#প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত
#লেখিকা_ফারজানা_ইয়াসমিন
#পর্ব_৮ (প্রথমাংশ)
❌কপি করা নিষিদ্ধ❌
____________________________________________________
__ আচ্ছা এই শহর টা আপনার কেমন লাগে?
__ উম!কেন?হঠাৎ এই প্রশ্ন করলে যে!
__ এমনি!
__ হ্যাঁ!ভালোই লাগে।বাট আসা হয় না।বেউথা ব্রিজের মাতাল হাওয়ায় গেলে মনটা শান্ত হয়ে যায়!
বছরে মাঝে মধ্যে এখানে আসতাম।কিন্তু এখন তেমন আসা হয় না।
বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল ইয়াশ।এরপর ইনায়া কে জিজ্ঞাসা করল,
__ তোমার কেমন লাগে?
__ আমার খুব ভালো লাগে।সারাজীবন যদি এখানে থেকে যেতে পারলে ভালো হতো।কালিগঙ্গা নদীর তীরে বাসা বানিয়ে থাকতাম।একটা সুন্দর বাড়ি বানাতাম।ঠিক নদীর চড়ের পাশে।মন খারাপ হলে জানালা দিয়ে নদী দেখতাম।মন ভালো থাকলে বাহিরে এসে ঘুরে বেড়াতাম।জমিয়ে সংসার করতাম স্বামীর সাথে।এখানে আমার নিজস্ব বাড়ি হবে।
সমাজ বলে মেয়েদের কখনও নিজের বাড়ি হয় না।মেয়েদের দুইটা বাড়ি হয়।বাপের বাড়ি আর শশুর বাড়ি।কিন্তু আমি চাই আমার তিনটে বাড়ি হোক।বাপের বাড়ি,শশুর বাড়ি আর নিজের বাড়ি।
এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলল ইনায়া।আবেগ মাখা ছিল কথাটায়।সে সাধারণত অবনি আর তার বান্ধবী লামিয়া কে ছাড়া অন্য কাউকে নিজের মনের কথা শেয়ার করে না।কিন্তু আজকে হঠাৎ কি হলো তার।ইয়াশ কে এত গুলো মনের কথা বলল।
__ কেমন বাড়ি চাও তুমি?
__ অন্য রকম সবার চেয়ে আলাদা হবে।এমন বাড়ি হবে যা কেউ দেখেনি।
__ আচ্ছা!
__ হুম!
ছোট করে উত্তর দিল ইনায়া।
দেখতে দেখতে ইয়াশ দের বাগান বাড়িতে পৌঁছে গেল ইয়াশ, ইনায়া।ইয়াশ আদি কে দিয়ে ইনায়া কে ভিতরে ঢোকালো।ইনায়া আদিকে দিয়ে ভেতরে চলে গেল। দরজার সামনে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ইয়াশ।
বাইকে ওঠার পরও বারবার তার কানে ভেসে আসছিল ইনায়ার কথাগুলো— "আমি চাই আমার নিজের একটা বাড়ি হোক..."
মেয়েটা খুব সাধারণ একটা ইচ্ছে প্রকাশ করেছে, অথচ কথাগুলো যেন অদ্ভুতভাবে ছুঁয়ে গেল তাকে।স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে মৃদু হাসল ইয়াশ।
— অন্যরকম একটা বাড়ি, তাই না?
নিজের মনেই বিড়বিড় করল সে।তার জীবনে অনেক মানুষ এসেছে, অনেক চাওয়া-পাওয়ার কথা শুনেছে। কেউ দামি গাড়ি চেয়েছে, কেউ গয়না, কেউ বিদেশ ভ্রমণ। কিন্তু ইনায়ার চাওয়াটা ছিল অন্যরকম।
একটা বাড়ি।
যেখানে থাকবে তার নিজের মতো করে সাজানো বারান্দা, জানালার পাশে ফুলের টব, আর এক কাপ চা হাতে বিকেল দেখার অবসর।
গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে ইযাশ মনে মনে একটা প্রতিজ্ঞা করল।
__ একদিন তোমার সেই বাড়িটা আমি তৈরি করে দেব, ইনায়া।
সেদিন হয়তো ইনায়া জানবেও না, তার কয়েকটা সাধারণ কথা একজন মানুষের হৃদয়ে কত বড় স্বপ্ন হয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
ইনায়া ভেতরে ঢুকতেই পুরো বাড়িটা যেন সরগরম হয়ে উঠল।নতুন বউ অবনিকে ঘিরে সবাই ব্যস্ত। কেউ মিষ্টি খাওয়াচ্ছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ আবার হাসতে হাসতে নানা কথা বলছে।
ইনায়া ঢুকতেই অবনি মুখ ফুলিয়ে বলল,
— এই যে ম্যাডাম! এতক্ষণে আসার সময় হলো?
— আরে বাবা, তোমার বরযাত্রীদের সাথে আসতে আসতেই তো দেরি হয়ে গেল!
— হুম! আমি তো ভাবছিলাম আপু আমাকে ভুলেই গেছে।
— তোকে ভুলে যাব? আগে আয় দেখি।
বলে ইনায়া এগিয়ে গিয়ে অবনির গাল দুটো আলতো করে টেনে দিল।চারপাশের সবাই হেসে উঠল।ঠিক তখনই লিহাবের এক চাচি মজা করে বললেন,
— এই মেয়েটাই তাহলে বড় বোন? দেখতে তো দুজনকে বন্ধু বন্ধু লাগে!
— আমি কিন্তু এখনো তরুণী!
গম্ভীর মুখে বলতেই সবাই আবার হো হো করে হেসে উঠল।চাচির বয়স বেশি না।লিহাবের ছোট দাদার ছোট ছেলের বউ।বয়স কত হবে ২৫/২৬ বছরের হবেন হয় তো।অবনি মাথা নেড়ে বলল,
— আপু, তুমি না একদমই বদলাও না।
— আর তুই? বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাকে জ্ঞান দেওয়া শুরু করে দিয়েছিস!
এবার অবনিও হেসে ফেলল।কিছুক্ষণ পর ইনায়া বাড়ির মহিলাদের সাথে বসে গল্পে মেতে উঠল।এক ফাঁকে ইনায়া অবনির পাশে গিয়ে বসল।
— কিরে? ভয় লাগছে না তো?
অবনি মৃদু হেসে মাথা নাড়ল।
— একটু একটু।
— চিন্তা করিস না। সবাই খুব ভালো মানুষ।
অবনি আপুর হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,
— তুমি আজকে থেকে কয়েকদিন থাকবে তো?
ইনায়া একটু হাসল।
— থাকব না কেন? আমার ছোট বোনের শ্বশুরবাড়ি, এখন তো এটাও আমার বাড়ি।
কথাটা শুনে অবনির মুখে হাসি ফুটে উঠল।দুই বোনের খুনসুটি আর হাসির শব্দে চারপাশটা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। নতুন সম্পর্ক, নতুন মানুষ আর পরিচিত মুখের ভিড়ে সন্ধ্যাটা ধীরে ধীরে সুন্দর এক পারিবারিক আনন্দে ভরে উঠতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পর বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটা আড্ডা জমে উঠল। বাড়ির বড়রা নিজেদের মধ্যে গল্প করছেন, আর ছোটরা হাসি-ঠাট্টায় ব্যস্ত।ইনায়া এক কোণে বসে অবনির সাথে কথা বলছিল। হঠাৎ লিহাব এসে বলল,
— আপু, তুমি কিন্তু অবনির চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেছো মনে হচ্ছে।
— কেন?
— বাড়িতে আসার পর থেকে সবাই অবনিকে ছেড়ে তোমার সাথেই গল্প করছে।
ইনায়া ভ্রু উঁচু করে বলল,
— এতে আমার কী দোষ?
— দোষ নেই, তবে অবনি একটু পরেই হিংসা করবে।
পাশ থেকে অবনি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— আমি একদম হিংসা করছি না!
— তাই নাকি?
— হ্যাঁ!
— তাহলে আমার দিকে এমন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছো কেন?
কথাটা শুনে চারপাশে আবার হাসির রোল পড়ে গেল।এমন সময় লিহাবের মা লামিয়া খান এগিয়ে এসে ইনায়ার পাশে বসলেন।
— মা, আজ সারাদিন তো অনেক ধকল গেছে। ক্লান্ত লাগছে না?
— একটু তো লাগছেই আন্টি।
— তাহলে আগে কিছু খেয়ে নাও। তারপর বিশ্রাম করবে।
ইনায়া মাথা নাড়ল।বিয়ের বাড়ির ব্যস্ততার মাঝেও সবার আন্তরিকতায় তার মনটা ভালো হয়ে গেল।এরা যতটা বড়লোক ঠিক ততটাই দয়ালু।
________
রাত একটু বাড়তেই সবাই খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। বড় ডাইনিং স্পেসে একসাথে বসে গল্প করতে করতে খাবার খাচ্ছে সবাই।অবনি মাঝে।মধ্যে চুপিচুপি ইনায়ার দিকে তাকাচ্ছে।ইনায়া সেটা দেখে মুচকি হেসে বলল,
— কী হয়েছে?
— কিছু না।
— কিছু না হলে বারবার তাকাচ্ছিস কেন?
অবনি একটু আবেগী গলায় বলল,
— আজকে প্রথমবার অন্য একটা বাড়িতে থাকছি তো...
কথাটা শুনে ইনায়ার মুখের হাসিটা নরম হয়ে এল।সে হাত বাড়িয়ে অবনির হাতটা ধরে বলল,
— বোকা মেয়ে, বাড়ি বদলেছে, সম্পর্ক না। আমি তো আছিই।
অবনি মাথা নিচু করে হাসল। ঠিক তখনই ইনায়ার পাশে কারো উপস্থিত পেলো।ইয়াশ এসেছে।তখন যে বাইক রাখতে গিয়েছিল এখন ফিরলো।ডাইনিং এ আর কোন চেয়ার খালি নেই।ইনায়ার পাশের টাই খালি ছিল ওইটা তেই বসেছে।
ইনায়া এক পলক ইয়াশ কে দেখলো।তারপর নিজের কাজে খাবারে মনোযোগ দিল।কিন্তু সে খেতে পারছে না।পাশে থাকা ইয়াশের মা তানিয়া ভ্রু কুচকে বললেন,
__ ইনায়া আম্মু!তুমি খাচ্ছো না কেন?
__ আন্টি ওই... আসলে?
ইনায়া আমতা আমতা করছিল।অবনি খুব কষ্ট করে হাসি আটকে ছোট ছোট করে বলল,
__ আসলে বড় মা।আপু হাত দিয়ে খেতে পারে না।মানে খাওয়ার অভ্যাস নেই।ছোট থেকে আমার মা অথবা ওর মা, চাচিই খাইয়ে দিয়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে সবাই হেসে উঠল।ইনায়া সামান্য ইতস্তত বোধ করলো।সবার সামনে এই মেয়েটা ওর সম্মানের ১২ টা বাজাবে কে জানে?ইনায়া বিরক্ত মুখে অবনির দিকে তাকালো।অবনি ওমনিই চোখ ছোট ছোট করে তাকালো।যেন ভাজা মাছ টা উল্টে খেতে জানে না।
কিন্তু ডাইনিং টেবিলের এক কোণে বসে শব্দ করে হেসে ফেলল আদি।
সবাই এখন তার পানে চেয়ে আছে।আদি বহু কষ্টে হাসি আটকে বলল,
__ এর বিয়ের পর যে কি হবে? এখন না হয় মা, চাচি রা খাইয়ে দেয়। কিন্তু....
আর কিছু বলার আগেই তানিয়া মিষ্টি হেসে বললেন,
__ তখন না হয় ওর স্বামী ওকে খাইয়ে দিবে।
সবাই আবার হেসে উঠলো।ইনায়া ভারি লজ্জা পেল।সবাই তাকে নিয়ে মজা করছে।এটা শুধু যদি অবনির শশুর বাড়ি না হতো সবাই কে মজা দেখিয়ে দিতো সে!তাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে?ইয়াশ পাশে বসে ভাবলেশহীন ভাবে খাবার খাচ্ছে।ইনায়া অজান্তেই ইয়াশের দিকে তাকালো।ইয়াশও কি ভেবে যেন পাশে তাকালো।হঠাৎই চোখাচোখি হলো দুজনের।ইনায়া অপ্রস্তুত হয়ে চোখ সরিয়ে নিলো।কিন্তু ইয়াশ এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।
আদি বিষয় টা লক্ষ্য করলো।সে ইয়াশ কে খোঁচা মেরে বলল,
__ কি রে ইয়াশ জানুউউউউ!কিছু বলছিস না কেন?
ইয়াশ খাবার চিবুতে চিবুতে বলল,
__ খাওয়ার সময় এত কথা বলতে হয় না।
ইনায়া বিরক্ত চাহনিতে ইয়াশের দিকে এক পলক তাকালো।এই ছেলে বলে কি?খাওয়ার সময় কথা না বললে তো তার পেটের ভাতই হজম হবে না আর এ নাকি খেতে বসে কথা বলা পছন্দ করে না।যাক গে তাতে ইনায়ার কি? ইনায়া তো থাকবে একদিনের জন্য।
ইনায়া চারপাশে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে অবনি কে বলল,
__ এ্যাঁই অবনি!ফাহিম ভাইয়া কই?
অবনি খাবার খাওয়া থামিয়ে দিল।তাই তো! সে তো ভেবে দেখেনি।ফাহিম ভাই কই?তাদের সাথেই তো আসলো।অবনিও চিন্তিত স্বরে বলল,
__ হ্যাঁ! তাই তো। ফাহিম ভাই কই?
__ ওই যে সাদা চশমা পড়া চশমেস মামা টা!
আদির কথা শুনে ইয়াশ না চাইতেও হেসে ফেলল।তবে সেটা নি শব্দে।ইনায়া ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে আদির দিকে।তার এত সুন্দর ভাই কে আদি ইনডাইরেক্টলি কানা বলল নাকি?
__ এভাবে বলবে না।আমার ভাইয়া লাগে উনি।
__ ইট'স ওকে!মজা করছিলাম।
ইনায়া কোন রকম খেয়ে উঠে পড়ে।অবনি কে লিহাবের রুমে পাঠানো হয়।সবাই রুমের বাইরে মজা করছে।বাসর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরজা আটকে আছে।টাকা তুলবে বলে।ইনায়ার এসবে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল না, তবে লিয়ানা আর ইমু জোর করলো অনেক।না এসে পারলো না সে।
দরজার সামনে লিয়ানা,ইমু, ইনায়া সহ লিহাবদের কাজিন মহল।আর লিহাবের সাইডেও কিছু কাজিন, ফ্রেন্ডস আর ইয়াশের ফ্রেন্ডস রা আছে।কিন্তু রোদেলা আর মিষ্টি লিয়ানাদের পক্ষে।
লিহাবের এইবার বিরক্ত লাগছে।বিরক্তি নিয়ে সে বলল,
__ তোদের সবাই কে ট্রিট দিবো!রুমে ঢুকতে দে না!অনেক ক্লান্ত ঘুমাতে হবে।
__ তুই ঘুমাবি নাকি কি করবি সেটা আমরা জানি পিও!
লিয়ানার কথায় সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।লিহাব সবার মাঝে ইনায়া কে দেখে ভ্রু কুচকে বলল,
__ আপু তুমি এখানে কি করো?তুমি না কোনে যাত্রী!তোমার ওইখানে কাজ নাই আমার সাইডে আসো।তুমি আমার সাইডে থাকলে আমাদের সাথে ঝগড়ায় কেউ পারবে না!
__ এই আমাকে দেখে তোর ঝগড়াটে মনে হয়?দেখ আমি কোন দল নিবো না।ঝামেলায় ইনায়া নাই!
__ কি বললা তুমি?তুমি নিজেই ঝামেলার রানী!আর তুমি বলছো তুমি ঝামেলায় নাই!এইটা দুর্নীতি ইনায়া আপু!
__ রাখ তোর নীতি দুর্নীতি!আমি তো বউয়ের বড় বোন!সম্মান দিয়ে কথা বল।
__ বোনের বাসর ঘরের সামনে দরজা আটকে দাড়িয়ে আছো আবার সম্মান ও চাইছো? বেয়াইন এর ডিমান্ড তো দেখি আকাশ ছোঁয়া!
সবাই ভ্রু কুচকে তাকালো।কোন ব্যক্তির উক্তি শোনার জন্য।কিন্তু সবাই গলার স্বর শুনে বুঝে গেছে ওইটা ইয়াশ।তবুও সবার দৃষ্টি তাকে খুঁজছে। এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে ইয়াশ।ড্রেস চেঞ্জ করে এসেছে সে।পরনে এখন টাউজার আর টি-শার্ট ।অন্য রকম লাগছে তাকে এখন।সবাই এক পলক তাকিয়ে থাকলো।
লিহাব ইয়াশ কে দেখেই বলল,
__ ভাইয়া!ও ভাইয়া!ওদের কারবার দেখছো?কিভাবে টাকা নিচ্ছে?
__ যত চায় দিয়ে দে!
ব্যস! সবাই কে শর্ক খাওয়ানোর জন্য ইয়াশের এই একটা কথাই যথেষ্ট ছিল 'যা চায়,দিয়ে দে!' সবাই হা করে ইয়াশের দিকে তাকিয়ে আছে।লিয়ানা ইয়াশের কপালে হাত ছোঁয়ালো।জ্বর টর হয়েছে কি না চেক করলো।
লিয়ানার কাজে ইয়াশ বিরক্ত হয়ে বলল,
__ হোয়াইট ননসেন্স!লিয়া।
কে শোনে কার কথা।লিয়ানা এখনও অবাক দৃষ্টিতে ইয়াশের শরীরে জ্বর আছে কি না দেখছে।ইয়াশ আবার বিরক্ত হয়ে বলে,
__ লিয়া!এইভাবে কি চেক করছিস?
লিয়ানা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো।তারপর অবাক স্বরে বলল,
__ ভাইয়া!এইটা তুমিই তো? তুমি ইয়াশ ভাইয়া ই তো?
__ না রে ডাইনি বুড়ি।এইটা ইয়াশের ভূত।
দাঁত কেলিয়ে হেসে উত্তর দিলো আদি।ইয়াশ লিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলল,
__ মাথার তার টা কি তোর গেছে।কতবার বলেছি ইন্ডিয়ান মুভি কম দেখবি।কিন্তু কে শোনে কার কথা!
__ এর মধ্যে তুমি আমার ইন্ডিয়ান মুভি টানলে কেন?
__ তুই এমন করছিস কেন?
__ করবো না।তুমি এত সহজে লিহাব কে টাকা দিতে বলে দিলে।অবিশ্বাস্য!আনবিলিভেবল!
__ তোর কান টা আমার মুখের কাছে আন!
__ কি?
__ তোর কান টা আমার মুখের কাছে আন কিছু বলবো!
লিয়ানা নিজের কান টা ইয়াশের সামনে আনার চেষ্টা করলো।ইয়াশ লিয়ানার থেকে লম্বা হওয়ায় লিয়ানা সফল হলো না।ইয়াশই নিজের মুখটা ঝূঁকে লিয়ানার কানে কানে কিছু একটা বলল।
ইয়াশ লিয়ানা কে কি বলল কে জানে। কিন্তু ইয়াশের কথায় লিয়ানা শব্দ করে হেসে দিয়েছে।ইমু সন্দেহ দৃষ্টিতে দেখে বলল,
__ আপু!ভাইয়া তোমাকে কি বলল?
__ এইটা আমাদের দুই ভাই বোনের মধ্যেই থাক!
এরপর লিহাবের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বলল,
__ ভাইয়াও রাজি!এইবার টাকা বের কর ভাই।
লিহাব থমথমে স্বরে জিজ্ঞাসা করল,
__ কত?
__ বেশি না ৫০ হাজার।
__ কিহ্.......
__ কি আবার কি? ৫০ হাজার কানে কি কম শুনো নাকি ভাইয়া।
ইমু বলল।সবাই আবার হাসলো।লিয়ানা তাড়া দিয়ে বলল,
__ ভাই তাড়াতাড়ি টাকা ঝাড়!নয় তো আজকে তুই রুমে ঢুকতে পারবি না।তুই টাকা দিয়ে রুমে যা আর আমরা সবাই মিলে ছাদে যাই!ঝামেলা শেষ!
কি সবাই সহমত?
সবাই উচ্চ শব্দে বলল, "সহমত!"
লিহাব পড়েছে মহা গ্যারাকলে।বিয়ে তে যদি এত টাকা এভাবেই খরচ হবে জানলে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলতো সে।
লিহাব মুখ গোমরা করে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দিলো ওদের।টাকা পেতেই লিয়ানা সবার উদ্দেশ্যে বলল,
__ এভরি ওয়ান!চলো আমরা যাই ছাদে!আর লিহাব ব্যাটা যাক বাসর ঘরে।
সবাই আরেক দফা হাসলো।উষ্ণ পরিবেশের মাঝেই রাতটা ধীরে ধীরে আরও সুন্দর হয়ে উঠতে লাগল।
To be continue........
(নাও ঘুম বাদ দিয়ে গল্প টা দিয়ে দিলাম।এই গল্পের জন্য তোমরা অনেক অপেক্ষা করছো। তাই আর দেরি করলাম না।#বৃষ্টি_ভেজা_এক_ফুল_তুমি শনিবারে #পর্ব_১৮ দিয়ে স্থগিত রাখবো! #প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত আজকেই দিলাম।এইটাও স্থগিত।ভেবেছিলাম জুলাই মাসে হয় তো গল্প পাবে না।বাট জুলাই মাসের ১৫ তারিখ থেকে রেগুলার গল্প দিবো ইনশাআল্লাহ।)