#প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত
#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন_মহুয়া
#পর্ব_৪
______________
অবনি কে একটা হলুদ রঙের শাড়ি পরিয়েছে। খুব সুন্দর লাগছে তাকে। খাওয়া দাওয়া করিয়ে তাকে ছাদে বসানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পর খান বাড়ি থেকে হলুদের অনুষ্ঠানে আসবে কয়েক জন। তাই একটু আগেই অবনি কে বসানো হয়েছে।
সন্ধ্যা ৭ টার পর অনেক গুলো গাড়ি প্রবেশ করল। রাজ ভিলা তো সব খান বাড়ি থেকে এসেছে। লিহাবের কাজিনরা এসেছে, ইমু আর লিয়ানাও এসেছে, ইয়াশ আর ইয়াশের বন্ধুরাও এসেছে। সবাই কে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সবাই সেখানে বসে টুকটাক খাবার খাচ্ছে।
বড়দের হলুদ লাগানোর কাজ শেষ। তাই সবাই নিচে চলে গেছে। এখন শুধু ছাদে বাচ্চারা আছে। খান বাড়ির কেউ এখানেও যায় নি। তারাও লিহাবের হবু বউকে হলুদ দেবে। কিন্তু কেউ অনুষ্ঠান শুরু করতে পারছে না ইনায়ার জন্য। সেই যে অবনি কে বসিয়ে নিচে গেছে রেডি হতে আর আসার নাম নেই। তোহানা গেছে ইনায়াকে ডাকতে।
কিছুক্ষণ পরেই ইনায়া এসে সবাই কে তাক লাগিয়ে দিয়ে সোজা উঠে বলল,
“সরি গাইস! আমার আসতে একটু লেট হল। আমি কতটা স্পেশাল মানুষ জানাতে পারলাম আজকে। ইন্টারেস্টিং!”
অবনি রেগে বলে,
“আমার বাবা আমার থেকে তোকে আদর করে বেশি তাই এখনো শুরু হয় নি। নয় তো তোর জন্য কে ওয়েট করতো। ☹️
"তাহলে আমি চলে যাচ্ছি, তোরা থাক। ☹️”
সবাই ইনায়ার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। বাসন্তী রঙের শাড়িতে একদম ফিট লাগছে মেয়েটা কে। এলোমেলো খোলা লম্বা কোমল গড়িয়ে পড়া চুল, কানের কাছে একটা টাটকা গোলাপ ফুল যা সকালে সাজানোর সময় একটা নিজের জন্য রেখে দিয়েছিল। ঠোঁট রানি গোলাপি রঙের লিপস্টিক, চোখে কাজল, হাত ভরা চুড়ি—এই সামান্য সাজে তাকে অপ্সরা লাগছে। মেয়েটা এমনেই সুন্দর, গায়ের রং ধবধবে ফর্সা, তার মধ্যে এত সিম্পল সাজ—যে দেখবে সেই ক্রাশ খাবে। সত্যিই বলতে পুরাই আগুন সুন্দরী।
রোজা মজা করে বলল,
“ইনায়া আপু বিয়ে টা তো অবনি আপুর কিন্তু তোমাকে তো ফাটাফাটি লাগছে।”
“পাম মেরে কাজ নেই, চল অনুষ্ঠান শুরু করি।”
“না, তুমি হলুদ লাগাও। আমরা তোমার পরে লাগাবো।”
“ওকে।”
ইয়াশ হা করে ইনায়া কে দেখছে। মেয়েটা যেভাবে ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে মনে হচ্ছে পারলে এখনই বিয়ে করে ফেলতো। ভাবতে ভাবতে বিরবির করে বলল, “লাবণ্যময়ী!”
আদি ইয়াশের পাশেই ছিল। ইয়াশ কিছু বিরবির করছে দেখে বলল,
“ইয়াশ! কিছু বললি?”
“না।”
আদি ইয়াশের দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখল ইয়াশ ইনায়া কে দেখছে। সেটা দেখে আদি মিটমিটিয়ে হাসলো। তারপর বলল,
“তুই তো মেয়েটাকে চোখ দিয়েই গিলে খাচ্ছিস মনে হচ্ছে।
চাইলে এখনই বিয়ে করতে পারিস। আঙ্কেল রাজি হবে কোন সমস্যা নাই। রাজি না হলে আমি করাবো। 😁”
ইয়াশ কিছু না বলেই জুস খেতে লাগল।
সবাই অবনি কে হলুদ মাখিয়েছে। এখন অবনি হাতে মেহেদী লাগছে। দুজন মেহেদী আর্টিস্ট এসেছে অবনি কে মেহেদী লাগানোর জন্য। আর বাকিরা যে যার মতো একে অপরকে মেহেদী লাগিয়ে দিচ্ছে। এখন পরিবেশ টা ইনায়া কাছে বোরিং লাগছে। তাই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল,
“তোরা এত নিরামিষ কেন রে?”
রোহানা জ্ব কুচকে বলল,
ক “কেন আপু? কি হল আবার?”
ইনায়া এবার বলল,
“খালি মেহেদী লাগালে কি মেহেদীর ফিল আসে! একটু নাচ গান করবি না তোরা।
সবাই একসাথে বলে উঠলো,
“হুম করবো! করবো!
সবাই নাচ গান হবে বলে ইঙ্গিত করছে। লিহাবদের বাড়ি থেকে যারা এসেছে তারাও বোর হচ্ছে। ভেবেছিল এখন চলে যাবে কিন্তু নাচ গান হবে শুনে একটু পরে যাবে।
অবনি ইনায়া কে বলল,
“ইনায়া একটা ডান্স কর না, প্লিজ।”
ইনায়া নাকচ করে বলে,
“আমাকে কি দেখে তোর বানর মনে হয়, যে বানর ডান্স দেবো?☹️”
অবনি এইবার আকুতি স্বরে বলল,
“প্লিজ! আমি তো আজকেই থাকবো। এরপর তো আর তোকে ডিস্টার্ব করবো না।”
“দেখলি তো সবাই ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল বলে না এটাকে। আচ্ছা যাই হোক, আমার কলিজার টুকরা বোন বলেছে তো করবোই।”
মাঝখানে থেকে আদি বলে উঠলো,
“কলিজার টুকরা কেন? বাকি টুকরা কোন মহান ব্যক্তিকে দিয়েছেন বেগম সাহেবা!”
“কুকুর কে দিয়েছি। চাইলে আপনার টা কেটে কোন কুকুর কে দিয়ে দিতে পারি।”
“না, দিতে হবে না। মজা করেছি।”
পরক্ষণেই ইনার রিকাতের পানে তাকিয়ে বলল,
“এই গোবলু, আমার পার্টনার হবি চল।”।
ইনার মজা করে রিকাত কে গোবলু বলে। কিন্তু রিকাত খুব লজ্জা পেল যে সবার সামনে ওকে গোবলু বলল। তাই সে একটু অভিমানী সুরে বলে উঠলো,
“ইনার আপু! আমাকে গোবলু বলবে না।”
“তো দুলাভাই বলি? যুক আমার তো কোন বোন নেই।”
“তোমার পার্টনার তুমি খুঁজে নাও, আমি গেলাম।”
বলেই রিকাত চলে গেল। ইনার অবনির দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোর ভাই কিন্তু খুব বেয়াদব হয়েছে। শালার কপালে বউ জুটবে না। ☹️”
আমেনা বলল,
“আপু তুমি তো গোবুলুকে চেনো ও কেমন। বাদ দাও তুমি যাও ডান্স করো।”
“যা ওই গোবুলুকে লাগবে না। আরজু ভালো করে ডিজে দিবি কিন্তু।”
আরজু প্রতিউত্তরে বলল,
“দেখো তো কিন্তু কি গান দিব।”
ইয়াশ আরজু কে বলল,
“ঢাকাই শাড়ি!”
সবাই বেশ অবাক হল। কিন্তু সবাই ভাবলো হয়তো ইনারা বলেছে তাই কিছু বলল না। ইনারা এতক্ষণে স্টেজে উঠে গেছে তাই কিছু শোনে নি। আরজু সাউন্ড বক্সে গান দিল—
“তোকে দেখে মনের স্পিকার
বাজলো ভলিউম ফুল....!!
ঢাকাই শাড়ি পরে তোকে লাগছে বিউটিফুল....!!!
হুর পরি তুই....
তোর প্রেমে তো মন হল মজঙ্গল....?
ঢাকাই শাড়ি পরে তোকে লাগছে বিউটিফুল....!!!!
খোদার কসম বলছি,,,
তোর প্রেম ফায়ার এ জ্বলছি....!!
ফায়ার ব্রিগেড ডাক না এবার,,,
করবে এ মন কুল....!!!”
গানের ছন্দে ছন্দে পুরো স্টেজ মাতাতে একাই ১০০ ইনায়া। ইনায়া এত সুন্দর নাচে কেউ জানতো না অবনি ছাড়া। ইয়াশ হা করে তাকিয়ে তার লাবণ্যময়ী কে দেখছে—কত সুন্দর ডান্স পারে সে!
সবাই নাচ নয়, সে গান করেছে কিন্তু ইয়াশ কোনোটা করে নি। এই তো ইনায়া পেয়ে গেল ওকে খোঁটা মারার রাস্তা। ইয়াশ কে খোঁটা মেরে বলল,
“কি হল বেয়াই সাহেব? আমাদের দেখে ভয় পাচ্ছেন যে নাচ-গান কোনটাই করলেন না!”
ইয়াশ ইনায়া কে দেখছে। ইনায়া নিজের মত বকবক করে কথা বলছে। হঠাৎ ইয়াশ বলে উঠল,
“তুমি কি আমাকে চ্যালেঞ্জ করছো?”
“এ মা! ছিঃ ছিঃ বেয়াই সাহেব! কি বলছেন?”
“তুমি কি জানতে চাও আমি গান পারি কি না?”
ইনায়া আগ্রহী কণ্ঠে বলল,
“হুম, জানতে চাই আপনি কি কি করতে পারেন।”
“পারি তো অনেক কিছু 😜 কিন্তু এখন কিছু করা যাবে না, হাজার হোক আমার ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ি।”
এই কথার আগা মাথা কিছু বুঝতে পারল না ইনায়া। ইনায়া কে এই কথা টা বলেই স্টেজে গেল গান গাওয়ার জন্য। খুব সুন্দর করে সুর তুলে গাইতে শুরু করল—
“বেশামাল... হয়েছি আজ বেশামাল....!!
তুই তাকালি এমন করে....!!
হো ও ও হো ও
এই কদিন হয়েছে দেখা তোর আমার....!!!
দিলি মনটাকে কেমন করে....!!!
তোকে জানাতে জানাতে চাই,,,
আমি বেশেই ভালোবাসাই....!!!
মনের কোণে, আপন মনে....!!
ঠিকানা বানাতে চাই,,,, হো ও ও
আওয়ারা আওয়ারা দিল.....
আওয়ারা রে...... হো ও
আওয়ারা আওয়ারা দিল....
আওয়ারা রে.....!!”
ইনায়া এখন হা করে তাকিয়ে আছে। খোঁটা মেরে এখন নিজেই বিপদে পড়ে গেল সে। কে জানতো এই লোকটা যে এত সুন্দর গান গাইতে পারে! এখন তো ওকে খোঁটা মারবে সবাই।
সম্পূর্ণ গান শেষ করে ইয়াশ স্টেজ থেকে নেমে এসে ইনায়ার উদ্দেশ্যে বলল—
"গান পছন্দ হয়েছে বেয়ান সাহেবা।
ইনায়া এইবার থতমত খেয়ে যায়। কি বলবে মিঝে বলাটা ঠিক হবে না। তাই একটু তুতলাতে তুতলাতে বলল,
"ও...হ্যাঁ। ভালোই হয়েছে। অনেক ভালো গান পারেন আপনি।"
"তুতলাচ্ছো কেন? গান টা কি খুব খারাপ হয়েছে।"
"ন...না...আ ভালোই।"
ইনায়া চলে গেল এখান থেকে। কারণ সে জানে সবাই এখন তাকে খোঁচা দেবে, তাই সে এক মুহূর্তও দেরি করল না। শুধু যাওয়ার আগে অর্বনী কে বলে গেছে,
“5 মিনিটে আসছি।”
ইয়াশ রা সবাই চলে যাওয়ার পর ইনায়া ছাদে এসে দেখল সবার মেহেদী লাগানো শেষ। ইনায়ার একটা রাঙ হল। সবাই তাকে রেখেই মেহেদী নিয়েছে। রোহানা ইনায়া কে দেখে বলল,
"ইনায়া আপু 5 মিনিট বলে গেছে। এখন আসার সময় হল।
ইনায়া রাঙ দেখিয়ে বলল,
"শাড়ি গিয়েছি ভালো করেছি। না গেলে জানতাম না তোরা এত স্বার্থপর
পাশ থেকে আমেনা বলল,
"কেন আমরা আবার কি করলাম?"
"আমি একটা নিয়ে গেছি আর তোরা হাত ভর্তি মেহেদী লাগিয়ে বসে আছিস।"
সবাই ইনায়ার উপর বিরক্ত হল। ইনায়ার জন্য মেহেদী আর্টিস্ট রা এখনও যেত পারে নি।করণ রফিকুল ইসলামের আদেশ যত টাকা লাগবে লাগুক তবুও যেন ইনায়া কে মেহেদী পড়ানো হয়। অবনি এইবার বিরক্ত বলন,
"বাদ দে তো।তোর জন্য মেহেদী আর্টিস্টরা এখনও বসে আছে তোড়াতাড়ি মেহেদী টা লাগিয়ে ওনাদের বিদায় কর ওনারা বিরক্ত হচ্ছেন।"
"আজব আমি কি ওনাদের বসে থাকতে বলছি?"
"তুই বলতে যাবি কেন?আমার বাপ বলছে তুই মেহেদী আর্টিস্টদের আনানোর কথা বলেছিস।তাই বাবা যত টাকা লাগুক তবুও যেন তোকে মেহেদী পড়ানো হয়।হাজার হলেও তুই ১৪ গোত্রের মধ্যে বড় না।"
"ও তালে তুই আমাকে বড় বলে মানিস।"
তোহানা মাঝখান থেকে বলল,
"তোমরা এসব বাদ দাও তো। ইনায়া আপু তুমি তোড়াতাড়ি মেহেদী লাগাও আর তুমি নাচ গান মজা করার বাকি আছে। আমাকে রাতে আমরা কেউ ঘুমাবো না।"
"হুম।তোরা শুরু করতে থাক ততক্ষণে আমার মেহেদী লাগানো শেষ হয়ে যাবে।"
___
রাত ১১ টার পরে ইয়াশ রা খান বাড়িতে প্রবেশ করেছে। লিনাহের ঘরোয়া ভাবে হলুদ দেওয়া হয়েছে আপাতত।এখন নাচ গান করার ইয়াশ বাসায় ফিরে শোয়ার নিয়ো নিয়ে এসে বলছে কিন্তু ইয়াশ যাবে না বলে নাকোচ করছে।আদি জানে ইয়াশের মুখ দিয়ে না কে হ্যা বলানোর শক্তি কারও নেই।তাই সে হতাশ হয়ে চলে গেছে।
রাত 12 টার পর ইয়াশের ফোনে একটা মেসেজ আছে। ফেসবুকে কেউ ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিয়ে মেসেজ রিকুয়েস্ট দিয়েছে।সে মেসেজ রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে।একটা মেয়ে।আইডির নাম আইরিন। মেসেজ পাঠিয়েছে।
"বাবুর আব্বু কেমন আছে? আমাকে আর আপনার বেবি
কে ভুলে কিভাবে আছেন? কষ্ট হয় না আমাদের জন্য?"
এই মেসেজ পড়ে তো ইয়াশ বিষম খেয়ে যায়। তারপর রিপ্লাই দেয়,
"আপনি কে?
"আমি কে জিজ্ঞাসা করছেন। আল্লাহ এসব শোনার আগে
মরে গেলাম না কেন? আমি আপনার বাচ্চার মা।"
"আমি তো বিয়েই করলাম না বাবা হলাম কিভাবে?"
"আপনি তো অস্বীকার করবেনই। বাচ্চার খাবারের টাকা
টা পর্যন্ত দেন না। কত দিন নিজের বউকে শ্বশুর শাশুড়ির
কাছে রাখবেন কিভাবে নিয়ে যেতে পারবেন না।"
,
আজকে ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ, অবনির বিয়ে। চারিদিকে
হইচই ভরে আছে। আজ শুক্রবার তাই বাড়ির পুরুষরা
সবাই মসজিদে গেছে নামাজ পড়তে সন্ধ্যা ৪ টার দিকে বর
যাত্রী আসবে।
ইয়াশ শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসেছে। সে এখন নামাজ
পড়বে। নামাজ পড়ে অবনির ঘরে যাবে ওকে দেখতে। দুপুর ২ টার পর পালির থেকে সাজাতে আসবে। তাই ফ্রুত
নামাজ পড়ে অবনির ঘরে যেতে হবে।
খান বাড়ির সবাই নামাজ পড়ে এসেছে সবাই রেডি হয়ে
প্রস্তুতি নিচ্ছে। রোদেলা আর মিষ্টি আজকে এসেছে।
লিহাবের বিয়ে উপলক্ষে ইয়াশের সব বন্ধুরাই এসেছে। তবে
রোদেলা আর মিষ্টি আজকে এসেছে। সবাই রেডি হয়ে বড়
যাত্রীতে যাবে বলে।
কিন্তু ইয়াশ আর আদি বে পাত্তা। রোদেলা গিয়ে ইয়াশের
বাবা মাকে সালাম দেয় পাশে তালহা খান কে সালাম দেয়।
সালাম দিয়ে ইয়াশের মা কে জিজ্ঞাসা করে,
"আন্টি ইয়াশ কোথায়?"
"জানি না রে মা!
পাশ থেকে আদির মা বলে উঠলো,
“আর বলো না রোদেলা। আমার বাদরটা আর ইয়াশ বাবা এখনও বাসায় ফিরে নি।"
রোদেলা কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করে,
“কোথায় গেছে আন্টি?”
“জানি না! মসজিদে থেকে ফেরে নি।”
—ওহ।
ইয়াশের মা ইমুকে ডেকে বলে,
“ইমু, ওদের কে তোর রুমে নিয়ে যা।
তারপর রোদেলা আর মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমরা ইমুর রুমে গিয়ে ফ্রেস হও। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে পর তোমরা ও তো বর যাত্রীর সাথে যাবে।
ইমু, মিষ্টি, রোদেলা তানিয়া খানের কথা মত যাগ্গা প্রস্থান করে।
ইনায়া নামাজ পরে এসে দেখল পার্লার থেকে এসে গেছে অবনি কে সাজানোর জন্য। অবনি ইনায়ার কাছে কান্না মাখা কন্ঠে বলল,
“ইনায়া আমার আগে তোর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমার বিয়ে আগে হচ্ছে। আমার খুব কষ্ট লাগছে জানিস।
“বাদ দে ভাই।আমি কি অখুশি নাকি !তোর আগে বিয়ে হচ্ছে হোক।তোদের বিয়ের ব্যবস্থা আমি করেছি, এখন তুই কান্না করে আমাকে ভিলেন বানাচ্ছিস।”
“না রে তোদের কে ছেড়ে কিভাবে থাকবো ভাবছি।
বাবা, মা, আবিদ, বড় ফুপু,ছোট ফুপু, তুই, ঈশা কে ছাড়া কিভাবে থাকবো।
“তোকে তো ঢাকায় নিয়ে যাবে সেখানে আমি থাকবো।
প্রায়ই তোর সাথে দেখা হবে।লক্ষী বোন আমার কান্না করিস না।তুই কান্না করলে আমার কলিজা কাঁপে।"
পাশে থেকে ঈশানা বলল,
“অবনি আপু কান্না করো না।আমরা তো ঢাকায় তো থাকবোই।আপু তো ঠিকই বলেছে।তুমি কোন চিন্তা করো না আমি আছি না সব সামলে নেবো।"
মাত্র ১২ বছরের মেয়ের মুখে থেকে এত বড় বড় কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো। অবনি বলল,
"ওরে পাকা বুড়ি একটা। আমার এই ছোট বোন টা আমাকে কত ভালোবাসে।"
ঈশা উত্তরে বলল,
"হুম, অনেক।
To be continue..........