উপন্যাস : প্রিয় ফুল
লেখিকা - শেখ হালিমা
পর্ব - ৪
সুজনের কথা শুনে ইমন বলল -আমার বোন আর যায় হোক নিজের কষ্টের কথা আমাদের কে বলতে আসবে না। কেন তুই কি ফুল কে চিনিস না? ফুল কেমন তুই জানিস না? ছোট থেকেই তো ফুল আমার থেকে তোকে বেশি পছন্দ করে। ইমন সুজনের কাদে হাত রেখে বলল তুই আমার বোন কে ভালো রাখতে পারবি এটা আমার বিশ্বাস। ইমনের কথা শুনে সুজন সামান্য হাসল।
এই ফুল বানু কোন হানে যাইতাছো? দিদার কথা শুনে ফুল তার দিদার দিকে তাকালো। উফফফফ দিদা তোমাকে না বললাম আমাকে ফুল বানু বলবে না। তাহলে কি বলবে ফুল কন্যা? সুজনের কন্ঠ পেয়ে ফুল সাথে সাথে পিছু ফেলল এবং দেখতে পেল দুজনার ইমন একসাথে আসছে। তুই কোথায় যাচ্ছি? ইমনের কথায় ফুল জবাব দিল। আসলে আম্মাই নদী থেকে শাপলা আনতে বলছে। আচ্ছা। তাহলে সুজনকে নিয়ে যা। আমি একাই বাজারে যাই। না ভাইয়া আমি একাই যেতে পারবো। তুমি সুজন ভাইয়াকে নিয়ে বাজারে যাও। তোকে এত বেশি কথা বলতে বলেছি যা বলছি তাই কর। ঠিক আছে। আচ্ছা সুজন আমি বাজারে যাই। তুই ফুলকে সাবধানে দেখে রাখিস । ইমনের কথায় সুজন ইমনের গা ঘেঁষে কানে বললো কার সাদ্দি আছে যে এই সুজন থাকতে ফুল কন্যার দিকে চোখ তুলে তাকাবে। বলেই সুজন হাসলো। ফুল সামনে পা বাড়ালো আর তার পিছু পিছু সুজন ও গেল। ওই দিহে তাকাইয়া কি দেখো দাদাভাই? দিদার কথা কানে আসতে সুজন দিদার দিকে তাকাল। তোমার কাছে অদের কে একসাথে কেমন লাগে? সাক্ষাৎ রাজযোটক বলেই দিদার আর ইমন হেসে উঠলো। আচ্ছা দিদা তাহলে আমি বাজারে যাই। ঠিক আছে দাদাভাই। ফুল কন্যা তুমি কি নৌকায় উটতে পারবে? হ্যাঁ সুজন ভাই বলেই ফুল নৌকায় চোরার জন্য পা বারালো। নৌকা সামান্য নড়তেই ফুল যেই না পানিতে পড়তে যাবে ঠিক তখনই সুজন এসে ফুল কে ধরে ফেলল। আরিফুল কন্যা কি করছো সাবধানে বলেই সুজন ফুলের হাত ধরল সাথে সাথে সুজন আর ফুলের গা শির শির করে উঠলো। সুজন ফুলকে নৌকায় নিঃশব্দে বসিয়ে নৌকা চালানো শুরু করলো। কিছু দূর গিয়ে সুজন একটা গান গাইতে শুরু করল। মন পাবনের নৌউ ভাসাইলাম বন্ধু তোমার কারনে..নায়ের মাঝি বড়ই পাজি বৈঠা চালায় গোপনে। সুজনের মুখে এই প্রথম গান শুনে ফুল বের অবাক হলো। সুজন ভাই আপনি তো বেত ভালো গান গাইতে পারেন। ফুলের কথা শুনে সুজন সামান্য হাসল। তার পর ফুলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো তুমি ছোট থাকতে তোমাকে কত গান শুনাইছি । ফুল এই কথা শুনে বেশ অবাক হলো। কিন্তু আমার তো এমন কিছু মনেই নেই। মনে থাকবে কি করে আম্মা - আব্বা মারা যাওয়ার পর আমি তোমাদের বাসায় আসা কমিয়ে দেই। ফুল সুজনের কথা প্রশ্ন করে কেন সুজন ভাই আপনি আমাদের বাসায় কেন আসা কমিয়ে দেন? সুজন সাবাভিক ভাবে ফুলের কথা এরিয়ে যায়। ফুল কন্যা অই তো শাপলা তুমি তুলতে শুরু কর। ফুল বেশ বুঝতে পারল সুজন তার কথা এরিয়ে যাচ্ছে তাই ফুল কিছু না বলে শাপলা তুলতে থাকল। ইমন বাজারে যেতেই শাপলার সাথে দেখা হয়। আরে শাপলা ফুল দেখি তা তুমি বাজারে আইছ কেন? ইমনের কথা শুনে শাপলা বলল কেন বাজারে কি মেয়ে দের আশা নিষেধ নাকি? না আমি তা কথাই বললাম তা কি নিতে এসেছ? শাপলা ইমনের কথা বেশ বিরক্ত হলো কিন্তু তা ইমনকে বুঝতে দিল না। সাবধানে এরিয়ে গেল আচ্ছা ভাইয়া আমি আজকে আশি। আচ্ছা আমাদের বাসায় যেও ফুল যেতে বলেছে। আচ্ছা ভাইয়া। ফুল আর সুজন নদীতে থেকে বাসায় আসতেই আলামিন তালকদারের সামনে পরে। আম্মা শাপলা তুলতে গিয়েছিলেন? জি আব্বা। ঠিক আছে যান ভেতরে দিয়ে পরিপাটি হয়ে আসেন। ঠিক আছে বলেই ফুল সামনে পা বাড়ালো। সুজন তুমি আমার সাথে আসো তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে বলেই আলামিন তালকদার তার কক্ষে গেলেন আর তার পিছু পিছু সুজন গেল। আলামিন তালকদার সুজন কে তার পাশে বসতে বললেন। সুজন গিয়ে তার পাশে বসল। তোমার কি আমার মেয়ে কে বিয়ে করতে কোন সমস্যা আছে। সুজন এই কথা শুনে সামান্য ইতস্তত ভোদ করল। আসলে বড় আব্বু সুজন কে পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে আলামিন তালকদার বললেন আমি তোমাকে জোর করব না তোমার বাবা আমার মেয়ে কে তোমার সাথে বিয়ে করাতে চেয়েছে আর আমি তোমার বাবার কথা কে সম্মান করি। তোমার পছন্দ থাকলে বলতে পারো। সুজন আলামিন তালকদারের কথা শুনে বলল বড় বাবা আপনি না ভালো মনে করবেন আমার কোন পছন্দ নেই। সুজনের কথা শুনে আলামিন তালকদার বের সন্তুষ্ট হলেন। ঠিক আছে তাহলে আমি কালকেই তোমার চাচির কাছে যাবো। আপনি যা ভালো মনে করেন। বলেই সুজন বাহিরে বের হয়ে গেল। আলামিন তালকদার এই বার ঢাকা থেকে ভেবেই এসেছে ফুল আর সুজনের বিয়ে টা দিয়ে ঢাকাই ফিরবে। ইমন বাজার করে এসে আমিনা বেগম কে ডাকতে শুরু করল। আম্মা আমাকে এক গ্লাস পানি দেন আমি বেশ ক্লান্ত। ইমনের কথা শুনে আমিনা বেগম তারা হুরু করে ছেলে কে পানি দিলেন আর বাজারের বেগ নিলেন। ইমন পানি খেয়ে নিজের কক্ষে গেল। কিছুক্ষণ পর সুজন আর ইমন তৈরি হয়ে বাসায় থেকে বের হল। তা দাদুভাই রা তোমরা কথাই যাও এই ভোর দুপুর বেলা কথাই যায়তাছ দিদা আমরা মাছ ধরতে আর নদীতে ডুবাতে। সাবধানে জায়ও। ঠিক আছে দিদা বলেই সুজন আর ইমন সামনে পা বাড়াল। ভাইয়া ফুলের ডাকে ইমন আর সুজন পিছু ফিরল ভাইয়া কথাই যাচ্ছ তোমরা? আমরা নদীতে ডুবাইতে জাচ্ছি। আমি ও যাব। ফুলের কথাই ইমন রেগে গেল ধমেকের শুরে ইমন ফুলে বলল যা এখনই বাসার ভেতরে যা সকালে না নদীতে গিয়ে আসলি এখন আবার কেন যেতে হবে। ইমনের রাগী কন্ঠ শুনে ফুল মাথা নিচু করে রইল। সুজন ইমনের পিঠে কিল দিয়ে ফুল কে বলল ফুল কন্যা তুমি চল আমি তোমাকে নিয়ে জাবো। ফুল মাথা তুলে ইমনের দিকে তাকালো তার পর সুজনের দিকে তাকালো তুমি ইমনের দিকে কেন তাকাচ্ছো। ইমন কি করবে? আমি থাকতে। ইমন ফুল কে নিজের কাছে ডাক দিয়ে বলল sorry বনু আর বোকা দিব না। তার পর ফুল কে নিয়ে নদীর গাট গেল। আমেলা বেগম তাদের ডেকে বলল তারা তারি চলে এস না হয় জোর আসবে। আমেনা বেগমের কথাই সকলেই সম্মতি জানালো। ফুল তুই ও কি গোসল করবি? নাহ ভাইয়া। কেন ফুল কন্যা তুমি ভয় পাও নাকি? না ভাইয়া আসলে অই দিকে অনেক ছেলে আমি মেয়ে মানুষ পরে বাজে দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে। ফুলের কথা শুনে সুজন মুগ্ধ হলো। সে মনে মনে ভাবতে থাকলো তার বাবা তার জন্য সঠিক মেয়েই বেছে গিয়েছে। ফুল তার অর্ধাঙ্গিনী হবে ভেবেই ভুক ভরে উঠলো। আনমনে সুজন হাসতে থাকলো। কিরে কি এত ভাবছিস ইমনের কথাই সুজনের ধ্যান ভাঙলো। হ্যাঁ না মানে কিছু না। হ্যাঁ না কি তা আমি বুঝতে পেরেছি।