আসসালামু আলাইকুম! 🌸
📖 উপন্যাস: আমার ডাক্তার বাবু
✍️ পর্ব: ০৪
🖤 লেখিকা: মাহিয়া ইসলাম হিমি 🖤
🌷 সকাল ৭টা 🌷
— হিমুউউউ! এই হিমু! তাড়াতাড়ি নিচে আয়!
নিচ থেকে হালিমা বেগমের ডাক শুনে হিমু বিরক্ত হয়ে কাঁথাটা মাথার ওপর টেনে নিল।
— আম্মুউউ! আর পাঁচ মিনিট ঘুমাতে দাও না!
— পাঁচ মিনিট করে করতে করতে তোর দুপুর হয়ে যাবে! ওঠ বলছি!
হিমু চোখ বন্ধ রেখেই বলল—
— আম্মু, তুমি আমাকে জন্ম দিয়েছ পড়াশোনা করার জন্য, নাকি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে তোলার জন্য?
কথাটা শুনে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা রিমু হেসে ফেলল।
— আপু, তোর কথা শুনলে মনে হয় তুই পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত মানুষ!
হিমু কাঁথার ভেতর থেকে মুখ বের করে বলল—
— তুই চুপ কর! ছোট মানুষ, বড় বড় কথা!
রিমু জিভ বের করে দেখিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল।
হিমু বিরক্ত হয়ে উঠে বসল।
আজ সকাল থেকেই তার মেজাজ খারাপ।
কারণ একটাই—জিসান!
গতকাল ছেলেটা তাদের বাড়িতে এসেছিল। তারপর থেকে নিলয় সুযোগ পেলেই জিসানের নাম নিয়ে তাকে জ্বালাচ্ছে।
আর সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হলো, জিসান আবার আজও তাদের বাড়িতে আসবে!
হিমু বালিশটা পাশে ছুড়ে দিয়ে বিড়বিড় করল—
— নিজের বাড়ি থাকতে মানুষের অন্যের বাড়িতে এত আসার কী দরকার? আর এলেও আমার সামনেই আসতে হবে?
কথাটা বলেই সে থেমে গেল।
তারপর নিজেই নিজের মাথায় হালকা টোকা দিয়ে বলল—
— হিমু, তুই এসব কী বলছিস? ছেলেটা আসবে, আসুক! তোর কী?
কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে কলেজের পোশাক পরে নিল সে। লম্বা চুলগুলো বেঁধে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে নিচে নামল।
নাশতার টেবিলে নিলয় বসে ছিল।
হিমুকে দেখেই সে দাঁত বের করে হাসল।
— ওহে! আমাদের ঘুমকুমারী আজ এত সকালে!
হিমু চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল—
— ভাইয়া, সকালে তোমার মুখ দেখলে আমার সারাদিনটাই খারাপ যায়!
নিলয় বুকের ওপর হাত রেখে বলল—
— আম্মু! দেখেছ? নিজের ভাইয়ের সঙ্গে কী ব্যবহার!
হিমু পরোটার টুকরো মুখে দিয়ে শান্তভাবে বলল—
— নিজের ভাই হলে একটু সহ্য করতেই হবে!
নিলয় কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই হালিমা বেগম বললেন—
— তোরা দুজন কি একদিনও শান্তিতে নাশতা করতে পারবি না?
দুজনেই চুপ করে গেল।
কিন্তু নিলয় চুপিচুপি হিমুর দিকে তাকিয়ে হাসল।
হিমু চোখ পাকিয়ে ইশারা করল—
একদম কথা বলবি না!
নিলয় আরও বেশি হাসল।
হিমু মনে মনে ঠিক করল, সুযোগ পেলে আজ এই ছেলেকে উচিত শিক্ষা দিতেই হবে!
সকাল ৯টা
চৌধুরী পরিবারের বিশাল বাড়ির সামনে গাড়ি এসে থামল।
গাড়ি থেকে নেমে জিসান নিজের হাতঘড়ির দিকে তাকাল। পরনে কালো শার্ট, কালো ট্রাউজার। মুখটা গম্ভীর, চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তি।
হাতে ফোন নিয়ে কাউকে কল করল সে।
— হ্যালো, কাজ কতদূর এগিয়েছে?
ওপাশ থেকে কিছু একটা বলা হলো।
জিসান কপাল কুঁচকে বলল—
— আমি আগেও বলেছি, কাজে কোনো গাফিলতি সহ্য করব না। আজকের মধ্যে হিসাবটা আমার টেবিলে চাই।
কথাটা বলেই কল কেটে দিল।
তারপর বাড়ির ভেতরে ঢুকল।
ড্রয়িংরুমে তার বাবা বসে ছিলেন। পাশে হিমুর বাবা। দুজনেই বাড়ির নির্মাণকাজ নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
জিসানের বাবা বললেন—
— আরে, জিসান! তুই এখানে? আজ তো অফিসে যাওয়ার কথা ছিল!
জিসান এগিয়ে এসে বলল—
— যাব, বাবা। তার আগে বাড়ির কাজটা একটু দেখে নিচ্ছি।
হিমুর বাবা হেসে বললেন—
— তোমাদের নতুন বাড়ির কাজ তো বেশ দ্রুত এগোচ্ছে। দুইতলা বাড়িটা শেষ হলে দেখতে খুব সুন্দর লাগবে।
জিসানের বাবা বললেন—
— আলহামদুলিল্লাহ। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি। আমি আর তোমাকে মাঝেমধ্যে এসে সব দেখতে হবে।
জিসান পাশের চেয়ারে বসে বলল—
— বাবা, দোতলার কাজের ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছে। কয়েকটা পরিবর্তন দরকার। আজ অফিস থেকে ফেরার পথে সাইটে যাব।
তার বাবা সন্তুষ্ট হয়ে মাথা নাড়লেন।
জিসানদের পরিবার অনেক সচ্ছল। ব্যবসা, গাড়ি, জমিজমা—সব মিলিয়ে তাদের কোনো কিছুর অভাব নেই। অন্যদিকে হিমুদের পরিবার মধ্যবিত্ত। নিজেদের সাধ্যের মধ্যে সুন্দরভাবে জীবন কাটান তারা।
তবে দুই পরিবারের সম্পর্ক বহুদিনের। আত্মীয়তার বন্ধন আর পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার কারণে দুই বাড়ির মানুষজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
হিমুর বাবা মুচকি হেসে বললেন—
— জিসান, তোমার অফিসের কাজের চাপ তো অনেক। এর মধ্যেও বাড়ির সবকিছু সামলাতে হয়!
জিসান গম্ভীর গলায় উত্তর দিল—
— দায়িত্ব নিলে সেটা ঠিকভাবে পালন করতে হয়, আঙ্কেল।
কথাটা শুনে তার বাবা ছেলের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।
এই ছেলেটা এমনই।
বাইরে থেকে গম্ভীর, জেদি আর রাগী। কোনো কাজ একবার ঠিক করলে সেটা শেষ না করা পর্যন্ত শান্তি নেই তার।
কেউ ভুল করলে সহজে ক্ষমা করে না। আর নিজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার সঙ্গে তর্ক করতেও পিছপা হয় না।
ঠিক তখনই জিসানের ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে অফিসের নাম দেখে সে উঠে দাঁড়াল।
— বাবা, আমাকে এখন বের হতে হবে। অফিসে একটা জরুরি মিটিং আছে।
তার বাবা বললেন—
— ঠিক আছে, সাবধানে যাস।
জিসান হিমুর বাবাকে সালাম দিয়ে বেরিয়ে গেল।
গাড়িতে ওঠার আগে একবার বাড়িটার দিকে তাকাল সে।
তারপর ড্রাইভারকে বলল—
— অফিসে চলো।
গাড়ি চলতে শুরু করল।
জিসানের মাথায় তখন কাজের চিন্তা ছাড়া আর কিছু নেই।
কিন্তু সে যদি জানত, এই বাড়িতেই একজন মেয়ে বসে বসে তার ওপর রাগ দেখানোর পরিকল্পনা করছে, তাহলে হয়তো একটু হাসত!
হিমু নিজের ঘরে বসে কলেজের ব্যাগ গোছাচ্ছিল।
রিমু দরজায় দাঁড়িয়ে বলল—
— আপু, জিসান ভাইয়া নাকি সকালে এসেছিল!
হিমু ব্যাগের চেইন টানতে টানতে বলল—
— তো?
— তো মানে? তুই দেখা করিসনি?
— আমি কি ওর সঙ্গে দেখা করার জন্য বসে থাকি নাকি?
রিমু দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল—
— তা তো বলিনি! কিন্তু তুই এমন রেগে যাচ্ছিস কেন?
হিমু এবার বোনের দিকে তাকাল।
— রিমু!
— জি, আপু?
— তোর স্কুলে যেতে দেরি হচ্ছে না?
রিমু সঙ্গে সঙ্গে ঘড়ির দিকে তাকাল।
— ও মা! সত্যিই তো!
বলেই সে দৌড়ে চলে গেল।
হিমু ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।
— যাক, আপাতত বাঁচা গেল!
ব্যাগ কাঁধে নিয়ে সে নিচে নামল।
হালিমা বেগম দরজার কাছে এসে বললেন—
— মা, সাবধানে যাস। কলেজ থেকে ফেরার সময় আমাকে ফোন করিস।
হিমু মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলল—
— আচ্ছা, আম্মু। তুমি চিন্তা কোরো না।
তারপর মাকে বিদায় জানিয়ে কলেজের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ল।
কিন্তু রাস্তায় যেতে যেতে তার মাথায় একটা কথাই ঘুরছিল।
জিসান কি প্রতিদিন এভাবেই তাদের বাড়িতে আসবে?
ভাবনাটা মাথায় আসতেই সে বিরক্ত হয়ে জানালার বাইরে তাকাল।
— উফ! আমি কেন ছেলেটাকে নিয়ে এত ভাবছি?
নিজেকেই প্রশ্ন করে কোনো উত্তর পেল না হিমু।
কলেজের ক্যাম্পাসে ঢুকেই হিমু তার বন্ধুদের খুঁজতে লাগল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা গাছের নিচে বসে থাকা মায়া, তানিয়া আর নীলাকে দেখতে পেল।
হিমু এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটা বেঞ্চের ওপর রেখে ধপ করে বসে পড়ল।
মায়া তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল—
— কী হয়েছে তোর? মুখটা এমন শুকনো কেন?
হিমু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— আর বলিস না! আমার জীবনটা একদম অতিষ্ঠ হয়ে গেছে!
তানিয়া অবাক হয়ে বলল—
— কেন? আবার কী করেছিস?
— আমি কী করেছি? সব ঝামেলার মূল হচ্ছে একজন মানুষ!
মায়া সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসল।
— কে? জিসান ভাইয়া?
হিমু চমকে তার দিকে তাকাল।
— তুই জানলি কীভাবে?
মায়া চোখ বড় করে বলল—
— আরে! তুই তো গতকাল নিজেই আমাকে সব বলেছিস!
হিমু মাথায় হাত দিয়ে বলল—
— ওহ্ হ্যাঁ! আমার তো মনে ছিল না!
নীলা হেসে বলল—
— দাঁড়া, দাঁড়া! আগে পুরো ঘটনা খুলে বল। জিসান ভাইয়া আবার কী করলেন?
হিমু বিরক্ত হয়ে বলল—
— আরে, ছেলেটা কিছুই করেনি! এটাই তো সমস্যা!
তিনজন একসঙ্গে তার দিকে তাকাল।
— মানে?
হিমু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
— মানে, আমি চাই না ছেলেটা বারবার আমাদের বাড়িতে আসুক। অথচ ওর আসার কোনো কারণ থাকুক বা না থাকুক, সবাই ওকে নিয়ে ব্যস্ত! কেউ কিছু বললে ও আবার এমন গম্ভীর মুখ করে তাকায়, মনে হয় পুরো পৃথিবী ওর কথায় চলবে!
মায়া হেসে বলল—
— বাহ্! একদিন পরিচয় হয়েছে, আর এর মধ্যেই তুই ওর এত গুণাগুণ জেনে গেছিস?
হিমু চোখ পাকিয়ে বলল—
— মায়া, তুই আমার বন্ধু, নাকি ওর উকিল?
— দুটোই হতে পারি!
— তোর সঙ্গে কথা বলাই আমার ভুল হয়েছে!
তানিয়া হেসে বলল—
— আচ্ছা, জিসান ভাইয়া কি সত্যিই খুব রাগী?
হিমু একটু ভেবে বলল—
— রাগী তো বটেই। আর ভীষণ জেদি! নিজের কথার বাইরে কিছু বুঝতেই চায় না!
নীলা মুচকি হেসে বলল—
— তাহলে তো তোর সঙ্গে ওনার ভালোই মিল হবে!
হিমু অবাক হয়ে বলল—
— আমার সঙ্গে মিল হবে মানে?
মায়া হাসতে হাসতে বলল—
— তুইও তো কম জেদি না! দুজনের মধ্যে একদিন ঝগড়া লাগলে পুরো বাড়ি মাথায় উঠবে!
হিমু মুখ বাঁকিয়ে বলল—
— আমি ওর সঙ্গে ঝগড়াই করব না!
মায়া ভ্রু নাচিয়ে বলল—
— সত্যি?
— হ্যাঁ, সত্যি!
— তাহলে ও যদি তোকে জ্বালায়?
— পাত্তা দেব না!
— যদি তোর সঙ্গে কথা বলতে আসে?
— কথা বলব না!
— যদি তোর দিকে তাকিয়ে হাসে?
হিমু থমকে গেল।
মায়া সঙ্গে সঙ্গে হেসে উঠল।
— এই যে! এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এত সময় লাগছে কেন?
হিমু তাড়াতাড়ি বলল—
— চুপ কর! তোরা সব সময় আমাকে নিয়ে মজা করিস!
মায়া তার কাঁধে হাত রেখে বলল—
— আচ্ছা, মজা করব না। এবার বল, তুই আসলে কী নিয়ে এত বিরক্ত?
হিমু কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল—
— জানিস, আমার সবচেয়ে বেশি বিরক্ত লাগে যখন কেউ আমার মনের কথা না বুঝেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। আমি কিছু বলি না বলে সবাই ভাবে, আমি কিছু বুঝি না। অথচ আমারও ভালো লাগে, খারাপ লাগে। আমারও রাগ হয়!
কথাটা বলে সে চুপ করে গেল।
মায়া এবার আর হাসল না।
সে হিমুর হাত ধরে বলল—
— আমরা তোকে বুঝি, পাগলি। তুই সব কথা মুখে বলিস না ঠিকই, কিন্তু তাই বলে তোর অনুভূতির কোনো মূল্য নেই, এমন তো নয়।
হিমু বন্ধুর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
— জানি রে। তোরা আছিস বলেই তো সব কথা বলতে পারি।
তানিয়া পরিবেশটা হালকা করার জন্য বলল—
— আচ্ছা, এখন থেকে জিসান ভাইয়া এলে আমরা সবাই মিলে ওনাকে জ্বালাব!
হিমু সঙ্গে সঙ্গে বলল—
— না! কেউ ওনাকে জ্বালাবি না!
কথাটা বলেই সে থেমে গেল।
তিনজন একসঙ্গে তার দিকে তাকাল।
মায়া ধীরে ধীরে হাসল।
— ওহ্! তাহলে আমরা জ্বালাতে পারব না কেন?
হিমু চোখ বড় করে বলল—
— কারণ... কারণ...
— কারণ কী?
হিমু কিছুক্ষণ ভেবে বলল—
— কারণ, উনি রাগী মানুষ! তোরা কিছু বললে আবার ঝামেলা হবে!
মায়া মাথা নেড়ে বলল—
— বুঝেছি! তুই আমাদের সবার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছিস!
— মায়া!
— আচ্ছা, আর বলব না!
কিন্তু তার হাসি থামল না।
হিমু মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকাল।
মনে মনে বলল—
জিসান, তোমার জন্য আমার বন্ধুদের কাছেও আজ শান্তি নেই!
ঠিক তখনই তাদের সামনে এসে দাঁড়াল একটি মেয়ে।
মেয়েটি হিমুর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
— আচ্ছা, তুমি কি জিসান ভাইয়ার খালাতো বোন?
হিমু অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকাল।
— হুম। কেন?
মেয়েটি কয়েক সেকেন্ড তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল—
— না, এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।
কথাটা বলেই মেয়েটি সেখান থেকে চলে গেল।
হিমু অবাক হয়ে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
মায়া ভ্রু কুঁচকে বলল—
— মেয়েটা কে রে?
হিমু মাথা নাড়ল।
— জানি না তো! আগে কখনো দেখেছি বলেও মনে হচ্ছে না।
তানিয়া বলল—
— কিন্তু জিসান ভাইয়ার নাম জানল কীভাবে?
হিমু এবার আরও অবাক হলো।
সত্যিই তো!
একজন অপরিচিত মেয়ে এসে তাকে জিসানের খালাতো বোন বলে চিনল কীভাবে?
আর জিসানের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথাই বা জানল কোথা থেকে?
হিমু মেয়েটির চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মনে একের পর এক প্রশ্ন তৈরি হতে লাগল।
মায়া তার কাঁধে হাত রেখে বলল—
— কী হলো? এমন করে তাকিয়ে আছিস কেন?
হিমু ধীরে ধীরে বলল—
— মেয়েটা আমাকে চিনল কীভাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না!
মায়া বলল—
— হয়তো জিসান ভাইয়ার পরিচিত কেউ হবে।
হিমু আর কিছু বলল না।
কিন্তু মেয়েটির অদ্ভুত আচরণ তার মনে একটা ছোট্ট কৌতূহল তৈরি করে দিল।
কিছুক্ষণ পর কলেজের ঘণ্টা বেজে উঠল।
নীলা ব্যাগ তুলে দাঁড়িয়ে বলল—
— চল, ক্লাসে যাই। পরে আবার কথা হবে।
মায়া হিমুর হাত ধরে টেনে তুলল।
— চল, ম্যাডাম! আজ আর কোনো চিন্তা নয়। শুধু পড়াশোনা!
হিমু ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কলেজ ভবনের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
<!-- empty paragraph -->