ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 97

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব ৯৭: কালো রেজিস্টারের হারানো পৃষ্ঠা

লেখক: Mafiya Queen 👑

সকাল আটটা।

নীরা তৈরি হয়ে ড্রয়িংরুমে বসে আছে। আজ তাদের যেতে হবে পুরোনো ট্রাস্ট অফিসে। গত কয়েক দিন ধরে যে একটি নাম তাদের বারবার নতুন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে, সেই জহির উদ্দিনের সঙ্গে আজ দেখা হবে।

আরিয়ানের ফোন এল।

— তৈরি?

— হ্যাঁ। তুমি কোথায়?

— নিচে গাড়িতে।

— আসছি।

ফোন রেখে নীরা ব্যাগটা কাঁধে নিল। বের হওয়ার আগে টেবিলের ওপর রাখা ডায়েরিটার দিকে একবার তাকাল।

সেখানে গত রাতের লেখা এখনো খোলা।

D-04 — Original Authority Record.

নীরা মনে মনে বলল,

— আজ অন্তত একটা প্রশ্নের উত্তর চাই।

১. পুরোনো ট্রাস্ট অফিস

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তারা পুরোনো ট্রাস্ট অফিসে পৌঁছাল।

বাড়িটা আগের মতোই নিস্তব্ধ। দীর্ঘদিনের পুরোনো দেয়াল, কাঠের দরজা, জানালার পাশে ধুলোমাখা কাচ।

প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে ছিলেন জহির উদ্দিন।

তাঁদের দেখে তিনি এগিয়ে এলেন।

— এসো। তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

আরিয়ান বলল,

— আপনি কাল ফোনে বলেছিলেন, আজহর সাহেবের কালো রেজিস্টার সম্পর্কে কিছু মনে পড়েছে।

জহির মাথা নাড়লেন।

— হ্যাঁ। তবে একটা কথা আগে বলে রাখি। রেজিস্টারটি আমি শেষবার কোথায় দেখেছিলাম, সেটা মনে আছে। কিন্তু এর ভেতরে কী লেখা ছিল, সবটা মনে নেই।

নীরা বলল,

— আমরা যতটুকু জানেন, সেটুকুই জানতে চাই।

জহির ধীরে দরজাটা খুললেন।

— তাহলে চলো।

তারা ভেতরে ঢুকল।

২. নিচের আর্কাইভ কক্ষ

পুরোনো সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই ঠান্ডা একটা পরিবেশ অনুভূত হলো।

নিচের ঘরে কয়েকটি কাঠের আলমারি, লোহার ক্যাবিনেট এবং পুরোনো ফাইলের বাক্স রাখা।

জহির একটি আলমারির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

— এই জায়গাটাতেই আগে বিশেষ নথি রাখা হতো।

আরিয়ান বলল,

— D-04-এর মূল অনুমতিপত্র কি এখানে থাকতে পারে?

জহির বললেন,

— সম্ভব। তবে আমি নিশ্চিত নই।

নীরা চারপাশে তাকাল।

— কালো রেজিস্টার কোথায় ছিল?

জহির ঘরের এক কোণে রাখা একটি পুরোনো কাঠের টেবিল দেখালেন।

— ওই টেবিলের ওপর।

রাফি এগিয়ে গিয়ে টেবিলটি পরীক্ষা করল।

কিছু পুরোনো কাগজ ছাড়া তেমন কিছু পাওয়া গেল না।

নীরা বলল,

— রেজিস্টারটি কি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল?

জহির উত্তর দিলেন,

— একবার আমি নিজেই সরিয়ে অন্য আলমারিতে রেখেছিলাম। তখন নথিগুলো আলাদা করে সাজানো হচ্ছিল।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

— কার নির্দেশে?

— আজহর সাহেবের পুরোনো সংরক্ষণ নির্দেশনা অনুযায়ী। তবে ঠিক কোন দিনে সরিয়েছিলাম, মনে নেই।

৩. কালো রেজিস্টারের সন্ধান

প্রায় বিশ মিনিট খোঁজার পর রাফি একটি লোহার ক্যাবিনেটের নিচের তাকে পুরোনো কাপড়ে মোড়ানো একটি মোটা রেজিস্টার পেল।

— স্যার, এটা দেখুন!

সবাই এগিয়ে গেল।

কাপড় সরাতেই দেখা গেল কালো মলাটের একটি পুরোনো রেজিস্টার।

নীরা উত্তেজিত হয়ে বলল,

— এটাই কি?

জহির রেজিস্টারটির মলাট দেখে বললেন,

— হ্যাঁ। এটাই আজহর সাহেবের ব্যক্তিগত রেজিস্টার।

আরিয়ান সাবধানে সেটি টেবিলে রাখল।

মলাটের ভেতরে ছোট অক্ষরে লেখা—

A.R. — Private Document Register

নীরা প্রথম পৃষ্ঠা খুলল।

সেখানে বিভিন্ন নথির রেফারেন্স, সংরক্ষণের তারিখ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম লেখা।

কয়েকটি পৃষ্ঠা উল্টানোর পর তারা পেল—

D-04 — Delegated Authority Record.

নীরা দ্রুত পড়তে শুরু করল।

প্রথম লাইনে লেখা—

“D-04-এর মূল অনুমতিপত্র আলাদা খামে সংরক্ষণ করতে হবে। রিভিউ কপি দিয়ে কোনো প্রতিনিধির পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে না।”

আরিয়ান বলল,

— ঠিক যে নিয়মটা আমরা খুঁজছিলাম।

নীরা পরের লাইন পড়ল।

“প্রতিনিধির পরিচয়, অনুমতিদাতার স্বাক্ষর এবং অনুমতির মেয়াদ—তিনটি বিষয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত নথি কার্যকর হবে না।”

রাফি বলল,

— তাহলে ২৮ অক্টোবরের রেকর্ডে এই তিনটি বিষয় যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

জহির ধীরে বললেন,

— আজহর সাহেব এসব বিষয়ে খুব সতর্ক ছিলেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর নামে সিদ্ধান্ত নিতে পারত না।

নীরা পরের পৃষ্ঠা উল্টাল।

কিন্তু হঠাৎ থেমে গেল।

একটি পৃষ্ঠা নেই।

পাতার মাঝখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, একটি পৃষ্ঠা তুলে ফেলা হয়েছে।

৪. হারানো পৃষ্ঠা

নীরা অবাক হয়ে বলল,

— এখানে একটা পৃষ্ঠা নেই!

আরিয়ান রেজিস্টারটি নিজের দিকে টেনে নিল।

পাতার নম্বর পরীক্ষা করল।

৪১ নম্বরের পর সরাসরি ৪৩ নম্বর পৃষ্ঠা।

৪২ নম্বর পৃষ্ঠা নেই।

রাফি বলল,

— কেউ কি পৃষ্ঠাটি ছিঁড়ে ফেলেছে?

জহির রেজিস্টারটি দেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

— আমি যখন শেষবার রেজিস্টারটি দেখেছিলাম, তখনও পৃষ্ঠা ৪২ ছিল কি না, মনে নেই।

নীরা বলল,

— আপনি কি কখনো পৃষ্ঠা সরাতে দেখেছেন?

জহির উত্তর দিলেন,

— না। তবে আজহর সাহেবের ব্যক্তিগত নির্দেশে কিছু কাগজ আলাদা খামে রাখা হতো। তাই পৃষ্ঠা না থাকলেই যে কেউ চুরি করেছে, তা বলা যাবে না।

আরিয়ান বলল,

— পৃষ্ঠা ৪২-এ কী লেখা ছিল, সেটা কি অন্য কোনো ইনডেক্স থেকে জানা সম্ভব?

জহির মাথা নাড়লেন।

— চেষ্টা করা যেতে পারে।

রাফি রেজিস্টারের শেষের দিকে থাকা একটি ইনডেক্স পৃষ্ঠা খুলল।

সেখানে ৪২ নম্বর পৃষ্ঠার পাশে লেখা—

D-04 — Final Representative Reference.

নীরা ধীরে বলল,

— তাহলে হারানো পৃষ্ঠাটিই ছিল প্রতিনিধির পরিচয়ের সূত্র।

ঘরের ভেতর সবাই নীরব হয়ে গেল।

৫. একটি ছোট্ট নোট

রেজিস্টারের ৪৩ নম্বর পৃষ্ঠায় কয়েকটি লাইন লেখা ছিল।

আরিয়ান সেগুলো পড়তে শুরু করল।

“২৮ অক্টোবরের রেকর্ডে প্রতিনিধিত্বের উল্লেখ পাওয়া গেছে। তবে মূল অনুমতিপত্রের সঙ্গে স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিনিধির পরিচয় চূড়ান্ত বলে গণ্য করা যাবে না।”

নীরা বলল,

— তাহলে ৪৩ নম্বর পৃষ্ঠায়ও লেখা আছে, পরিচয় চূড়ান্ত হয়নি।

জহির বললেন,

— হ্যাঁ। এই নোটটি সম্ভবত পরে যোগ করা হয়েছিল।

রাফি প্রশ্ন করল,

— পরে বলতে কতদিন পর?

জহির পাতার নিচের তারিখ দেখালেন।

৩ নভেম্বর ২০০৮।

আরিয়ান বলল,

— অর্থাৎ ২৮ অক্টোবরের পাঁচ দিন পরেও প্রতিনিধির পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

নীরা বলল,

— তাহলে ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডের পরও বিষয়টি সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়নি।

জহির দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— মনে হচ্ছে তাই।

৬. জহিরের স্বীকারোক্তি

আরিয়ান এবার জহিরের দিকে তাকাল।

— একটা বিষয় জানতে চাই। ২৮ অক্টোবরের আগে বা পরে আপনি কি কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেছিলেন?

জহির কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

— একবার একজন এসেছিলেন।

নীরা দ্রুত প্রশ্ন করল,

— কে?

— নাম জানতাম না। তিনি বলেছিলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ নথির বিষয়ে কথা বলতে এসেছেন।

আরিয়ান বলল,

— তাঁর হাতে কোনো কাগজ ছিল?

— হ্যাঁ। একটি ছোট খাম ছিল। তিনি বলেছিলেন, এটি অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

নীরা বলল,

— আপনি কি খামটি খুলেছিলেন?

জহির মাথা নাড়লেন।

— না। তিনি বলেছিলেন, খামটি সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু আমি তখন তাঁকে কোনো নিশ্চয়তা দিইনি।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

— তিনি কি নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন?

— পুরো নাম বলেননি। শুধু বলেছিলেন, তিনি একজন প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এসেছেন।

নীরা বলল,

— তাঁর পরিচয়ের কোনো লিখিত প্রমাণ ছিল?

— না। তাই আমি খামটি গ্রহণ করিনি।

রাফি বলল,

— তিনি কি কোনো বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করেছিলেন?

জহির কিছুক্ষণ ভাবলেন।

— একটা বিষয় মনে আছে। তাঁর হাতে বড় নীল পাথরের আংটি ছিল।

নীরা ও আরিয়ান একে অপরের দিকে তাকাল।

এই আংটির কথা তারা আগেও শুনেছে।

শাহাদ রহমানও বলেছিলেন, ২০০৮ সালের অক্টোবরে একজন ব্যক্তির হাতে এমন আংটি দেখেছিলেন।

আরিয়ানের কণ্ঠ গম্ভীর হয়ে গেল।

— আপনি কি নিশ্চিত, সেই ব্যক্তিই ২৮ অক্টোবরের প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

জহির বললেন,

— না। আমি নিশ্চিত নই। শুধু তাঁর হাতে আংটি দেখেছিলাম। তাঁকে কোনো অনুমোদনও দিইনি।

নীরা বলল,

— তাহলে আমরা এখনো তাঁর পরিচয় জানি না।

জহির মাথা নাড়লেন।

— ঠিক।

৭. নতুন একটি রেফারেন্স

রেজিস্টারের শেষের দিকে আরও একটি ছোট নোট পাওয়া গেল।

রাফি সেটি পড়ল।

“D-04 original envelope transferred for separate verification. Reference: E-17.”

নীরা বলল,

— E-17!

আরিয়ান দ্রুত নোটটি লিখে নিল।

— তাহলে D-04-এর মূল অনুমতিপত্র একটি আলাদা খামে রাখা হয়েছিল। সেই খামের রেফারেন্স E-17।

জহির বললেন,

— মনে হচ্ছে, এই খামটি সাধারণ আর্কাইভে রাখা হয়নি।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

— কোথায় রাখা হয়েছিল?

জহির উত্তর দিলেন,

— সম্ভবত ব্যক্তিগত সংরক্ষণ কক্ষে।

আরিয়ান বলল,

— সেই কক্ষের চাবি কার কাছে ছিল?

জহির কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন,

— আজহর সাহেবের মৃত্যুর পর চাবির দায়িত্ব নিয়ে আলাদা একটি রেকর্ড তৈরি করা হয়েছিল। তবে কে শেষ পর্যন্ত চাবিটি পেয়েছিলেন, সেটা এখন মনে নেই।

নীরা বলল,

— সেই রেকর্ড কোথায় পাওয়া যাবে?

জহির রেজিস্টারের পেছনের একটি পাতার দিকে ইশারা করলেন।

সেখানে লেখা—

Key Custody Record — Separate Register.

রাফি বলল,

— অর্থাৎ আরেকটি রেজিস্টার খুঁজতে হবে।

আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— এই পুরোনো নথিগুলো যেন একটার পর একটা দরজা খুলছে।

নীরা মৃদু হেসে বলল,

— দরজা খুলছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিটি দরজার পেছনে আরেকটা তালা।

৮. একটি অপ্রত্যাশিত ফোন

তারা যখন অফিস থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন আরিয়ানের ফোন বেজে উঠল।

অপরিচিত নম্বর।

আরিয়ান কল ধরল।

— হ্যালো?

ওপাশ থেকে একজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেল।

— আপনি কি আরিয়ান রহমান বলছেন?

— জি। আপনি কে?

— আমার নাম ইকবাল হোসেন। আমি আগে পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের রেকর্ড সংরক্ষণ বিভাগে কাজ করতাম।

আরিয়ান বলল,

— বলুন।

ইকবাল কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,

— আজ আপনারা নাকি আজহর রহমানের কালো রেজিস্টার খুঁজেছেন?

আরিয়ান সতর্ক হয়ে গেল।

— আপনি কীভাবে জানলেন?

— পুরোনো অফিসের একজনের কাছ থেকে শুনেছি। একটা কথা জানাতে ফোন করেছি।

নীরা আরিয়ানের পাশে এসে দাঁড়াল।

আরিয়ান বলল,

— কী কথা?

ইকবাল বললেন,

— আপনারা যদি D-04 খুঁজে থাকেন, তাহলে শুধু কালো রেজিস্টার দেখলে হবে না। D-04-এর মূল খাম E-17-এর সঙ্গে রাখা হয়েছিল অন্য একটি রেজিস্টারে।

আরিয়ান বলল,

— কোন রেজিস্টারে?

ওপাশ থেকে উত্তর এল,

— Key Custody Register.

নীরা দ্রুত বলল,

— সেই রেজিস্টার কোথায়?

ইকবাল বললেন,

— পুরোনো অফিসে নয়। আমার যতদূর মনে পড়ে, সেটি একসময় প্রশাসনিক সংরক্ষণ কক্ষে পাঠানো হয়েছিল।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

— আপনি কি জানেন, কে সেটি গ্রহণ করেছিলেন?

ইকবাল কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন,

— রেজিস্টারে একটি নাম ছিল। তবে নামটি আমি এখন ফোনে বলতে চাই না। আগে মূল রেকর্ডটি দেখে নিশ্চিত হতে হবে।

আরিয়ান বলল,

— আমরা কীভাবে আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?

ইকবাল উত্তর দিলেন,

— আগামীকাল সকাল দশটায়। পুরোনো অফিসের সামনের চায়ের দোকানে আসবেন। আমি আপনাদের অপেক্ষা করব।

ফোন কেটে গেল।

নীরা অবাক হয়ে বলল,

— লোকটি এতদিন কোথায় ছিল?

আরিয়ান বলল,

— জানি না। তবে এবার তার কথাও নথি দিয়ে যাচাই করতে হবে।

নীরা কালো রেজিস্টারটির দিকে শেষবার তাকাল।

৪২ নম্বর পৃষ্ঠা নেই।

কিন্তু সেই হারানো পৃষ্ঠার সূত্রেই তারা E-17-এর সন্ধান পেয়েছে।

আর E-17-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন একজনের নাম, যিনি D-04-এর মূল অনুমতিপত্রের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

৯. নীরার ডায়েরি

রাতে বাসায় ফিরে নীরা ডায়েরি খুলল।

আজকের ঘটনাগুলো লিখতে শুরু করল।

“আজহর রহমানের কালো রেজিস্টার পাওয়া গেছে। D-04-এর নিয়ম স্পষ্ট—মূল অনুমতিপত্র ছাড়া কোনো প্রতিনিধি স্বাক্ষর কার্যকর হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডে প্রতিনিধির স্বাক্ষর রয়েছে। ৩ নভেম্বরেও পরিচয় যাচাই অসম্পূর্ণ ছিল। রেজিস্টারের ৪২ নম্বর পৃষ্ঠা নেই। E-17 নামে একটি মূল খামের রেফারেন্স পাওয়া গেছে।”

লেখা শেষ করে নীরা কলম নামিয়ে রাখল।

তারপর জানালার বাইরে তাকাল।

আজকের দিনটা তাদের অনেক কিছু দিয়েছে।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

২৮ অক্টোবরের সেই প্রতিনিধি কে ছিল?

আর তার হাতে যদি সত্যিই কোনো অনুমতিপত্র না থাকে, তাহলে কার নির্দেশে সে অন্যের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছিল?

নীরা ডায়েরি বন্ধ করল।

ঠিক তখন আরিয়ানের মেসেজ এল।

“কাল সকাল ১০টা। ইকবাল হোসেনের সঙ্গে দেখা। E-17-এর মূল রেকর্ড খুঁজতে হবে।”

নীরা শুধু লিখল—

“আশা করি এবার সত্যিটা আরও একটু কাছে আসবে।”

কিন্তু তারা কেউ জানত না, পরদিনের সেই সাক্ষাৎ তাদের সামনে এমন একটি নাম তুলে ধরবে, যে নাম এতদিন ধরে সব নথির আড়ালে ছিল।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 97 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন