উপন্যাস : প্রিয় ফুল
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ১১
রাব্বি কিছু খাইনি শুনতে পেরে ফুল তারা হুরু করে থালায় করে খাবার নিয়ে আসে। খাবারের থালা রাব্বির সামনে রেখে ফুল আবারও ঘুমাতে যায়। কিন্তু ফুল বিছানায় ঘুমানোর আগেই রাব্বি ফুলের হাত ধরে নিজের সামনে বসিয়ে দেয়।
- কী হচ্ছে কী..? আমার হাত কেন ধরেছেন..? ছারুন আমায়। বলেই ফুল উঠে দারাতে চাই। কিন্তু রাব্বি ফুলকে উঠে দেই না।
- আসো বউ আজকে আমরা একসাথে খাবার খায়।
- আমি খেয়েছি। আমাকে ছাড়ুন আমি ঘুমাবো।
- নিজের স্বামীকে ছাড়া খেয়ে নিলে..? এটা তো ঠিক কাজ করনি বউ.. কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া খাবো না। আমার সাথেই তোমাকে খেতে হবে। শুনেছি স্বামী- স্ত্রী এক থালায় খেলে নাকি ভালোবাসা বারে..
- রাব্বির কথা শুনে ফুলের রাগ যেন আরো বাড়তে থাকে। তাই কোন কিছু না ভেবেই বলে ফেলে..আমাকে খাওয়াতে হবে না বিয়ের আগে কোন মেয়ে নাকি পছন্দ করতেন তাকে খাওয়ান গিয়ে। আমার সাথে বিয়ে না হলে তো তাকেই বিয়ে করতেন তাই না। আর আর আজকে সারা দিন কোথায় ছিলেন..? নিরগাত অই মেয়ের আশে পাশে তাই না..?
- ফুলের মুখে এই সব কথা শুনে রাব্বি কিছু ক্ষণ থ- হয়ে বসে রইলো। তারপর উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো।...
- রাব্বির হাসি দেখে ফুলের আরো রাগ হয়। ফুলে উঠে যাবে.. তখন আবারও রাব্বি ফুল্কে বসিয়ে দেই। এই বার আর ফুলকে রাব্বির সামনে বসায় না নিজের কলে বসায়। যাতে করে ফুল বেশ লজ্জা পায়।
- রাব্বি ফুলকে জরিয়ে ধরে ফুলের কাদে নিজের শুরু নাকের ডগা ঘসে। রাব্বির তপ্ত নিঃশ্বাস ফুলের কাদে আসরে পরে। যার দুরুন ফুলের সারা গায়ের লোম দারিয়ে যায়।
- ফুল রাব্বির বাহু থেকে বের হওয়ার জন্য সামান্য নরা চরা করতেই.. রাব্বি ফুলের কাদে কামর বসায়। এতে করে ফুলের নিশ্বাস আটকে আশে।
- রাব্বি কামর দিয়ে ফুলকে ছেড়ে দেই।
- ফুল ছাড়া পেয়ে উঠে যাওয়ার জন্য সামনে পা বারায়।
- কিন্তু তার আগে আবারও রাব্বি ফুলের হাত ধরে নিজের সামনে বসিয়ে দেয়।
- খাবার খেয়ে যাও।
- ফুল আর কিছু না বলে রাব্বির কথা মেনে নেই। পরে দেখা যাবে রাব্বি আবার কি করে বসে ফুলের সাথে।
- তোমাকে এই কথা কে বলেছে আমি বিয়ের আগে একটা মেয়েকে পছন্দ করতাম.?
- রাব্বির মুখে পছন্দের কথা শুনে ফুলের চোখের কনে পানি জমে।
- আমি বলব না।
- আমি জানি এই কথা রূপা তোমাকে বলেছে তাইনা..?
- রূপার কথা শুনে ফুলের বিসম লেগে যায়।
- রাব্বি ফুলকে কোন মতে পানি খাওয়ায়। আরে আসতে খাবে তো নাকি..? আর এত ভয় পাওয়ার কী হলো..?
- আপনি আপনি কি ভাবে জানলেন রূপা আমাকে এই কথা বলেছে..? প্লিজ আপনি দয়া করে রূপাকে কিছু বলবেন না। আমি রূপাকে জর করেছি আপনার কথা জানতে চেয়েছি। রূপাকে কিছু বলবেন না বলেন আমাকে।
- রাব্বি বেশ অবাক হয় ফুল নিজ থেকে তার সম্পর্কে জানতে চেয়েছে এই কথা শুনে। কিন্তু রাব্বি যে এই কথাই অবাক হয়েছে তা ফুলকে বুঝতে দেয় না।
না বুঝতে পারার কিছু নেই রূপাই এক মাত্র যে আমার সকল কিছুর সম্পর্কে জানে।
- অওওহহ তাহকে রূপা যা বলেছে সব কিছু সত্যিই ... আপনি বিয়ের আগে একটি মেয়েকে পছন্দ করতেন..?।
- তুমি তো রাব্বি কে পছন্দ করতে কই আমি তো তোমাকে কিছু বলিনি..?
- রাব্বির কথা শুনে ফুল সামান্য থমকে যায়। যেন রাব্বি এক বুক কষ্ট আর হাহাকার নিয়ে এই কথা টি বলেছে।
- ফুল নিজের সাফায় দিয়ে বলে আসলে ছোট থেকেই তো সুজন...
- রাব্বি ফুলকে পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে নিজের উস্টের সাথে ফুলের উস্টের মিলন ঘটায়। মিনেট ৩ এক পরে রাব্বি ফুলকে ছেড়ে দেই তবে পুরো পুরি ভাবে না ফুলের মুখ রাব্বি নেজের এত টা কাছে ধরে রাখে যেন কথা বললেই একে উপরের উস্টের স্পর্শ হয়।
- তোমার প্রতিটা বাজে বাজে আমার নাম খোদায় করা থাকবে। আর তা খোদায় করার দায়িত্ব একান্তই আমার। তোমার এই অদরে শুধু আমার নাম বের হবে আর কারো না। শুধু আর শুধু মাত্র এই রাব্বি এহেসানের নাম বের হবে।
- ফুলের সাথে কী হয়েছে তা বুঝে উঠার আগেই রাব্বির প্রতিটি কথা শুনে ফুল সিউড়ি উঠে। রাব্বির বলা কথা গুলো ফুল মাপ না করতে পারলেও ফুল বুজতে পারলো এখন সে এখান থেকে না সরলে নিরগাত আজকে এই লোক তার ভালোবাসা দিয়ে ফুলকে মেরে ফেলবে।
ফুল তারা হুরু করে কোন মতে পানি খেয়ে ঘুমিয়ে পরে।
- রাব্বি ফুলের অবস্থা দেখে মনে মনে বলে। এই মেয়ের এতটুকেই এই অবস্থা হলে বাকি কথা আর নাই বলি।
- ফুল ঘুমের ভান ধরে পরে থাকলেও ফুলের চোখে ঘুম বলতে কিছুই নেই। ফুল রাব্বির হাত থেকে বাচার জন্য ঘুমের ভান ধরে পরে রয়েছে।
- রাব্বি বাকি খাবার গুলো খেয়ে সব কিছু ঘুছিয়ে নিজেও ঘুমিয়ে পরে।
- সূর্য পূর্ব আকাশে নিজের উপস্থিত জানান দিচ্ছে। সকাল সকাল গ্রাম জেগে উঠেছে।
- গ্রামের বাজারে আজ সকাল সকাল আলামিন তালকদার এসেছে। বিয়ের পর আজকেই প্রথম ফুলরা তালকদার বাড়ি যাবে। নতুন মেয়ের জামাইয়ের কোন কিছুতে যেন কোমতি না থাকে তাই সকাল সকাল কেনা কাটার জন্য বাজারে এসেছে।
- আরে বড় বাবা তুমি এত সকাল সকাল বাজারে কী করছো..?
- পিছু থেকে কোন এক যুবকের কন্ঠ পেয়ে আলামিন তালকদার পিছু ফিরে তাকায়।
..সুজন বাজান তুমি এইখানে কী করো..?
- আমি বাজার করতে এসেছি। তুমি এত সকাল সকাল আসলে যে..?
- আজকে ফুলরা আসবে তাই।
- ফুলের কথা শুনে সুজনের কিছু একটা হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তেমন কিছুই হলো না বরং সব কিছু সাভাবিক লাগলো। কিন্তু এমন কেন হয় সুজনের সাথে.. সে কী ফুলকে তবে ভালোবাসিনি..? ফুলকে কী তোবে শুধুই ছোট বোনের চোখে ভালোবেসে ছিল..?
- কী হলো সুজন কী ভাবছো..?
- না বড় বাবা তেমন কিছু না। আচ্ছা চলো তোমাকে বাসা পযন্ত দিয়ে আসি।
- আচ্ছা চলো তবে। আর হ্যাঁ আজকে কিন্তু এখানেই খাবে।
- আসলে বড় বাবা আজকে আমার কাজ আছে।
- আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না। তুমি আমাদের বাসায় খাবে ব্যাস।
- ফুল সকাল সকাল সকল কাজ করে তৈরি হয়েছে। অবশ্য ফুলের এই বাসায় কাজ বলতে তেমন কিছুই নেয়। বিয়ের এত গুলো দিন পর নিজের বাসায় যাবে, এই ভেবেই ফুলের ভালো লাগা ছেয়ে জাচ্ছে। এই কয়েক দিনে ফুলের নিজের বাসার কথা অনেক মনে পরেছে। তবে ইচ্ছে করলেই তো এখন আর যেতে পারবে না। ফুল গোসল করে উঠানে উল্টো ঘুরে বসে ভেজা চুল শোকাচ্ছিল। ফুলের ভেজা চুল থেকে টপ টপ করে পানি জরছিল। ফুল ভেজা চুল জারতে গিয়ে কমরের পাশ থেকে কিছু টা কাপড় সরে যায়।
- সেই সময় রাব্বি বাসায় আসে। ফুলকে ভেজা খোলা চুলে দেখতে বেশ স্নিগ্ধ লাগছিল। রাব্বির সেই সময় ফুলের কমরের দিকে চোখ যায়। রাব্বি ফুলের দিকে তাকিয়ে কোন এক ঘরের মাঝে চলে যায়। রাব্বির অজান্তেই একপা একপা করে ফুলের দিকে এগোতে থাকে।
- ফুলের কাধে কারো নিঃশ্বাস পরতেই ফুল চোকিতে তরাক করে উঠে দারায়।
- ফুল হুট করে দারিয়ে যাওয়ায় রাব্বি নিজের নাকে বেশ জরালো ভাবে আঘাত পায়।