ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার ডাক্তার বাবু

পর্ব 5

লেখক: মাহিয়া ইসলাম হিমি

আসসালামু আলাইকুম! 🌸

📖 উপন্যাস: আমার ডাক্তার বাবু

✍️ পর্ব: ০৫

🖤 লেখিকা: মাহিয়া ইসলাম হিমি 🖤

🌷 সকাল ১০টা | কলেজ ক্যাম্পাস 🌷

কলেজের ঘণ্টা পড়তেই হিমু তার বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ল। সবাই যে যার জায়গায় বসে পড়লেও হিমুর মনটা পড়ে রইল সেই অপরিচিত মেয়েটির কথায়।

মেয়েটা তাকে জিসানের খালাতো বোন বলে চিনল কীভাবে?

জিসান কি তাকে আগে থেকেই চেনে?

নাকি মেয়েটার সঙ্গে জিসানের অন্য কোনো সম্পর্ক আছে?

ভাবতে ভাবতেই হিমু খাতাটা বের করল।

পাশ থেকে মায়া কনুই দিয়ে খোঁচা দিয়ে বলল—

— এই যে, মহারানি! খাতার দিকে তাকিয়ে আছিস কেন? খাতার মধ্যে কি জিসান ভাইয়ার ছবি দেখতে পাচ্ছিস?

হিমু চোখ বড় বড় করে তাকাল।

— মায়া! তুই কি সকালে নাশতা করিসনি?

— করেছি তো!

— তাহলে এত বকবক করার শক্তি কোথা থেকে পাস?

মায়া মুখ বাঁকিয়ে বলল—

— তোর মতো একটা শান্তশিষ্ট মেয়েকে বিরক্ত করতে গেলেও অনেক শক্তি লাগে!

হিমু ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল—

— আমি শান্তশিষ্ট?

— অবশ্যই! তুই তো রাগলে একদম ফুলের মতো হয়ে যাস!

— কোন ফুল? কাঁটাওয়ালা গোলাপ?

মায়া হেসে ফেলল।

ঠিক তখনই ক্লাসে শিক্ষক প্রবেশ করলেন। দুজনেই তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে বসল।

কিন্তু হিমুর মাথায় তখনো সেই মেয়েটির কথাই ঘুরছিল।

---

🌷 দুপুর ১২টা | কলেজের করিডর 🌷

দুটি ক্লাস শেষ করে হিমু আর তার বন্ধুরা করিডর দিয়ে ক্যানটিনের দিকে যাচ্ছিল।

হঠাৎ সামনের দিক থেকে কয়েকজন মেয়েকে আসতে দেখা গেল।

তাদের মধ্যে একজনকে দেখেই হিমু থমকে দাঁড়াল।

সেই মেয়েটি!

সকালে যে মেয়েটি এসে তাকে জিসানের খালাতো বোন বলে চিনেছিল।

মেয়েটিও হিমুকে দেখতে পেল। কিন্তু এবার সে চোখ সরিয়ে অন্যদিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করল।

হিমু ভ্রু কুঁচকে বলল—

— এই যে, শুনুন!

মেয়েটি থেমে পেছনে তাকাল।

— আমাকে বলছেন?

— হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি। একটু কথা ছিল।

মেয়েটি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল—

— কী কথা?

হিমু তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

— সকালে আপনি আমাকে জিসান ভাইয়ার খালাতো বোন বলে চিনলেন কীভাবে?

মেয়েটি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

তারপর বলল—

— আপনার কথা শুনেছি।

— কার কাছে?

— একজনের কাছে।

হিমু এবার বিরক্ত হয়ে বলল—

— আরে বাবা, একজনের নাম বললেই তো হয়! এমন রহস্য করছেন কেন?

মেয়েটি মৃদু হাসল।

— আপনার নাম হিমু, তাই না?

হিমু অবাক হয়ে গেল।

— হ্যাঁ! কিন্তু আপনি আমার নামও জানেন?

— জিসান ভাইয়ার কাছ থেকে শুনেছি।

কথাটা শুনে হিমুর মুখটা মুহূর্তেই বদলে গেল।

— কী বললেন? জিসান ভাইয়া আমার কথা বলেছেন?

মেয়েটি মাথা নাড়ল।

— হ্যাঁ।

— কী বলেছেন?

মেয়েটি এবার হাসি চেপে বলল—

— সেটা তো আপনাকে বলতে পারব না!

— কেন?

— কারণ, সব কথা সবাইকে বলা যায় না।

বলেই মেয়েটি চলে গেল।

হিমু কয়েক সেকেন্ড বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল।

পেছন থেকে মায়া এসে তার কাঁধে হাত রাখল।

— কী রে? মেয়েটা কি তোর কাছে জিসান ভাইয়ার প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে?

হিমু ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল—

— তোর মাথায় কি শুধু প্রেমের কথাই ঘোরে?

মায়া হেসে বলল—

— না, মাঝে মাঝে খাবারের কথাও ঘোরে!

তানিয়া বলল—

— আচ্ছা, মেয়েটা কিন্তু বলল জিসান ভাইয়া তোর কথা বলেছেন। ব্যাপারটা কী?

হিমু বিরক্ত হয়ে বলল—

— আমি কীভাবে জানব? ছেলেটা আমার কথা কেন বলেছে, সেটা তো ওকেই জিজ্ঞেস করতে হবে!

মায়া সঙ্গে সঙ্গে বলল—

— তাহলে ফোন করে জিজ্ঞেস কর!

হিমু থমকে গেল।

তারপর গম্ভীর মুখে বলল—

— আমার কাছে ওর ফোন নম্বর নেই।

মায়া আর তানিয়া একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল।

মায়া বলল—

— বাহ্! এত বড় আত্মীয়, অথচ ফোন নম্বর নেই!

হিমু দাঁতে দাঁত চেপে বলল—

— তোরা দুজন আমার বন্ধু হয়েছিস, নাকি আমার শত্রু?

নীলা হেসে বলল—

— দুটোই!

হিমু মুখ ফুলিয়ে সামনে হাঁটতে শুরু করল।

— তোদের সঙ্গে কথা বলার চেয়ে একা থাকা অনেক ভালো!

---

🌷 দুপুর ১টা | কলেজ ক্যানটিন 🌷

ক্যানটিনের এক কোণে বসে চার বন্ধু খাবার খাচ্ছিল।

মায়া নিজের খাবার শেষ করে হিমুর প্লেটের দিকে তাকাল।

— তুই খাবি না?

হিমু অন্যমনস্কভাবে বলল—

— খাচ্ছি তো!

মায়া তার প্লেটের দিকে তাকিয়ে বলল—

— এই যে, দশ মিনিট ধরে একটা পরোটা নিয়ে বসে আছিস। এটাকে খাওয়া বলে?

হিমু এবার পরোটার একটা কামড় দিল।

— খুশি?

— অনেক!

ঠিক তখনই হিমুর ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে আম্মুর নাম দেখে সে ফোন রিসিভ করল।

— হ্যালো, আম্মু!

ওপাশ থেকে হালিমা বেগম বললেন—

— মা, কলেজে সব ঠিক আছে তো? দুপুরে কিছু খেয়েছিস?

হিমু হেসে বলল—

— হ্যাঁ, আম্মু। খাচ্ছি তো।

— আচ্ছা শোন, আজ কলেজ থেকে ফেরার পথে তাড়াহুড়ো করিস না। আর বাসায় ফেরার আগে আমাকে ফোন দিবি।

— আচ্ছা, আম্মু।

— আর শোন, তোর নিলয় ভাইয়া বলছিল আজ বিকেলে বাসায় আসবে। ওর সঙ্গে দেখা হলে একটু কথা বলিস।

হিমু মুখ কুঁচকে বলল—

— আম্মু! নিলয় ভাইয়া আসবে কেন?

— কেন আবার? তোদের বাড়ি আসতে কি ওর অনুমতি লাগবে?

— না, কিন্তু...

— কোনো কিন্তু নয়। এবার খেয়ে নে। রাখছি।

ফোন কেটে গেল।

হিমু ফোনটা টেবিলের ওপর রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

মায়া কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল—

— কী হয়েছে আবার?

হিমু গম্ভীর মুখে বলল—

— আজ বিকেলে নিলয় ভাইয়া আসবে।

মায়া হেসে বলল—

— তাতে সমস্যা কী?

হিমু মাথায় হাত দিয়ে বলল—

— সমস্যা হলো, নিলয় ভাইয়া আসবে, আর জিসান ভাইয়ার কথা তুলে আমাকে জ্বালাবে! আমার জীবনটা কি আর শান্তিতে কাটবে না?

তানিয়া মুচকি হেসে বলল—

— আচ্ছা, তুই একটা কথা বল তো।

— কী?

— জিসান ভাইয়া যদি সত্যিই তোর কথা বলে থাকেন, তাহলে তোর এত রাগ হচ্ছে কেন?

হিমু সঙ্গে সঙ্গে বলল—

— রাগ হচ্ছে না!

মায়া চোখ ছোট করে বলল—

— তাহলে এত ব্যাখ্যা দিচ্ছিস কেন?

— তোরা আমাকে পাগল করে দিবি!

কথাটা বলেই হিমু পানি খেতে শুরু করল।

কিন্তু তার অজান্তেই ফোনের স্ক্রিনে একটি নতুন নোটিফিকেশন ভেসে উঠল।

অপরিচিত নম্বর: তোমার সঙ্গে একটা জরুরি কথা আছে।

হিমু নোটিফিকেশনটা দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলল।

— এ আবার কে?

মায়া বলল—

— কী হয়েছে?

হিমু ফোনটা তুলে দেখাল।

— অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ এসেছে।

তানিয়া বলল—

— খুলে দেখ!

হিমু মেসেজটা খুলল।

অপরিচিত নম্বর: জিসানকে নিয়ে এত চিন্তা করছ কেন?

মেসেজটা পড়েই হিমুর চোখ বড় হয়ে গেল।

— কী!

মায়া তাড়াতাড়ি তার পাশে এসে বসল।

— কী লিখেছে?

হিমু মেসেজটা দেখাতেই তিনজনের মুখের হাসি উধাও হয়ে গেল।

নীলা বলল—

— নম্বরটা তোকে কে দিল?

— আমি জানি না!

মায়া গম্ভীর হয়ে বলল—

— হিমু, সাবধানে থাকিস। অপরিচিত কেউ হলে আগে পরিচয় নিশ্চিত হবি।

হিমু কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর মেসেজের উত্তর লিখল—

হিমু: আপনি কে? আর আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলছেন কেন?

কিছুক্ষণ পরেই উত্তর এল।

অপরিচিত নম্বর: পরিচয় সময় হলে জানতে পারবে।

হিমু বিরক্ত হয়ে ফোনটা টেবিলে রাখল।

— উফ! আমার চারপাশে এত রহস্য কেন?

মায়া বলল—

— নম্বরটা ব্লক করে দে।

হিমু মাথা নাড়ল।

— না। আগে জানতে চাই, লোকটা কে!

---

🌷 বিকেল ৪টা | জিসানের অফিস 🌷

অফিসের কাচঘেরা কক্ষে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল জিসান।

সামনে কয়েকটি ফাইল ছড়িয়ে আছে। একের পর এক কাগজ পরীক্ষা করতে করতে সে ভ্রু কুঁচকে ফেলল।

ঠিক তখনই তার সহকারী দরজায় নক করল।

— স্যার, আপনার সঙ্গে একজন দেখা করতে এসেছেন।

জিসান ফাইল থেকে চোখ না তুলেই বলল—

— অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে?

— না, স্যার। তবে উনি বলেছেন, আপনার পরিচিত।

জিসান এবার মুখ তুলে তাকাল।

— নাম কী?

— রাইসা।

নামটা শুনে জিসান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল—

— পাঠিয়ে দিন।

কিছুক্ষণ পর একটি মেয়ে কক্ষে প্রবেশ করল।

জিসান তাকে দেখে চেয়ারে হেলান দিল।

— হঠাৎ এখানে? কোনো প্রয়োজন?

রাইসা সামনের চেয়ারে বসে বলল—

— প্রয়োজন ছাড়া কি আপনার সঙ্গে দেখা করা যায় না?

জিসান গম্ভীর গলায় বলল—

— অপ্রয়োজনীয় কথার জন্য আমার সময় নেই।

রাইসা মুচকি হেসে বলল—

— জানি। আপনার তো সব সময় কাজ, কাজ আর কাজ!

জিসান ফাইল বন্ধ করে বলল—

— যা বলার, সরাসরি বলো।

রাইসা এবার ব্যাগ থেকে ফোন বের করল।

— আজ কলেজে হিমুর সঙ্গে দেখা হয়েছে।

জিসানের চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই বদলে গেল।

— হিমু?

— হ্যাঁ। আপনার খালাতো বোন।

জিসান গম্ভীর গলায় বলল—

— ওর সঙ্গে তোমার কী কথা হয়েছে?

রাইসা মৃদু হেসে বলল—

— আপনি যে ওর কথা বলেন, সেটা ওকে বলেছি।

জিসান কপাল কুঁচকে ফেলল।

— আমি ওর কথা বলেছি?

— হ্যাঁ। আর কথাটা শোনার পর ওর মুখটা দেখার মতো ছিল!

রাইসা হাসতে লাগল।

কিন্তু জিসানের মুখে হাসির কোনো চিহ্ন নেই।

সে ঠান্ডা গলায় বলল—

— রাইসা, ওকে অযথা বিরক্ত করবে না।

রাইসা ভ্রু তুলে বলল—

— কেন? ও কি আপনাকে নালিশ করবে?

— আমি যা বলেছি, সেটাই করো।

রাইসা কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল—

— আচ্ছা, ঠিক আছে। তবে একটা কথা বলুন তো, হিমু কি জানে আপনি ওর ব্যাপারে এত খোঁজখবর রাখেন?

জিসান এবার সোজা হয়ে বসল।

— আমি ওর খোঁজখবর রাখি না।

রাইসা হেসে বলল—

— অবশ্যই! আপনি তো শুধু ওর কলেজের নাম, ক্লাসের সময় আর বন্ধুবান্ধবের নাম জানেন!

জিসান বিরক্ত হয়ে বলল—

— রাইসা!

— আচ্ছা, আর বলছি না!

রাইসা উঠে দাঁড়াল।

দরজার কাছে গিয়ে আবার পেছনে তাকিয়ে বলল—

— একটা কথা মনে রাখবেন, জিসান ভাইয়া। আপনি যতই গম্ভীর মুখ করে থাকুন না কেন, আপনার চোখ কিন্তু অনেক কথা বলে!

কথাটা বলেই সে বেরিয়ে গেল।

জিসান কয়েক সেকেন্ড দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর বিরক্ত হয়ে ফাইল খুলল।

— মেয়েটা একদম অসহ্য!

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তার চোখ চলে গেল ফোনের দিকে।

হিমুর কথা মনে পড়তেই অজান্তে তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।

---

🌷 বিকেল ৫টা | হিমুদের বাড়ি 🌷

কলেজ থেকে ফিরে হিমু ফ্রেশ হয়ে নিজের ঘরে বসেছিল।

ফোনটা হাতে নিয়ে বারবার সেই অপরিচিত নম্বরের মেসেজ দেখছিল সে।

কে এই মানুষ?

জিসানকে নিয়েই বা এত কথা কেন?

হঠাৎ নিচ থেকে নিলয়ের গলা শোনা গেল—

— হিমুউউউ! কোথায় তুই?

হিমু বিরক্ত হয়ে বলল—

— ঘরে আছি! চিৎকার করছ কেন?

নিলয় দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।

— নিচে আয়। তোর জন্য একটা খবর আছে!

হিমু ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

— কী খবর?

নিলয় রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল—

— আগে নিচে আয়, তারপর বলব।

— এখনই বলো!

— না।

— ভাইয়া!

— না মানে না!

হিমু রাগ করে উঠে দাঁড়াল।

— ঠিক আছে! আমি নিচে আসছি। কিন্তু যদি ফালতু কিছু হয়, তাহলে তোমার খবর আছে!

নিলয় হেসে বলল—

— আহা! আমার ছোট বোনটা কত রাগী!

হিমু তার দিকে আঙুল তুলে বলল—

— আমাকে ছোট বোন বলবে না!

নিলয় হেসে নিচে চলে গেল।

হিমু ফোনটা বিছানায় রেখে তার পেছনে পেছনে নামল।

নিচে গিয়ে ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই সে থমকে দাঁড়াল।

সোফায় বসে আছে জিসান!

পরনে কালো শার্ট, হাতার বোতাম খোলা। এক হাতে ফোন, অন্য হাতটা সোফার হাতলে রাখা। মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব।

হিমুকে দেখে নিলয় সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল—

— এই যে, তোর জন্যই তো জিসান এসেছে!

হিমু অবাক হয়ে বলল—

— আমার জন্য?

জিসান ফোনটা পকেটে রেখে উঠে দাঁড়াল।

— তোমার আম্মু বলেছেন, তোমাকে একটা জিনিস দিতে।

হিমু সন্দেহের চোখে তাকাল।

— কী জিনিস?

জিসান পকেট থেকে একটি ছোট খাম বের করে তার দিকে বাড়িয়ে দিল।

— এটা তোমার।

হিমু খামটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে বলল—

— এর মধ্যে কী আছে?

জিসান শান্ত গলায় বলল—

— খুলে দেখো।

হিমু খাম খুলতেই ভেতর থেকে একটি কলেজের আইডি কার্ড বেরিয়ে এল।

সে অবাক হয়ে বলল—

— আরে! আমার আইডি কার্ড!

নিলয় হেসে বলল—

— আজ সকালে তুই গাড়ি থেকে নামার সময় ফেলে গিয়েছিলি। জিসান খুঁজে পেয়েছে।

হিমু এবার মনে করার চেষ্টা করল।

সকালে কলেজে যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে নামার পর ব্যাগ থেকে কিছু বের করতে গিয়ে হয়তো আইডি কার্ডটা পড়ে গিয়েছিল।

সে জিসানের দিকে তাকিয়ে বলল—

— আপনি এটা পেলেন কোথায়?

জিসান উত্তর দিল—

— তোমার বাড়ির গেটের সামনে।

হিমু কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল—

— ওহ্! ধন্যবাদ।

জিসান মাথা নাড়ল।

— পরেরবার নিজের জিনিসপত্র সাবধানে রাখবে।

হিমু সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে বলল—

— আমি কি ইচ্ছা করে ফেলেছি নাকি?

জিসান ভ্রু তুলে তাকাল।

— আমি কি বলেছি, ইচ্ছা করে ফেলেছ?

— তাহলে এমনভাবে বলছেন কেন?

নিলয় পাশ থেকে মুখ চেপে হাসছিল।

জিসান হিমুর দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল—

— তোমার সঙ্গে কথা বলার সময় কি প্রতিটি কথার ব্যাখ্যা দিতে হবে?

হিমু কোমরে হাত রেখে বলল—

— অবশ্যই! কারণ আপনি এমনভাবে কথা বলেন, মনে হয় সবাই আপনার কর্মচারী!

কথাটা শুনে নিলয় আর চুপ থাকতে পারল না।

সে হেসে উঠল।

জিসান ধীরে ধীরে নিলয়ের দিকে তাকাল।

— তোমার খুব হাসি পাচ্ছে?

নিলয় সঙ্গে সঙ্গে মুখ গম্ভীর করে বলল—

— না, ভাই। একদম না!

হিমু মনে মনে খুশি হলো।

যাক! আজ অন্তত নিলয় ভাইয়াকে একটু বিপদে ফেলা গেছে!

কিন্তু জিসান এবার আবার তার দিকে তাকাল।

— আর তুমি, এত কথা বলার অভ্যাসটা একটু কমাও।

হিমু চোখ বড় করে বলল—

— কী বললেন?

জিসান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল—

— যা শুনেছ।

হিমু রাগে গজগজ করতে লাগল।

— অসহ্য একটা মানুষ!

জিসান কথাটা শুনেও কিছু বলল না।

শুধু ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

যাওয়ার আগে একবার পেছনে ফিরে বলল—

— আইডি কার্ডটা সাবধানে রেখো, হিমু।

এই প্রথম জিসান তাকে সরাসরি নাম ধরে ডাকল।

হিমু কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে গেল।

জিসান চলে যাওয়ার পর নিলয় তার সামনে এসে আঙুল নেড়ে বলল—

— কী রে? কথা বন্ধ হয়ে গেল কেন?

হিমু সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল—

— ভাইয়া! তুমি একদম চুপ করবে!

নিলয় হেসে সরে গেল।

হিমু আইডি কার্ডটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর নিজের মনেই বিড়বিড় করল—

— গম্ভীর মুখ করে নাম ধরে ডাকলেই কেউ বিশেষ হয়ে যায় না!

কিন্তু কথাটা বলার পরেও কেন যেন তার মুখে হাসি লেগে রইল।

---

🌷 রাত ৮টা | হিমুর ঘর 🌷

রাতের খাবার শেষ করে হিমু নিজের ঘরে এসে বিছানায় বসল।

ফোন হাতে নিতেই সেই অপরিচিত নম্বর থেকে আরেকটি মেসেজ এল।

অপরিচিত নম্বর: আজ জিসানের সঙ্গে দেখা হয়েছে?

হিমুর মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।

সে দ্রুত উত্তর দিল—

হিমু: আপনি কে? আমার পেছনে লাগার কারণ কী?

কয়েক সেকেন্ড পর উত্তর এল।

অপরিচিত নম্বর: আমি তোমার পরিচিত। কিন্তু তুমি আমাকে চেনো না।

হিমু বিরক্ত হয়ে লিখল—

হিমু: ধাঁধা না বলে নিজের পরিচয় দিন।

এবার বেশ কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।

হিমু ফোনটা পাশে রেখে শুয়ে পড়তে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আবার মেসেজ এল।

মেসেজটা পড়ে তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।

অপরিচিত নম্বর: জিসানকে নিয়ে বেশি কৌতূহলী হয়ো না, হিমু। সব প্রশ্নের উত্তর জানা ভালো নয়।

হিমু সোজা হয়ে বসল।

— মানে কী?

সে সঙ্গে সঙ্গে কল করার চেষ্টা করল।

কিন্তু নম্বরটি বন্ধ!

হিমু কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর নিজের মনেই বলল—

— জিসানকে নিয়ে কৌতূহলী হব না মানে? আমি তো ওকে নিয়ে কৌতূহলীই নই! উল্টো ওর জন্যই আমার মাথা খারাপ হচ্ছে!

কথাটা বলেই সে থেমে গেল।

তারপর বালিশে মুখ গুঁজে বিড়বিড় করল—

— উফ্! এই জিসান নামটাই আমার জীবনে যত ঝামেলা নিয়ে এসেছে!

<!-- empty paragraph -->

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন