ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের শেষ কিস্তিমাত

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: Farzana Yesmin

#প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত

#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন_মহুয়া

#পর্ব_৬

🚫কপি করা যাবে না🚫

_________

"আচ্ছা! তুমি যাও আমি এক্ষুনি আসছি।

ইয়াশের খুব রাগ হচ্ছে। সে ইনায়ার সাথে ছেলে টার ঘনিষ্ঠতা কেন যেন সহ্য করতে পারছে না। আবার ছেলেটা নাকি ইনায়া কে নিজের রুমে যেতে বলছে। রাগে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করল সে। তার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বাইক নিয়ে বের হয়ে পড়ে।

—

ইয়াশ সেই বের হয়েছে এখনও ফিরে নি। এদিকে কাজি সাহেব চলে আসবে বিয়ে পড়ানোর জন্য। আদি একটানা ফোন করে যাচ্ছে। কিন্তু ইয়াশ ধরছে না। আদি বিরক্ত হয়ে বিরবির করল,

"শা*লা! ঘাড়ত্যাড়া একটা। ফোন ধরে না।

"ফোন নাম্বার টা আমাকে দিন তো।

একটা মেয়েলি কণ্ঠ পেয়ে পিছনে তাকাল আদি। দেখ যে ইনায়া। সে ভ্রু কুচকে বলল,

"কেন?

"আপনার ঘ্যাড়ত্যাড়া বন্ধুর জন্য কি আমার বোনের বিয়ে টাও হবে না। দেন একটু কথা বলব।

"আচ্ছা দেবো। তবে ওর সাথে ভালো করে কথা বলতে হবে। বেশি রাগ হলে বাইক চালাতে কষ্ট হবে।

"আমার ওপর ভরসা রাখতে পারেন।

আদি ইনায়া কে ইয়াশের নাম্বার দিল।অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসতেই ইয়াশ ঠিক চিনলো না!তবুও ফোন ধরল।ফোন কানে নিতেই কেউ বলল,

"হ্যালো। আপনি কোথায় আছেন?

মেয়েলি কণ্ঠ টা চিনতে ইয়াশের কষ্ট হল না। সে বুঝতে পারল মেয়েটি ইনায়া।প্রেয়সীর কন্ঠস্বর না চিনতে পারলে তবে সে কেমন পুরুষ।ইয়াশ ইনায়ার কন্ঠটা চিনতে পেরেছে।ফোনের ওই পাশে থেকে আবার ইনায়া বলল,

"এই যে!

"হুম।

খুব করুণ কণ্ঠে বলল ইয়াশ।

"তাড়াতাড়ি ফিরে আসেন। সবাই অপেক্ষা করছে। প্লিজ আসুন।

"only 10 minutes.

বলেই ইয়াশ ফোন কেটে দিল।সারাদিন ইয়াশের সাথে বাহিরে থাকায় খাওয়া দাওয়া হয় নি আদির। ইয়াশ ও কিছু খায় নি। আদি দেখল ইমু কোথায় যেন যাচ্ছে। আদি মিষ্টি স্বরে ইমু কে ডেকে তার কাছে আসতে বলল,

"জ্বী! বলো! কি বলবে।

"ইয়াশ কোথায় জানো পাখি?

"হুম। ডয়িং রুমে বসে আছে।

"ও আচ্ছা। তুমি একটা কাজ করতে পারবে!

"কি কাজ আদি ভাই?

ভাই শুনে আদির বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। সে আহত গলায় বলল,

"আবার ভাই! তুমি তো সবার সামনে ভাই বল সেটা সহ্য করতে হয় অনেক কষ্টে। প্লিজ এখন বলো না। এখানে কেউ নাই।

"যদি ভাইয়া তোমার সাথে আমার বিয়ে হতে না দেয়।

"তোমার ভাইয়া কে রাজি করানোর জন্য একটা মিষ্টি মেয়ে আছে। যার সামান্য কথায় তোমার ভাইয়া গলে যাবে লাল পরী।

ইমু একটু ভাবুক গলায় বলল,

"কে? রোদেলা আপু নাকি।

"না সময় হলে সব জানতে পারবে।

"আচ্ছা তো কি বলবে বলছিলে।

"সারাদিন বাইরে থাকায় কিছু খাওয়া হয় নি। একটু খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবে।

আদি খায় নি বলে চিন্তিত হয়ে বলল,

"হায় আল্লাহ! তুমি এখনও খাওনি। এতক্ষণ এসেছো! আগে বলবে না।

"তোমার তো দেখাই পাই না। আর একটা কাজ কর ইনায়া কে তো চিনো ওকে একটু ডাক দাও।

"কেন ইনায়া আপুকে কি দরকার?

ইমু একটু রাগী স্বরে বলল। আদি ইমু কে বোঝানু স্বরে বলল,

"লাল পরী একটা কাহিনী আছে পরে বলবো। আগে ইয়াশ কে খাওয়াতে হবে। তাই ইনায়া কে লাগবে।

"ভাইয়া যে রকম মানুষ ইনায়া আপুর কথা শুনবে নাকি।।

"আহ্! তুমি ডাকো। আমি কথা বলবো।

"আচ্ছা।

বলেই যেই ইমু যেতে চাইলো। সে দেখলো ইনায়া এদিকে আসছে। সে ইনায়া কে ডেকে বলল,

"আপু! ইনায়া আপু! আদি ভাই তোমার সাথে কথা বলবে।

ইনায়া এগিয়ে এসে আদি কে উদ্দেশ্য করে বলল,

"আমরা এই বাড়ির গেস্ট তো একটা হেল্প করবে।

"জ্বী বলেন! চেষ্টা করবো করার।কিন্তু আপনারা তো আবার ছেলে পক্ষ বিশ্বাস নাই!

"ড্রয়িং রুমে ইয়াশ বসে আছে তো ওকে একটু খাবার এনে দিবে। সকাল থেকে বাসায় ছিল না খাওয়া দাওয়া হয় নি। খুব চাপা স্বভাবের। তাই কাউকে বলছে না। আমরা তো এই বাড়ির কাউকে তেমন চিনি না। তোমার সাথে পরিচয় টা ভালো। তাই বললাম। কিছু মনে করো না।

"আরে না কিছু মনে করবো না। আপনারা গেস্ট আপনাদের আপ্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।

"আর হ্যাঁ। একটু ভালো করে বলবে। ওকে এভাবে খেতে বললে খাবে না। না করলেও জোর করে খেতে বলো।

"আপনার বন্ধুর সব কিছুতে এত প্রবলেম কেন?😒

"প্লিজ রাগ করো না!

"না রাগ করে কি করবো। আপনারা গেস্ট তাই কিছু করার নাই। যতটুকু পারবো চেষ্টা করবো।

"thanks...

ইনায়া চলে গেছে। ইমু আদি কে চিমটি কেটে বলল,

"কেসটা কি বলো তো আমার পার্সোনাল রকস্টার।

"আগে তোমার রকস্টার কে খাবার খেতে দাও। খেতে খেতে সব বলবো।

—

"নিন! খাবার টা খেয়ে নিন। আপনি তো সারাদিন কিছু খাননি।

ইনায়ার কথায় ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করল ইয়াশ,

"তোমাকে কে বলল?

ইনায়া আমতা আমতা করে বলল,

"স...স...বাই বলা..বলি করছে তাই শুনেছি। আপনি আমাদের গেস্ট তাই ভদ্রতার খাতিরে বললাম।

"খাবো না।

"আপনি খাবেন না তো আপনার ঘাড় খাবে।

"কেন অধিকার দেখাচ্ছো।

"না না! আমি কিসের অধিকার দেখাবো।

"না এমনেই বললাম।

বলেই ইয়াশ খাওয়া শুরু করলো। ইয়াশ কে খেতে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল ইনায়া। যেন একটা অসাধ্য সাধন করছে।

"আপনি খান,,,আমি গেলাম।

বলেই এক দৌড়ে চলে গেল ইনায়া। ইনায়ার আজকে কেমন যেন লাগছে। ইয়াশ কে দেখতে ওর কেন এত ভালো লাগছে। এমনেতেই দেখতে মাশাল্লাহ! কিন্তু ইনায়া তো তাকে পছন্দ করে না। তাহলে কেন এই অনুভূতি।

"ইনায়া!

পরিচিত কণ্ঠ পেয়ে বলল,

" হুম!"

"তোকে না কখন বললাম আমার জন্য একটু খাবার নিয়ে আমার ঘরে আসতে। আমার ক্ষুধা পেয়েছে।

"সরি ফাহিম ভাই! এত কাজের মধ্যে খেয়াল ছিল না।

"ওহ্! সব খেয়াল থাকে আমি বাদে। তাই তো।

রাগ করো না। আমি এক্ষুনি খাবার নিয়ে আসছি। তুমি রুমে যাও।

বলেই ইনায়া খাবার আনতে গেল ফাহিম বিরবির করে বলল,

"আমি বাদে দুনিয়ার সব খেয়াল থাকে তোর। আমার খেয়াল কবে রাখতে শিখবি। আমি যে তোকে ভালোবাসি বুঝিস না।

—

ইনায়া খাবার নিয়ে ফাহিম এর রুমে এসেছে। ফাহিম খাচ্ছে। হঠাৎ সে ইনায়া কে জিজ্ঞাসা করলো,

"চাচ্চু বা ফুপা তোর বিয়ের ব্যাপারে তোকে কিছু বলেছে।

"না!

"ওহ্।

"কেন? ওরা কি আমার বিয়ের জন্য প্ল্যানিং করছে। আমি এখন বিয়ে করতে চাই না। প্লিজ তুমি ওদের সাথে কথা বলো।

"তুই চিন্তা করিস না। আমি এমনেই বলছি।

"ওহ্। তুমি খাবার খেয়ে নাও, আমি অবনির কাছে গেলাম।

"যা। কিন্তু তোর চকলেট নিবি না।

"পরে এসে নিবো।

ইনায়া বাচ্চাদের মত দৌড়ে যাচ্ছে। সেটা দেখে ফাহিম বলে উঠলো,

"এই ইনায়া সাবধানে যা। পড়ে যাবি।

"না পড়বো না।

বলেই সিড়ি দিয়ে উঠার সময় হোচট খেল। ফাহিম আসার আগেই ইয়াশ ইনায়া কে ধরে ফেলল। ইয়াশ রেগে ইনায়া কে বলল,

"তুমি কি এখনও বাচ্চা নাকি। পড়ে গেলে কি হত।

"না বাচ্চা না। তাই পড়ে গেলে কিছুই হত না।

"শুধু বয়সে বড় হয়েছো কাজে না।

"আপনার সাথে তর্ক করে টাইম ওয়েস্ট করার মত টাইম আমার নেই!সো বাই!

ইনায়া চলে গেল।ফাহিম রুমে ঢুকে গেছে।ইয়াশ একা একা বিরবির করে বলল,

-" আজাইরা ঢং দেখে বাঁচি না!আমি না আসলে তো ওই ছেলে টা ধরতো।দিবো না ধরতে।আমার যা পছন্দ হয় আমি সেটা নিয়েই ছাড়ি।

তুমি চাইলেও আমার না চাইলেও আমার।যদি সহজ পথে আদায় না করতে পারি তবে অন্য পথে হলেও তোমাকে আদায় করবো আমি!তুমি শুধুই আমার!

যদি নায়ক হয়ে তোমাকে না পাই তবে ভিলেন হয়েই তোমাকে কেড়ে নিবো। it's ইয়াশ!

অবনি লিহাবের বিয়ের পর্ব শেষ।সবাই খাওয়া দাওয়া করেছে।এইবার বউ নিয়ে যাওয়ার পালা।একটু আগেই ঘটেছিল ১৯৭১ সালের যুদ্ধ বরের জুতা নিয়ে।হার কিপ্টাগুলো টাকাই বের করতে চায় না।তালহা খান ধমক দেওয়ার সবাই টাকা দিয়েছে।বাধ্য হয়ে সবাই টাকা দিয়ে জুতা নিয়েছে।

এখন অবনি খানদের বাগান বাড়িতে যাবে।ঢাকা নেওয়ার তো সময় নেই। সব কাজ এখানে থেকে সেরে তারপর অবনি কে নিয়ে ঢাকায় যাবে।কিন্তু যাওয়ার পথে অবনি এখন একটা আবদার করে ফেলেছে।ইনায়া কে ছাড়া সে আজকে যাবে না।সে কিছুতেই বুঝতে চাইছে না ইনায়া তার বড় বোন।বড় বোনের আগে ছোট বোনের বিয়ে শোভা পায় না তবুও ছোট বোনের বিয়ে আগেই হয়েছে।এখন ছোট বোনের শশুর বাড়িতে বড় বোন গেলে খারাপ দেখায় না।হঠাৎ ফাহিম এসে বলল,

-"তোমরা ওকে যেতে দিচ্ছো না কেন?যাক না সমস্যা কি!অবনি এত করে আবদার করছে।

-"কিন্তু.....

ইরাবতী কে থামিয়ে দিয়ে ফাহিম বলল,

-"ফুপ্পি কোন সমস্যা নাই!যাক!আমিও তো সাথে যাচ্ছি!আমার উপর ভরসা আছে তো!

-"ঠিক আছে!ভাইয়া রাজি হলে আমার কোন সমস্যা নাই!

-"আচ্ছা!

রফিকুল ইসলামও রাজি হয়ে গেছেন।আদরের একমাত্র মেয়ের শেষ আবদার করেছে রাখতে তো হবেই।একে একে গাড়ি ছুটলো সবগুলো।কিন্তু ঝামেলা হচ্ছে ইনায়ার বসার মত কোন যায়গায় নেই!এখন সে কিভাবে যাবে?এখন তার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে কেন যে যেতে রাজি হলো।তখনই আদি এসে বলল,

-"যায়গা নেই?

-"যায়গা থাকলে কি এখানে দাড়িয়ে থাকতাম!

আদি থতমত খেয়ে যায়।এই মেয়ের মুখ তো নয় আগুন তুবরি।আদি নিজেকে সামলে বলল,

-"চাইলে ব্যবস্থা করে দিতে পারি!করবো?

-"কিভাবে?

-"বাইকে করে যাবে?

-"হুম!

কে বাইক এনেছে আমার বাইকে ঘুরতে দারুণ লাগে।

একটু কৌতূহল নিয়েই কথাগুলো বলল ইনায়া।কিন্তু আদি যখন ইয়াশের কথা বলল মুখটা চুপসে গেল তার!

-"না যাবো না!

-"কেন?

-"আপনার ওই দজ্জাল বন্ধুর বাইকে উঠার ইচ্ছা নেই আমার!

ইয়াশ এখান দিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু ইনায়া তাকে দজ্জাল বলায় তার ভীষণ রাগ হলো।আপাতত যায়গা টা ফাঁকা।তেমন কেউ নেই।আদি ইয়াশ কে দেখতে পেয়ে চোখ ইশারা দিল যেন এখন কিছু না বলে!ইয়াশ ও পিছনে দাড়িয়ে থাকে তবে কিছু বলে না।আদি ইনায়া কে বুঝিয়ে ইয়াশের সাথে পাঠানোর প্ল্যান করল।অনেক কষ্ট হলেও ইনায়া কে রাজি করাতে পেরেছে আদি।ইয়াশের সাথেই এখন ইনায়া যাবে।

ইয়াশ বাইকে বসল।এরপর স্টার্ট দেওয়ার সময় ইনায়া কে বলল,

-"ধরেন বসেন ম্যাডাম!নয় তো পরে যাবেন!

ইয়াশ ম্যাডাম সম্বোধন করার একটু অস্বস্তি বোধ করছিল ইনায়া।তারপর ইয়াশ আবার বলল,

-"আপনার বাচ্চারা কই?

ইনায়া আমতা আমতা করে বলল,

-"মা..... মানে....?

-"মানে আবার কি কালকে রাতে না আপনি বললেন আপনার বাচ্চা আছে।সেই বাচ্চার বাবা নাকি আমি?

সত্য নাকি!কই আমার বাচ্চারা?🤔

বাচ্চাদের রেখেই বাচ্চার বাপের বাড়ি যাচ্ছেন?লজ্জা করে না আপনার।

একটু থেমে,

"ও হ্যাঁ!আমার বাচ্চাদের নাম কি বউ!

বউ বলায় ইনায়া রেগে বলল,

-" বউ কাকে বলছেন!আমি আপনার বউ না!😒

To be continue.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন