ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার

পর্ব 4

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : তুমি আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব : ৪

হাবিবের কান্নার শব্দে হিয়ার জ্ঞান ফিরে। হিয়ার সারা গা বেশ ব্যাথা করছে। হিয়া কোন মতে উঠে বসে। নিজের ছেলে কে কোলে নিয়ে কোন রকম শান্ত করে হাবিব হিয়ার বুকের আশ্রয় পেয়ে কান্না করা থামিয়ে দেয়। হিয়া কোন মতে হাবিব কে দুধ খাইয়ে ঘুম পারিয়ে গোসলের জন্য যায়। সেই দিন সকাল বেলা ব্যাথার জন্য হিয়া ঘুম থেকে উঠে পারিনি। হিয়ার সারা গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ হিয়ার খোঁজ নিতে আসেনি। উল্টো হিয়া যখন বিকেলে আর খুদার তীব্রতা সইতে না পারে তখন খাওয়ার জন্য নিচে যায়। হিয়াকে খাবার বাড়তে দেখে শারমিন বেগম গরম খুন্তি দিয়ে হিয়ার হাতে ছ্যাক দেয়। হিয়া তীব্র চিৎকার করে খাবারের প্লেট হাত থেকে নিচে পরে যায়। খাবার নিচে পরে যাওয়াই হিয়া কে শারমিন বেগম আগুনে হিয়ার হাত ধরে। আম্মা আম্মা আমাকে ছাড়েন আম্মা আমার কষ্ট হচ্ছে ছাড়েন আম্মা। আমার জীবন টা বের হয়ে যাচ্ছে আম্মা ছাড়েন। মাগ***জি আমার বাড়ি থেকে আমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিজে রানীর মত থাকতে চাস? আমি রান্না করেছি কি তোর খাওয়ার জন্য? হিয়ার বেশ অনেক খানি জায়গা পুড়ে যায়। হিয়া তার শাশুড়ীর কাছে থেকে ছাড়া পেয়ে দৌড়ে নিজের রুমের ওয়াশরুমে গিয়ে হাতের পুরা জায়গায় ঠান্ডা পানি ঢালতে থাকে। হিয়া কান্না করতে করতে সেখানেই বলে পরে। আল্লাহ... আল্লাহ কেন আমার জীবন টা এমন নরকে তৈরি করে দিলেন? আমি আগেই তো ভালো ছিলাম।কেন আমার জীবনে সুখ চিরস্থায়ী হয় না। আমার ভাগ্যে আপনি ভালো কিছু কেন লিখেননি? যখন আমাকে এত কষ্ট পেতে হবে তবে কেন সামান্য সুখের দেখা দেখিয়ে লোভ জাগালেন? আমাকে যখন সুখী করবেনই না তাহলে কেন এই ক্ষণিকের জন্য সুখের দেখা? হিয়া রবের কাছে নিজের সকল অভিযোগ ঢেলে দিতে ব্যস্ত। হাবিবের কান্নার শব্দে হিয়া ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে হাবিবকে খাওয়ানোর জন্য যায়। হিয়া কিছু না খাওয়ার জন্য হাবিব দুধ পায় না যার জন্য হাবিবের ও পেট ভরে না। হাবিব খেতে না পেয়ে অনেক কান্না করতে লাগে। হিয়া কোন উপায় না পেয়ে পেট ভরে পানি খেতে থাকে। কিন্তু ভাতের খুদা কি আর পানি তে মেটে? হাবিব বেশ অনেকক্ষণ কান্না করার পর ঘুমিয়েছে। সকলে যখন খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পরে তখন হিয়া চুপি চুপি খাওয়ার জন্য নিতে নামে। হিয়া কিচেন রুমে গিয়ে দেখতে পায় ভাতে পানি দেওয়া আর ভাতের সাথে খাওয়ার জন্য কিছু নেই। হিয়া পেটের খুদা আর সইতে না পেরে পান্তা ভাত একটা পিয়াজ আর লবন দিয়ে খাওয়া শুরু করে। খাওয়া শেষে হিয়া রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরে। আজকেও হামিদ বাসায় আসেনি। সকাল হতেই হিয়া ঘুম থেকে উঠে বাসার সকল কাজ করে ফেলে। শারমিন বেগম কালকের ভাত দেখতে না পেয়ে হিয়াকে জিজ্ঞেস করে। হিয়া ভয়ে ভয়ে বলে সে খেয়েছে। শারমিন বেগম এই কথা শুনে হিয়ার চুল ধরে মারতে থাকে। হিয়া এক সময় মার সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায়। শারমিন বেগম হিয়া অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় হিয়াকে ছেড়ে দেয়। হিয়ার জ্ঞান ফেরার পর সে দেখতে পায় সে একই স্থানে পরে আছে। হিয়া জানে না সে কত ক্ষণ ধরে এখানে পরে আছে? হিয়ার হাবিবের কথা মনে পরতেই দৌড়ে উপরে যায়। হিয়া নিজের রুমে গিয়ে দেখতে পায় হাবিব তখন ঘুমিয়ে আছে। হিয়া তা দেখে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। তার পর সে ব্যাথার জাগায় মলম দিয়ে আবারও কাজ করা শুরু করে সকল কাজ করার পর হিয়া গোসল করার জন্য উপরে যায়। হিয়া উপরে গিয়ে দেখতে পায় হাবিব উঠে গিয়েছে হিয়া হাবিব কে গোসল করিয়ে খাইয়ে নিজেও গোসল করে। হিয়া খাওয়ার জন্য নিচে আসতেই দেখতে পায় শারমিন, শাকিলা, হামিদ সকলেই খাওয়া দাওয়া করে উঠে যাচ্ছে। হামিদ কিছুক্ষণ আগেই বাসায় আসে। হামিদ কে দেখে শারমিন বেগম বলে বাবা তুই কথাই গিয়ে ছিলি আই এখানে আই খেয়ে নে। হামিদ তার মার কথাই খাবার খাই। খাওয়ার শেষে হামিদ আবারও চলে যায়। হিয়া এই সব দেখে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখাল না কারন হিয়ার এখন এই সব দেখতে দেখতে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। হিয়া নিঃশব্দে নিজে এসে নিজের জন্য খাবার বাড়তে গিয়ে দেখতে পায় খাওয়ার জন্য ভাত থাকলেও সাথে খাওয়ার জন্য কিছু নেই। শেষে হিয়া উপায় না পেয়ে আবারও পান্তা ভাত বানিয়ে খাই। হিয়ার জীবন এই ভাবেই কাটতে থাকে। হিয়ার ননদ শাকিলার এর মধ্যে বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু শাকিলা তার জামাই কে নিয়ে এই বাসায় থাকে। শাকিলার প্রেমের বিয়ে শাকিলার চেয়ে হিয়া বেশি সুন্দর হওয়ার জন্য শাকিলার স্বামী হিয়ার সাথে বাজে কাজ করতে চাই। যা শাকিলা বুঝতে পারে কিন্তু শাকিলা নিজের সংসার বাচানোর জন্য হিয়াকেই অত্যাচার করে। এরই মধ্যে হামিদ এক দিন তার এক বন্ধুকে নিজের বাসায় নিয়ে আসে। হিয়া তখন হাবিব কে খাইয়ে ঘুমাচ্ছিল। হিয়া হামিদের সাথে এক জন অপরিচিত মানুষ কে দেখে উঠে বসতে যায় কিন্তু তার আগেই হামিদ তার বন্ধুকে মজা করতে বলে দরজা বন্ধ করে দেয়। হিয়া যা বোঝার বুঝতে পারে। হিয়া কখন ভাবতেই পারিনি হামিদ এত টা নিচে নামতে পারে। হিয়া কিছু করার আগেই সেই লোক টি হিয়ার উপর ঝাপিয়ে পরে। হিয়ার তীব্র চিৎকার বাসার সকলে শুনতে পেলেও কেউ কিছু বলে না হিয়ার চিৎকার শুনে হাবিবও উঠে পরে হাবিবের সেই সরল মস্তিষ্ক হয় তো বুঝতে পারে তার গর্ভধারিনী মার সাথে কিছু খারাপ হচ্ছে তাই সেও কান্নার করে দেয়। হিয়া হাবিবের কান্নারতো মুখে তাকিয়ে থাকে। হাবিব কান্না করতে করতে চোখ মুখ লাল করে ফেলে কিন্তু হিয়ার কিছু করার ছিল না। হিয়াকে তখন এক নরপশু খুবলে খাচ্ছিল। হিয়া এই তীব্র যন্ত্রণা সইতে না পেরে এক সময় হিয়ার শরীর অবশ হয়ে জ্ঞান হারাই তখন লোক টি হিয়া কে ছাড়েনি। হাবিবের কান্নাই লোক টি বেশ বিরক্ত হলে হাবিবের মুখে হিয়ার উরনা গুজে দেয়। লোক টি হিয়া জ্ঞান হারানোর প্রায় ২ ঘন্টা পর ছাড়ে। লোক টি নিজেকে ঠিক ঠাক করে নিচে যায়। লোক টি কে দেখে হামিদ বলে আরে ভাই মজা করতে বলেছি তাই বলে কি এত ২ দিন এ বিছানা থেকে উঠাতে পারবে নাকি? হামিদের কথাই লোক টি হেসে উঠে। তার পর তারা দুজন বাসায় থেকে চলে যায়। এই সব কিছু দূরে দারিয়ে থাকা শাকিলার জামাই সহেল শুনছিল। সে হিয়ার এই করুন অবস্থার শুজুক নেয়ার জন্য হিয়ার কাছে যায়। হিয়ার জ্ঞান ফিরে দেখতে পায় সহেল তার সুজুক নিচ্ছে। হিয়া চোখ বন্ধ করে পরি হাসের হাসি দেই। সহেল যখন বুঝতে পারে হিয়ার জ্ঞান ফিরেছে তখন সে তারা হুরু করে হিয়া কে ছেড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। মনে মনে সহেল বেশ ক্ষীপ্ত হয়। আজকেও সে সুজুক পেয়েও হিয়া কে ভালো করে ভোগ করতে পারলো না। হিয়া নিজের গা টা সামান্য নাড়াতে চাইলে বুঝতে পারে হিয়ার গার তীব্র ব্যথার জন্য সারা গা অবশ আছে। তাই সে শরীর নারাতে পারে না। হিয়া সে ভাবে পরে থাকে আর হিয়ার চোখ দিয়ে ও ঝরে পানি পড়তে থাকে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন