ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার

পর্ব 3

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : তুমি আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব - ৩

এভাবেই হামিদ তাদের মাঝের দূরত্ব কমিয়ে ভালোবাসার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে দিলো হিয়াকে। তার পর দেখতে দেখতে বেশ কয়েক মাস চলে যায়। হিয়া বেশ মনোযোগ দিয়ে সংসার করে। সকলেই তখন এক সাথে সকালের খাবার খাচ্ছি হটাৎ হিয়ার মাথা ঘুরে বমি চলে আসে। হিয়া দৌড়ে গিয়ে বেসিং এ গর গর করে বমি করতে থাকে হামিদ গিয়ে হিয়া কপালে হাত রাখে। হিয়া কি হয়েছে? হিয়া কিছু বলার আগেই হামিদের গায়ে ঢলে পড়ে। হামিদ সাথে সাথে হিয়াকে পাজা কলে নিয়ে নিজেদের কক্ষে যায়। তাদের পিছু পিছু সকলেই উপরে যায়। হামিদ উপরে গিয়ে হিয়াকে বেডে শুয়ে দেই। তার পর হামিদ তাদের পরিচিত এক ডাক্তারকে ফোন দেয়। ফোন দেওয়া প্রায় ১৫ মিনিট পর ডাক্তার আসে। ডাক্তার হিয়াকে দেখি কিছু হাসি মুখে সবাইকে বলে মিষ্টি আনতে। হামিদ কে উদ্দেশ্য করে বলে তুমি তো বাবা হতে চলেছ। সকলেই এই কথা শুনে বেশ খুশি হলো। ডাক্তার তাও বলল আমি কিছু টেস্ট লিখে দেয় এই গুলা কালকে করিয়ে নিয়ে এসো। হামিদ ডাক্তার কে এগিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর হিয়ার গেন ফিরে। হামিদ হিয়ার হাত ধরে বলে। আমি বাবা হতে চলেছি হিয়া। হিয়া এই কথা শুনে বেশ খুশি হয়। হিয়ার সেই খুশিই ছিল এই ৫ বছরের শেষ খুশি এতো বছরে হিয়ার জীবনে আর কোন খুশি আসেনি। হিয়া কল্পনাও করেনি যে তার জীবন এমন জাহান্নামে তৈরি হবে। হিয়ার গর্ভবতী অবস্থার তখন সবে ১ মাস। সেই দিন টি ছিলো শুক্রবার ফজরের নামাজ পরে করিম মিয়া একটু ঘুমাতে গেল। শারমিন বেগম করিম মিয়া কে জিজ্ঞেস করল কিগো কি হয়েছে তোমার তুমি তো ফজরের নামাজ শেষে কখন ঘুমাও না? করিম মিয়া তখন শুধু বলেছিল আজকে কেমন জানি লাগছে তাই একটু ঘুমালাম। শারমিন বেগম ওতো কিছু ভাবল না নিজের কাজ করতে চলে গেল। হিয়া এখন বেশ রান্না বারা করতে পারে। ফজরের নামাজ শেষ করে হিয়া সব সময় তার শাশুড়ী কে সাহায্যের উদ্দেশ্যে নিচে আসে। এতে শারমিন বেগম তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। হিয়া আগে থালা বাসুন মাজলেও এখন তার পাশা পাশি রান্নার কাজেও শাশুড়ী কে সাহায্য করে। শাশুড়ীর রান্না দেখতে দেখতে বেশ কিছু রান্না করতে পারে এখন হিয়া। আজকেও হিয়া নিত্যদিনের মতো শাশুড়ীর কাজে সাহায্য করছিল। কিন্তু হঠাৎ তার শারমিন বেগমের চিৎকারে বাসার সকলেই শারমিন বেগমের কক্ষে যায়। কিছুক্ষণ আগে শারমিন বেগম করিম মিয়া কে ডাকতে আসে। কিন্তু যখন অনুব্রত করিম মিয়া কে ডেকে কোন সাড়াশব্দ না পায়। তখন শারমিন বেগম লক্ষ করে করিম মিয়ার শরীর বেশ ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। তার কোন নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস বুক ওঠা নামা করছে না। শারমিন বেগম যা বুঝার বুঝে গেল। ঠিক তখনই তীব্র কণ্ঠে চেচিয়ে উঠে। কক্ষে এসে সকলেই করিম মিয়া কে এই ভাবে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায়। জহরের নামাজ শেষে করিম মিয়া কে দাফন করা হবে। হামিদ দের সসকল আত্মীয়-স্বজন এসেছে। হিয়ার বাবা - মাও এই কথা শুনে সাথে সাথে চলে এসেছে । কেউ হাউমাউ করে কান্না করছে তো কেউ মুখে আচল গুজে কান্না করছে। শারমিন বেগম সেই কখন থেকে নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছে। হামিদ শব্দ করে কান্না না করতে পারলেও অনবরত চোখ দিয়ে পানি পরছে। অবশেষে করিম মিয়া কে দাফন করা হলো। সারা দিনে এক লোকমা ভাত ও পেটে পরেনি কারো। রাতে জোর করে আসে পাশের মানুষ শারমিন বেগম, হামিদ,হিয়া, শাকিলা কে খাবার খাইয়েছে। সময় দেখতে দেখতে পার হয়ে যায়। এখন হিয়ার ৩ মাস। এই কয়েক মাসে করিম মিয়ার কথা প্রায় সকলেই ভুলে বসেছে। শুনছেন আপনি কথাই যাচ্ছেন? করিম মিয়া মারা যাওয়ার ২ সপ্তাহ পর থেকে হামিদ কেমন জানি বদলাতে শুরু করে। রাত করে বাসায় থেকে চলে যায় সকালে বাসায় ফিরে। এই বেপারে হিয়া জিজ্ঞেস করলে হামিদ বলে কাজ ছিল হিয়াও তেমন মাথা খাটাই না। কিন্তু দিন দিন সকলেই বদলাতে শুরু করে। শাশুড়ীও আগের মতো নেই কিছু হলেই হিয়াকে কথা শুনাই ননদ ও বাদ যায় না এখন বাসার সকল কাজ হিয়া একাই করে। হিয়া এতে তেমন কিছু মনে করতো না। কিন্তু হিয়া লক্ষ করেছে তার শাশুড়ী আর ননদ তাকে অকারনেই বকার জন্য কাজের ক্ষুদ দরে। এইযে আপনি কিছু বলছেন না কেন? বলেই হামিদের হাত ধরতে যায়। ঠিক তখনই হামিদ হিয়ার হাত জারা মেরে সরিয়ে দেয়। তকে না বলছি আমার কাছে আসবি না। বলেই হামিদ চলে গেল। হিয়ার এখন মনে হয় সকলেই তার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে শুধু তার শুশুরের জন্য। তা না হলে তার মৃত্যুর পরেই কেন সবাই তার সাথে এমন করবে। দেখতে দেখতে হিয়ার ডেলিভারির সময় চলে আসে। হিয়া ভেবেছিল হামিদ তখন অন্তত তার পাশে থাকবে কিন্তু সেই দিন অ কাজের কথা বলে হামিদ চলে যায়। তার পর হাবিবের ৮ মাস হওয়ার পযন্ত হিয়া আর ছেলে হাবিব কে নিয়ে তাদের বাসায় থাকে। তখন হিয়া কে কখন নিজ ইচ্ছাই হামিদ ফোন দেয়নি। হিয়া ফোন দিলে হামিদ গালা গালি করে ফোন রেখে দিত। তার পর আবার হিয়া তার শুশুর বাড়ি যায়। হিয়া এই বার ঠিক জান তো তার সুখের দিন এই বাসায় শেষ। তখন বেশ গবির রাত হিয়া ছেলেকে খাইয়ে ঘুমাতে যাবে তখনি হামিদ আসে। হিয়া দেখতে পাই হামিদ টলমল পায়ে ভেতরে ডুকছে। হামিদ হিয়াকে দেখেই এক বিছরি গালি দেয় যা হিয়া শুনতে পায় না। হামিদ এসে হিয়ার উপর নিজের সব বোর ছেরে দেয়। হিয়ার নাকে মদের উটকো গন্ধ যাওয়ার পর বমি চলে আসে কিন্তু হিয়া নিজেকে সামলাই। তার পর হিয়ার উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে হামিদ হিয়া চেয়েও হামিদ কে আটকাতে পারে না। বেশ অনেক সময় পর হিয়া কে ছেরে দেয় হামিদ। হিয়াকে ছেরেই হামিদ বারান্দা চলে যায়। হিয়া ঠিক একই ভাবে বিচানাই পরে থাকে। হামিন ফোন কিয়ে কার সাথে যেন কথা বলে অনুব্রত নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করে। হিয়া পিছু থেকে শুনে বুঝতে পারে হামিদ পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে আছে। হিয়ার মাথাই যেন আকাশ ভেংগে পরে। হিয়া কিছু না বুলেই নিঃশব্দে ভিতরে চলে যায়। এবং হিয়ার চোখ দিয়ে অনবদ্য পানি পড়তে থাকে। হামিদ ভেতরে এসে হিয়াকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে বেশ বিরক্ত হয়। তাই আবার হিয়ার উপরে চরে বসে হিয়া হামিদ কে নিজের উপর উঠে বসতে দেখে ঝটকা দিয়ে হামিদ কে নিচে ফেলে দেয়। মাগ****র তেজ কত হামিদের মুখে এই রকম খারাও গালি শুনে হিয়ার গা গিন গিন করে উঠে। হিয়া কে আর কোন সুযোগ না দিয়ে হামিদ হিয়ার ওড়না দিয়ে হিয়ার হাত- মুখ বেদে ফেলে। হিয়া অনবরত নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। হামিদ আগের চেয়েও বেশ কষ্ট দিয়ে হিয়াকে নির্যাতন করতে থাকে এবং বির বির করে কি যেন বলতে থাকে। হিয়া এক সময় সইতে না পারি জ্ঞান হারায়। তার হামিদ থামে না হঠাৎ হাবিবের তীব্র কান্নার শব্দে হামিদ বেশ বিরক্ত হয় তার পর হিয়া কে ছেরে বাসায় থেকে চলে যায়। হাবিবের কান্নার শব্দে হিয়ার জ্ঞান ফিরে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন