনুমতি নিশ্চিত হওয়ার আগেই FINAL রেকর্ডে স্বাক্ষর করা হয়েছিল?
আরিয়ান উত্তর দিল,
— কাগজগুলো অন্তত সেই সম্ভাবনাই দেখাচ্ছে। তবে আমাদের মূল নথি দেখতে হবে।
১. পুরোনো রেজিস্টারের সাক্ষী
দুপুরের আগে তারা যোগাযোগ করল পুরোনো ট্রাস্ট বোর্ডের একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মী, রেজাউল করিমের সঙ্গে।
রেজাউল সাহেব বহু বছর ধরে পুরোনো নথি সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি ফোনে বললেন,
— R-28/10/04 নম্বরটা শুনে মনে হচ্ছে, একটা বিশেষ যাচাই ফাইল ছিল।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
— ফাইলটি কি আপনার কাছে ছিল?
— আমার দায়িত্বে সরাসরি ছিল না। তবে একবার ফাইলটির ইনডেক্স তৈরি করতে সাহায্য করেছিলাম।
নীরা বলল,
— সেখানে কি কোনো প্রতিনিধির নাম ছিল?
রেজাউল সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
— পুরো নাম মনে নেই। তবে মনে আছে, প্রতিনিধির পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি উঠেছিল।
আরিয়ান বলল,
— কে আপত্তি জানিয়েছিলেন?
— সম্ভবত বাইরের অডিট বিভাগের কেউ। নামটা এখন মনে পড়ছে না।
নীরা দ্রুত বলল,
— মোস্তাফিজুর রহমান?
— হ্যাঁ! নামটা সম্ভবত তাই।
আরিয়ান ও নীরা একে অপরের দিকে তাকাল।
মোস্তাফিজুর রহমান আগেই ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এর একটি আপত্তিপত্র দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, C-14-এর দ্বিতীয় সাক্ষীর পরিচয় অসম্পূর্ণ এবং T-03-এর হস্তান্তর অনুমোদনও সম্পূর্ণ হয়নি।
আরিয়ান বলল,
— আপনি কি নিশ্চিত, তিনি ২৮ অক্টোবরের রেকর্ডেও আপত্তি করেছিলেন?
রেজাউল সাহেব বললেন,
— নিশ্চিতভাবে বলতে পারব না। তবে R-28 ফাইলের পাশে একটি Objection Note ছিল বলে মনে পড়ছে।
নীরা বলল,
— সেই নোটের কপি কি পাওয়া সম্ভব?
— পুরোনো আর্কাইভে খুঁজতে হবে।
আরিয়ান বলল,
— আমরা প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে খুঁজব।
২. মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য
বিকেলে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে দেখা হলো।
তিনি তাঁদের দেখে বললেন,
— আবার নতুন কিছু পেয়েছেন বুঝি?
আরিয়ান বলল,
— R-28/10/04 রেফারেন্স।
মোস্তাফিজুর সাহেবের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।
— এই নম্বরটা কোথায় পেলেন?
নীরা কাগজটি সামনে রাখল।
— ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডের সঙ্গে।
তিনি কাগজটি মনোযোগ দিয়ে দেখলেন।
তারপর বললেন,
— এই ফাইলের বিষয়ে আমি একবার আপত্তি জানিয়েছিলাম।
আরিয়ান দ্রুত প্রশ্ন করল,
— কী কারণে?
— কারণ প্রতিনিধির স্বাক্ষর গ্রহণের আগে মূল অনুমোদন যাচাই করা হয়নি।
নীরা বলল,
— আপনি কি জানতেন, কে স্বাক্ষর করেছিলেন?
— না। আমার কাছে যে কপিটি এসেছিল, সেখানে স্বাক্ষরকারীর পূর্ণ নাম ছিল না।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
— আপনি কি কোনো লিখিত আপত্তি দিয়েছিলেন?
মোস্তাফিজুর সাহেব কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,
— দিয়েছিলাম। তবে আমার কাছে কপি আছে কি না, খুঁজে দেখতে হবে।
নীরা বলল,
— আপত্তিতে কি স্বাক্ষরকারীকে চিহ্নিত করার কোনো তথ্য ছিল?
— মনে হয় একটি কোড ছিল। R-28 ফাইলের সঙ্গে সেটি যুক্ত ছিল।
আরিয়ান বলল,
— কোন কোড?
তিনি একটু থেমে বললেন,
— D-04.
নীরা অবাক হয়ে তাকাল।
— D-04?
— হ্যাঁ। তবে এটিকে ব্যক্তির নাম ভেবে ভুল করবেন না। এটি সম্ভবত প্রতিনিধিত্বের অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রেফারেন্স ছিল।
আরিয়ান বলল,
— অর্থাৎ D-04-এর মূল অনুমতিপত্র না দেখে প্রতিনিধির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়?
— একদম।
নীরা বলল,
— তাহলে সেই অনুমতিপত্র কোথায়?
মোস্তাফিজুর সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— সেটাই তো সমস্যা। আমার আপত্তির পরও ফাইলটির পরবর্তী অবস্থা আমি জানতে পারিনি।
৩. একটি পুরোনো আপত্তিপত্র
মোস্তাফিজুর সাহেব পরদিন তাঁদের ফোন করে জানালেন, পুরোনো কাগজের মধ্যে তিনি একটি নোট পেয়েছেন।
নীরা ও আরিয়ান তাঁর অফিসে গেল।
তিনি একটি হলুদ হয়ে যাওয়া কাগজ সামনে রাখলেন।
উপরে তারিখ—
২৯ অক্টোবর ২০০৮।
নিচে লেখা—
“R-28/10/04-এর প্রতিনিধিত্বমূলক স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য মূল অনুমতিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। কেবলমাত্র রিভিউ কপির ভিত্তিতে প্রতিনিধির স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে না। মূল অনুমোদনকারীর লিখিত সম্মতি এবং প্রতিনিধির পরিচয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত রেকর্ডটির চূড়ান্ত কার্যকারিতা স্থগিত রাখা উচিত।”
নীরা পড়া শেষ করে বলল,
— ২৯ অক্টোবরেও আপত্তি জানানো হয়েছিল!
মোস্তাফিজুর সাহেব মাথা নাড়লেন।
— হ্যাঁ। আমার মনে আছে, বিষয়টি তখন প্রশাসনিকভাবে ঝুলে ছিল।
আরিয়ান বলল,
— তাহলে ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডকে চূড়ান্ত বলা হলেও, পরদিন সেটির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল।
— ঠিক তাই।
নীরা বলল,
— আপনি কি জানেন, এরপর কী হয়েছিল?
— না। আমাকে আর ওই ফাইলের কাজে রাখা হয়নি।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
— কেউ কি আপনাকে বলেছিল, কেন আপনার আপত্তির পরও ফাইলটি বন্ধ করা হয়নি?
মোস্তাফিজুর সাহেব মাথা নাড়লেন।
— না। তবে আমার মনে আছে, একবার একজন বলেছিলেন, ‘উপরের অনুমোদন আছে।’ কিন্তু কে বলেছিলেন, তা মনে নেই।
নীরা বলল,
— সেই ‘উপরের অনুমোদন’ কোথায়?
তিনি কাগজটি ফিরিয়ে দিলেন।
— সেটাই তোমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
৪. D-04-এর সন্ধান
অফিসে ফিরে রাফি D-04 রেফারেন্স নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করল।
কয়েক ঘণ্টা পর সে একটি পুরোনো ইনডেক্স পেল।
সেখানে লেখা—
D-04 — Delegated Authority Record
নীরা বলল,
— Delegated Authority মানে কাউকে অন্যের পক্ষ থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া।
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
— ঠিক। কিন্তু এখানে অনুমতিদাতার নাম নেই।
রাফি বলল,
— শুধু তিনটি তথ্য আছে।
১. মূল অনুমোদনকারীর পরিচয় পৃথকভাবে সংরক্ষিত।
২. প্রতিনিধির পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক।
৩. অনুমতিপত্রের মূল কপি ছাড়া প্রতিনিধিত্ব কার্যকর হবে না।
নীরা বলল,
— তাহলে D-04-এর নিয়ম অনুযায়ী ২৮ অক্টোবরের স্বাক্ষর গ্রহণের আগে মূল অনুমতিপত্র দেখা প্রয়োজন ছিল।
আরিয়ান বলল,
— হ্যাঁ। কিন্তু আমরা এখনো জানি না, কেউ সেই অনুমতিপত্র দেখেছিল কি না।
রাফি আরেকটি পৃষ্ঠা খুলল।
— স্যার, এখানে D-04-এর পাশে একটি নামের আদ্যক্ষর আছে।
আরিয়ান তাকাল।
— কী লেখা?
রাফি বলল,
— A.R.
নীরা অবাক হয়ে গেল।
— Azhar Rahman?
আরিয়ান কাগজটির দিকে তাকিয়ে রইল।
আজহর রহমানের নাম এই রহস্যে আগেও এসেছে। তাঁর A.R.-03 ব্যক্তিগত সিলের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নীরা বলল,
— তাহলে D-04-এর অনুমোদন কি আজহর রহমান দিয়েছিলেন?
আরিয়ান বলল,
— সম্ভব। কিন্তু শুধু আদ্যক্ষর দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
রাফি বলল,
— এখানে আরও একটি নোট আছে।
নীরা পড়ল—
“Authority to be confirmed from original record. Copy is not sufficient.”
ঘরের মধ্যে নীরবতা নেমে এল।
৫. আজহর রহমানের পুরোনো নথি
সেদিন সন্ধ্যায় আরিয়ান তার বাবার কাছে গেল।
মাহমুদ রহমান তখন নিজের ঘরে বসে পুরোনো কাগজ দেখছিলেন।
আরিয়ান বলল,
— বাবা, আজহর চাচার D-04 রেফারেন্স সম্পর্কে কিছু জানো?
মাহমুদ কাগজ থেকে চোখ তুললেন।
— D-04?
— Delegated Authority Record.
মাহমুদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন,
— আজহর চাচা কিছু বিশেষ দায়িত্বের জন্য প্রতিনিধিত্বের অনুমতি দিতেন। কিন্তু সেই অনুমতি কখনো মৌখিকভাবে কার্যকর হতো না। লিখিত মূল নথি থাকতে হতো।
আরিয়ান বলল,
— ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবরের একটি রেকর্ডে অন্য একজন আজহর চাচার পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছে বলে উল্লেখ আছে।
মাহমুদের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।
— কী বললে?
— R-28/10/04।
মাহমুদ ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
— ওই সময় আজহর চাচার অনুমতি ছাড়া তাঁর নামে কোনো প্রতিনিধি স্বাক্ষর করার কথা নয়।
আরিয়ান বলল,
— কিন্তু D-04-এর পাশে তাঁর আদ্যক্ষর রয়েছে।
মাহমুদ মাথা নাড়লেন।
— আদ্যক্ষর থাকা আর অনুমতি দেওয়া এক কথা নয়। মূল অনুমতিপত্র দেখতে হবে।
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
— তুমি কি জানো, তিনি কাউকে এমন কোনো অনুমতি দিয়েছিলেন?
মাহমুদ কিছুক্ষণ ভাবলেন।
— আমার মনে নেই। তবে একটা কথা মনে আছে।
— কী?
— আজহর চাচা একবার বলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত সিল কিংবা অনুমোদনের কোনো রেফারেন্স ব্যবহার করা যাবে না, যদি না নির্দিষ্টভাবে লিখিত নির্দেশ থাকে।
আরিয়ান বলল,
— তাঁর মৃত্যুর পর A.R.-03 সিলের ব্যবহারও স্থগিত করা হয়েছিল।
মাহমুদ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— তাহলে বিষয়টা আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে।
৬. যে অনুমতিপত্র পাওয়া গেল না
পরদিন সকালে রাফি জানাল, D-04-এর মূল অনুমতিপত্রের কোনো সরাসরি কপি এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে একটি সংরক্ষণ তালিকায় লেখা আছে—
D-04 Original — Kept Separately.
নীরা বলল,
— কোথায় রাখা হয়েছিল?
রাফি উত্তর দিল,
— পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের ব্যক্তিগত নথি সংরক্ষণ কক্ষে।
আরিয়ান বলল,
— সেই ঘরের চাবি কার কাছে ছিল?
রাফি কাগজের পরের অংশ দেখল।
— তালিকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম নেই। শুধু লেখা আছে, ‘Temporary Custodian — Pending Verification.’
নীরা বিরক্ত হয়ে বলল,
— সব জায়গায় একই অবস্থা! দায়িত্ব আছে, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচয় নেই।
আরিয়ান শান্তভাবে বলল,
— এই কারণেই আমাদের প্রতিটি নথির সময়, স্থান ও সংরক্ষণকারী আলাদা করে মিলিয়ে দেখতে হবে।
নীরা বলল,
— তাহলে আমাদের নাসিমা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তিনি তো নিচের আর্কাইভের চাবির ব্যাপারে জানেন।
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
— ঠিক। তাঁকে জিজ্ঞেস করতে হবে, D-04-এর মূল নথি সম্পর্কে কিছু জানেন কি না।
৭. নাসিমা বেগমের একটি স্মৃতি
বিকেলে নাসিমা বেগমের সঙ্গে দেখা হলো।
তিনি তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন।
D-04-এর নাম শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন,
— এই রেফারেন্সটা আমি আগে দেখেছি।
নীরা দ্রুত বলল,
— কোথায়?
— পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের নিচের আর্কাইভে। সেখানে একটি আলাদা তালিকা ছিল। কিছু নথির পাশে লেখা ছিল ‘Original Kept Separately’।
আরিয়ান বলল,
— D-04 কি সেই তালিকায় ছিল?
নাসিমা বেগম চোখ বন্ধ করে মনে করার চেষ্টা করলেন।
— আমার যতদূর মনে পড়ে, হ্যাঁ। তবে আমি নথিটি খুলে দেখিনি।
নীরা বলল,
— আপনি কি জানেন, সেটি কার কাছে ছিল?
নাসিমা বেগম মাথা নাড়লেন।
— না। শুধু মনে আছে, একটি কালো রেজিস্টারের পাশে ওই রেফারেন্স লেখা ছিল।
আরিয়ান বলল,
— কালো রেজিস্টার?
— হ্যাঁ। আজহর সাহেবের ব্যক্তিগত রেজিস্টার। সেখানে কিছু বিশেষ নথির সংরক্ষণসংক্রান্ত তথ্য লেখা থাকত।
নীরা বলল,
— সেই রেজিস্টার এখন কোথায়?
নাসিমা বেগম উত্তর দিলেন,
— শেষবার জহির উদ্দিনকে সেটি নিয়ে নিচের রেকর্ড রুমে যেতে দেখেছিলাম।
আরিয়ান ও নীরা একে অপরের দিকে তাকাল।
জহির উদ্দিন আবার সামনে এলেন।
কিন্তু এবার তাঁর নাম এসেছে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিতে, কোনো অনুমান থেকে নয়।
৮. শেষ প্রশ্ন
রাতে নীরা নিজের ঘরে বসে সব নথি আবার সাজাল।
এক পাশে A-17।
অন্য পাশে R-28/10/04।
তার নিচে D-04।
আর সবশেষে A.R.
সে নিজের ডায়েরিতে লিখল—
“২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডে প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু প্রতিনিধির পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। মূল অনুমতিপত্রও পাওয়া যায়নি। D-04-এর সঙ্গে আজহর রহমানের আদ্যক্ষর যুক্ত থাকলেও তাঁর অনুমোদনের কোনো মূল প্রমাণ এখনো নেই।”
ঠিক তখন আরিয়ানের ফোন এল।
— কী করছ?
— নথিগুলো সাজাচ্ছি।
— একটা খবর আছে।
নীরা দ্রুত বলল,
— কী খবর?
— জহির সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি কাল আমাদের পুরোনো ট্রাস্ট অফিসে নিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন।
নীরা বলল,
— কালই?
— হ্যাঁ। তিনি বলেছেন, আজহর চাচার কালো রেজিস্টার সম্পর্কে তাঁর কিছু কথা মনে পড়েছে।
নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
— আরিয়ান, যদি ওই রেজিস্টারে D-04-এর মূল অনুমতির কোনো তথ্য থাকে?
আরিয়ান বলল,
— তাহলে এতদিনের অনুসন্ধানে আমরা প্রথমবারের মতো সরাসরি অনুমোদনের সূত্র পেতে পারি।
নীরা ধীরে বলল,
— আর যদি সেখানে কিছু না থাকে?
— তাহলে সেটাও একটা উত্তর। অন্তত আমরা জানব, মূল অনুমতির প্রমাণ কোথায় নেই।
ফোন কেটে যাওয়ার পর নীরা জানালার বাইরে তাকাল।
রহস্যের জাল আরও গভীর হচ্ছে।
কিন্তু এবার তাদের সামনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য।
আজহর রহমানের কালো রেজিস্টার।
সেখানে কি লেখা আছে ২৮ অক্টোবরের সেই প্রতিনিধির নাম?
নাকি রেজিস্টারের কোনো পৃষ্ঠা বহু আগেই হারিয়ে গেছে?
পরদিনই হয়তো জানা যাবে।
চলবে...