উপন্যাস : প্রিয় ফুল
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ৯
রাব্বির কথা ফুল বেশ লজ্জা পেল তাই কিছু না বলে সেখান থেকে কলেপার মুখ দোয়ার জন্য গেল।
ফুল কলেপার থেকে মুখ - হাত ধুয়ে ঘরে আসে। এতক্ষণে রাব্বি সেই মহিলা দের অপমান করে তারিয়ে দিয়েছে তাই ফুল তাদের দেখতে পাই না।.....আপনি কেন তাদের কে অপমান করলেন..? ফুলের কথা রাব্বি ফুলের দিকে ফিরে তাকায়।
আমার বউ কে কেউ কিছু বলবে আর আমি তার জবাব দিব না..? আমার বউ আমার চাঁদ। রাব্বির কথাই ফুল মাথা তুলে তাকায় এতক্ষণ মাথা নিচু করে রেখেছিল। আসো ফুলকুমারী খেয়ে নেও। আমি তোমার জন্য এখন বসে আছি। আম্মাই আমগো লইগা ঘরে খাওন দিয়া গেছে। ফুল রাব্বির মুখে অশুদ্ধ ভাষা শুনে অবাক হয়। আরে এমনেই কেরে চাইয়া লইছেন এইহানে আহেন। আপনি এইভাবে কথা বলছেন কেন..? রাব্বি ফুলের অবস্থা দেখে সামান্য হাসল কিন্তু ফুল দেখার আগেই রাব্বি আগের মত নিজেকে সামলিয়ে নিল। তার পর ফুলের সাথে আর একটু মজা করার জন্য বলল। কীতা কইরা কথা কইলাম ফুলকুমারী..? ফুল এখন বেশ বিরক্ত হলো রাব্বির উপর একেই তো এই ছেলে ফুলের ভালো লাগে না তার উপর না চেয়েও বিয়ে করতে হয়েছে এখন আবার এই ছেলের আদেকক্ষিতা দেখে ফুলের গা জলছে। ফুল এত ক্ষ্ণের সব কথা ভুলে গেল রাব্বি তাকে কী ভাবে সেই নাড়ীদের কথার হাত থেকে বাচালো ফুল শুধু মনে রাখলো রাব্বি কে সে পছন্দ করে না আর সুজনের যায়গা রাব্বি নিয়েছে ফুলের মন কে রাব্বির প্রতি বিষাক্ত করে তোলার জন্য এই কথা গুলো মনে হওয়াই যথেষ্ট ছিল।
রাব্বি হয় তো কিছু বুঝতে পারে তাই আর কথা না বারিয়ে ফুলের উদ্দেশ্যে বলে উঠে আচ্ছা ফুলকুমারী আপনার ভালো না লাগলে আমি এই ভাবে কথা বলব না। এখন আসেন খাবার খেয়ে নেই। ফুল রাব্বির কথায় আর কোন জবাব না দিয়ে খাবার খাওয়ার জন্য মাটিতে মাদর বিছিয়ে রাখে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে রাব্বি সেই কখন বাজারে চলে গিয়েছে। ফুল বাহিরে আসে আরে ভাবি এই হানে আহ। আমরা সুখিরা মিলা পুকুর ধারে মজা কইরা পেয়ারা মাখা খায়তাছি তুমারে লইতে আয়লাম। চলো চলো.... ফুল পুকুর পার আর পেয়ারা মাখার কথা শুনে রূপার সাথে যাওয়ার জন্য পা বারায়। রূপা তোর ভাবি রে কই লইয়া যাছ..? রুবিয়া বেগমের কথাই রূপা আর ফুল দুজনেই পিছু ফিরে তাকায়। আসলে আম্মা ভাবিরে লইয়া পুকুর পার যায়।
কীইইই...তোর কি মাথা খারাপ হইছে... এহন বর গায়ে থিকা বিয়ার গেরান যায় নাই আর তুই বউরে লইয়া এই ভর দুপুরে পুকুর ঘাটে যাবি..? তোর ও আজ থেইকা পুকুর ঘাটে যাওয়া বন্ধ। রুবিয়া বেগমের কথা শুনে রূপার মন খারাপ হয়ে যায়। যা দেখে ফুল রুবিয়া বেগমের উদ্দেশ্যে বলে আম্মা থাক রূপা যাক আমি না হয় আপনার সাথেই থাকি। ফুলের কথাই রুবিয়া বেগম রূপা কে যেতে দেয়। রুবিয়া বেগম রান্না করতে গেলে ফুলও তার পিছু পিছু যায়। নেও আম্মা আমি রান্না করি তুমি চাইয়া দেহ। রুবিয়া বেগমের মুখে আম্মা সম্মোধন শুনে ফুল বেশ অবাক হয়। ফুলের যেত সুখির বিয়ে হয়েছে সবার মুখে শুনেছে যে তারা নাকি ফুলের সুখিদের অত্যাচার করে। অবশ্য ফুলের এতে কোন মাথা বেথা ছিলো না কারন ফুলের বিয়ে তো সুজনের সাথে হওয়ার কথা ছিল। আর সুজনের তো মা - বাবা কেউ ছিল না। এতে অবশ্য ফুলের বেশ খারাপ লাগতো। কারন সুজন একা একা মা- বাবা হীন বড় হয়েছে। কীগো আম্মা কিছু কোউ না কেরে। রুবিয়া বেগমের কথাই ফুলের ধ্যান ভাঙ্গে। হ্যাঁ.. না.. মানে কি বলছেন? কইলাম কীতা আমি রানদি তুমি দেহ। ঠিক আছে আম্মা। রান্না করতে করতে রুবিয়া বেগম ফুল কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে...... জানো তোমার শুশুরের আর আমার যহন বিয়া হয়লো আমার শাশুরী কি অত্যাচার আমারে করতো কিন্তু যহনি আমার শুশুর আমগো রাব্বির বাপ এইতো আমারে যে কি সুহাগ করতো। হেগ বুঝাই তো হে আমারে কত যত্ন করে। দিন যায় মাস যায় বছর যায় যহন আমার কোন পুলা পান হয় না তখন আমার শাশুড়ী মরে আরো অত্যাচার করতে লাগলো কিন্তু সেই দিন হুনলাম আমার পেটে আমার মানিক আমার বুকের ধন আইছে হেই দিন থিকা আমার শাশুড়ী আমার উপর থাইকা অত্যাচার কমাইয়া দেই। আমগো ঘরে যহন পইলা পুলা জন্ম নিল হগগলে কী যে খুশি হইল।পুলা দেইহা তো আমার শাশুড়ী হেই কিযে আদর তা কি আর কইতে। কিন্তু আমি মনে মনে ভাইবা লইছি আমার পুতে লিগা একটা চাঁনদের লাহাম মাইয়া আনমু আর তারে মাথাই কইরা রাহুম। যেই দিন তুমি হইলা তোমারে দেইহা তো পুরা গ্রামের মানুষ তোমার উপর থাইকা চোঁখি পিরাই পারে নাই। হেই দিন থাইকা ভাইবা লইছি আমার পুতেও বউ তোমারে কইরা আনমু। আল্লার কাছে দিন রাইত আমার পুতের লিগা তোমারে চাইতে লাগলাম। আল্লাহ নাকি আম্মার দয়া ফেলে না এহন দেহ তুমিই আমার পুতেও বউ হেই তুমি জেম্নেই হও না কেন। নিজের শাশুড়ীর মুখে এই কথা শুনে ফুল বেশ অবাক হয় সাথে বিব্রতবোধ করে। তখনই রাব্বি বাসায় আসে। রুবিয়া বেগম ফুলকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে যাও স্বামীর কাছে যাও যেই হান থিকা আয়ব তুমি আগে যায়বা আমার পুতে কি লাগে না লাগে তুমি দেখবা। আমি তো আর এই সব করতে পারি নাই আমার শাশুড়ীর লইগা। তুমি যাও। ফুল শাশুড়ীর কথাই বেশ লজ্জা পেল কিন্তু নিজেকে সামলিয়ে উঠে রাব্বির দিকে যায়। আপনার কিছু লাগবে? ফুলের কন্ঠ পেয়ে রাব্বি পিছু ফিরে তাকায়।
বাহহ তা এত টুক সময়ে এত উন্নতি কিভাবে..? এখন থেকেই কি রাব্বি এহসানের বউ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নাকি..? ফুল রাব্বির কথা বিরক্ত হলেও তা প্রকাশ না করে জবাব দেয়, বিয়ে যখন হয়েছে তখন বউয়ের দায়িত্ব তো পালন করতেই হবে। ফুলের কথার পিছে রাব্বি আর কিছু না বলে হাতে থাকা বাজারের ব্যাগ ফুলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে নেও এটা আম্মা কে গিয়ে দিয়ে এসো। আর বউয়ের দায়িত্ব যখন পালন করতেই চান তাহলে এখন থেকে আমি যা বলব তাই করতে হবে ফুলকুমারী শেষে কথা গুলো রাব্বি ফুলের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে। যা শুনে ফুলের সারা গা কাটা দিয়ে উঠে। ফুল সাথে সাথে নিজের মাথা নিচু করে ফেলে। রাব্বির চোখে মুখে খেলা করছে দুষ্টুমির ঝিল। ফুল তারা হুরু করে জায়গা প্রস্থান করে।
আম্মা আপনের ছেলে এই মাছ গুলা আনছে। আইচ্ছা অই হানে রাহ আমি কেইটা লমুনি। কেন আম্মা এহন বউ আয়ছে সব কাজ আমার বউ করব তুমি হুকুম দিবা আর বইয়া বইয়া খাইবা। পুরুষআলী কন্ঠ শুনে ফুল গাবরে যায়। সাথে সাথে পিছু ফিরে রাব্বি কে দেখে ফুল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। তুই এইয়া কি কস তোগো বিয়ার দুই দিন ও হইলো না আর এহনই আমি আমার চাদের লাহান বউ ডারে দিয়া কাজ করাম..? কাজ করার কত সময় আছে.. আসতে আসতে সব কিছু সেইহা লইবনে। যহন বুঝবো এইডা তা সংসার তখন হেই সব কাজ করবনে। নিজের সংসার নিজের মতন কইরা গুছাই রাখব। এহন ছোট মানুষ এহন কি আর সব পারব নাকি। ফুল শাশুড়ীর কথা শুনে ভাবতে থাকে এটা তার সংসার। এই সংসার একদিন সেও নিজের মত করে রাখতে পারবে। ফুলের মনে এই কথা দাক টেনে দিল