ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের শেষ কিস্তিমাত

৩য় পর্ব

লেখক: Farzana Yesmin

#প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত

#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন_মহুয়া

#পর্ব_৩

🚫কপি করা নিষিদ্ধ🚫

________________

ইনায়া ভেতরে যেতেই অবনি ওর হাত ধরে বলল,

"কি রে ইনায়া তুই আমার চাচা শ্বশুর কে চেনিস? তুই না বললি আমার শ্বশুর শাশুড়ি কে ছাড়া কাউকে চেনিস না।"

ইনায়া অবাক হয়ে প্রশ্ন করল,

"উনি তোর চাচা শ্বশুর!😳"

"হুম।"

"আমি তো ওনাকে এই পরিচয়ে চিনি না। আমাদের বাসাতে ওনাকে দেখেছিলাম।"

"ওহ।"

রফিকুল ইসলাম আর আব্দুল ইসলামের সাথে টুকটাক কথা বলে চলে গেছেন সাফিকুল খান ও তালহা খান। এবং যাওয়ার সময় বলে গেছে কালকে সকাল সকাল রেডি থাকতে, ঢাকা যাবে সবাই বিয়ের শপিং করতে। রাতে অবশ্য লিহাবের আম্মু ও ফোন করে বলেছিলেন।

~

সকাল ৯ টার দিকে খান পরিবারের বাড়ির সবাই রেডি হয়ে পড়ছে ঢাকার উদ্দেশ্যে। সাথে ইনায়া ও বাড়ির সবাইও যাচ্ছে। সবাই গাড়িতে মজা আর গল্প করতে করতে যাচ্ছে। ভালোই সময় কাটছে সবার।

বেলা ১২ টার পর সবাই ঢাকা এসেছে। সবাই বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে গেছে। সবাই সবার মত কেনা কাটা করেছে। ইনায়াও ড্রেস দেখছে। একটা শাড়ি তার মারাত্মক পছন্দ হয়েছে, কিন্তু সেটা আগেই একজন কিনে রেখেছে। আর ওই একটা শাড়ির পিছনেই ছিল তাই ওর মন খারাপ হলো।

ইয়াশ কিছুক্ষণ আগে এসেছে। সে এই দৃশ্যটা দেখল। একটা কল করতে করতে সে চলে যায়। ইনায়া মন খারাপ করে অন্য একটা শাড়ি কিনে নিল।

ইয়াশ ফোনে কথা বলতে বলতে এদিকে আসছিল, কিন্তু হঠাৎ ইনায়ার সাথে ধাক্কা খায়। ইনায়া রেগে বলে,

"চোখ কি পকেটে নিয়ে ঘোরেন আজব মানুষ!"

এই কথাটা ইয়াশ এর আগেও শুনেছে, কিন্তু কোথায় মনে করতে পারছে না। ইনায়া নিচে পড়ে গিয়েছিল। উঠতে ছেলেটিকে দেখে কিছু মনে পড়ল, সে বলতে শুরু করল,

"আপনি? ঠিক ১ মাস ২৪ দিন আগে আপনাকে থাপ্পড় মেরেছিলাম মনে আছে?"

ইয়াশ এমন প্রশ্নে থমকে যায়। মেয়েটা কি অদ্ভুত! থাপ্পড় দেওয়ার পরিচয় দিচ্ছে! মেয়েটি থাপ্পড় দেওয়ার কথা মুখে বলছে, এতে রাগার চেয়েও বেশি রাগ হচ্ছে এটা ভাবতে যে ইয়াশ ওকে ভালোবেসে ফেলেছে।

"কি হল? মনে পড়ছে না! আরেকটা থাপ্পড় দেবো নাকি?🤨 আপনি না একটা অদ্ভুত মানুষ! মেয়েদের সাথে ঝগড়া ছাড়া কাজ নেই।"

ইনায়ার এমন কথা শুনে ইয়াশের রাগ আসমানে ওঠে। কত বড় সাহস! ইয়াশ রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

"এর মাশুল তোমাকে একদিন দিতে হবে মাইন্ড ইট। সেদিন আমাকে থাপ্পড় দেওয়ার চেয়েও বেশি যন্ত্রণা পাবে তুমি।তখন বুঝবে যন্ত্রণা কাকে বলে।"

ইয়াশের এমন কথার আগা মাথা বুঝতে পারল না ইনায়া। সে কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করল,

"মানে?"

ইয়াশ উত্তর না করেই চলে গেল। ইনায়া বিরবির করে বলল,

"শালার মাথার তার ছিঁড়া!😒"

অবনি লিহাবের পরিবারের সঙ্গে শপিং করছে। দেখল লিহাব আর অবনি আলাদা শপিং করছে। ইনায়া এখন সেখানে যাচ্ছে। ইনায়া এখানে এসে ভাবাচ্যাকা খেয়ে যায় ইয়াশকে দেখে। ক্রুচকে প্রশ্ন করে,

"আপনি?"

লিহাব ইনায়ার কথায় বলল,

"ইনায়া আপ তুমি কার কথা বলছ?"

"এই যে ওই ছেলেটা।"

"ওহ! তুমি ইয়াশ ভাইয়ার কথা বলছো।"

ভাই শব্দটা শুনে সে কুঁচকে প্রশ্ন করল ইনায়া,

"ভাই!"

"হুম!আমার ভাইয়া।"

"তুই যে বলতিস তোর কোন ভাই নেই!🤨"

"আরে আমি কি বলেছি নাকি আমার কোন কাজিন নেই।😒আমার চাচা তো ভাই হয় বুঝলে।"

"ওহ্!যা দুলাভাই শপিং কর!"

পাশে থেকে ইয়াশ বলে উঠল,

"বোনের বর কে তুই করে বলছো যে!একটু সম্মান তো করতেই হয়।হাজার হোক বোনের হবু বর হয় তোমার।"

"আমি কাকে কি বলবো আর কি না বলবো।আপনার থেকে শিখতে হবে নাকি।😒"

"লিহাব কোন বাড়িতে বিয়ে করছিস।শালী কোন ভদ্রতা জানে না"

শালী শুনে ইনায়া রেগে বলল,

"আপনি শালী কাকে বললেন?😡"

"রাগ করার কি আছে লিহাবের বউয়ের বোন মানে তুমি তো লিহাবের শালী!🙄"

ইনায়া লিহাবের দিকে তাকিয়ে বলল,

"তোদের বিয়ের জন্য যেভাবে সবাই কে রাজি করাতে পেরেছি।সেভাবে মত বদলাতে কিন্তু বেশি সময় লাগবে না।তোর ভাইকে বল ভালো ব্যবহার করতে।"

"আমি তো ভালো ব্যবহার করছি নিজের ব্যবহার ঠিক করো।

ইনায়া আর ইয়াশ নিজেদের মত তর্ক করছে যেন জামাই বউ। এমন ধরনের ফিল পাচ্ছে সবাই। কিন্তু অবনি আর লিহাব বিপদে পড়ে গেল। এই দুজনের তর্কের জন্য ঠিক মত শপিং করতে পারছে না অবনি আর লিহাব। আগে শপিং করবে নাকি এদের তর্ক বন্ধ করবে!

লিহাব আদিকে দেখতে পেয়ে বলল,

"আদি ভাইয়া!"

আদি লিহাবের আওয়াজ শুনে এদিক ওদিক তাকালো। সেই লিহাবকে দেখতে পেয়ে বলল,

"কি বল? ইয়াশ আমাকে আসতে বলেছে ও কই?"

"পিছনে দেখ! আমার শালির সাথে ঝগড়া করছে।"

শালী শুনে অবনি কটমট দৃষ্টিতে তাকালো লিহাবের দিকে। লিহাব ভয় পেয়ে বলল,

"সরি! আমার বউয়ের বড় বোনের সাথে।"

আদি লিহাবের অবস্থা দেখে হাসছে আর বলছে,

"শালা! বিয়ের আগেই এত ভয়! বিয়ের পরে যে কি হবে?🤣"

আদি হাসছে। লিহাব রেগে বলল,

"ভাইয়া তুমি আগে ইয়াশ ভাইয়া কে থামাও। ইনায়া আপুর সাথে ঝগড়া করছে।"

আদি একটু কুঁচকে বলল,

"ইয়াশ একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করছে? ভিডিও করিস নি কেন? ইয়াশ!😁"

অবনি এদের কথা মাঝে বলে উঠল,

"ভাইয়া আমি আপনাকে চিনি না, তবে মনে হচ্ছে আপনি লিহাব কে চিনেন। একটু সাহায্য করেন। আমার বোনের যা রাগ, বিয়েটাই ভেঙে দিবে।"

আদি শান্ত হয়ে বলল,

"তোমরা নিশ্চিন্তে শপিং করো। আমি ব্যাপারটা দেখছি।"

এরপর লিহাবের দিকে তাকিয়ে বলল,

"কি রে তোর গুনধর ভাই কোন দিকে?"

"তোমার পিছনে দেখ 👀।😒"

আদি ইয়াশ ইনায়ার ঝগড়া দেখছে আর মজা নিচ্ছে। তার খুব হাসি পাচ্ছে। একটু পর হাসি আটকে বলল,

"ইয়াশ কি করছিস! তোর যদি ঝগড়া করতেই এতই ইচ্ছা করে তবে বিয়ে করে ঝগড়া কর। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে।"

"আহ্ ডোন্ট কেয়ার।"

"শপিং মল টা তো তোর বাপের!"

"না হলে বানিয়ে নিতে কতক্ষণ!"

ইনায়া এদের কথা শুনছে। তার পর আদি কে শুধিয়ে বলল,

"এই যে মিস্টার আপনি কে?"

এতক্ষণ মেয়েটিকে ভালো ভাবে খেয়াল করে নি আদি। কিন্তু এখন খেয়াল করে কিছু মনে পড়ল।

এই তো সেই মেয়ে যাকে ইয়াশ প্রথম ভার্সিটিতে দেখে ভালোবেসে ফেলেছিল! তাই তো ভাবি ইয়াশ তো মেয়েদের সাথে কথা বলে না! কিন্তু এখন রোদ্দুর কি হবে বোঝে না। ইয়াশকে কত ভালোবাসে! কিন্তু ইয়াশ তো ওকে ভালোবাসে না। এক তরফা ভালোবাসায় কোন পূর্ণতা পায় না। কিন্তু এই মেয়েটা কি ইয়াশকে ? 🤔

ভাবনার মাঝে ইনায়া আবার বলল,

"এই যে আপনি কি কানে কম শোনেন? আপনি কে?"

ভাবনা ছেড়ে ইয়াশ দুষ্টুমি করে বলল,

"আমি এই খাচ্ছা ইয়াশের ফ্রেন্ড।"

"ওহ! আপনাকে একটা কাজ দেবো করবেন?"

"জি ভাবী বলুন?"

ভাবী শুনে ভ্রু কুচকে হয়ে তাকালো ইনায়া। আর ইয়াশ তো কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ইনায়া আদি কে শুধিয়ে বলল,

"কি বললেন?"

আদি ইয়াশের দৃষ্টিতে পানে তাকিয়ে একটা শূন্য ঢোক গিলে বলল,

"সরি! ভুল করে সত্য কথা বের হয়ে গেছে।"

ইনায়া ভ্রু কুচকে বলল, "মানে!"

"কিছু না। আচ্ছা আপনি বলুন আমাকে কি করতে হবে?"

"দাঁড়ান বলছি, আগে আমার পরিচয় দিয়ে নেই। আমার নাম আইরিন ইসলাম ইনায়া।"

"আমি আদি সৈয়দ আদি। এখন বলেন কি কাজ করতে হবে?"

"আপনার বন্ধুকে ভদ্রতা শেখাবেন। একটা মেয়ের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানে না।"

আদি মিটিমিটি হাসছে। এদের ঝগড়ার মধ্যে কিভাবে আরও ঘি ঢালা যায় ভাবছে। আদি নিজেকে সামলে বলল,

"তুমি এত দিন কোথায় ছিলে ইনায়া! এই বুদ্ধি টা আগে দিলে আমার এই ভাইটা আর অমন হতো না।"

"আমি এত দিন উগান্ডা ছিলাম তাই এত দিন পান নি।"

ইনায়ার কথা আদি হেসে দিল। ইয়াশ তো রেগে ফায়ার! ইনায়া আছে বলে সে আদি কে কিছু বলছে না। আদি আর ইনায়ার ভাব দেখে ইয়াশ খুব রেগে যাচ্ছে। কিন্তু নিজেকে সামলে রসিক ছলে বলল,

"সরি বেয়ান সাহেবা! ভুল হয়ে গেছে ক্ষমা করে দিন।"

ইয়াশের মুখ থেকে এমন কথা শুনে ভাবাচ্যাকা খেয়ে যায় আদি।

"এর আজকে হয়েছে কি?"

মনে মনে ভাবলো আদি।

ইনায়াও বলল,

"তেল মেরে লাভ নেই বেয়াই সাহেব! আপনার বেয়ান সাহেবা অল্পতেই গলে যাওয়ার পাত্র না।"

বলেই মুখ ভেংচে চলে গেল ইনায়া। ইনায়া যেতেই ইয়াশ আদি কলার ধরে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। আদি এইবার ছাড়াতে যায়। ও ভাবছে,

"আজকে আমি শেষ! একটু বেশি হয়ে গেছে মনে হয়!"

ইনায়ারা শপিং মল থেকে অবনির শ্বশুর বাড়িতেও গিয়েছিল। ইয়াশের আম্মু তানিয়া খান জোর করে সবাইকে নিয়ে গিয়েছিলেন। মহিলা টা খুব ভালো। অবনির বড় বোন হিসেবে ইনায়ার সাথেও কথা বলেছেন। তানিয়া খান কে ইনায়ার খুব ভালো লেগেছে। কি সুন্দর আম্মু আম্মু বলে কথা বলে।

প্রথম দিনই বলেছেন,

"আম্মু তুমি আমাকে আপনি না বলে তুমি করে বলবে।তুমি আমার মেয়ের মত।

তানিয়া খানের কথায় ইনায়া হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে ছিল।শুধু তানিয়া খান কেন?এই বাড়ির সবার ব্যবহার ই ভালো লেগেছে ইনায়ার।শুধু ইয়াশ বাদে।কেমন যেন অভদ্র টাইপের লেগেছে ইয়াশ কে।মেয়েদের সাথে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে আসে।

ইয়াশের বোন ইমু আর লিহাবের বোন লিয়ানার সাথে ভালোই ভাব জমেছে ইনায়ার।

অবনি একটু চাপা স্বভাবের।সবার সাথে মিশতে একটু বেশিই সময় লাগে।তবে ভদ্রতা সূচক কথা বলছে একটু একটু।আর ইনায়া তো বাঁচালের মত বকবক করেই যাচ্ছে সবার সাথে।

রাত ১১ টার দিকে সবাই মানিকগঞ্জ পৌঁছে গেছে। বাড়িতে ফিরে ইনায়া আর অবনি কি কি শপিং করল তা দেখছে। অবনি অনেক সুন্দর সুন্দর শাড়ি কিনেছে। ইনায়াও অনেক গুলো শাড়ি কিনেছে, ড্রেসও কিনেছে সেরকম না।

ইনায়ার শাড়ি পড়তে খুব ভালো লাগে। তাই সে ঠিক করেছে গায়ে হলুদের দিন সকাল বিকাল, বিয়ের দিন সকাল সন্ধ্যায়—একটা তারপর যত অনুষ্ঠান আছে সব কিছুর জন্য ড্রেস শাড়ি কিনেছে। কম হলে ইনায়ার বাবা আব্দুল ইসলাম বলেছে আরও কিনে দিবে।

~

গায়ে হলুদের দিন সকাল ইনায়ার কাজিন + অবনির কাজিন সবাই এসেছে। ইনায়ার খালা রেহা শেখ আর তার দুই মেয়ে রোহানা শেখ আর তোহানা শেখ এসেছে। তার ছেলে রোহান শেখ বলেছে বিয়ের দিন আসবে।

সাথে অবনির মামাতো বোন রোজা, আমেনা আর মামাতো ভাই রিফাত, আরিফ, আরিফ এসেছে। অবনির দুই মামা—রোজা আর রিফাত বড় মামার সন্তান আর আমিনা, আরিফ, আয়ুষ ছোট মামার।

রিফাত, আরিফ, আয়ুষ তার ফুপাতে বোনের বিয়ে উপলক্ষে অনেক কাজ করছে। আর ইনায়া তো বাড়ি মাথায় তুলেছে।

তার একটা অবশ্য কারণ আছে। সে চায় না খান ভিলার কাছে রাজ ভিলা হেরে যাক। বিয়ের আয়োজনে খান ভিলা কে হারাতেই তাই নিয়ে প্ল্যান করেছে ইনায়া, রোজা, আমেনা, রোহানা, তোহানা, রিফাত, আরিফ, আয়ুষ সাথে আদিও আছে।

কিন্তু অবনি কে কিছু বলা হয় নি। যেমন সারপ্রাইজ স্বামীর নাম যপে! ওকে বললে সব মজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এইটা থাকবে টপ সিক্রেট।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হচ্ছে। পুরো রাজ ভিলা তে রং বেরঙের লাইটিং করা হয়েছে। যা দারুণ ফিল আসছে! হলুদের ব্যবস্থা ছাদে করা হয়েছে।তাই সবাই একটু পর ওইখানে যাবে।

To be continue.........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন