উপন্যাস : প্রিয় ফুল
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ৭
কিন্তু আমরা চাই আপনার মেয়ে কে এই ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে। কেন যেখানে আমার মেয়ের কোন দোস নেই সেখানে আমার মেয়ে কে বিয়ে কেন দিব? এত কিছুর মধ্য রবি এহসানের বাড়ির মানুষ এবং সুজনের চাচা- চাচি আর কলি এখন এসেছে। তার সকল কিছু শুলে থ- হয়ে দারিয়ে রইল। আলামিন তালকদারের কথাই গ্রামের সকলেই বেশ বিরক্ত হলো। গ্রামের সকলের মাঝে থেকে এক জন বলে উঠে আপনার গ্রামে নাম - ডাক আছে বলে কি আপনার কার কথাই যায় আসে না। আপনি যদি আমাদের কথা না শুনেন তাহলে আমরা আপনাদের কে একঘরে করে দিব লোক টার কথা শুনে গ্রামের সকলেই হই হই করে উঠে। কিন্তু এই কথা শুনে ইমন বেশ রেগে যায়। ইমন বলে আপনাদের যা করার করেন আমি আমার বোনের বিয়ে সুজনের সাথেই দিব। ইমনেকে সুজন আটকে রাখে । ইমনে কথা শুনে গ্রামের মানুষ বেশ রেগে যায়। যার জন্য তালকদার বাড়ির সকলেই ভরকে যায়। আলামিন তালকদার গ্রামের মানুষ কে শান্ত করার জন্য বলে ঠিক আছে কিন্তু আমার মেয়ের বিয়ে সুজনের সাথেই দিব। আলামিন তালকদারের কথা শুনে গ্রামের মানুষ নাকচ করে বলে না ফুলের সাথে রাব্বির বদনাম হয়েছে তাই রাব্বির সাথেই বিয়ে দিতে হবে। আলামিন তালকদার এতে নাকজ করলে গ্রামের মানুষ আগের থেকে আরু বেশি করে চেচামেচি করে যার জন্য এক সময় আলামিন তালকদার রাজি হয়। ঠিক আছে আমার মেয়ের বিয়ে রাব্বির সাথেই হবে। আলামিন তালকদার জানে রাব্বি দের পরিবার বেশ ভালো তাদের মত জাগা-সম্পত্তি না থাকলেও তার মেয়ে কে বেশ ভালো রাখতে পারবে। আলামিন তালকদারের কথা শুনে এতক্ষণ পর রাব্বি মাথা তুলে তালায়। আব্বা আপনি কি করছেন? ফুলের বিয়ে না সুজনের সাথে দিবেন তাহলে.. তাহলে কেন আপনি রাব্বির সাথে বিয়ের কথা বলছেন? আলামিন তালকদার ছেলে কে বেশ কিছুক্ষণ বুঝালেন। ইমনে বাবার উপর দিয়ে আর কিছু বলল না। আলামিন তালকদার সকল কে উদ্দেশ্য করে বলে যাও কাজি নিজে আসো আমার মেয়ে কে আমি এখনই রাব্বির সাথে বিয়ে দিব। আলামিন তালকদারের কথা শুনে সুজন যেন আকাশ থেকে পরলো কিন্তু সুজনের সেন কথা বলার ভাষা হারিয়ে গিয়েছে। সুজনের সাথে ফুলের বিয়ে হবে না বলে কলি মনে মনে বেশ খুশি হলো সে ভেবে রাখলো বাসায় গিয়েই দুই রাকার নফল নামাজ পরবে আল্লাহ যে তার কথা শুনছে তার হাজার হাজার শুকরিয়া আদায় করল। কিছুক্ষণ পর গ্রামের একজন কাজী কে নিয়ে আসে। তার পর ইসলামিক শরীয়তে ফুল ও রাব্বির বিয়ে পরানোর জন্য তৈরি হয়। ফুলকে কাজী বিয়ে সম্পূর্ণ করার জন্য বলে মা আপনি কি রবি এহসানের একমাত্র ছেলে কে বিয়ে করার জন্য রাজি? রাজি থাকলে বলেন আলহামদুলিল্লাহ কবুল। ফুল নিঃশব্দে মোমের পুতুলের মত তিন বার কবুল বলে দেয়। ফুল যেন এই জগতে থেকে ও নেই নিজের মধ্য থেকেও নেই। কাজী রাব্বির কাছে গিয়ে গিয়ে বলে আলামিন তালকদারের একমাত্র মেয়েকে ৫০০০০ টাকা দেনমোহর দিয়ে বিয়ে করার জন্য রাজি? রাজি থাকলে বলেন আলহামদুলিল্লাহ কবুল। রাব্বি একবার তার বাবার দিকে তাকাই যে কিনা তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। রবি এহসান ছেলে কে সম্মতি দিতে বলে। রাব্বি আর কারো দিকে না তাকিয়ে সম্মতি দিয়ে দেয়। তার বলা ৩ কবুল শেষ হতেই তারা এক পবিত্র সম্পর্কে আবধ্য হলো। বিয়ে শেষ হতেই সকলে যে যার বাসায় চলে যেতে থাকল। রয়ে গেল শুধু তালকদার আর এহসান বাড়ির মানুষ সাথে সুজন আর তার চাচারা। রাব্বি জানে না তাদের ভবিষ্যতে কি হবে তবে সে পোন করল যেত দিন বেচে থাকবে নিজের জীবন দিয়ে ফুল কে রক্ষা করবে। ফুলের দিকে এক বুক কষ্ট আর হাহা কার নিয়ে তাকিয়ে ছিল সুজন। সুজন কে আলামিন তালকদার সান্তনা দিয়ে কিছু কথা বলল যার বিপরীতে সুজন সামান্য পরিহাসের হাসি দিল। সুজন আর কিছু না বলে তার ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে তালুকদার বাড়ি থেকে চলে গেল তার পিছে পিছে সুজনের চাচা চাচি আর কলি ও গেল। সুজনরা যেতেই পুরো তালুকদার বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে গেল। নীরবতা ভেঙ্গে রবি এহসান আলামিন তালুকদারের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো। এখন যখন বিয়েটা হয়ে গিয়েছে তা তো আর অস্বীকার করা যাবে না আমি আমার ছেলের বউকে আর ছেলেকে নিজের বাসা নিয়ে যেতে চাই। রবি এহসানের কথাই আলামিন তালুকদার সম্মতি জানিয়ে নিজের স্ত্রী ও মাকে ফুলের বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে বলল। আলামিন তালুকদার রবি এহসানের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলল ভাই আমি দুঃখিত আমি বুঝতে পারিনি আমার অনুপস্থিতিতে আমার বাসায় এমন একটা নোংরা পরিকল্পনা তৈরি করা হবে আমি জানলে আগেই নিজের ছেলে ও মেয়েকে নিজের সাথে করে নিয়ে যেতাম। আলামিন তালুকদারের কথা রবি এহসান বললেন আরে ভাই আপনি এ কথা কেন বলছেন আমরা আমার ছেলের জন্য লজ্জিত আমরা জানতাম না যে আমার ছেলেকে ঘিরে আপনার মেয়ের এমন নোংরা পরিকল্পনা সাজানো হবে তাহলে আমার ছেলেকে কখনোই আপনার বাসায় আসতে দিতাম না। থাক ভাই যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে এখন এই কথা বলে আর লাভ নেই। আমি চাই সবকিছু ভুলে গিয়ে আমরা আমাদের এই নতুন সম্পর্কটাকে ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখবে বলেই আলামিন তালুকদার রবি এহসানকে জড়িয়ে ধরল। ইমন গিয়ে রাব্বির কাছে ক্ষমা চাইলো সত্যিই ভাই আমি দুঃখিত তোকে অবিশ্বাস করার জন্য তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না আমি কি করবো তা বুঝতে পারছিলাম না এই অবস্থা দেখে। ইমনের কথায় রাব্বি জবাব দিল তোর জায়গায় আমি থাকলে আমি ও এই কাজই করতাম আমি কিছু মনে করিনি। রাব্বির কথা ইমন সন্তুষ্ট হয়ে নিজেকে জড়িয়ে ধরল ইমন রাব্বিকে করে বলল এখন থেকে আমি তোর সম্বন্ধি তুই আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলবি বলেই ইমন হেসে ফেলল ইমনের হাসি দেখে রাব্বি ও হেসে ফেলল। কিন্তু এমন উপর দিয়ে নিজেকে খুশি দেখালেও ভিতরে সুজনের জন্য বেশ খারাপ লাগলো কিন্তু তারও তো এখানে কিছু করার ছিল না। তার বোনের সম্মানের ঊর্ধ্বে তো আর যাওয়া যায় না। ফুলকে বিদায় দেওয়ার সময় ফুলের টনক নড়ে ফুল হাউ মাউ করে চিৎকার পেরে আর্তনাদ করে কান্না করে। ফুলের কান্না দেখে তার বাসার সকলেই নিজেদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনা। কোনরকম ভাবে ফুলকি বিদায় দেওয়া হয়। রবি এহসানদের খাওয়ার জন্য আলামিন তালুকদার বেশ জোর করে কিন্তু রবি এহসান তাতে রাজি হয় না। ফুলকে বিদায় দেওয়ার পর তালুকদার বাড়িতে সকল নিস্তবতা ভোর করে। নিজের একমাত্র মেয়েকে অন্যের ঘরে পাঠাতে আলামিন তালুকদারের বুক ফেটে যাচ্ছিল কিন্তু এটাই বিধাতার নিয়ম যা খন্ডানোর ক্ষমতা কারো নেই। এহসান বাড়ি তালুকদার বাড়ির মত বেশ বড় না হলেও মোটামুটি ভালোই। রুবিয়া বেগম নিজের পুত্রবধূকে বরণ করে ঘরে তুলে। রুবিয়া বেগম এবং তার মেয়ে রুপা ফুলকে বউ হিসেবে পেয়ে বেশ খুশি। রুবিয়া বেগম সবসময় চাইতেন তার ছেলের জন্য একটা চাঁদের টুকরো মেয়ে আনবে। রুপা ফুলকে ভাবি হিসেবে পেয়ে বেশ খুশি। সকালেই এহসান বাড়ি মানুষ দিয়ে ভরে যাবে ছেলের বউ দেখার জন্য ।