#প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত
#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন_মহুয়া
#পর্ব_৫
_________
🚫কপি করি যাবে না🚫
অবনি কে পার্লারের লোকেরা সাজাচ্ছে। ইনায়া অবনির প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো দিয়ে নিজে রেডি হতে গিয়েছে। মূলত সে বর যাত্রী আপ্যায়ন করবে তাই তাকে আগেই রেডি হতে হবে।
ইনায়া কে কেউ বলেনি বর যাত্রী আপ্যায়ন করার কথা। অন্য কেউ করতো হয় তো। কিন্তু ইনায়া আয়েশা বেগমের কাছে আবদার করে এই কাজটা সে করবে। তিনি প্রথমে রাজি হন নি। ইনায়া বাচ্চা স্বভাবের। কি থেকে কি করবে তার ঠিক নেই। কিন্তু পরে ভাবলেন। ইনায়া যতই বাচ্চা স্বভাবের হোক কোন কাজ দিলে নিজের মনে করে করবে। তাতে আয়েশা বেগম একটু স্বস্তি পেল। কারণ বর যাত্রী আপ্যায়ন করলে বাড়ির মেয়েরা করে। ইনায়া যদি না বলতো, তবে তিনি পাশের বাসার কাউকে বলতেন। বাড়ির আচার অনুষ্ঠানে বাইরের মানুষ পালন করবে। এইটা শোভা পায় না। তাই তিনিও রাজি হয়ে গেলেন। শুধু হাসি মুখে একটা কথা বললেন আয়েশা বেগম,
-"অনেক বড় দায়িত্ব নিলে কিন্তু। তোমার মামা-মামনির মান-সম্মান রেখো। খেয়াল রেখ আপ্যায়নে যেন কোন ত্রুটি না হয়। ওই বাড়ির কেউ যেন আঙুল তুলতে না পারে। কেমন!
ইনায়া হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে বলেছিল,
-"তুমি কোন চিন্তা করো না মামনি। আমি আর যাই করি তোমাদের মান সম্মান নষ্ট হবে এমন কিছু করবো না। এইটুকু বিশ্বাস রাখতে পারো।
ইনায়ার বর যাত্রী আপ্যায়ন করার পিছনে একটা বড় কারণ আছে। অন্য সবাই থাকলে গেট ধরতে পারতো না। তাই রোহানা, তোহানা আরও কাজিন রা মিলে ইনায়া কে এই কাজে রাজি করায়।
প্রথমে ইনায়া ভেবেছিল এইসব কাজে যাবে না। পরে ভাবলো বিয়ে বাড়ির আসল মজাই তো গেট ধরা। তারপর সেও রাজি হয়ে যায় তারপর আয়েশা বেগম কে রাজি করায়।
বিকেল 4 টার উপরে বাজে তবে আদি আর ইয়াশ এখনও আসেনি। সাফিকুল খান নিজের ছেলের কান্ডে বিরক্ত হচ্ছেন। তার ভাইয়ের ছেলের বিয়ে অথচ তার ছেলের আসার নাম নেই। তারা একটু আগে বের হতে চেয়েছে। যদি রাস্তায় জ্যামে পড়ে। কিন্তু এই দুই গাধা বে পাত্তা। সাফিকুল খান খুব চোটে গেলেন। তিনি বললেন,
-"ওই দুটো নিজের মত চলে যাবে। তোমরা বের হওয়ার প্রস্তুতি নাও। ওদের জন্য ওয়েট করতে হবে না কাউকে। আমরা গাড়িতে যাবো। ওদের কাছে বাইক আছে বাইকে করে যাবে। তো ওরা ওদের মত পরে চলে যাবে।
সাফিকুল খানের মুখের ওপর কথা বলার সাধ্য কারও তাই সবাই রেডি হচ্ছে। সোহাগ, রাজ, সামির, রোদেলা, মিষ্টি কেউ জানে না আদি আর ইয়াশ কোথায়। ইয়াশের বাবা যখন আদেশ দিয়েছে তাই ওরাও রেডি হতে গেছে। বিশেষ করে রোদেলা।
সাফিকুল খান বলার সাথে সাথে রোদেলা রেডি হতে গেছে। বেচারি নিজেকে এই বাড়ির বউ ভাবছে। সে ভাবছে হয় তো সাফিকুল খান আর তানিয়া খানের প্রিয় হতে পারলে সে ইয়াশের বউ হতে পারবে হয় তো।
4:40 এর দিকে বর যাত্রী বেরিয়ে পরে। ঠিক তার 10 মিনিট পর আদি আর ইয়াশ বাসায় ফিরে। তানিয়া খান ইয়াশ কে শুধিয়ে বলে,
-"কোথায় ছিলি তোরা? লিহাবরা তো বের হয়ে গেল মাত্র।
ইয়াশ প্রচন্ড রেগে আছে। কিন্তু মায়ের সাথে ভালো ভাবে কথা বলল,
-"একটু কাজ ছিল আম্মু। খুব জরুরি। তাই না গিয়ে পারলাম না।
-"তোরা কি বিয়ে বাড়িতে যাবি না নাকি?
ইয়াশ কে কিছু বলতে না দিয়েই আদি বলল,
-"হ্যাঁ খালা মনি। আমরা যাবো। এক্ষুনি রেডি হয়ে বের হচ্ছি। বাইক নিয়ে যাবো আমরা সময় কম লাগবে।
-"আচ্ছা।
বলেই তানিয়া খান চলে গেলেন। তানিয়া খান চলে যেতেই ইয়াশ কটমট দৃষ্টি তে তাকালো আদির দিকে। এরপর আদির কলার ধরে বলল,
-"যাবো বললি কেন? যেতে হলে তুই যা। আমি যাবো না।
-"ইয়াশ তুই কিন্তু বাড়াবাড়ি করছিস। তুই চল। ওকে বাগে পেতে হলে আগে চল ওইখানে যাই। বোঝার চেষ্টা কর ওইখানে গেলেই সুবিধা হবে।
ইয়াশ কিছু বলল না চুপচাপ উপরে নিজের রুমে চলে গেল।
—
বিয়ে বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বর যাত্রী আপ্যায়ন করা মুখ্য নয়। বরকে আপ্যায়ন করা মুখ্য। বড়দের কে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাজ ভিলার গেটের সামনে একটা বড় ফিতা ঝুলছে। দৌড় প্রতিযোগিতায় যেমন ফিতা থাকে ঠিক তেমন। তার সামনে একটি টেবিল বসানো হয়েছে। যেখানে ৬ রঙের জুস আছে। বিভিন্ন রঙের বরকে খাওয়ানোর জন্য। ইনায়া যেহেতু বর আপ্যায়ন করবে তাই সবাই কে সরিয়ে ও সামনে আসলো। ঠিক তখনই ইয়াশ আর আদি বাইক নিয়ে থামলো। পুরো হিরোর মত এন্ট্রি। রোদেলা দেখে পুরো ফিদা। এন্ট্রি টা ইনায়ার ভালোই লেগেছে যখন দেখলো সে ইয়াশ তখন খুব বিরক্ত লাগলো।
রোদেলা ইয়াশের কাছে গিয়ে ন্যাকামি করে বলল,
-"ইয়াশ তোমার আসতে এত লেট হলো কেন? আঙ্কেল খুব রেগে আছে তো।
ইয়াশ কিছু বলল না। রোদেলার বেশি বেশি কেয়ার ইয়াশের পছন্দ না।
এসব দেখে ইনায়ার খুব রাগ হচ্ছে। কিন্তু কেন হচ্ছে সেটা ইনায়া নিজেও জানে না। তাই সে বিরক্তি স্বরে বলল,
-"এই যে মিস্টার ভিলেন! এখানে আপনার ভিলেন গিরি দেখতে আসি নি। আপনার ভিলেন গিরি পরে দেখাবেন।😒
ইয়াশ কে ভিলেন বলে সম্বোধন করার সবার কেন্দ্র বিন্দু এখন ইনায়া। সবাই কে এভাবে হা করে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বিরক্ত হল ইনায়া। সে আবার বিরক্ত স্বরে বলল,
-"কি হলো। সবাই হা করে তাকিয়ে আছো কেন?
লিহাব একটু বেশিই অবাক হয়েছে। কারণ সে ইনায়া কে চেনে। এইভাবে একটা ছেলের সাথে কথা বলতে দেখেনি কখনও। তাই লিহাব ভ্রু কুচকে বলল,
-"ইনায়া আপু! তুমি ভাইয়া কে মিস্টার ভিলেন বললে কেন?
-"আমি কি ওনার নাম জানি যে নাম ধরে বলবো। আর খারাপ কি বলেছি ভিলেন তো ঠিকই আছে। তোর ভাই যে ধরনের মানুষ তাতে ভিলেনই বেস্ট নাম ওনার জন্য।
ইয়াশ এমনেই ইনায়ার উপর রেগে আছে। তার মধ্যে ইনায়ার এমন ত্যাড়া কথায় আরও বিরক্ত হল। সে কিছু বলতে যাবে তখন ইনায়ার পানে তাকাতেই কথা বলার ভাষা হারিয়ে গেল। মেয়ে টা আজ নীল রঙের শাড়ি পড়েছে। হালকা মেকআপ, লিপস্টিক, কাজল আর খোলা চুলে আজকেও অপরূপ সুন্দর লাগছে।
ইয়াশ শুধু ভাবে কি আছে এই মেয়ের মধ্যে। দেখলেই মন শান্ত হয়ে যায়। আর শাড়ি পড়লে কেন মারাত্মক সুন্দর লাগে! একবার দেখলে চোখ ফেরানো যায় না। ইয়াশ এমন ভাবে ঘামছে যেন আগ্নেয়গিরির উপর ওকে রাখা হয়েছে। ইয়াশ ইনায়ার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। মেয়েটার মুখের মিষ্টি হাসিই ছিল ইয়াশ কে পোড়ানোর প্রথম ধাপ। ইয়াশ নিজেকে ধাতস্থ করে বলল,
"আমার নাম তাসফিন খান ইয়াশ।
নাম টা শুনে চমকে উঠল ইনায়া। কিছু একটা মনে পড়ল ওর। হঠাৎ ই ইনায়া খুব ভয় পেয়ে গেল। ইনায়া ঘামছে এখন মনে হয় ভয়ে। ইয়াশ কিছু বুঝতে পেরেছে হয় তো। তারপর একটু রসিকতার ছলে বলল,
-"বেয়ান সাহেবা! এই গরমটা কি বেশি ঘেমে যাচ্ছেন যে?
তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে নিজেও শান্তি পান আমাদের ও শান্তি দিন।
ইনায়া কি বলবে বুঝতে পারছে না। কাপা কাপা গলায় শুধু বলল,
-"তো...তো....তোহানা। সব রেডি তো?
তোহানা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। তারপর রোজা লিহাব কে বললো,
-"দুলাভাই চয়েজ করেন।
লিহাব ভ্রু কুচকে বলল,
-"কেন?
-"এটাই নিয়ম। চয়েজ করতে হবে আর যেইটা চয়েজ করবেন সেটা ইনায়া আপু আপনাকে খাওয়াবে।
ইনায়া খাওয়াবে শুনে ইয়াশ ভ্রু কুচকে বলল,
-"কেন? কেন? আমার ভাইয়ের কি হাত নেই যে একটা মেয়ে তাকে খাওয়াবে।
পাশে থেকে রোদেলা ইয়াশ কে বলল,
-"ইয়াশ এমন করছো কেন? এইটাই নিয়ম। নতুন বর কে খাওয়াতে হয়।
ইনায়া একটু ভয়ে ছিল কিন্তু এই মেয়ের ন্যাক্যামো দেখে রাগ বেড়ে গেল। কি এমন সম্পর্ক এর ইয়াশের সাথে যে এত ক্লোজ। রাগে তেলে বেগুনে জ্বলছে মেয়েটা। কিন্তু কেন? তার উত্তর নেই ইনায়ার কাছে। এইবার নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে ইনায়া বলে উঠলো,
-"দেখুন মিস্টার ভিলেন থুক্কু ইয়াশ!
পুরো কথা বলার আগেই ইয়াশ বলল,
-"কি দেখতে বলছেন মিস।
-"আপনার আর এই আপুর যদি পিরিত করতে হয় তবে অন্য যায়গায় যান। এখানে এসব অসভ্যতামো চলবে না।
-"অসভ্যতামো কি দেখলে আপনি। আরও অভদ্র হবো।
-"আপনার কি লাজ লজ্জা বলতে কিছু নেই?
-"আমার লাজ লজ্জা আছে তোমার ম্যানার্স নেই।
আদি দাড়িয়ে কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বিরবির করে বলছে ,,
-"এরা কি ইয়াশ ঠিক 15 মিনিট আগেও যেই মেয়ের উপররেগে ছিল। এখন তার সাথে মজা করে কথা বলছে। এদের নিয়ে আর পারি না। এদের কি আসলেও মিল হবে। এরা যা ঝগড়া। ঝগড়া করার জন্য এওয়ার্ড দিলে এরাই প্রথম হতো। 🤦"
ইয়াশ ইনায়ার ঝগড়া দেখে সবাই অবাক। রোদেলা একটু বিরক্ত হচ্ছে। এই মেয়ে ইয়াশের সাথে যে চেয়ে পড়ে কেন কথা বলছে। রোদেলা বিরক্ত স্বরে ইনায়া কে বলল,
"আপু। তুমি শুধু শুধু ওর সাথে লাগতেছো কেন? আ....
রোদেলা আরও কিছু বলবে তার আগেই একটা পুরুষালি কণ্ঠ ওকে থামিয়ে দেয়।
"তুই আমাদের মাঝে ঢুকিস না রোদেলা।
রোদেলা চুপ হয়ে যায়। কারণ ইয়াশের মুখের ওপর কথা বলার সাহস ওর নেই। তাই আর কিছু বলল না।ইনায়া তো মুখ বাঁকিয়ে বিরবির করে বলল,
-" শালী এমন ভাবে কথা বলছে যেন ওর ভা*তা*র এর সাথে আমি ঝগড়া করছি।
_____
ভেতরে সাফিকুল খান, তালহা খান আর বয়স্ক কয়েক জন বসে রয়েছে। তারা এসেছে ৩০ মিনিট হল তবুও কেন লিহাব রা ভেতরে ঢুকছে না। সাফিকুল খান বিরক্ত হয়ে বলছেন,
-"তালহা। ছেলেদের কি কম টাকা দিয়েছিস?
-"না। কেন ভাইয়া?
-"টাকা যখন দিয়েছিস, তাহলে এখনও ভিতরে ঢুকলো না কেন?
-"একটু ওয়েট করো। আমি দেখে আসছি।
-"আচ্ছা যা। লাগলে আরও টাকা দিস তবুও তাড়াতাড়ি লিহাব কে নিয়ে আয়।
-"আচ্ছা ভাইয়া।
বলেই তালহা খান বাইরের দিকে গেলেন। লিহাব দের কেন আসতে দেরি হচ্ছে তাই দেখতে। তালহা খান ভাবছেন বাচ্চারা হয় তো গেট ধরেছে আর তার ছেলে টাকা দিচ্ছে না। তাই তিনিই যাচ্ছেন ঝামেলা মেটাতে।
তালহা খান এসে দেখলো ইনায়া লিহাব কে জুস খাওয়াচ্ছে। তিনি এগিয়ে গিয়ে বললেন,
-"দেরি হচ্ছে কেন লিহাব? ওরা যা টাকা চেয়েছো তাই দিয়েছো না কি ওদের সাথে তর্ক করেছো যে এত দেরি হলো!
লিহাবের এখন হাত পা ছুড়ে কান্না করতে ইচ্ছা করছে। ঝামেলা করল তাদের বাড়ির বড় ছেলে আর দোষ আসছে তার উপর। এই ঝামেলার মাঝে তার বিয়ে হতে দেরি হচ্ছে।
-"কোন সমস্যা হয় নি আঙ্কেল। ভুল টা আমাদের হয়েছে। সরি।
ফট করে বলে উঠলো ইনায়া।
-"তোমার মত মেয়ের মুখে সরি মানায় না। তোমার মুখে হাসি মানায়।
-"তবুও আঙ্কেল ভুলটা আমাদের। আপনি ভিতরে যান এখনই আমি ওদের নিয়ে আসছি।
-"ঠিক আছে।
বলেই তালহা খান চলে গেলেন।
তালহা খান চলে যেতেই ইনায়া বলল,
-"দেখলি তোর ভাই কে বাঁচিয়ে দিলাম। এখন বেশি টাকা দিবি। নয় তো বিয়ে ক্যান্সেল।
-"এই যে মিস! কথায় কথায় বিয়ে ক্যান্সেল করার ভয় দেখাও কেন?
-"তুমি চুপ করো।লিহাব নে ভাই জুস টা খা।
মিষ্টি পেছনে থেকে বলে,
-"লিহাব সাবধান কিন্তু!কনে পক্ষের জুস।
-"আরে আপু আমরা এত খারাপ না।(রোহানা)
-"উহুম!তোমাদের বিশ্বাস নাই!(রাজ)
-"বিশ্বাস করতে হবে না।নে লিহাব খা,না খাইলে তোর বিয়ে করা হবে না।(ইনায়া।)
লিহাব জুস টা চুপচাপ খেয়ে নিল।ভেবেছিল কমলার জুস হবে।কিন্তু সেইটা হলুদের জুস ছিল।খেয়ে মুখটা চুপসে গেল।লিহাবের অবস্থা দেখে বলল,
-"আয় হায় দুলাভাই তো আমার হলুদের জুস খেয়েছে।মিষ্টি আন তাড়াতাড়ি।
-"এই যে মিষ্টি (আদি মিষ্টি কে দেখিয়ে বলল)
সবাই হেসে দিল।তোহানা মিষ্টি আনলো।লিহাবের মুখে তুলে দিতেই মিষ্টি খেল।কিন্তু মিষ্টির মধ্যে লঙ্কা ভরা ছিল।খেয়ে ঝাল ধরল লিহাবের।
এরপর ইনায়া বলল,
-"কি হলো টাকা টা বের করেন?
লিহাব কাপা কাপা গলায় বলল,
-"ক""কত""টাকা। দেবো ইনায়া আপু!
-"এমা।জামাই তো তোতলাচ্ছে।ইনায়া আপু এর সাথে তো আমাদের বাড়ির মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না।
-"আরে চাপ নিস না। অবনি সামলাতে পারলেই চলবে।সংসার তো ও করবে আমরা না।
ভাই বেশি না ওনলি 30 থাউজেন্ড দে এতেই আমাদের বোনকে পেয়ে যাবি।
30 হাজার শুনে লিহাব একটা বড় ধাক্কা খেল। এত টাকা দিতে হবে। সে ইনায়া কে করুণ কণ্ঠে শুধিয়ে বলল,
-"আপু একটু কমালে হয় না।
-"না!(তোহানা)
-"30 থাউজেন্ড টাকায় জামাই বানাচ্ছি আবার কম করতে বলে।ছিঃ! (ইনায়া)
-"তোমার কি টাকা নাই নাকি যে নতুন বরের কাছে ভিক্ষা করছো।
ইয়াশ ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলছে আর ইনায়া চটে যাচ্ছে। আর এদিকে লিহাবের লস হচ্ছে।
-"এই শা*লা। তোর ভাই কে চুপ থাকতে বল। আর টাকা দিবি নাকি আরও বাড়াবো। আর টাকা না দেওয়া পর্যন্ত চান্দু তুমি বিয়ে করতে পারবে না।
লিহাব কি করবে বুঝতে পারছে না। সে ইনায়া কে বলল,
-"আগে বিয়ে করি তারপর তোমাদের রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে খাওয়াবো।
-"ইনায়া বাকি তে কাজ সারে না। যা যা করবে নগদ।
"ম্যাডাম আসেন আমি আপনাকে নগদে সব দিচ্ছি।
পিছনে থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ শুনে পিছনে তাকালো ইনায়া। সে আর দেরি না করে লোকটাকে জরিয়ে ধরে বলল,
-"ফাহিম ভাই। কেমন আছো তুমি?
ফাহিম ইসলাম ইনায়ার মৃত মামা ফারিদ ইসলামের ছেলে। ইনায়ার নানার পালিত সন্তান ছিল ফারিদ। কিন্তু এই বাড়ির ছেলের মত থাকতো। কিন্তু ১০ বছর আগে তার বাবা আর মা রহিমা বেগম একটা দুর্ঘটনায় মারা যায়। তার পর থেকে সে বিদেশে থাকে। আজ অবনির বিয়ের জন্য এসেছে।
-"আলহামদুলিল্লাহ! আপনি কেমন আছেন ম্যাম?
-"আলহামদুলিল্লাহ, ফাহিম ভাই! আজকে আসলে তুমি? আর দুই দিন আগে আসতে।
-"সরি ম্যাডাম! ভুল হয়ে গেছে।
-"বাদ দাও তো। আমার জন্য চকলেট এনেছো।
ফাহিম কিছু বলার আগেই ইয়াশ বলল,
-"আপনাদের ড্রামা শেষ হলে আমার ভাই টাকে ভিতরে নিয়ে যেতাম।
-"ভাইয়া পরে কথা বলি ভিতরে যাও।
-"ম্যাডাম! কাজটা শেষ হলে কিছু খাবার খাবার নিয়ে আমার রুমে আইসেন?
,
To be continue.......