ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় ফুল

পর্ব 13

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস: প্রিয় ফুল

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব : ১৩

সূর্য পশ্চিম আকাশে ডেকে গিয়েছে। ধরণীতে রাতের আবির্ভাব ঘটেছে। আকাশে মাঝে গোল চাঁদ কে একখান থালার মতো লাগছে।

- গোলাপ তালকদারের কথার মাঝে রাব্বি তখন চলে গিয়েছিল। সেই সুবাদে গোলাপ তালকদার ফুলকে বেশ অনেকক্ষণ স্বামী সংসার নিয়ে বুঝিয়েছে।

- আর ফুল লক্ষী মেয়ের মতো গোলাপ তালকদারের কথা সব শুনেছে।

- সেই সুবাদে ফুল এখন রাব্বির সাথে ছাদে এসেছে।

- দেখুন রাব্বি মসাই..

- কী দেখবো বউ..? তুমি তো কিছু দেখতেই দিলে না..! আর আমি মসাই হলাম কবে থেকে..?

- উফফ আপনার যত বাজে কথা। আমি চাচ্ছি সবকিছু মানিয়ে নিতে আর আপনি সব কিছু গোলমাল করে দিচ্ছেন।

- আচ্ছা বউ তুমি বলো আমি আর কিছু বলব না। এই যে মুখে আংগুল দিলাম।

- রাব্বির কথা শুনে ফুল ফিক করে হেসে ফেলে।

- ফুলের হাসি দেখে রাব্বিও হেসে ফেলে। আচ্ছা বউ তুমি আমাকে কখন ভুল বুঝবে না তো..? আমাকে কখন ছেরে যেও না।

- উমমম ভুল করলে তো শাস্তি পেতেই হবে কিন্তু আমি এই মসাইকে কথাই রেখে যাবো..?যেখানে আপনার সাথে আমার নিউতি লেখা হয়েছে তখন আপনাকে ছেড়ে আমি কোথায় যাবো..? তবে কখন এমন কোন কাজ করবেন না যাতে আপনাকে বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হয়ে যায়।

- রাব্বি কিছু না বলে ফুলের ঘা গেসে আরো কিছুটা কাছে এসে দারায়।

- নদীর পাশে ২ জন লোক কে ফুল যেতে দেখে। যেন কিছু টেনে হিসরে নিয়ে যাচ্ছে।

- এই যে শুনছেন..? ফুল নদীর দিকে আঙ্গুল তাক করে বলে। অই যে দেখুন মনে হচ্ছে না দুইজন লোক কিছু একটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

- ফুলের কথা শুনে রাব্বি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পরে।

- আরে কোথায় নেই তো কিছু চলো আমরা এখান থেকে চলে যায় কেউ নেই সেখানে।

- কী বলছেন আমার মনে হলো আমি ঠিক দেখেছি।

- কোথায় তুমি দেখ কিছু নেই তো।

- ফুল নদীর দিকে ভালো ভাবে তাকায় কিন্তু তেমন কিছু দেখতে পায় না।

- চলো তো বউ আমরা এখান থেকে চলে যায়। পরে দেখা যাবে আমার বউয়ের উপর পেত্নি ভোর করেছে।

- উফফ আপনার বাজে কথা। চুলুন..ফুল সামনে পা বারিয়েও পিছু ফিরে তাকায়। ফুলের মনে খটকা রয়েই যায়।

- উফফ বউ চলো তো.. বলেই রাব্বি ফুলের হাত ধরে তারা হুরু করে নিচে নিয়ে আসে।

- কী গো ফুলবানু তা আমার কথা দেহি মেলা কাজে দিছে। এহন দেহি স্বামীর পিছ ছাড়া হয় না।

- কী বলো দিদা এইটা কী তোমার কথার জাদুনী.. তাই তো কই বউ আমার এত বালা হইলো কবে থিকা.. একাই আমার কাছে আইছে।

- হুম কইছি না এই গোলাপ তালকদার হগ-গলরে টাইট দিয়া পারে।

- আম্মা আসেন আপনার পলায় ডাকে খাওনের লইগা।

- ঠিক আছে তুমি যাও আমি নাতজামাই রে লইয়া আহি।

- আহ তোমরা আগে খাওন খাইয়া লউ পরে জামাই- বউ আদর সহাগ কইরো।

- দিদার কথাই ফুল বেশ লজ্জা পাই। যার ছাপ ফুলের মুখেও ফুটে উঠে।

- বাবাগো তা ফুলবানু দেহি লজ্জাও পাই। কী গো নাতজামাই তা তুমি কী কাজ টা ঠিক করছোনি..? তুমি এহন তোমার বউয়ের লজ্জাই বাংতে পারলা না.. তা তুমি কেমন বেডা মানুষ..?

- ফুল সেখানে আর দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে খাবার ঘরে চলে আসে।

- ফুলের যাওয়া দেখে রাব্বি আর গোলাপ তালকদার হেসে উঠে।

- খাবার ঘরে যেতেই ফুল দেখতে পাই ইতি মধ্যে ইমন,আলামিন তালকদার আর সুজন খাবার থেকে বসে গিয়েছে। ফুল সুজনকে দেখে কিছুটা অপ্রস্ত হয়ে পরে।

- আলামিন তালকদার মেয়েকে দেখে নিজের কাছে দেকে পাঠায়। আম্মা আসেন আমি আপনারে খাওয়াই দেই।

- ফুলবানুরে শুধু হের স্বামী খাওয়াই দিব। এত কাল তুমি দিছ না। এহন হের স্বামী আছে।

- থাক দিদা ফুল আমাদের বাসায় গেলে না হয়..

- রাব্বি কে আর কোন কথা বলতে না দিয়ে গোলাপ তালকদার আবারও বলে উঠে আমি যা কইছি তাই হইবো। যাও নাতজামাই তুমি আমগো ফুলবানুরে খাওয়াই দেও।

- বাবা- মার সামনে ফুল কিছুটা অপ্রস্তুত হলো। কিন্তু সে তার দিদার উপর দিয়ে কিছু বলতেও পারবে না।

- রাব্বি ফুলকে খাইয়ে দিতে দেখে সুজন উঠে দারায়।

- বড় আম্মু আমার শেষ।

- কী কউ কিছুই দেহি খাইলা না..?

- আমার পেটে আর যাইগা নেই। বলেই সুজন ইমনের কক্ষে যায়।

- সুজনকে নিজের কক্ষে যেতে দেখে ইমনও তারা হুরু করে খেয়ে নিজের কক্ষে যায়।

- ইমন ঘরে এসে দেখে সুজন খাটের একপাশে বসে রয়েছে। ইমন সুজনের কাছে গিয়ে কাদে হাত রাখে।

- কাদে কারো স্পর্শ পেয়ে সুজন ইমনের দিকে মাথা চুলে তাকায়।

- সুজন মাথা তুলতেই ইমন দেখতে পাই। সুজনের চোখ ভয়ংকর রকমের লাল। সুজনকে কোন রাক্ষসের চেয়ে কম মনে হচ্ছে না। সুজনকে এই অবস্থায় দেখে ইমন আঁতকে উঠে।

- খাওয়া দাওয়া শেষে সকলে যে যার ঘরে ঘুমাতে চলে যায়।

- পুরো গ্রামে তালকদার বাড়ি, এহসান বাড়ি আর সুজনদের বাড়ি সহ হাতে গুনা কয়েকটি বাড়িতে বিদ্যুৎ রয়েছে। কিন্তু তাও যেকোন সময় চলে যায়। এই যেমন এখন চলে গিয়েছে।

- রাব্বি অন্ধকারের মাঝে বিছানায় বসে রয়েছে।

- ঠিক সেই সময় ফুল হাতে মমবাতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে। ফুল আজকে গায়ে নীল শাড়ী জরিয়েছে। মমের হলদে আলোই ফুলকে বেশ স্নিগ্ধ আর মায়াবী লাগছে। মমের আলোই ফুলের সৌন্দর্য যেন কয়েক গুন বেরে গিয়েছে।

- রাব্বি মন মুগ্ধ দৃষ্টি দিয়ে ফুলের দিকে এক ধেনে তাকিয়ে থাকে।

- ফুল মম খাটের পাশে থাকা টেবিলের উপর রেখে রাব্বির দিকে ঘুরে তাকায়।

- রাব্বির এমন ঘর মাখানো দৃষ্টি দেখে ফুল থমকে যায়।

- রাব্বি কিছু না বলে ফুলের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থা ফুলকে নিজের কাছে নিয়ে আসে।

- ফুল নিজেকে সাম্লাতে না পেরে রাব্বির উপরে পরে যায়।

- রাব্বি ফুলের মুখ থেকে অগুছালো কেশ রাসি সরিয়ে দেয়।

- আপনিইই কী কী কীই..করছেননন.. দেইইখুননন..

- ফুল আর কিছু বলার আগেই রাব্বি একে উপরের উষ্টের সাথে উষ্টের মিলন ঘটাই।

- ফুল যানে না কত সময় ধরে রাব্বি এভাবে তাকে ধরে রেখেছে। ফুল যেন কোন এক আবেশের মাঝে হারিয়ে গিয়েছি। কিন্তু ফুলের যখন নিঃশ্বাস আটকে আসে তখন নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছোটাছুটি করে।

- ফুলের নরা চরার জন্য রাব্বি ফুলকে ছেরে দেয়।

- রাব্বি ফুলকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই দরজায় করাঘাতের শব্দ আসে।

- ফুল ছিটকে রাব্বির কাছে থেকে দূরে সরে যায়।

- ফুল গিয়ে দরজা খুলতেই আমিনা বেগমকে দারিয়ে থাকতে দেখে।

- আম্মা কিছু বলবে..?

- আমিনা বেগম কক্ষে উকি দিয়ে দেখে ফুলকে বলে। জামাইকে পাঠা দরকার কাছে বলেই চলে যায়।

- ফুল কিছু বুঝতে পারে না..! শুনছেন আম্মা আপনাকে যেতে বলেছে।

- যাওয়ার কথা শুনে রাব্বি তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাই না। যেন রাব্বি আগে থেকেই জানত তার ডাক আসবে।

- কিছুক্ষণ পর রাব্বি কক্ষে আসে। এসে দেখতে পাই ফুল খাটের একপাশে ঘুমিয়ে রয়েছে।

- রাব্বিও গিয়ে ফুলকে নিজের কাছে নিয়ে আসে। এতে করে ফুলের ঘুমটা কিছু টা ভেঙ্গে আসে।

- আপনি..? আপনি কখন আসলেন.. আমি তো ঘুমিয়েই পরেছিলাম।

- রাব্বি ফুলের ঘুম ঘুম কন্ঠ শুনে যেন মাতাল হয়ে পরে। রাব্বি কিছু না বলে ফুলের গারে মুখ গুজে দেয়। আলতো করে কাদে কামর বসায়।

- ফুল সামান্য আর্তনাদ করে উঠে।

- রাব্বি যেন এতে করে আরো বেশি নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

- রাব্বি পাশ থেকে হাত দিয়ে মম বাতি নিচে পেলে দেয়। মম নিবে গিয়ে সারা কক্ষ আদারে ডুবে যায়। রাব্বি এই আধারে ফুলকে নিজের করে নেয়।নিজের ভালোবাসা দিয়ে ফুলকে অতল সাগরে ডুবিয়ে নিয়ে যায়।

- এই সুন্দর ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে রয়ে গেল এই নিস্তব্ধ রাত চারপাশের ঝিঝি পোকা আর এই চার পাশের বন্ধু দেওয়াল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 13 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন