ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় ফুল

পর্ব 3

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যান : প্রিয় ফুল

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব - ৩

হ্যাঁ এখন তো তোমার নাতি চলে এসেছে এখন কি আর আমাকে কেউ পাত্তা দিবে বলে ফুল গাল ফুলালো। ফুলের কথা শুনে সকলেই উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো। সকলের হাসি দেখে ফুলও আবারও গাল ফুলালো। মেয়ে কে রেগে যেতে দেখে আলামিন তালকদার বললেন, আম্মা আপনি আব্বাজানের কাছে আসেন আমি আমার আম্মাজান কে খাইয়ে দিব। বাবার কথা শুনেই ফুল আলামিন তালকদারের কাছে গিয়ে বসলেন এবং দিদা আর ভাইয়া কে দেখিয়ে মুখ মছালো। তা দেখে নিজের মুখ বাকালো। সকলেই খাওয়া দাওয়া শেষ করে নিজ নিজ কক্ষে ঘুরতে গেল।

ফুল ও তার দিদা এক সাথে ঘুমাই আর রোজ রাতে ফুল তার দিদার কাছে থেকে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমায়। আজকেও ফুল তার দিদার কাছে গল্প শুনার বাইনা করলো। আচ্ছা দিদা তোমার আর দাদা ভাইয়ের কিভাবে বিয়ে হয়েছে? নাতনির মুখে আগের কথা শুনেই গোলাপ তালকদারের মুখে হাসি ফুটলো। গোলাপ তালুকদার তার অতীতের কথা মনে করে ফুলকে বলতে শুরু করল। তোমার দাদা ভাই মরে একদিন বিলে শাপলা তুলতে দেহে । সেই থিকা মর পিছু পিছু ঘুরতো।মই ওতো পাত্তা দিতাম না । তাও তুমার দাদাই মর পিছু পিছু ঘুরতো। পড়ে হটাৎ একদিন মর শুশুরে মারা গেল। তখন সংসারের হকল দায়িত্ব তোমার দাদ্র কাদে আসে। তহন থাইকা তোমার দাদাই মর পিছু পিছু অত আইতো না। কিন্তু যহনি সময় পাইতো আমারে দেখতে আইতো আর আইলেই ফুল লইয়া আইতো। মই ফুল দেইখা কে যে খুশি হইতাম। তার কিছু মাস পর আব্বাই আমার বিয়া ঠিক করে। মর তো তর দাদার লিগা বেজাই খারাপ লাগতো কিন্তু আমি মাইয়া মানুষ কিতাই বা করতে পারতাম। আব্বার কথা শুইনা বিয়া করলাম। বিয়া করার পর স্বামীর মুখ দেইখা তো বেশ অবাক হইলাম। তোমার দাদাই আমারে হাইসা কইতে লাগলো। কি গো মর গোলাপজান কি দেখলা তো তোমারে মর বউ বানাই হালাইলাম। তোর দাদার কথা শুনা কি যে সরম পাইছিলাম তা আর বলতে। ফুল তার দিদার কথা শুলে হেসে উঠলো। তার দিদার কুলে ফুল মাথা রেখে জিজ্ঞেস করল আচ্ছা দিদা দাদাভাইকে তোমার কেমন লাগতো? হাছা কথা কইতে তোর দাদা কে মর বেশ মনে দরছে হে যহন মর পিছু আইতো মর যে কি ভালো লাগতো বলতে বলতে ফুলের মাথাই হাত বলাতে লাগলো। দিদিভাই দেইহা লইও তোমার লিগাও এক রাজপুত্তুর আইব। ফুল তার দিদার কথা শুলে সামান্য হাসলো। ফুল তার চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে সুজনের মুখ বেশে উঠে। সুজনের কথা মনে পরতেই ফুল সাথে সাথে চোখ খুললো। আচ্ছা দিদা আমরা সুজন ভাইকে আমাদের বাসায় এত আসতে বলি তাও আসে না কেন? ফুলের কথা শুনে তার দিদা জবাব দিলেন। আসলে ইয়াসিনের পিত বেজাই ভালা আমগো ইয়াসিনের লাহান। বেজাই আত্মমর্যাদাশীল তা না হইলে কি আর বাবা মা ছাড়া একাকা বড় হইতে পারে। হেতে নাকি বড় হওয়ার পরে চাচা - চাচির সাথে খাওয়ার জন্য নিজে বাজার সদাই করে দেই। আমগো বাড়ি আহে তোমার লীগা। ফুল নিজের কথা শুনতেই শোয়া থেকে উঠে বসে। কেন দিদা আমার জন্য কেন? আসলে ইয়াসিন তোমার জন্মের পর আলামিন রে কইছিলো হেতে তার পুতের বউ কইরা লইয়া যায়বো তোমারে । ফুল এই কথা শুনে অবাক হলো। তাহলে তার এই বাসায় আসতে সমস্যা কথাই। আরে হেতে মনে করে এই বাড়ি আইলে তুমার অস্বস্তি হয়বো তাই তুমার বাপ আর ভাই এইলেই আহে। তারা আরু কিছুক্ষণ গল্প করে ঘুমিয়ে গেল। সকাল হইতেই প্রাঙ্গণ থেকে ডাক আসলো বড় আম্মা বড় আম্মা কই আপনে? আমিনা বেগম প্রাঙ্গনে আসেই দেখতে পেল সুজন এক হাতে বিশাল বিশাল ২ টা ইলিশ মাছ এবং আরেক হাতে মিষ্টি সহ হরেক রকমের বাজার। এখনি ঘাট থেকে আলামিন তালকদার আসছিলেন। সুজনের হাতে এত কিছু দেখে বেজায় রেগে গেল। সুজন তুমি এগুলো কেন এনেছ? তুমি কি মনে কর তোমার বড়বাবার তোমাকে খাওয়ার সাধ্য নেই? বড়বাবা তুমি এই কথা কেন বলছ আমি তোমাকে বড়বাবা ভাবি বলেই তো এই সব নিয়ে আসলাম। কেন ইমন কি তোমাকে কিছু এনে খাওয়াই না। ইমন আনতে পারলে আমি কেন না। নাকি তুমি আমাকে ছেলেই মনে কর না? সুজনের কথা শুনেই আলামিন তালকদার সুজনকে জড়িয়ে ধরলো। বাবা তুই আমার বাবা আমার কাছে ইমন যেমন তুই ও সেই একই রকম তোদের মধ্য কোন তোফাত নেই। তাহলে আমি তোদের জন্য কিছু এনেছি তা দেখে তুমি কেন রাগ করছ। আচ্ছা বাবা আর কিছু বলবো না তোকে তোর সাথে কথাই কেউ পারবে না আমার বেশ হয়েছে তোকে এই সব বলে। পাশ থেকে ইমন বলল হ্যাঁ এখন তো আমাকে আর লাগবে না। আলামিন তালকদার ইমন কেউ বুকে জড়িয়ে নিল। ফুলকে দূরে দারিয়ে থাকতে দেখে আলামিন তালকদার ফুলকেও কাছে আসতে বলল। তার পর ফুল কেও বুকে টেনে নিল। ফুল চোরা চোখে সুজনের দিকে তাকালো সুজন ফুলের দিকে তাকিয়ে ছিল তা দেখে ফুল সাথে সাথে চোখ সরিয়ে ফেলল। তার পর সকলেই বাড়ির বেতরে গেলো। সূর্য তখন পশ্চিমা আকাশে নিজের উপস্থিত জানান দিচ্ছে। ইমন, ফুল, শাপলা আর সুজন নদীতে ঘুরতে যায়। সুজন নৌকা চালাচ্ছে। সুজন ভাই ওই দিকে যাও দেখো ওই দিকে কত শাপলা । ফুলে কথা শুনে সুজন ফুলে দিকে তাকিয়ে শাপলা ফুলের ওই দিকে গেল। নৌকা থামিয়ে সুজন অনেক গুলো শাপলা তুলে ফুলকে দিল। ফুল শাপলা পেয়ে বেজায় খুশি হলো। তা দেখে সুজন সবার আরালে সামান্য হাসল। ইমন শাপলা কে বলল তা শাপলা বানু আপনারও কি শাপলা লাগবে। শাপলা ইমনের কথা শুনে সামান্য মুচকি হাসল । তারা সকলেই বেশ মজা করল। সন্ধ্যার আগে সকলে বাসায় চলে আসল। আজকে শাপলা কে ফুলদের বাসায় থাকতে বলা হল কিন্তু শাপলা নাকচ করে দিল। রাতের খাবার খেয়ে সকেলে ঘুমাতে গেল। আজকে সুজন ইমনের সাথে ঘুমিয়েছে। সুজন ইমনে কে ডাক দিয়ে বলল তা এতোই যখন ভালোবাসিস বলে দিলেই তো পারিস? সুজনের কথা শুনে ইমন অবাক হলো কারন সে যে শাপলা কে পছন্দ করে তা এখন কেউ কে বলিনি। কি ভাবছিস আমি কি ভাবে জানি? আমি তোর সাথে ছোট থেকে বড় হয়েছি কি ভেবেছিস তোর চোখের ভাষা পড়তে পারব না? আমার ভয় হয় যদি আমাকে নাকচ করে দেই। কার সাদ্দি যে এই ইমন তালকদার কে ফিরিয়ে দেই। তুই কি আমার সাথে মজা করছিস তুই কি আমার বিয়াই লাগছ যে আমি তোর সাথে মজা করব? না আমি তোর সুমন্দি লাগি। ইমনের কথা শুনে সুজন উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো। তা দেখে ইমনও হেসে উঠলো। এই ভাবে তাদের খুনসুটি দিয়ে কিছুক্ষণ পার হলো। আচ্ছা সুজন তুই ফুল কে কেন বিয়ে করতে চাচ্ছিস না? তোর বোন সোনার চামচ মুখে নিয়ে বড় হয়েছে। আমার সাথে বিয়ে হলে তোর বোন কে কাজ করে খেতে হবে। যখন ২ দিন পর কাজ করতে পারবে না তখন তোদের কাছেই এসে বলবে আর তোরা বিচারের জন্য জাবি। সুজনের কথা শুনে ইমন বলল -

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন