উপন্যাস : প্রিয় ফুল
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ১২
- ফুল হুট করে দারিয়ে যাওয়ায় রাব্বি নিজের নাকে বেশ জরালো ভাবে আঘাত পায়।
- উফফফ..
- আরে কী হলো আপনার..? দেখি কোথায় আঘাত পেলেন..?
- ফুলের বিচলিত হওয়া দেখে, রাব্বি নাক থেকে নিজের হাত টা সরালো।
- ফুল কিছুক্ষণ রাব্বির দিকে শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। হুট করে উচ্চ শব্দে হেসে উঠে।
- ফুলকে হাসতে দেখে রাব্বি কিছু বুঝতে পারে না.. কি হয়েছে..?
- ফুল হাসির কারনে রাব্বির কোন কোথার জবাব দিতে পারে না।
- রাব্বি এখন বেশ বিরক্ত হয়। কিন্তু ফুলকে এই প্রথম এত প্রাণ খুলে হাসতে দেখলো। তাই মুগ্ধ না হয়ে পারলো না।
- রাব্বি ফুলকে আর কিছু জিজ্ঞেস না করে মুগ্ধ দৃষ্টিতে ফুলের দিকে তাকিয়ে থাকে।
- ফুল এতক্ষণে লক্ষ করে রাব্বি তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ফুল নিজের হাসি সংজক করে। আর রাব্বি কে নিজের নাকের ডোগা দেখতে বলে।
- আপনার নাক লাল বানরের মতো হয়ে গিয়েছে। জান গিয়ে দেখে আসুন।
- তুমি আমাকে লাল বানোর বললে..?
- হ্যাঁ.. বানোর কে তো বানোরই বলব।
- ঠিক আছে আমি তো বানোর তাই না। আর বানোরের সাথে যা করা হয় বানোর তাই ফেরত দেই।... বলেই রাব্বি ফুলের নাকের ডোগায় কামর বসায়।
- উফফফ, আপনি কী রাক্ষস নাকি..? এমন কামরা - কামরি করছেন কেন..?
- আমি না বানোর..? এখন আবার রাক্ষসও বানিয়ে দিলে..? তাহলে চলো রাক্ষস কী করতে পারে তা তোমাকে দেখিয়ে দেই।
- উফফ আপনার যত বাজে কথা সুরুন.. আমাকে জেতে দিন।
- - শুনে তো মনে হচ্ছে আপনাদের মাঝে ধীরে ধীরে সব ঠিক হচ্ছিল। আপনারা একে উপরকে ভালোবাস্তে শুরু করছিলেন। তাহলে.. আপনি কেন আপনার স্বামীকে খুন করার চেষ্টা করেছে..?
- আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না দয়া করে আপনারা এখান থেকে চলে যান আমি আর কিচ্ছু বলব না।
- চলে আসেন মেডাম এই কয়েক দিনে এই মেয়েকে এত টুকু তো চিনেছেন, নিজ ইচ্ছাই কোন কথা বলতে না চাইলে তাকে দিয়ে কোন কথা বলানো যাবে না।
- ঠিক আছে রাজিব আজকে যাওয়া জাক কালকে আসবো। কিন্তু এই ভাবে চলতে থাকলে তো দোষী কে আর কে নির্দোষ তা জানার আগেই এই মেয়ের ফাসি না হলেও জাবত জীবন কারা ডন্ডে ডন্ডিতো করবে।
- তা মেডাম ঠিক বলেছেন। কিন্তু আমরা তো আর মেয়ে টাকে দোষী বলতে পারি না। কারণ মেয়েটা নিজে এসে ধরা দিয়েছে আর সকল দোষ শিকার করেছে।
- সেটাই তো মেয়েটার খুন করার ইচ্ছে থাকলে তো খুন করে পানিয়েও জিতে পারতো। কিন্তু তা না করে এখানে পুলিশের কাছে কেন ধরা দিলো..?
- মেডাম আমার মনে হয় কী এই মেয়ের কথা শোনার চেয়ে এই মেয়ের স্বামীকে বা পরিবারের মানুষদের খুজে বের করি। হয়তো তারা কিছু জানে আর কেউ না জানলেও মেয়েটির স্বামী তো সব জানবে। কেন তাকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
- তুমি কী গাধা রাজিব তোমার কী মনে হয় মেয়েটি এক সপ্তাহ ধরে পুলিশ স্টেশনে পরে আছে। নিজের স্বামীকে খুন করেছে সেই কথা শিকার করেছে আর আমি এখানে এখন হাত গুটিয়ে বসে আছি। আমি ফুলগ্রামের উদ্দেশ্য লোক পাঠিয়েছি। আর তারা ইতি মধ্যে খোজ চালিয়ে দিয়েছে।
- হঠাৎ করে রেশমা বেগমের ফোন বাজায় রাজিব আর রেশমা বেগমের কথায় বিরতি নামে।
- হ্যালো.. স্যার।
- অই দিকের কী খবর রেশমা..?
- জী স্যার.. আমি খোজ চালাচ্ছি।
- যত দূরত্ব সম্ভব সব কিছুর খোজ নেও। উপর মহল থেকে আমার উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে।
- জী স্যার আমি সহ আমার পুরো টিম ইতি মধ্যে খোজ চালিয়ে দিয়েছে। আশা করি ভালো কিছু পাবো।
- ঠিক আছে।
- উফফফ মগের মূল্যক একটা কেশ হাতে আসলেই মেজিক করে যেন সব কিছু বের করে ফেলবো..? এরা যে কী মনে করে..? তুমি হা করে কী দেখছো গাধা..? কাজের কাজ কিছুই তো পারো না সরো সামনে থেকে।
- যাহহ বাবা আমি আবার কী করলাম..?
- আম্মা....
- আল্লাহ গো কেডাই আয়ছে গো.... আল্লাহ.. কইগো ইমনের বাপ দেহ এইডা কেডাই আইছে....
- আম্মা.. তোমরা কেমন আছো.. আম্মা তোমরা এত পাশান কীভাবে হইলা..? আমার কথা তোমাদের একবারও মনে পরেনি..?
- কেডাই কইছে মনে পরে নাই..? তোমার কথা সব সময় আমগো মনে পরে।
- মনে পরলে আমাকে দেখতে যাওনি কেন..?
- জামাই আর মাইয়া ডারে কী ভেতরে আইতে দিতানা..?
- গোলাপ তালকদারের কথা কন্ঠ পেয়ে ফুল তরাক করে চুকিতে মাথা তুলে সামনে তাকায়।
- গোলাপ তালকদার কুঠার সামনে লাঠি নিয়ে দারিয়ে আছে।
- ফুল দৌড়ে গিয়ে নিজের দিদাকে জরিয়ে ধরে। ফুলের মনে হচ্ছে না জানি কত যুগ পরে নিজের রক্তের মানুষ গুলোকে দেখছে। ফুলের চোখে খুশির অশ্রু চলে আসে।
- ফুলদের বিয়ের দিন গোলাপ তালকদারকে ঢাকায় থেকে নিয়ে আসার পর থেকে সে লাঠি ছাড়া চলা ফেরা করতে পারে না। বয়স তো আর কম হলো না আর কত দিন এই জীবন - যবণ থাকবে..?
- আলামিন তালকদার আর ইমন একসাথে ভেতর থেকে বের হয়ে আসে।
- আম্মা..
- বাবা ডাক কানে যেতেই ফুল নিজের দিদাকে ছেড়ে বাবার বুকে মাথা গুজে।
- আব্বাজান আপনি কেমন আছেন..? আমি ভালো ছিলাম না আপনাদের ছাড়া। আপনারা কেউ আমার খোজ করেনি..? আমি আপনাদের কারো সাথে কথা বলব না।
- বাবা বুকে মাথা গুজে কারো সাথে কথা বলবি না..?তা বেশ ভালো।
- দেখেছেন আব্বাজান ভাইয়া আমাকে এখন রাগাচ্ছে। এমনিতেই আমার খোজ করনি এখন আমি কেমন আছি তা না জিজ্ঞেস করে আজে বাজে কথা বলছে।
- আলামিন তালকদার মেয়ের মাথাই হাত বুলিয়ে ইমনকে মিছে মিছে সাসাতে লাগলেন।
- জাও বউ মেয়ে আর মেয়ের জামাইকে ঘরে নিয়ে যাও।
- গোলাপ তালকদারের কথাই আমেনা বেগম সকলকে বাসার ভেতরে আসতে বললেন।
- ফুল বাবার বুকে মাথা গুজে সেই ভাবেই ভেতরে গেলো। জেনো এই বুকে মাথা রাখার জন্য বেকুল হয়েছিলো।
- খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফুলকে আর রাব্বিকে ফুলের কক্ষে বিসরাম নেওয়ার জন্য পাঠান হলো।
- সুজন তালকদার বাড়ি আসলেও। ফুলরা আসার কিছুক্ষণ আগে চলে যায়। কুলির নাকি বেশ অসুক হয়েছে। কুলিকে নিয়ে ঢাকায় জেতে হবে।
- সুজনের যাওয়ার কথায় আলামিন তালকদার খুশি না হলেও তার কিছু করার ছিল না। সুজনকে বাধ্য হয়ে যেতে দিতে হয়েছে।
- কিগো নাতজামাই.. বউ লইয়া তো বাড়ি ঘুমাও ইই এহন না হয় মইগো লইয়া থাকো।
- কী যে কোউ দিদা তোমার নাতনি তো আমারে আদর সুহাগ কিছুই করতে দিলো না। দেহনা আমি সুকাই গেছি গা।
- ওমা সে কী কতা... কীগো মাইয়া নাতজামাই ইতা কী কই..?
- ফুল গোলাপ তালকদার আর রাব্বির কথা শুনে লজ্জায় পরে যায়। তাই ফুলের মুখ দিয়ে কোন কথা বের হয় না।
- দিদা এখন যখন এই হানে আইয়াই পরছি তা তোমার নাতনিরে ভালা কইরা জামাইরে কেমনে আদর করতে হয়, জামাই যা কই তাই কেমনে মানতে হয় সব শিখাই পড়াই দিও।
- তা তুমি চিন্তা কইরো না। এইবার সব কিছু বালা কইরা বুঝাই দিমনি। বাড়ি জাইয়া কইবা আর মনে করবা এই দিদার কথা।
- ঠিক আছে দিদা। তাই যেন হয়। আবার ভুইলা জাইও না।
- এই গোলাপ কিছু ভুলে না। বয়স হইছে তো কী হইছে। এই গোলাপের হগ-গলরে কেমনে টাইট দেউন লাগে তা জানা আছে।