ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের শেষ কিস্তিমাত

১০ম পর্ব

লেখক: Farzana Yesmin

#প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত

#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন

#পর্ব_১০

❌অনুমতি বিহীন কপি করা নিষিদ্ধ ❌

────୨ৎ────────୨ৎ────────୨ৎ────────

গত কয়েক দিনের ব্যস্ততা, বিয়ের আয়োজন, রিসেপশনের আনন্দ আর নানা ঘটনার পর অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে সবাই।

গতকাল বিকেলেই ইনায়ারা মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরে এসেছে। ঢাকায় এলেই তারা ওঠে মিরপুরে অবস্থিত আব্দুল ইসলামের নিজস্ব ফ্ল্যাটে। বহু বছর আগে নিজের সন্তানদের পড়াশোনার সুবিধার কথা ভেবেই আব্দুল ইসলাম রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি এই ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। কাজের প্রয়োজনে কিংবা ইনায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস থাকলে পরিবারের সদস্যরা এখানেই এসে থাকেন।

পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলাজুড়ে বিস্তৃত ফ্ল্যাটটি রুচিশীল সাজসজ্জায় ভরপুর। প্রশস্ত ড্রয়িংরুমে রাখা ধূসর রঙের বড় সোফাসেট, দেয়ালে ঝুলে থাকা কয়েকটি নান্দনিক পেইন্টিং আর কাঁচের শোকেসে সাজানো বিভিন্ন শোপিস পুরো ঘরটিকে অভিজাত এক আবহ দিয়েছে।

ড্রয়িংরুমের সঙ্গে লাগোয়া বড় বারান্দায় সারি সারি ফুলের টব। গোলাপ, জবা, বোগেনভেলিয়া, মানিপ্ল্যান্ট আর নানা ধরনের বাহারি গাছ সকালবেলার কোমল রোদে দুলছে। বারান্দা থেকে তাকালেই দেখা যায় ব্যস্ত মিরপুরের রাস্তা, যেখানে সকাল হতেই মানুষের ছুটে চলা শুরু হয়ে যায়।

ফ্ল্যাটটিতে রয়েছে চারটি বেডরুম, একটি স্টাডি রুম, প্রশস্ত ডাইনিং স্পেস, আধুনিক রান্নাঘর এবং দুটি বারান্দা। ইনায়ার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা তার নিজের রুমের জানালার পাশের ছোট্ট বুক কর্নার। সেখানে সারি সারি সাজানো উপন্যাস, গবেষণার বই আর ডায়েরিগুলো যেন তার নিত্যদিনের সঙ্গী।

সকালের নরম আলো পর্দার ফাঁক গলে পুরো ঘর আলোকিত করে তুলেছে।

ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল আটটা ছুঁইছুঁই।

ইনায়া ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এলো। আজ অনেক দিন পর আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া হবে। কয়েক দিনের ছুটির কারণে বেশ কিছু ক্লাস মিস হয়েছে। তাই আজ আর দেরি করার সুযোগ নেই।

ডাইনিং টেবিলে হালকা নাস্তার আয়োজন করা হয়েছে। খুব বেশি ক্ষুধা না থাকায় সে মাত্র দুটি টোস্ট, একটি সেদ্ধ ডিম আর এক কাপ গরম চা খেয়েই নাস্তা শেষ করল। তারপর নিজের ব্যাগ, ফোন আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

বাড়ির গেট পেরিয়ে মিরপুরের ব্যস্ত সড়কে পা রাখতেই পরিচিত শহুরে কোলাহল তাকে স্বাগত জানাল। অফিসগামী মানুষের ভিড়, রিকশার টুংটাং শব্দ, বাসের হর্ন আর রাস্তার পাশের দোকানগুলোর ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে রাজধানী তার চিরচেনা রূপে জেগে উঠেছে।

ইনায়া একটি গাড়িতে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।মিরপুর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছাতে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগে যদি যানজট স্বাভাবিক থাকে। তবে অফিস টাইমে তীব্র যানজট হলে এই পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে।

গাড়ি ধীরে ধীরে মিরপুর ছেড়ে শহরের কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে চলল। জানালার বাইরে তাকিয়ে ইনায়া একের পর এক পরিচিত দৃশ্য দেখতে লাগল। কিন্তু তার মন যেন আজও পুরোপুরি বর্তমান সময়ে নেই।

ব্যাগ থেকে একটি নোটবুক বের করল। আজকের ক্লাসের প্রস্তুতি নিতে হবে। সামনে সেমিস্টারের চাপও কম নয়।

কিছুক্ষণ পর গাড়িটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাসের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। নতুন একটি দিনের সঙ্গে হয়তো শুরু হতে চলেছে তার জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে ক্যাম্পাসে পা রাখতেই ইনায়ার মনে হলো, বহুদিন পর যেন প্রাণটা একটু হালকা হলো। পরিচিত পথ, পুরোনো ভবন, সবুজ গাছপালার ছায়া আর শিক্ষার্থীদের প্রাণচঞ্চল কোলাহলে পুরো ক্যাম্পাস আবারও তার আপন রূপে ফিরে এসেছে।

করিডোর জুড়ে ছোট ছোট দল বেঁধে আড্ডা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কোথাও ক্লাসে যাওয়ার তাড়া, কোথাও আবার হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ নিয়ে জমে উঠেছে তর্ক-বিতর্ক। সকালের কোমল রোদ গাছের পাতার ফাঁক গলে ইট বিছানো পথের ওপর ছায়ার নকশা এঁকে দিয়েছে।

ইনায়া ধীর পায়ে নিজের বিভাগের ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।ঠিক তখনই সামনের দিক থেকে কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে হেঁটে আসছিল ইয়াশ।মনে হয় সেও গতকালই মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরেছে। মুখে হালকা ক্লান্তির ছাপ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ডান হাতে সাদা ব্যান্ডেজটা আগের মতোই বাঁধা। যদিও আজ তার ওপর কালো ফুলহাতা শার্টের হাতা টেনে রেখেছে, তবুও ব্যান্ডেজের অংশটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

হঠাৎ করেই দু'জনের চোখাচোখি হয়ে গেল।মুহূর্তটা এতটাই অপ্রস্তুত ছিল যে, ইনায়ার বুকটা ধক করে উঠল।অজান্তেই ইনায়া চোখ সরিয়ে নিল।

নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে ইয়াশকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে লাগল।অন্যদিকে ইয়াশও স্থির দৃষ্টিতে তার চলে যাওয়া দেখছিল।কেউ কোনো কথা বলল না।

নীরবতাই যেন দু'জনের মাঝখানে অদৃশ্য একটা দেয়াল তুলে দিয়েছে।

ঠিক তখনই ইনায়া এক পা সামনে বাড়াতেই তার হালকা আকাশি রঙের ওড়নার এক কোণা এসে আটকে গেল ইয়াশের শার্টের সামনের বোতামে।টান খেয়ে ইনায়া হঠাৎই থেমে গেল।

সে ভেবেছিল হয়তো ওড়নাটা কোথাও আটকে গেছে।কিন্তু পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখল, ওড়নার নরম কাপড়টা ইয়াশের শার্টের বোতামে সুন্দর করে জড়িয়ে গেছে।এক মুহূর্তে চারপাশটা যেন আরও বেশি নীরব হয়ে উঠল।ইনায়া অস্বস্তিতে চোখ নামিয়ে ফেলল।

সে তাড়াহুড়ো করে ওড়নাটা ছাড়ানোর চেষ্টা করল। কিন্তু যতই টানছে, কাপড়টা ততই বোতামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।হালকা বিরক্তি আর লজ্জায় তার কপালে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু জমে উঠল।ইয়াশ এতক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়েই সব দেখছিল।

তারপর খুব শান্ত গলায় বলল,

— এভাবে টানতে হয় না... ছিঁড়ে যাবে।

ইনায়ার হাত থেমে গেল।সে ধীরে ধীরে এক পা পিছিয়ে দাঁড়াল।ইয়াশ বাম হাত দিয়ে সাবধানে ওড়নার জড়িয়ে থাকা অংশটা ধরল। ডান হাতের ব্যান্ডেজে চাপ না দিয়ে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে বোতামের ফাঁক থেকে কাপড়টা আলগা করতে লাগল।

দু'জনের মাঝে দূরত্ব তখন মাত্র কয়েক ইঞ্চি।ইনায়া স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল ইয়াশের নিঃশ্বাসের শব্দ।আর ইয়াশও অনুভব করছিল ইনায়ার অস্বস্তি।কয়েক সেকেন্ডের নিস্তব্ধতার পর ওড়নাটা বোতাম থেকে আলগা হয়ে এলো।ইয়াশ কোনো কথা না বলে ওড়নার প্রান্তটা ইনায়ার দিকে বাড়িয়ে দিল।

ইনায়া ধীরে হাত বাড়িয়ে ওড়নাটা নিল।দু'জনের আঙুল এক মুহূর্তের জন্য ছুঁয়ে গেল।সেই ক্ষণিকের স্পর্শে দু'জনই যেন অকারণেই থমকে উঠল।ইনায়া দ্রুত ওড়নাটা ঠিক করে নিচু স্বরে শুধু বলল,

— ধন্যবাদ।

ইয়াশ মৃদু মাথা নাড়ল।

এরপর আবারও দু'জন দু'দিকে হাঁটতে শুরু করল।কিন্তু কয়েক কদম এগিয়েও ইনায়ার মনে হচ্ছিল, আজকের এই ছোট্ট ঘটনাটা হয়তো এত সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব হবে না।অন্যদিকে ইয়াশের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক টুকরো মৃদু হাসি ফুটে উঠেছিল—যেটা সে নিজেও টের পেল না।

ওড়নাটা শার্টের বোতাম থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার পর এক মুহূর্তও আর সেখানে দাঁড়ায়নি ইনায়া। নিজের অস্বস্তিটাকে যতটা সম্ভব আড়াল করে দ্রুত বিভাগের ভবনের দিকে হাঁটতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল, আশপাশের সবাই বুঝি ঘটনাটা দেখেছে। যদিও বাস্তবে কেউই তেমন খেয়াল করেনি, তবুও তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে ধুকপুক করছিল।কয়েক কদম এগোতেই পরিচিত এক কণ্ঠ ভেসে এলো—

— ইনু!

শব্দটা শুনেই ইনায়ার ঠোঁটে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।পেছনে ফিরে তাকাতেই লামিহাকে দেখতে পেল। মেয়েটা প্রায় দৌড়ে এসে কোনো রাখঢাক না রেখেই ইনায়াকে জড়িয়ে ধরল।

— আল্লাহ! অবশেষে ম্যাডামের দেখা মিলল!

তার ঠিক পেছনেই হাঁটতে হাঁটতে চলে এলো আরিয়া আর ফিজা।আরিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

— আমরা তো ভাবছিলাম, বিয়ে বাড়িতে গিয়ে তুই আমাদের ভুলেই গেছিস।

ফিজাও মুচকি হেসে যোগ করল,

— এক সপ্তাহ ক্লাস মিস করেছিস। আজকে কিন্তু সব হিসাব দিতে হবে।

বন্ধুদের কথায় ইনায়ার মুখে স্বাভাবিক হাসি ফিরে এল। কয়েক মুহূর্ত আগের অস্বস্তিটা যেন একটু একটু করে মিলিয়ে যেতে লাগল।লামিহা একদৃষ্টিতে ইনায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর চোখ সরু করে বলল,

— কী ব্যাপার? তোর মুখটা এত লাল কেন? রোদে পুড়েছিস, নাকি অন্য কিছু হয়েছে?

ইনায়া চমকে উঠে দ্রুত মাথা নাড়ল।

— কই! কিছু হয়নি তো।

লামিহা ভ্রু তুলে মৃদু হেসে বলল,

— আমার কাছ থেকে কিছু লুকাতে পারবি না কিন্তু। তোর মুখ দেখলেই বুঝি, কিছু একটা হয়েছে।

ইনায়া জোর করে বিষয়টা এড়িয়ে গেল।

— উফ! তুই না একদম গোয়েন্দা। চল, আগে ক্লাসে যাই।

কথাটা বলে সে সামনে হাঁটতে শুরু করল।লামিহা অবশ্য আর কিছু বলল না। তবে তার মনে সন্দেহের ছোট্ট একটা বীজ ঠিকই রোপিত হয়ে গেল।কারণ সে ইনায়াকে খুব ভালো করেই চেনে।এই মেয়েটা যখন কোনো কথা এড়িয়ে যায়, তখন নিশ্চিত কিছু একটা ঘটেছে।

আর দূরে, ক্যাম্পাসের অন্য পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ইয়াশ একবার মাত্র পেছন ফিরে তাকাল।ইনায়া তখন বন্ধুদের মাঝে দাঁড়িয়ে হেসে কথা বলছে।অজান্তেই ইয়াশের ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি ফুটে উঠল।সেটা অবশ্য আদি ছাড়া আর কারও চোখে পড়ল না।

____________

প্রথম ক্লাস শেষ হতেই পুরো বিভাগ যেন আবারও প্রাণ ফিরে পেল। করিডোরজুড়ে শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি, কেউ পরের ক্লাসে যাওয়ার তাড়ায়, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত।কিন্তু সেই ভিড়ের মাঝেও ইনায়ার মুখে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ।এক সপ্তাহের অনুপস্থিতি যে এতটা ভোগাবে, সেটা সে কল্পনাও করেনি।

প্রথম ক্লাসেই শিক্ষক নতুন দুটি অধ্যায় শেষ করে দিয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় ক্লাসে আরও একটি নতুন টপিক পড়ানো হলো। সবার খাতায় পরিপাটি করে সাজানো নোটস, অথচ ইনায়ার খাতার অধিকাংশ পাতাই ফাঁকা।

একবার লামিহার খাতা, আরেকবার আরিয়ার খাতা, কখনও ফিজার খাতা—একটার পর একটা দেখে দেখে লেখার চেষ্টা করছে সে। কিন্তু যতই লিখছে, ততই মনে হচ্ছে কাজের কোনো শেষ নেই।

কপালের ওপর পড়ে থাকা চুলগুলো বিরক্ত হয়ে কানের পাশে গুঁজে দিল ইনায়া।গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।

— উফ! এক সপ্তাহেই এত কিছু পড়িয়ে দিয়েছে! এগুলো শেষ করতে তো আমার পুরো সপ্তাহ লেগে যাবে।

লামিহা পাশে বসেই হেসে ফেলল।

— তাই তো বলেছিলাম, বিয়ে বাড়িতে এতদিন পড়ে থাকিস না। এখন ভোগ।

ইনায়া অসহায় মুখে তাকাল।

— আমাকে যেন খুব শখ করে থাকতে হয়েছিল!

তিনজনই হেসে উঠল।ঠিক তখনই পাশের বেঞ্চ থেকে একটি ছেলে তাদের কথোপকথন শুনে সামনে এগিয়ে এলো।ছেলেটার নাম অর্ণব।একই বিভাগের ছাত্র। পড়াশোনায় বেশ ভালো হওয়ায় সবাই তাকে চেনে।

সে ভদ্রভাবে বলল,

— একটা কথা বলি?

চারজনই তার দিকে তাকাল।অর্ণব মৃদু হেসে বলল,

— তুমি চাইলে থার্ড ইয়ারের ইয়াশ ভাইয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারো। উনি সিনিয়র হলেও জুনিয়রদের অনেক হেল্প করেন। বিশেষ করে পড়াশোনার ব্যাপারে উনার মতো বুঝিয়ে খুব কম মানুষই পড়াতে পারে।

কথাটা শুনেই ইনায়া কপাল কুঁচকে ফেলল।মনে যেন হঠাৎ একটা পরিচিত নাম টোকা দিল।সে ধীরস্বরে জিজ্ঞেস করল,

— কোন ইয়াশ?

অর্ণব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই উত্তর দিল,

— তাসফিন খান ইয়াশ।

নামটা শুনেই ইনায়া কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ হয়ে গেল।মনের ভেতর ভেসে উঠল সেই পরিচিত মুখ।

লামিহা অবাক হয়ে ইনায়ার দিকে তাকাল।

— কী হলো? নাম শুনে এমন চুপ করে গেলি কেন? চিনিস নাকি?

ইনায়া দ্রুত নিজের ভাবনা আড়াল করে মাথা নাড়ল।

— না... মানে... চিনতাম না। নামটা পরিচিত লাগল, তাই জিজ্ঞেস করলাম।

অর্ণব আবার বলল,

— সিরিয়াসলি বলছি, উনার কাছে একবার গেলে বুঝবে। পড়া যত কঠিনই হোক, এমনভাবে বুঝিয়ে দেন যে সহজ মনে হয়। আমাদের ব্যাচের অনেকেই উনার কাছ থেকে হেল্প নিয়েছে।

ইনায়া আর কোনো উত্তর দিল না।শুধু নিজের খাতার দিকে তাকিয়ে রইল।

শুধু অন্যমনস্ক দৃষ্টিতে নিজের খাতার দিকে তাকিয়ে রইল।তাসফিন খান ইয়াশ নামটা মাথার ভেতর বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।সেই রাগী মানুষটা যে কথায় কথায় ঝগড়া করে।যে সুযোগ পেলেই তাকে "অচেনা বউ" বলে খেপায়।যে ছেলেটার সঙ্গে দেখা হলেই কোনো না কোনো ঝামেলা বাধবেই।আর এখন কিনা তার কাছেই পড়ার সাহায্য চাইতে হবে?

ভাবতেই ইনায়ার কপাল কুঁচকে গেল।মনে মনে বিড়বিড় করে উঠল,

"আল্লাহ! এই ক্যাম্পাসে আর কোনো সিনিয়র ছিল না নাকি? সব শেষে ওই লোকটার কাছেই যেতে হবে?"

মুহূর্তেই আবার ইয়াশের মুখটা ভেসে উঠল।সেই দুষ্টু হাসি আর ঠোঁট বাঁকিয়ে বলা—

"অচেনা বউ?"

ইনায়া বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করে ফেলল।

"উফ! লোকটার আর কোনো কাজ নেই। দেখা হলেই 'অচেনা বউ'... 'অচেনা বউ'... বলে মাথা খায়। এবার যদি পড়া বুঝতে যাই, না জানি কত কী শুনতে হবে!"

পাশে বসে থাকা লামিহা লক্ষ্য করছিল, ইনায়ার মুখের অভিব্যক্তি প্রতি কয়েক সেকেন্ড পরপর বদলে যাচ্ছে।কখনও বিরক্তি, কখনও অস্বস্তি, আবার কখনও যেন নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠছে।লামিহা কনুই দিয়ে আলতো একটা গুঁতো মেরে বলল,

— কী রে? এত কী ভাবছিস?

চমকে উঠে ইনায়া দ্রুত মাথা নাড়ল।

— ক... কিছু না।

লামিহা সন্দেহভরা চোখে তাকিয়ে রইল।ইনায়াকে সে ভালো করেই চেনে।এই মেয়েটা যখন বলে "কিছু না", তখনই বুঝতে হবে—কিছু একটা অবশ্যই আছে।

অর্ণব ইনায়ার মুখের অস্বস্তিটা লক্ষ্য করেছিল। মেয়েটা যে দ্বিধায় আছে, সেটা বুঝতে তার খুব একটা কষ্ট হলো না।সে মৃদু হেসে খাতাটা বন্ধ করে বলল,

— তুমি চাইলে আমি ইয়াশ ভাইয়ার সঙ্গে কথা বলে দেখি। উনি যদি ফ্রি থাকেন, তাহলে তোমার নোটস আর যে টপিকগুলো মিস হয়েছে সেগুলো বুঝিয়ে দেবেন। আমার সঙ্গে চলো।

কথাটা শুনে ইনায়া প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মাথা তুলল।ভ্রু দুটো অজান্তেই কুঁচকে গেল।

— না না... দরকার নেই। আমি ম্যানেজ করে নেব।

অর্ণব আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে হেসে বলল,

— এতে এত ভাবার কিছু নেই। ইয়াশ ভাইয়া একটু কম কথা বলেন, আর দেখতে একটু রাগী মনে হয়। কিন্তু মানুষ হিসেবে অসাধারণ। পড়াশোনার ব্যাপারে উনার কোনো তুলনা নেই। জুনিয়রদের সাহায্য করতে কখনো বিরক্ত হন না।

পাশ থেকে লামিহাও বলল,

— হ্যাঁ রে, চেষ্টা করে দেখ। বুঝতে সমস্যা হলে সিনিয়রদের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়াতে লজ্জার কিছু নেই।

ইনায়া ঠোঁট কামড়ে চুপ করে রইল।তার আপত্তিটা পড়াশোনা নিয়ে নয় আপত্তিটা একজন মানুষকে নিয়ে।মনে মনে বিরক্ত হয়ে বলল,

"লোকটার সামনে গেলেই না জানি আবার কী বলে বসবে! 'অচেনা বউ' বলে যদি আবার শুরু করে? এই অর্ণবের সামনেই যদি খেপানো শুরু করে, তাহলে তো লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে হবে!"

মনের ভেতর একরাশ অস্বস্তি নিয়ে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।অর্ণব আবারও বলল,

— চলো না। উনি সম্ভবত থার্ড ইয়ারের ক্লাস শেষ করে ডিপার্টমেন্টের সামনের করিডোরেই আছেন। এখনই গেলে পাওয়া যাবে।

ইনায়া কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল।তারপর অসহায় ভঙ্গিতে লামিহার দিকে তাকাল।লামিহা হেসে মাথা নাড়ল।

— যা। সর্বোচ্চ কী হবে? 'না' বলবে। তাতেই বা সমস্যা কী?

ইনায়া আর না করতে পারল না।মৃদু স্বরে বলল,

— আচ্ছা... চলো।

অর্ণব সামনে হাঁটতে শুরু করল।তার ঠিক পেছনে ধীর পায়ে হাঁটছে ইনায়া।প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে তার বুকের ধুকপুকানিটা যেন একটু একটু করে বেড়েই চলেছে।

করিডোর পেরিয়ে তারা বিভাগের সামনের খোলা জায়গায় এসে পৌঁছাল।

সেখানে বিশাল এক কৃষ্ণচূড়া গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গাছটার নিচে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের আড্ডা জমে। কেউ ক্লাসের ফাঁকে গল্প করছে, কেউ আবার নোটস নিয়ে আলোচনা করছে।কিন্তু আজ দৃশ্যটা একটু ভিন্ন।

কৃষ্ণচূড়ার ঠিক পাশেই চারজন ছেলে একটি ছেলেকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।তাদের মুখের গম্ভীর ভাব দেখে আশপাশে ছোট্ট একটা ভিড়ও জমে গেছে।চারজনের মধ্যে সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইয়াশ।

ডান হাতে এখনও সাদা ব্যান্ডেজ বাঁধা। তবুও তার ব্যক্তিত্বে এতটুকু ভাটা পড়েনি। কালো শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গুটানো, মুখে কঠোর অভিব্যক্তি, আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি—সব মিলিয়ে তাকে দেখলেই বোঝা যায়, এই মুহূর্তে তার ধৈর্যের সীমা প্রায় শেষ।

ইয়াশের ঠিক ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু আদি। অন্য পাশে রাজ আর সামির।চারজনের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে দ্বিতীয় বর্ষের একটি ছেলে।

ছেলেটার চোখেমুখে স্পষ্ট ভয়।অর্ণব নিচু গলায় ইনায়াকে বলল,

— ওই যে... ইয়াশ ভাইয়া। তবে মনে হয় এখন কথা বলা ঠিক হবে না।

ইনায়া কিছু না বলে তাকিয়ে রইল।ঠিক তখনই ইয়াশ শান্ত কিন্তু কড়া গলায় বলল,

— এটা ভার্সিটি। এখানে পড়তে আসবি, মানুষকে সম্মান করতে শিখবি। কোনো মেয়েকে অকারণে বিরক্ত করা, পিছু নেওয়া বা বাজে মন্তব্য করা—এসব আমি একবারও সহ্য করি না।

চারপাশটা একেবারে নিস্তব্ধ।ছেলেটা কাঁপা গলায় বলল,

— ভাইয়া... ভুল হয়ে গেছে। আর হবে না।

ইয়াশ কয়েক সেকেন্ড তার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।তারপর ধীর স্বরে বলল,

— শেষবারের মতো সতর্ক করলাম। আজকের পর যদি কোনো মেয়ের কাছ থেকে তোর নামে আর একটা অভিযোগও শুনি, তখন কিন্তু কথা বলে ছেড়ে দেব না। আগে নিজের চরিত্র ঠিক কর, তারপর ভার্সিটিতে পড়তে আসিস।

কথাগুলো বলার সময় তার কণ্ঠে কোনো চিৎকার ছিল না।কিন্তু সেই শান্ত গলাতেই এমন দৃঢ়তা ছিল যে, উপস্থিত সবাই বুঝে গেল—এই সতর্কবার্তাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।দূরে দাঁড়িয়ে ইনায়া একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।এই প্রথম সে ইয়াশকে অন্য এক রূপে দেখল।রাগী কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে।কঠোর কিন্তু কারণ ছাড়া নয়।

অজান্তেই তার মনে প্রশ্ন জাগল—

"এই মানুষটাকেই কি আমি এতদিন শুধু ঝগড়াটে আর একগুঁয়ে ভেবেছিলাম?"

অর্ণব বুঝতে পারল, এই মুহূর্তে ইয়াশের সঙ্গে পড়াশোনার বিষয় নিয়ে কথা বলাটা ঠিক হবে না। তাই সে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল,

— চলো, একটু অপেক্ষা করি। ভাইয়া ফ্রি হলেই কথা বলব।

ইনায়া কিছু বলল না। তার দৃষ্টি এখনও কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াশের দিকেই নিবদ্ধ।

এদিকে ছেলেটা মাথা নিচু করে একের পর এক ক্ষমা চেয়ে যাচ্ছে। আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মেয়ের চোখেমুখে স্পষ্ট স্বস্তির ছাপ। তাদের মধ্যে একজন সাহস করে সামনে এগিয়ে এসে নিচু স্বরে বলল,

— থ্যাংক ইউ, ভাইয়া। কয়েকদিন ধরেই ও আমাদের বিরক্ত করছিল। আজকে না বললে হয়তো আরও বাড়াবাড়ি করত।

ইয়াশ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

— ভবিষ্যতে এমন কিছু হলে চুপ করে সহ্য করবে না। সরাসরি ডিপার্টমেন্টে জানাবে, প্রয়োজনে আমাদেরও বলবে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে অন্যায় আরও বেড়ে যায়।

মেয়েটি কৃতজ্ঞতাভরা চোখে মাথা নাড়ল।এরপর ইয়াশ ধীর পায়ে সেখান থেকে সরে আসতে উদ্যত হতেই আদি হালকা হেসে তার কাঁধে চাপড় দিল।

— চল, এবার ক্যান্টিনে গিয়ে এক কাপ চা খাওয়া যাক। সকাল থেকে একটানা সিরিয়াস হয়ে আছিস।

রাজ মজা করে বলল,

— আমাদের ইয়াশ ভাই তো পুরো ডিপার্টমেন্টের অনানুষ্ঠানিক গার্ডিয়ান হয়ে গেছে।

সামিরও হেসে উঠল।

— এমন দু-চারটা থাকলে কেউ আর মেয়েদের বিরক্ত করার সাহস পেত না।

চারজনই হাঁটতে শুরু করল।ঠিক তখনই ইয়াশের দৃষ্টি দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অর্ণব আর ইনায়ার ওপর গিয়ে থামল।দু'জনের চোখ আবারও মিলল।মাত্র কয়েক সেকেন্ড।ইনায়া এবার আর তাড়াহুড়ো করে চোখ সরিয়ে নিল না।বরং শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।

আজকের এই দৃশ্যটা তার মনে অদ্ভুত একটা পরিবর্তন এনে দিয়েছে।যে মানুষটাকে সে এতদিন শুধু ঝগড়াটে, রাগী আর একগুঁয়ে ভেবেছিল, সেই মানুষটার ভেতরে যে এতটা দায়িত্ববোধ আর ন্যায়পরায়ণতা লুকিয়ে আছে, সেটা আজ নিজের চোখে না দেখলে হয়তো বিশ্বাসই করত না।

ইয়াশও এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।কিন্তু পরের মুহূর্তেই মুখটা স্বাভাবিক করে আবার হাঁটা শুরু করল।সবকিছুই হয়তো সেখানেই শেষ হয়ে যেত যদি না অর্ণব ঠিক তখনই সাহস সঞ্চয় করে ইয়াশের দিকে এগিয়ে যেত।

— ইয়াশ ভাই... একটু সময় হবে? একটা দরকার ছিল।

ইয়াশ পা থামিয়ে অর্ণবের দিকে তাকাল।তারপর শান্ত কণ্ঠে বলল,

— বলো, কী ব্যাপার?

অর্ণব একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আবার ইয়াশের দিকে ফিরল।

— ভাইয়া, ও আমাদের ব্যাচের। কিছু পারিবারিক কারণে এক সপ্তাহ ক্লাস করতে পারেনি। অনেক নোট আর কয়েকটা টপিক মিস হয়েছে। আপনি যদি একটু সময় দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন.....

কথাটা শেষ হতেই ইয়াশের চোখ ধীরে ধীরে গিয়ে থামল ইনায়ার মুখে।ঠোঁটের কোণে অতি ক্ষীণ এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।অর্ণবের কথা শেষ হতেই চারপাশটা কয়েক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ইয়াশের দৃষ্টি ধীরে ধীরে গিয়ে থামল ইনায়ার ওপর।

মেয়েটা অস্বস্তিতে চোখ নামিয়ে ফেলেছে। দুই হাতের আঙুল একসঙ্গে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বিব্রত মানুষটা বোধহয় সে-ই।

আদি একবার ইয়াশের দিকে, আরেকবার ইনায়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট চেপে হাসি আটকে রাখল।সে বুঝতে পারছে, ইয়াশের মাথায় এখন কী চলছে।ইয়াশ কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক গলায় বলল,

— কোন কোন সাবজেক্টের নোটস মিস হয়েছে?

ইনায়া একটু ইতস্তত করে উত্তর দিল,

— প্রায়... সবগুলোই।

কথাটা শুনে রাজ আর সামির একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ফেলল।ইয়াশ অবশ্য হাসল না।সে শান্তভাবেই বলল,

— এক সপ্তাহে অনেক কিছুই পড়ানো হয়েছে। শুধু নোটস নিলেই হবে না, টপিকগুলোও বুঝতে হবে।

অর্ণব দ্রুত মাথা নাড়ল।

— জি ভাইয়া। তাই তো আপনার কাছেই নিয়ে আসলাম।

ইয়াশ এবার ডান হাতের ব্যান্ডেজটার দিকে একবার তাকাল।তারপর বাম হাত দিয়ে ব্যাগ থেকে ফোন বের করল।কয়েক সেকেন্ড কী যেন হিসাব করে বলল,

— আজকে আমার দুটো ক্লাস শেষ। বিকেল চারটার পর আমি ফ্রি থাকব। যদি উনার সময় থাকে, তাহলে লাইব্রেরির রিডিং রুমে বসে পড়াটা বুঝিয়ে দিতে পারি।

কথাটা শুনে ইনায়া অবাক হয়ে মাথা তুলল।সে ভেবেছিল, ইয়াশ হয়তো আবার তার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে।এতদিনে বুঝেছিল ছেলে টা অহংকারী।কিন্তু আজকে তা মনে হচ্ছে না তার।এমনকি অকারণে একটাও বাড়তি কথা বলল না।তার এই অস্বাভাবিক ভদ্র ব্যবহারেই বরং ইনায়ার অস্বস্তি আরও বেড়ে গেল।হঠাৎ কেন জানি তাকে ভালো লাগতে শুরু করলো ইনায়ার

লামিহা ঠিকই বলেছিল—

"মানুষকে শুধু বাইরে থেকে বিচার করা যায় না।"

অর্ণব খুশি হয়ে বলল,

— থ্যাংক ইউ, ভাইয়া। আমি ওনাকে নিয়ে বিকেল চারটায় লাইব্রেরিতে চলে আসব।

ইয়াশ হালকা মাথা নাড়ল।

— ঠিক আছে। বই আর নোটসগুলো সঙ্গে আনবে। যেগুলো বুঝবে না, সেগুলো জিজ্ঞেস করবে।

কথা শেষ করে সে আর দাঁড়াল না।আদি, রাজ আর সামিরকে নিয়ে ধীরে ধীরে ক্যান্টিনের দিকে হাঁটতে শুরু করল।কয়েক কদম এগোতেই আদি কনুই দিয়ে ইয়াশের হাতে আলতো গুঁতো মেরে নিচু স্বরে বলল,

— কী ব্যাপার?আজকে তোর ইনায়ার সাথে ঝগড়া করলি না?

ইয়াশ ভ্রু তুলে তাকাল।

— ভার্সিটি টা পড়াশোনার জায়গা। সব জায়গায় ফাজলামো মানায় না।

আদি হেসে ফেলল।

— আচ্ছা! তাহলে ফাজলামোটা শুধু বিয়ে বাড়ির জন্য জমা রাখছিস?

ইয়াশ কোনো উত্তর দিল না।তবে তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা ক্ষীণ হাসিটা আদির চোখ এড়াল না।অন্যদিকে ইনায়া এখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে।তার চোখে-মুখে বিস্ময়ের ছাপ।মনে মনে সে শুধু একটাই কথা ভাবল—

"লোকটা... আসলে কোনটা? সারাক্ষণ আমার সাথে ঝগড়া করা ইয়াশ, নাকি এই শান্ত, পরিণত ভার্সিটির সিনিয়র ইয়াশ?"

প্রশ্নটার উত্তর সে নিজেও জানে না।তবে আজ থেকে সেই উত্তর খোঁজার শুরুটা হয়ে গেল।

To be continue.........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন