উপন্যাস : প্রিয় ফুল
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ১০
এই সংসার একদিন সেও নিজের মত করে রাখতে পারবে। ফুলের মনে এই কথা দাক টেনে দিল।
যাও বউ গিয়া গোসল কইরা লউ গা। শাশুড়ীর কথাই ফুলের ধ্যান ভাঙ্গে।
কী হইলো যাও। জি এইতো যাচ্ছি। ফুল গোসলের জন্য কলেপারে যাওয়ার জন্য পা বারায়। পিছু থেকে রাব্বি ডেকে বলে চল আজকে পুকুরে নিয়ে যায় তোমাকে। পুকুরের কথা শুনে ফুলের চোখ চোক চোক করে উঠে সেই কবে থেকে নদী তে গোসল করা হয় না। ফুলের নিজের বাড়ির কথা মনে পরে যায় এতে ফুলের বেশ মন খারাপ হয়। রাব্বি হয়তো ফুলের মনের কথা বুঝতে পারে তাই বলে উঠে। কী গো বউ যায়বা নি নইলে মই একাই চইলা যায়। রাব্বির মুখে এইবার গ্রামীন কথা শুনে ফুল কিছু বলে না। এই না আমাকেও নিয়ে যান আমি সেই কবে থেকে নদীতে বা পুকুরে গোসল করতে পারি না। রাব্বি আর কিছু না বলে পুকুর ঘাট যেতে থাকে। ফুলও রাব্বির পিছু পিছু যেতে থাকে। ফুল পুকুর ঘাট এসে অবাক নয়নে বেশ কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে ছিল। রাব্বি পিছু ফিরে তাকিয়ে ফুলের এই অবস্থা দেখে উচ্চ শব্দে হেসে উঠে। রাব্বির হাসির শব্দে ফুলের ধ্যান ভাঙ্গে। রাব্বি হাসি থামিয়ে বলে। কী গো ফুলকুমারী কেমন লাগলো আমাদের পুকুর ঘাট।
এটা পুকুর কম ছোট খাট নদী মনে হচ্ছে ফুলের কাছে। এত সুন্দর পুকুর ফুল আগে কখন দেখিনি। পুকুর ঘাটের পাশে বিশাল এক পেয়ারা গাছ। গাছে বেশ অনেক পিয়া ধরেছে আর গাছে একটা দোলনা বাধা। যার উপর দোলনা খেলে পুকুরের উপর দিয়ে যাবে। চার পাশ বেশ পরিস্কার পুকুরের চার পাশ দিয়ে ফলের গাছ। ফুল কিছু না ভেবে দোলনায় চরে বসে। রাব্বি সাহেব এই যে শুনছেন? আমাকে দোল খেলতে সাহায্য কুরুন। রাব্বি ফুলের ডাকে সম্মোহন হয়ে যায়। এই যে শুনছেন..? রাব্বি কোন দ্বিধা ছাড়াই ফুলের পিছু গিয়ে দারিয়ে দোল দিতে থাকে। ফুলের শাড়ীর আঁচল আর কোমর ছাড়িয়ে লম্বা চুল বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে উড়ছে। রাব্বি তা দেখে নিজেকে মাতাল মাতাল লাগছে। রাব্বি নিজেকে সামলিয়ে কোন মতে ফুলকে দোলনা থেকে নামায়। কি হলো..? ফুলকুমারী পরে তুমি দোল খেলতে পারবে এখন গোসল কর। না আমি.. ফুল কে আর কিছু বলতে না দিয়ে রাব্বি এক টানে ফুলকে নিজের বাহুতে এনে ফেলে। ফুলের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে এখন কিছু করে ফেললে পরে আমাকে দোষ দিতে পারবে না বলেই ফুলের কানের লতিতে নিজের উষ্ঠো ছোঁটয়ায়। ফুলের সারা গা শির শির করে উঠে। ফুল কোন মতে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে বাড়ির ভেতরে চলে আসে। রাব্বি কি করেছে বুঝতে পেরে নিজের চুল টেনে ধরে পুকুর ঘাটে বসে পরে। খাবার খাওয়ার সময় রূপা কে রুবিয়া বেগম বলে যা তোর ভাই আর ভাবিকে ডাইকা লইয়া আয় । রূপা ঘড়ে গিয়ে ফুল কে নামাজ শেষ করতে দেখতে পাই। ভাবি.. আপনেরে আর ভাইরে খাওনের লইগা আম্মাই ডাকতাছে। তুমি যাও আমি আসছি। ভাইয়া কুন হানে দেখলাম যে..? তোমার ভাইয়া বাসায় না..? না তো..! রাব্বি বাসায় না ভেবে ফুল চিন্তিত হলো কিন্তু পরক্ষণেই ফুল নিজেকে সামলিয়ে মনে মনে বলে আমি কেন চিন্তা করছি বলেই নিজেকে ঠিক করলো। কিন্তু অশান্ত মনটা কি অশান্ত হয়..! ফুল রূপা কে নিয়ে খাবার কক্ষে যায় কিগো বউ মর পুতে কই..? আম্মা আমি তো জানি না। দেহত পুলার কান্ড এই ভোর দুপুর বেলা কোন হানে গেলো। গোধূলি বিকেল সূর্য তখন মিষ্টি কিরণ ছড়াচ্ছে। রূপা আর ফুল পুকুর ঘাট বসে আছে। কিন্তু ফুল বসে থাকলেও ফুলের মন টা রাব্বির কাছে পরে আছে। মানুষ টা কথাই যেতে পারে রূপা। অবাবা গো এহনি আমার ভাইয়ের লইগা দেহি পরান ছুইটা যায়তাছে। ফুল নিজের কথাই নিজেই থত মত খেয়ে যায়। না মানে আমি বলতে চাইছি। হইছে আর মরে বুঝতে হইত না মই সব বুঝি। যানো ভাবি..? না থাই তোমারে কুমু না তুমি ভাইয়ের কাছে কইয়া দিবা। আরে না বল তোমার ভাইয়ার কাছে বলব না। সত্যি বলতাছ তো কয়বা না তো..? না বলব না বল। উপার গ্রামের রুজিনা খালার পুলাডা আছে না হেতে মতে বেশ ভালাপাই। কিন্তু মর অত ভালা লাগে না। আইচ্ছা ভাবি তোমার কি কেউ পছন্দ কর নাই? তোমার কোন পছন্দ ছিল না। মই তো হুনছি তোমার লগে অই সুজন ভাইয়ের নাকি বিয়া ঠিক হইছিল। রূপার মুখে এই কথা শুনে ফুল কথা এরিয়ে গিয়ে অন্য কথা বলে। আচ্ছা রূপা তোমার ভাইয়া কোন পছন্দ ছিল না..? হ্যাঁ ছিল তো কিন্তু কেইডা তা কইতে পারি না। ফুলের হুট করে কেনো যানি এই কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেলো। যেত টা না খারাপ হয়েছিলো রূপাকে সুজনের কথা জিজ্ঞেস করাই। ফুল রূপার কথা অওঅঅ বলে জবাব দেই আর কিছু বলে না। ভালো লাগছে না বলে ফুল রূপা কে নিয়ে বাড়ি চলে আসে। রাব্বি তখন পুকুর ঘাট থেকে বাজারে চলে আসে সেখানে সকল বন্ধু দের সাথে দেখা হওয়াই তাদের সাথেই থাকে। কিরে রাব্বি সুজনের ভাগ টা তুই এই ভাবে লইয়া লইলি..? রহিমের কথাই সকলেই হেসে উঠে কিন্তু রাব্বি হাসে না। দেখ তোরা এই সব বাজে কথা বলবি না। বাবা রে পুলাই দেহি শুদ্ধ কথা কই। তা বউ কি কইতে কইছেনি। হ্যাঁ ফুলই আমাকে বলছে। রাব্বির কথা বলার সমই সুজন আর ইমন এসে হাজির হয়। আরে কি খবর বইন জামাই..? ইমনের কথাই সকলেই উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো। কিন্তু সুজনের মুখে হাসির ছিটে ফোটাও দেখা যায় না। সুজন ফুলের সাথে অন্য কার বিয়ে হয়েছে তা তে সুজনের কষ্ট পাওয়া উচিত কিন্তু এই কয় দিনে সুজনের তেমন কোন খারাপ লাগেনি। তাহলে কি শুজন ফুলকে মন থেকে ভালোবাসেনি? সুজন তা মানতে নারাজ। সুজন সকলের কথার পরোয়ানা করে রাব্বি কে বলে কি খবর ভাই কেমন আছিস..? রাব্বি অবাক হয়ে টলমল চোখে সুজনের দিকে তাকায়। রাব্বি ভেবেছিল সুজন হয়তো তাকে আর বন্ধু বলে পরিচয় দিবে না। রাব্বির মনে কথা হয় তো সুজন বুঝতে পারে তাই রাব্বিকে জরিয়ে ধরে বলে কি ভেবেছিস ফুলের সাথে আমার বিয়ে হয়নি বলে কি তোর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিব? আমাদের বন্ধুত্ব কি এতই সস্তা..? সকলেই এসে শুজন আর রাব্বি কে জরিয়ে ধরে। আবারও প্রমান হলো সকল কিছু ঊর্ধ্বে বন্ধুত্ব। তা বল তো আমার ফুলকন্যা কেমন আছে? সুজনের মুখে ফুলকন্যা ডাক শুনে রাব্বির খারাপ লাগল কিন্তু কেন..?ফুল তার স্ত্রী অর্ধাঙ্গিনী বলে। ভালো..। পাশ থেকে ইমন বলে উঠে.. আমার বোন কে বিয়ে দিয়েছি বলে কি তোদের বাসায় রাখবি নাকি..? সাম্নের সাপ্তাহে ঢাকাই চলে যাবো ফুলকে নিয়ে আয়। ঠিক আছে কাল যাবো। সূর্য পশ্চিম আকাশে ডুবে গিয়ে রাতের অন্ধকার ছড়িয়েছে। রাব্বি সবে মাত্র বাড়ী ফিরলো। ফুল দুপুরে রূপার মুখ থেকে সেই কথা আর সারা দিন রাব্বি বাসায় ফিরেনি বলে বেশ রাগ করেছে। ফুল রাগ করছে তা রাব্বি বেশ বুঝতে পারে। এমনে রাব্বি রাতে বাসায় আসলে ফুল শুয়ে থাকলেও উঠে রাব্বির কিছু প্রয়োজন নাকি তা জিজ্ঞেস করে কিন্তু আজকে রাব্বি এসেছে বুঝতে পেরেও শুয়ে আছে। রাব্বি সারা দিন না খেয়ে ছিল তাই আগে খাওয়ার কথা ভাবলো পরে স্ত্রীর রাগ ভাঙ্গানো যাবে। ফুলকুমারী আমি সারা দিন কিছু খায়নি আমাকে খাবার এনেও দাউ। রাব্বি কিছু খাইনি শুনতে পেরে ফুল তারা হুরু করে থালায় করে খাবার নিয়ে আসে।