ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভালোবাসা আমার

পর্ব 5

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : ভালোবাসা আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব - ৫

নীল আহমেদ মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতে কথা ভেবে রাজি হয়ে যায়। ছেলের বাড়ির মানুষ এই শুক্রবার বিয়ের তারিখ দিয়েছে। আজকে বৃহস্পতিবার যার যার বাসায় ছোট খাট করে হলুদ করা হবে। নীলিমা এখন বিয়ে করতে চাই না। তাই নিজেকে রুমে বন্দী করে রেখেছে। নীলিমা দোরজা খোল তোর আব্বু তোর সাথে কথা বলবে। নীলিমা.. মায়ের জরা জরিতে আর বাবা কথা বলবে বলে নীলিমা দোরজা খুলে দিল। নীল আহমেদ নীলিমার রুমে এসে নীলিমা কে নিজের কাছে ডাকে। নীলিমা বাবার কাছে গিয়ে বসে। নীল আহমেদ মেয়ের মাথাই হাত বুলিয়ে বলতে থাকে। দেখ নীলিমা তুমি আমার লক্ষী মেয়ে আমি তো তোমার ভালোই চাই। আমি অ তো তোমাকে এখন বিয়ে দিতে চাই না। কিন্তু আমার হাত তো বাধা আমি কি করবো বলো। নীলিমা নিজের মাথা নীল আহমেদ বুকে রাখলো। আব্বু আমি বিয়ে করতে চাই না। দেখ আম্মা আমি কি করব বলো আমাকে আনোয়ার হোসেন কি বলে গেলে শুনলেই তো এখন আমি যদি তোমাকে বিয়ে না দেই আর আয়ান হোসেন তোমাকে বিয়ে করে তার বাসায় নিয়ে যায় তাহলে কি তোমাকে ওই বাসার মানুষ মেনে নিবে। আর আয়ান হচ্ছে বড় লোকের ছেলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েকে কি আর বউ করতে চাই। এটা আয়ান হোসেন মহো যা দুই দিন পরে কেটে যাবে। নীল আহমেদ আরু কিছুক্ষণ মেয়ে কে বুঝিয়ে বিয়ে তে রাজি করালেন। আজকে আয়ান অফিসে এসে দেখে আনোয়ার হোসেনের বন্ধুর মেয়ে লিছা এসেছে। আয়ানের বিরক্তির ছাপ মুখে ফুটে ওঠে। লিমন সাহেবের প্রেমের বিয়ে পরিবার থেকে মেনে না নিলেও নিজের পায়ে দারিয়ে নিজের আর নিজের স্ত্রী লতা বেগমের খরচ চালায়। বিয়ের বছর খানিক পার হতে খবর হয় লতা বেগম মা হবেন। সেই দিন লিমন সাহেবের খুশির শেষ ছিল না। তাদেরবকোল আলো করে লিছার জন্ম হয়। লিছার জন্মের করেক মাস পরেই লিমন সাথেবের ভাগ্য খুলে যায়। তারা ইউরোপ এ চলে যায় সেখানেই তারা থাকতে শুরু করে। মূলত আনোয়ার হোসেনের ছোট বেলার বন্ধু লিমন সাহেব। বন্ধু পালিয়ে যাওয়া থেকে সকল কিছুর দায়িত্ব ছিল আনোয়ার হোসেনের কাছে এমন কি তখন আনোয়ার হোসেনের পুরো পরিনার ইউরোপ ছিল। আনোয়ার হোসেনই লিমন সাহেব কে ইউরোপ আসতে সাহায্য করে। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেনের পুরো পরিবার ইউরোপ থেকে চলে আসলেও লিমন সাহেবরা আসে না। আনোয়ার হোসেন যখন থেকে জানতে পারে নীলিমা কে আয়ান পছন্দ করে তখন থেকে আনোয়ার হোসেন লিছা কে দেশে আসতে বলে। আর লিছা দেশে এসেই প্রথমে আয়ানের সাথে দেখা করতে আয়ান দের অফিসে যায়। ছোট থেকেই লিমন সাহেব মজা করতেন যে আয়ান কে তার মেয়ের জামাই করবে। এতে অবশ্য তাদের দুই পরিবারের কোন সমস্যা ছিল না কিন্তু ছোট থেকেই লিছা এই সব কথা শুনে বড় হতে হতে কখন যে আয়ানকে ভালোবেসে ফেলে তা লিছা নিজেও জানতে পারে না । কিন্তু আয়ান লিছাকে পছন্দ করে না। আয়ান জানে না কেন লিছার প্রতি সে কোন টান অনুভব করে না। কিন্তু যেই দিন নীলিমাকে প্রথম কলেজে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখে আয়ান কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়। হেয় বেবি.. তুমি তো বি.ডি তে এসে আমাকে ভুলেই গেছো আমার কোন খোজই নেও না। আয়ান রীতি মতো লিছার এত ডংগে বিরক্ত। লিছা কে অপছন্দ করার এই একটা কারণ। আয়ান ডংগী মেয়ে দের পছন্দ করে না। আয়ান বেবি তুমি জানো আনোয়ার আঙ্কেল আমাদের বিয়ে কথা ড্যাড কে বলেছে। i am very very happy. অবশেষে তুমি আমার হতে চলেছো। লিছার মুখে বিয়ের কথা শুনে আয়ানের মাথাই রাগ চরে বসে। আয়ান কোন কিছু না বলে লিছাকে সামনে থেকে সরিয়ে গোট গোট পায়ে অফিস ত্যাগ করে। আয়ান সোজা বাসায় এসে চেচিয়ে নিজের বাবা কে ডাকতে থাকে। আনোয়ার হোসেন নিজের রুম থেকে বের হয়ে আয়ানের সামনে আসে। এটা ভদ্রলোকের বাসা তুমি এই ভাবে চেচামেচি করছো কেন? আমি কেন চেচাচ্ছি আপনি জানেন না মিস্টার আনোয়ার হোসেন। আমি বলছি না আমি এয় বিয়ে করব না মানে না। তোমাকে এই বিয়ে করতেই হবে। আয়ান নিজের বাবার আর একটু সামনে এসে শান্ত কন্ঠে বলে আমি এই বিয়ে করবো না আমি ও দেখি আপনি এই বিয়ে কি ভাবে দেন। আনোয়ার হোসেন ছেলের শান্ত আর গম্ভীর কন্ঠ শুনে আর কিছু বলে না। আয়ান বাসায় থেকে বের হয়ে আবারও অফিসে যায়। আয়ান নিজের কেবিনে চেয়ারে হেলান দিয়ে কপালে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে রাখে। তখনই শাকিব আসে তারা হুরু করে। বস বস.. বলেই দোরজা ঠেলে কেবিনে প্রবেস করে। বস ম্যামের কোন খোজ পাওয়া যাচ্ছে না গত ২ দিন ধরে ম্যাম বাসার বাহিরে বের হয় না। শাকিবের কথা শুনে আয়ান সোজা হয়ে বসে। বাস্টার আমি তোকে খুন করব আমার প্রেয়সীর খবর নেই তা তুই এখন আমাকে বলছিস। ওর কিছু হলে তোদের সব গুলা কে আমি জেন্ত কবর দিব। আয়ান আর কিছু না বলে অফিস থেকে বের হয়ে যায়। নীলিমা কে হলুদ দেওয়া শেষ করে এখন মেহেদি দিয়ে দিচ্ছে নীলিমার কিছুই ভালো লাগছে না আনোয়ার হোসেন বলেছে বিয়ে কথা যেন বাড়ির বাহিরে না যায় তাই নীলিমা তার বন্ধু বান্ধুবি দের কেউ দাওয়াত দিতে পারেনি। নীলিমা এই জগতে থেকেও যেন নেই। নীলিমা আয়ান কে ঠিক তেমন চিনে না কিন্তু কলেজের সেই ঘটনা এখন নীলিমার মনে পরে ভালো লাগা ছেয়ে যায়। নীলিমা জানে না এটা তার কেমন অনুভুতি হয়। শুধু জানে তার এই কথা মনে পরলে ভালো লাগে। নীলিমার বান্ধুবী দের মুখে আয়ানের এতো এতো প্রসংশা শুনে আয়ানকে আবারও দেখার ইচ্ছে করেছিল। কিন্তু তা তো আর সম্ভব না এত বড় লোক মানুষের কি আর তার সাথে দেখা হবে। কিন্তু যখন নীলিমা জানতে পারে আয়ান তার জন্য পাগল তখন থেকে নীলিমার মনে অন্য রকম ভালোলাগে ছরিয়ে পরেছে। নীলিমার এই সমস্ত এখন বিশের মতো লাগছে। মন চাচ্ছে দৌদৌড়ে গিয়ে আয়ানের কাছে চলে যায় কিন্তু তা তো আর সম্ভব না। আচ্ছা আয়ান কি এই বিয়ে কথা জানে? জানলে কি নীলিমার জন্য লোক টা পাগলামী করবে? লোক টা পাগলামী করতো বলেই কি আনোয়ার হোসেন তাকে এত তারা তারি বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কথা বলল? নীলিমা এই সব তুই কি ভাবছি আয়ান হোসেন হচ্ছে বড় লোকের ছেলে তোর চেয়ে কত সুন্দরী মেয়ে তার পিছে লেগে থাকে আর সে নাকি তোকে পছন্দ করবে। নীলিমা নিজেকে ভুল বাল বলে শান্ত না দিতে থাকে। আজকে নীলিমার বিয়ে বর যাত্রী ইতি মধ্য চলে এসেছে। ছেলের বাবা নীল আহমেদ সাথে কৌশল বিনিময় করে কিছু কথা বলে। ছেলের বাসায় থেকে তেমন লোক আসেনি ছেলে, ছেলের বাবা, ছেলের ফুফা-ফুফু আর ছেলের আঙ্কেল- আন্টি । মেহমান দের খাওয়া দাওয়া শেষ করে এখন কাজীকে বিয়ে পড়ানোর কথা বলছে। কাজী নীলিমার কাছে গিয়ে বিয়ে পড়ানো শুরু করে। নীলিমা মনে প্রানে চাচ্ছে এই বিয়ে না হোক কিন্তু কেন চাচ্ছে সে নিজেও জানে না। কিন্তু ভাগ্যে লেখা কি আর খন্ডানো চায় যার সাথে যার জুড়ি লেখা আছে তার সাথে বিয়ে হবে। কাজী সকল কার্যক্রম শেষ করে নীলিমাকে কবুল বলতে বলে। নীলিমার অজান্তেই চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি গোরিয়ে পরে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন