উপন্যাস : তুমি আমার
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ৫
হিয়া সে ভাবে পরে থাকে আর হিয়ার চোখ দিয়ে ও ঝরে পানি পড়তে থাকে। হিয়া পাশে তাকিয়ে যখন দেখতে পায় হাবিবের মুখে কাপড় গোজা সাথে সাথে হিয়া আঁতকে ওঠে। হিয়া নিজের সকল কষ্ট ভুলে নিজের ছেলের কাছে যায়। আব্বা আব্বা তোমার কি হয়েছে আব্বা আইত আম্মা চলে এসেছে তোমার আর কিছু হবে না আব্বা চোখ খুল। হিয়া যেন নিজের মধ্যে নেই। হিয়া পাগল হয়ে হাবিব কে নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে মাথায় পানি দিতে থাকে বেশ অনেকক্ষণ পর হাবিব কাসি দেই। যা দেখে হিয়া হাবিব কে বুকে জড়িয়ে কান্না করে দেই। হাবিবের মুখে তখন কাপড় গুজে দেওয়াই হাবিব কান্না করতে করতে নিশ্বাস নিতে না পারার জন্য গেন হারায়। আর কিছু ক্ষণ হলেই হাবিবনকে বাঁচানো গেত না। হিয়া কোন মতে হাবিব কে কোলে নিয়ে বিছানায় বসে। হিয়ার যেন জীবন টা বের হয়ে যাচ্ছে। একে তো শারীরিক - মানসিক যন্ত্রনা তার উপর শরীরের তীব্র ব্যাথা যা হিয়া সামনে উঠতে পারছে না। আর হাবিব সেই তখন থেকে কান্না করছে তো করছে। দুধ ও খেতে চাচ্ছে না। তবুও হিয়া কোন মনে নিজেকে সামলিয়ে হাবিব কে শান্ত করে। হাবিব শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরে। হিয়া ফ্রেশ হয়ে কিছু খাওয়ার জন্য যায়। হিয়ার খেতে ইচ্ছে না করলেও তার ছেলের জন্য তাকে খেতে হবে। হিয়া খাওয়া দাওয়া করে ওষুধ খেয়ে একটু ঘুমায়। এই ভাবেই রোজ হামিদ নেশ করে হিয়া কে মার ধর করে হিয়া নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে কখন এই বাসায় থেকে চলে যায়নি। হাবিবের পাশা পাশি তার মা আর বোনের যন্ত্র না তো আছেই। এরই মধ্যে সোহেল বেশ কয়েক বার হিয়ার সাথে খারাপ কাজ করতে চাই কিন্তু পারে না। হিয়া সেই শুজুক আর হতে দেইনি। সময় চলে তার নিজ গতিতে,সময় কে থামানোর মত ক্ষমতা এই পৃথিবীর কোন মানবেরই নেই। দেখতে দেখতে ৫ বছর হয়ে গেল। তবে হিয়ার সংসারের কোন উন্নতি হয়নি। সেই আগের মতই হিয়া কে হামিদ রোজ নেশা করে এসে মারে আর হিয়ার শাশুড়ী আর ননদ বেশ অত্যাচার তো আছেই। এই কয়েক বছর হিয়ার বাবা - মার সাথে কথা হলেই হিয়া কেমন আছে হাবিব কেমন আছে এত টুকু বলেই হিয়া ফোন রেখে দিত। হিয়া কখন তার বাবা - মা কে এই বাসায় আসতে বলে না। যেখানে হিয়ারই খাবার জুটে না সেখানে তার বাবা মা আসলে কি খাওয়াবে আর হিয়া চাই না তার বাবা মা তার এই পরিনিতির কথা জানুক। তবে এর মধ্যে ভালো দিক হলো হাবিব যে এত টুক বয়সেও নিজের মার ভালো খারাপ বুঝতে পারে। হিয়া যখন হাবিবের ওই কমল মায়া ভরা মুখে তাকায় তখন যেন হিয়ার সকল কষ্ট দূর হয়ে যায়। সেই দিন হিয়া ঘুমিয়ে ছিল হাবিব নিচে খেলা করছিল। সুজুক বুঝে সোহেল হিয়ার সাথে খারাপ কিছু করার উদ্দেশ্যে উপরে যায়। হিয়া তখন ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখতে পাই সোহেল ঘরের দরজা লাগাচ্ছে। দোরজা লাগানোর আগেই হিয়া সোহেল কে দাককা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। সোহেল কিছু টা অপ্রুস্তুত হয়ে যাওয়ায় কিছু টা পিছু সরে যায়। হিয়া যেই না ঘর থেকে বের হতে যাবে তখনই সোহেল হিয়া কে ধরে ফেলে। তখনই হামিদ বাসায় আসে। হামিদ হাবিব কে দেখে না দেখার মত করে চলে যায়। হাবিব পিছু থেকে হামিদ কে ডাক দেই কিন্তু হামিদ শুনে না। হামিদ উপরে নিজের রুমে গিয়ে হিয়া আর সোহেল কে দেখে বেশ চটে যায়। হিয়া ভাবে হয় তো এই বার হামিদ অন্যয়ের বিচার করবে কিন্তু তেমন কিছুই হামিদ করলো না। উল্টো হামিদ হিয়ার চুল ধরে টানতে টানতে নিচে নিয়ে আসে। সোহেল মনে মনে বলে যাক এবারের জন্য ও বেচে গেলাম। হামিদ হিয়া কে নিচে নিয়ে এসে শাকিলা আর শারমিন বেগম কে ডাকতে লাগে। হিয়া অনবরত হামিদ কে বলতে লাগলো বিশ্বাস কর হামিদ আমি এমন কিছুই করি নি অই সোহেল আমার সাথে খারাপ কাজ করতে চায়। হামিদ হিয়ার চুল আর একটু শক্ত করে ধরে। হিয়া ব্যাথায় খেকিয়ে উঠে। হাবিব নিজের বাবা কে মার গায়ে হাত তুলতে দেখে রেগে যায়। যার জন্য হাবিব হামিদের হাতে কামর দেই। হামিদ ব্যাথায় হিয়া কে ছেরে দেই। হামিদ চেচিয়ে বলে আম্মাম এই খান** র পুলারে ধর নইলে আমি নিজ হাতে এই টা রে কবর দিব। শারমিন বেগম হাবিব কে ধুরে পাশ থেকে বলে উঠে কি হয়েছে তুই এত রেগে আছিস কেন? তুই না মাত্র আসলি? হামিদ তার মার কথা শুনে বলে এই মা** সোহেল কে নিয়ে ফস্টি নস্টি করার জন্য উপরে নিয়ে যায়। হিয়া নিজের সম্পর্কে এই রকম বাজে কথা শুনে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না ঠাস করে হামিদের গালে থাপ্পড় দেই। হামিদ গালি দিয়ে হিয়ার গালেও ঠাস পরে থাপ্পড় দেই। হিয়া থাপ্পড়ের জর সাইতে না পেরে হিয়া ছফাই উপর পরে। মা** তোর এত তেজ তুই আমাকে তেজ দেখাস তুই এক্ষনী আমার বাসায় থেকে চলে যাবি। হিয়া এত বছরের অত্যাচার সইতে না পেরে হিয়া আর এক মুহুর্ত দেরি না করে হাবিব কে নিয়ে তার বাবার বাসায় চলে আসে।
বর্তমান :
হিয়ার কথা শুনে হিয়ার বাসার সকলেই ভাষা হারিয়ে ফেলে। হামিদা বেগম মেয়ে কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দেই। আম্মা আম্মা তুই এই কথা আমাদের আগে কেন বললি না আমরা তকে নিয়ে আসতাম।হিয়া সামান্য পরি হাসের হাসি দিন। আম্মু ভাগ্যে যা আছে তা হবেই তা নিয়ে আমি এত চিন্তা করি না। হোসেন রেগে বাসা থেকে বের হতে যাবে তখনই হিয়া হোসেনের পিছু ডাকে তুই কথাই যাচ্ছিস। আমি. আমি ওই মাদার ফা**** র কে আজকে খুন করব। রাগের জন্য ঠিক ভাবে হোসেন কথাও বলতে পারে না। তা কি ভাবে মারবি শুনি? হিয়ার কথাই সামান্য দমে যায় হোসেন। হাসান সাহেব মেয়ের মাথায় হাত রেখে কান্না করে দেয়। আম্মা আমাকে মাফ করে দে আমি তকে এক জন ভালো মানুষের কাছে তুলে দিতে পারিনি তুই তোর এই হতো ভাগা বাপ টারে মাফ করে দিস। হিয়া বাবা মার কান্না দেখে নিজের কান্নাও ধরে রাখতে পারে না। হিয়া কান্না করে বলে আব্বু আমার ভাগ্য এত খারাপ কেন? হিয়ার মাথাই হাত বলিয়ে হাসান সাহেব বলে চিন্তা করিস না মা আল্লাহ আছে না আল্লাহ সব ঠিক করে দিবে তুই আল্লার উপর ভরসা রাখ। আল্লাহ কারো খারাপ চাই না। আম্মু আমার খুদা লাগছে হাবিবের কথাই হিয়া কান্না থামায়। হামিদা বেগম নাতি কে কোলে নিয়ে বলে নানা ভাই আসো আমি তোমাকে খাইয়ে দেয়। হাবিব আর কিছু বলল না হামিদা বেগমের কলে করে খাওয়ার জন্য যায়। হিয়া হোসেন কে উদ্দেশ্য করে বলে হোসেন তুই কি আমাকে একটা ইস্কুলের চাকরি খুজে দিতে পারবি? আপু তুমি এই গুলা কি বলছ আমি বেচে থাকতে তোমাকে কাজ করতে দিব না। হিয়া হোসেন কে বোঝাতে শুরু করে দেখ আমি যদি নিজেকে ব্যস্ত না রাখি তাহলে অতীতের কথা আমি ভুল তে পারবো না আর হাবিব কেউ তো ইস্কুলে ভর্তি করতে হবে আমি না হয় হাবিব কে যেই ইস্কুলে পড়াবো সেই ইস্কুলে চাকরি করব। তাও কিন্তু আপু... আর কোন কিন্তু না।