ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 98

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব ৯৮: E-17 খামের গোপন দায়িত্ব

লেখক: Mafiya Queen 👑

সকাল থেকেই নীরার মধ্যে অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করছে।

গতকাল পুরোনো ট্রাস্ট অফিস থেকে পাওয়া কালো রেজিস্টারটি তার মাথা থেকে কিছুতেই সরছে না।

বিশেষ করে সেই হারিয়ে যাওয়া ৪২ নম্বর পৃষ্ঠা।

যে পাতায় থাকার কথা ছিল ২৮ অক্টোবরের প্রতিনিধির পরিচয়।

আর সেই পৃষ্ঠার সূত্রেই পাওয়া গেছে E-17-এর নাম।

আজ তাদের দেখা হবে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে।

ইকবাল দাবি করেছেন, তিনি একসময় ট্রাস্ট অফিসের রেকর্ড সংরক্ষণ বিভাগে কাজ করতেন এবং E-17 খামের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানেন।

নীরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ওড়নাটা ঠিক করছিল।

ঠিক তখন তার ফোনে আরিয়ানের মেসেজ এল।

“নিচে এসো। সময় হয়ে গেছে।”

নীরা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

১. পুরোনো চায়ের দোকান

সকাল দশটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি।

আরিয়ান গাড়ি থামাল পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের সামনের একটি ছোট চায়ের দোকানের পাশে।

দোকানটি খুব সাধারণ। কয়েকটি কাঠের বেঞ্চ, সামনে চায়ের কেটলি, পাশে বিস্কুটের কাচের বয়াম।

নীরা চারপাশে তাকিয়ে বলল,

— ইকবাল সাহেব কি এখানেই আসবেন?

আরিয়ান বলল,

— ফোনে এ জায়গার কথাই বলেছেন।

রাফি ঘড়ির দিকে তাকাল।

— আর পাঁচ মিনিট বাকি।

তারা একটি বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে লাগল।

দশটা পাঁচ মিনিটে একজন মধ্যবয়সী লোক দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

হাতে একটি পুরোনো বাদামি ফাইল।

তিনি চারপাশে তাকিয়ে আরিয়ানের দিকে এগিয়ে এলেন।

— আপনি কি আরিয়ান রহমান?

আরিয়ান উঠে দাঁড়াল।

— জি। আপনি ইকবাল হোসেন?

— হ্যাঁ।

নীরা সালাম দিয়ে বলল,

— আমরা আপনার অপেক্ষায় ছিলাম।

ইকবাল বসে ফাইলটি টেবিলে রাখলেন।

— আপনারা E-17 খুঁজছেন, তাই তো?

আরিয়ান বলল,

— ঠিক তাই। আপনি কী জানেন, বলুন।

ইকবাল চারপাশে একবার তাকালেন।

তারপর ধীরে বললেন,

— আমি যা জানি, তার সবটুকু হয়তো আপনাদের কাজে লাগবে না। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। E-17 সাধারণ কোনো খাম ছিল না।

নীরা প্রশ্ন করল,

— কেন?

— কারণ সেটির সঙ্গে একটি মূল অনুমতিপত্র যুক্ত ছিল। সেটি সাধারণ নথির মতো খোলা বা সরানো যেত না।

আরিয়ান বলল,

— তাহলে খামটি কার দায়িত্বে ছিল?

ইকবাল ফাইল খুললেন।

— সেই নামটাই আপনাদের দেখাতে এসেছি।

২. Key Custody Register

ইকবাল ফাইল থেকে একটি পুরোনো কাগজ বের করলেন।

কাগজের ওপর লেখা—

Key Custody Register — Extract

নীরা মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করল।

সেখানে কয়েকটি তথ্য ছিল।

Reference: E-17
Document: D-04 Original Authority Envelope
Storage: Private Record Room
Key Custody: Separate Authorization Required
Temporary Custodian: N.B.

নীরা থমকে গেল।

— N.B.?

আরিয়ান কাগজটি হাতে নিল।

— Nasima Begum?

ইকবাল বললেন,

— রেজিস্টারে শুধু আদ্যক্ষর লেখা আছে। তবে আমার মনে হয়, তিনি নাসিমা বেগমই।

নীরা বলল,

— কিন্তু নাসিমা বেগম তো আগেই বলেছেন, তিনি শুধু কিছু নথির কপি সংরক্ষণ করতেন। মূল C-14 তাঁর কাছে ছিল না।

ইকবাল মাথা নাড়লেন।

— C-14 আর D-04 এক জিনিস নয়। E-17 খামের দায়িত্ব আলাদা ছিল।

আরিয়ান বলল,

— নাসিমা বেগম কি মূল অনুমতিপত্রের খামটি পেয়েছিলেন?

ইকবাল কাগজের পরের অংশ দেখালেন।

সেখানে লেখা—

“Key received for temporary preservation. Document access not authorized.”

নীরা বলল,

— অর্থাৎ তিনি চাবি পেয়েছিলেন, কিন্তু নথি খোলার অনুমতি পাননি।

ইকবাল বললেন,

— ঠিক তাই। চাবির দায়িত্ব আর নথির ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এক নয়।

আরিয়ান গভীরভাবে কাগজটি দেখল।

— তাহলে E-17-এর মূল খাম নাসিমা বেগমের দায়িত্বে থাকা কক্ষে ছিল?

ইকবাল বললেন,

— সম্ভবত। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না, খামটি তিনি নিজে কখনো হাতে পেয়েছিলেন কি না।

নীরা বলল,

— আপনার কাছে কি এর প্রমাণ আছে?

ইকবাল এবার আরেকটি কাগজ বের করলেন।

— এই কপিটা দেখুন।

৩. চাবি হস্তান্তরের রেকর্ড

দ্বিতীয় কাগজটির তারিখ—

১২ নভেম্বর ২০০৮।

নিচে লেখা—

“Private Record Room-এর চাবি সাময়িক সংরক্ষণের জন্য N.B.-এর কাছে হস্তান্তর করা হলো। মূল নথি খোলা, স্থানান্তর বা অনুমোদনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়নি।”

নীরা বলল,

— ১২ নভেম্বর!

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

— ২৮ অক্টোবরের ঘটনার দুই সপ্তাহ পর চাবি হস্তান্তর করা হয়েছিল?

ইকবাল বললেন,

— হ্যাঁ। তবে খেয়াল করবেন, এই রেকর্ডে বলা হয়নি যে E-17 খামটি সেদিন নাসিমা বেগমের হাতে দেওয়া হয়েছিল। শুধু কক্ষের চাবি দেওয়া হয়েছিল।

রাফি বলল,

— তাহলে খামটি কক্ষে ছিল কি না, সেটাও আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

ইকবাল মাথা নাড়লেন।

— একদম।

নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— আপনি এতদিন এই তথ্য কাউকে জানাননি কেন?

ইকবাল দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— আমি তখন খুব সাধারণ একজন কর্মচারী ছিলাম। আমার কাজ ছিল রেজিস্টারে যা লেখা হতো, তা সংরক্ষণ করা। কে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা জানার অধিকার আমার ছিল না। পরে অফিস বন্ধ হয়ে গেলে নিজের কাছে কয়েকটি কপি রেখে দিই। ভেবেছিলাম, একদিন হয়তো প্রয়োজন হবে।

আরিয়ান বলল,

— আপনি কি জানতেন, এত বছর পর আমরা এই নথি খুঁজব?

ইকবাল হালকা হাসলেন।

— না। তবে পুরোনো কাগজের একটা ব্যাপার আছে। সময় যত যায়, মানুষ অনেক কিছু ভুলে যায়। কিন্তু কাগজের লেখা থেকে যায়।

৪. নাসিমা বেগমের সামনে নতুন প্রশ্ন

ইকবালের কাছ থেকে কাগজগুলোর ছবি নিয়ে নীরা ও আরিয়ান সরাসরি নাসিমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করল।

ফোনে সব শুনে তিনি অবাক হয়ে বললেন,

— আমি E-17-এর নাম আগে শুনেছি বলে মনে হয়। কিন্তু ওই খাম আমার হাতে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটা মনে নেই।

নীরা বলল,

— আপনার কাছে কি ২০০৮ সালের ১২ নভেম্বরের কোনো চাবি গ্রহণের রেকর্ড আছে?

নাসিমা বেগম বললেন,

— আমার পুরোনো ডায়েরিতে হয়তো থাকতে পারে। তোমরা বিকেলে এসো।

বিকেলে তারা তাঁর বাসায় পৌঁছাল।

নাসিমা বেগম পুরোনো ডায়েরি নিয়ে বসে পড়লেন।

পাতা উল্টাতে উল্টাতে এক জায়গায় এসে থামলেন।

— পেয়েছি।

নীরা দ্রুত এগিয়ে এল।

ডায়েরিতে লেখা—

“১২ নভেম্বর ২০০৮ — Private Record Room-এর চাবি সাময়িকভাবে গ্রহণ করলাম। দায়িত্ব শুধু কক্ষের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ। কোনো মূল নথি খোলা বা সরানোর অনুমতি নেই।”

আরিয়ান বলল,

— এখানে E-17-এর নাম নেই।

নাসিমা বেগম বললেন,

— না। কারণ আমাকে কোনো নির্দিষ্ট নথির দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শুধু কক্ষের চাবি দেওয়া হয়েছিল।

নীরা প্রশ্ন করল,

— আপনি কি কখনো ওই কক্ষে ঢুকেছিলেন?

— একবার। কক্ষের অবস্থা দেখতে গিয়েছিলাম। তবে কোনো খাম খুলিনি।

আরিয়ান বলল,

— সেখানে কি কালো রেজিস্টার ছিল?

নাসিমা বেগম একটু ভেবে বললেন,

— হ্যাঁ। একটা কালো রেজিস্টার দেখেছিলাম। তবে সেটি আজহর সাহেবের ব্যক্তিগত রেজিস্টার ছিল কি না, নিশ্চিত নই।

নীরা বলল,

— আর কোনো খাম?

— কয়েকটি খাম ছিল। একটি খামের গায়ে E-17 লেখা ছিল কি না, এখন মনে করতে পারছি না।

রাফি বলল,

— আপনি কি কোনো ব্যক্তির কাছে সেই কক্ষের চাবি ফেরত দিয়েছিলেন?

নাসিমা বেগম ডায়েরির শেষের দিকে তাকালেন।

— এখানে একটা এন্ট্রি আছে।

তিনি পড়ে শোনালেন—

“১৯ নভেম্বর ২০০৮ — Private Record Room-এর চাবি ফেরত দেওয়া হলো। গ্রহণকারীর পরিচয় আলাদাভাবে যাচাই করা হবে।”

নীরা অবাক হয়ে বলল,

— গ্রহণকারীর নাম নেই?

— না। শুধু একটা স্বাক্ষর আছে।

তিনি কাগজটি সামনে এগিয়ে দিলেন।

স্বাক্ষরটি স্পষ্ট নয়।

নিচে ছোট করে লেখা—

“Received on behalf of Archive Administration.”

আরিয়ান বলল,

— অর্থাৎ চাবিটি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ গ্রহণ করেছে।

নাসিমা বেগম বললেন,

— হ্যাঁ। আমার দায়িত্ব সেখানেই শেষ হয়েছিল।

৫. একই তারিখের আরেকটি রেকর্ড

অফিসে ফিরে রাফি পুরোনো ইনভেন্টরি মিলিয়ে দেখতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর সে আরিয়ানকে ডাকল।

— স্যার, একটা অদ্ভুত বিষয় পেয়েছি।

আরিয়ান বলল,

— কী?

— ১৯ নভেম্বর ২০০৮ তারিখেই E-17-এর স্ট্যাটাস পরিবর্তনের একটি এন্ট্রি আছে।

নীরা দ্রুত বলল,

— কী লেখা?

রাফি স্ক্রিন দেখাল।

E-17 — Original Authority Envelope
Previous Status: Stored Separately
New Status: Verification Hold
Reason: Custody Acknowledgment Incomplete

নীরা বলল,

— চাবি ফেরত দেওয়ার দিনই খামের অবস্থাও Verification Hold করা হয়েছে!

আরিয়ান বলল,

— এর অর্থ হতে পারে, খামের দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি তখনো নিশ্চিত ছিল না।

রাফি বলল,

— কিন্তু এখানে একটি অতিরিক্ত নোট আছে।

নীরা পড়ল—

“Physical location not independently confirmed.”

নীরা বলল,

— তাহলে ১৯ নভেম্বরেও কেউ নিশ্চিত ছিল না, E-17 খামটি আসলে কোথায় আছে।

আরিয়ান বলল,

— এখন আমাদের জানতে হবে, খামটি কি কখনো Private Record Room থেকে বের হয়েছিল?

৬. ইকবালের দ্বিতীয় তথ্য

সন্ধ্যার কিছু আগে ইকবাল আবার ফোন করলেন।

আরিয়ান কল ধরল।

— বলুন।

ইকবাল বললেন,

— একটা কথা মনে পড়েছে। E-17 খাম নিয়ে তখন একটি আলাদা অনুসন্ধান হয়েছিল।

নীরা ফোনের কাছে এসে দাঁড়াল।

— কবে?

— নভেম্বরের শেষ দিকে। কয়েকজন কর্মকর্তা জানতে চেয়েছিলেন, খামটি কোথায় রাখা হয়েছে।

আরিয়ান বলল,

— তারা কি খামটি পেয়েছিলেন?

— সেটা জানি না। তবে একটি নোট তৈরি হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল, খামের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত D-04-এর অনুমোদন কার্যকর করা যাবে না।

নীরা বলল,

— সেই নোটের কপি কি আপনার কাছে আছে?

ইকবাল বললেন,

— পুরো কপি নেই। তবে রেফারেন্স নম্বরটা মনে আছে।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

— কী নম্বর?

ইকবাল উত্তর দিলেন,

“V-19/11.”

রাফি সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটি লিখে নিল।

ইকবাল আবার বললেন,

— আর একটা কথা। ওই অনুসন্ধানের সময় একজন ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, E-17 খামটি আগেই অন্য জায়গায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাঁর দাবির সঙ্গে কোনো গ্রহণপত্র ছিল না।

নীরা বলল,

— তিনি কে ছিলেন?

ইকবাল কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন,

— নামটা নিশ্চিত নই। তবে তাঁর বক্তব্যের পাশে ‘Authority Not Verified’ লেখা হয়েছিল।

আরিয়ান বলল,

— তাহলে তাঁর দাবিও গ্রহণ করা হয়নি?

— যতদূর জানি, না।

ফোন শেষ হলো।

৭. V-19/11-এর অর্থ

রাত আটটার দিকে রাফি V-19/11 রেফারেন্সের একটি ইনডেক্স খুঁজে পেল।

সেখানে লেখা—

Verification Inquiry — E-17
Date: 19 November 2008
Subject: Confirmation of Original Authority Envelope Location
Result: No verified custody acknowledgment received.

নীরা বলল,

— তাহলে ১৯ নভেম্বরের পরও E-17-এর অবস্থান অজানা ছিল।

আরিয়ান বলল,

— হ্যাঁ। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই নথিতে কোনো ব্যক্তির নাম চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

রাফি বলল,

— কিন্তু একটি সংযুক্ত পাতার উল্লেখ আছে।

— কী লেখা?

— “Statement received from claimed representative.”

নীরা বলল,

— সেই প্রতিনিধির বক্তব্য কি পাওয়া যাবে?

রাফি বলল,

— সংযুক্ত পাতাটি নেই। শুধু রেফারেন্স আছে।

আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— আবারও একটি হারানো কাগজ।

নীরা বলল,

— তবে এবার অন্তত আমরা জানি, খামটি কোথায় ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল, আর প্রশাসন কেন সেই দাবি গ্রহণ করেনি।

আরিয়ান তার দিকে তাকাল।

— তুমি কি কিছু বুঝতে পেরেছ?

নীরা ধীরে বলল,

— হ্যাঁ। ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডে প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু সেই প্রতিনিধির মূল অনুমতিপত্রের খাম E-17 পরে কোথায় ছিল, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। নভেম্বরেও খামের অবস্থান যাচাই হয়নি।

আরিয়ান বলল,

— অর্থাৎ ২৮ অক্টোবরের স্বাক্ষরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও শক্তিশালী হলো।

৮. নীরার প্রশ্ন

রাতের দিকে অফিস থেকে বের হওয়ার আগে নীরা আরিয়ানের কেবিনে গেল।

আরিয়ান জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

নীরা বলল,

— একটা কথা ভাবছি।

— কী?

— আজহর রহমান যদি সত্যিই কাউকে প্রতিনিধিত্বের অনুমতি দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই অনুমতিপত্র এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেন? শুধু একটা স্বাক্ষর যাচাই করার জন্য?

আরিয়ান বলল,

— সম্ভবত শুধু স্বাক্ষরের বিষয় ছিল না। D-04-এর মাধ্যমে কোনো বিশেষ দায়িত্ব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে।

নীরা বলল,

— কিন্তু সেই দায়িত্ব কী ছিল, আমরা জানি না।

আরিয়ান বলল,

— সেটাই পরের প্রশ্ন।

নীরা টেবিল থেকে নোটবুক তুলে নিল।

— আমি একটা তালিকা করেছি।

সে পাতাটি আরিয়ানের সামনে রাখল।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য:

১. ১৮ অক্টোবর M-04-এর নামে একটি স্বাক্ষরের নমুনা দেখানো হয়েছিল।

২. ডা. নাসরিন পরিচয় নিশ্চিত করেননি।

৩. ২৮ অক্টোবর FINAL রেকর্ডে প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছিল।

৪. D-04-এর মূল অনুমতিপত্র E-17 খামে সংরক্ষিত ছিল।

৫. নাসিমা বেগম শুধু Private Record Room-এর চাবি সাময়িকভাবে পেয়েছিলেন।

৬. ১৯ নভেম্বর E-17-এর অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।

৭. একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, খামটি অন্য জায়গায় পাঠানো হয়েছে; কিন্তু তাঁর পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই হয়নি।

আরিয়ান তালিকাটি পড়ে বলল,

— খুব ভালোভাবে সাজিয়েছ।

নীরা বলল,

— কিন্তু একটা নাম এখনো নেই।

— কার নাম?

নীরা ধীরে উত্তর দিল,

— যে ব্যক্তি ২৮ অক্টোবর অন্যের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছিল।

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— সেই নামটাই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

৯. শেষ সূত্র

রাত প্রায় দশটা।

রাফি অফিস থেকে বের হওয়ার আগে একটি ই-মেইল পাঠাল।

বিষয়—

E-17 — Additional Index Found

আরিয়ান ই-মেইল খুলল।

ভেতরে একটি স্ক্যান করা পাতার ছবি।

নীরা পাশে এসে দাঁড়াল।

পাতাটির ওপর লেখা—

E-17 — Custody and Authorization Cross Reference

নিচে তিনটি রেফারেন্স:

D-04 — Delegated Authority

R-28/10/04 — Representative Signature

P-07 — Temporary Original Holder

নীরা অবাক হয়ে বলল,

— P-07 আবার কেন?

আরিয়ান বলল,

— কারণ E-17-এর মূল খাম আর C-14-এর মূল নথি হয়তো আলাদা হলেও, তাদের সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় কোনো একটি জায়গায় যোগাযোগ ছিল।

নীরা বলল,

— কিন্তু আমরা তো জানি, P-07 শুধু অস্থায়ীভাবে C-14-এর মূল নথি ধরে রেখেছিল। সে চূড়ান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল না।

আরিয়ান বলল,

— ঠিক। তাই P-07-কে D-04-এর অনুমোদনকারী ধরে নেওয়া যাবে না। তবে এই ক্রস-রেফারেন্সে তার নাম কেন এসেছে, সেটা জানতে হবে।

নীরা কাগজটির নিচে চোখ রাখল।

সেখানে ছোট করে লেখা—

“Cross-check required before final custody closure.”

নীরা ধীরে বলল,

— তাহলে E-17, D-04 আর P-07—এই তিনটি রেকর্ডের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল।

আরিয়ান বলল,

— হ্যাঁ। কিন্তু সম্পর্কটা কী, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।

নীরা জানালার বাইরে তাকাল।

এতদিন তারা খুঁজছিল একটি হারানো নথি।

এখন তারা বুঝতে পারছে, শুধু নথি হারায়নি—তার সঙ্গে হারিয়ে গেছে দায়িত্বের সঠিক হিসাবও।

আর সেই হিসাবের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একজন অজ্ঞাত প্রতিনিধি।

সে কি M-04-এর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছিল, নাকি M-04-এর পরিচয় ব্যবহার করেই নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল?

নীরা ডায়েরি বন্ধ করল।

আগামীকাল তাদের খুঁজতে হবে P-07 এবং E-17-এর মধ্যে থাকা সেই অজানা সংযোগ।

কিন্তু এবার আর কোনো অনুমান নয়।

তারা চাইবে মূল রেকর্ড।

কারণ সত্য যতই পুরোনো হোক, তার প্রমাণ কোথাও না কোথাও রয়ে যায়।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 98 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন