ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার

পর্ব 6

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : তুমি আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব : ৬

হিয়া হোসেন কে বোঝাতে শুরু করে দেখ আমি যদি নিজেকে ব্যস্ত না রাখি তাহলে অতীতের কথা আমি ভুল তে পারবো না আর হাবিব কেউ তো ইস্কুলে ভর্তি করতে হবে আমি না হয় হাবিব কে যেই ইস্কুলে পড়াবো সেই ইস্কুলে চাকরি করব। তাও কিন্তু আপু... আর কোন কিন্তু না। হিয়ার সাথে হোসেন কথা না পেরে শেষ এ রাজি হয়ে যায়। সময় চলো মান, সময় তার নিজ গতিতে চলে। মাঝে বেশ কিছু দিন কেটে দিয়েছে। আব্বু তারা তারি কর আমরা লেট হয়ে যাচ্ছি। এই তো আম্মু আসছি। নানু আর না আমি আর খেতে পারবো না আম্মু আমার জন্য দারিয়ে আছে। নানু ভাই আর এক লকমা খেয়ে যাও। হামিহা বেগমের কথাই হাবিব সব টুকু খাবার শেষ করে মেন ঘেটের দিকে যায়। যেখানে আগে থেকেই হিয়া দারিয়ে ছিল। চলো আম্মু... হ্যাঁ চলো.. আম্মু আসছি হিয়া হামিদা বেগমের কাছে থেকে বিদায় নেই। সাবধানে যাইস আর হাবিবের খেয়াল রাখিস।হামিদা বেগমের কথাই হিয়া জবাব দেই আচ্ছা বলেই হিয়া হাবিব কে নিয়ে চলে গেল। এর মধ্যে হিয়ার জীবন থেকে হামিদ নামক লোক টি চলে গিয়েছে। হামিদের পরিবার হিয়া কে ডিভোর্সের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে আবারও নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু পারিনি। হিয়া ডিভোর্সের কথা শুনে বেশ খুশি হয়েছিলো যে হিয়ার কিছু করতে হয়নি হামিদরাই নিজ থেকে ডিভোর্সের কথা বলেছে। তাই হিয়া এই সুজুক কাজে লাগিয়ে হামিদ কে নিজের জীবন থেকে চিরকালের জন্য মুছে ফেলেছে কিন্তু হামিদের মা হাবিব কে নিয়ে যেতে চেলেও হাবিব হিয়ার সাথে থাকবে বলেছে তাই তা আর কিছু করতে পারিনি। হিয়ার এর পর থেকে বেশ ভালোই দিন কাটছে হোসেনের বন্ধুর কাছে থেকে একটি ভালো ইস্কুলের সরকারি চাকরি পেয়েছে। যেখানে হাবিব কেউ ভর্তি করিয়েছে হিয়া। হিয়ার ছেলে হওয়ায় হাবিব ইস্কুল থেকে সব কিছু থেকে বেশ ভালো সুজুক সুবিধা পায় আর হিয়াও বেতন বেশ ভালো আবার হিয়াদের বাসায় থেকেও কাছে রিকশায় করে আসলে ১০ মিনিট লাগে। কিগো আফা আপনে কি নামবেন না? রিশকা চাকলের কথাই হিয়ার ধ্যান ভাঙ্গে। হিয়া এত ক্ষণ রিশকাই বসে এই সব কথা ভাবছিলো। অও চলে এসেছেন আসলে আমি বুঝতে পারিনি এখনই নামছি আমরা। হিয়া হাবিব কে নামিয়ে রিশকা ভারা দিয়ে ইস্কুলের ভিতরে চলে যায়। ইস্কুল টি সরকারী হলেও এখানে প্লে থেকে ১০ম শ্রেণীর পযন্ত রয়েছে। এর জন্য হিয়ার বেতন ও বেশ ভালো। হিয়া হাবিব কে তার ক্লাস রুমে বরিয়ে নিজে অফিস রুমে যায়। ইস্কুল ছুটির শেষে সকলেই চলে গিয়েছে কিন্তু হিয়ার কিছু কাজ থাকাই সে পিছে পরে যায় তাই হিয়া আর হাবিব এখন বাসায় যাওয়ার জন্য রিকশার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু রাস্তাই একটা কাক পক্ষিও নেই। হিয়া দূরে দেখতে পাই এজন মধ্য বয়স্ক মহিলার ব্যাগ ছিন্তাই হচ্ছে তাই হিয়া কোন কিছু না ভেবে হাবিব কে সেখানে দার করিয়ে নিজে দৌড়ে সেখানে যায়। কোন বলা কওয়া ছাড়া ছিন্তাই কারিকে নিজের কাদের ব্যাগ দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। কিন্তু একজন ছেলের সাথে কি আর পারা যায়। ছেলে টি হিয়া কে ধরতে আসে হিয়া ছেলেটির ম্যানপয়েন টে লাথি মারে ফলে ছেলে টি ব্যাথায় রাস্তাই পরে যায়। সেই সময় কিছু লোক আসতে দেখে ছেলেটি কোন মতে উঠে দারিয়ে পালিয়ে যায়। এই যে আন্টি আপনার ব্যাগ বলেই ব্যাগ হাতে হিয়া সামনে মহিলার দিকে বারিয়ে দিল। মহিলা টি হিয়ার মাথার উপর হাত রেখে বলে খুশি হও মেয়ে। মহিলা টির কথা হিয়া সামান্য হাসল। তোমার কি বিয়ে হয়েছে? জি আন্টি অই যে আমার ছেলে হিয়া হাবিবের দিকে আংগুল তাক করে বলে। মহিলা টি হাবিব কে দেখে বেশ অবাক হয়। তোমার এত বড় ছেলেও আছে? জি আন্টি আমার ছেলের জন্য ও দয়া করবেন। আজকে আসি বলেই হিয়া হাবিবের কাছে গেল কিছুক্ষণের মধ্যে একটি রিশকা চলে আসে হিয়া হাবিব কে রিশকাই উঠিয়ে নিজেও উঠে। সবাই সবার মত চলে গেলেও কেউ দেখলো না রাস্তাই দূরে কালো এক গাড়ি দারিয়ে ছিল। বস যাবো? হুম লোকটির গম্ভীর কন্ঠ শুনে সামনের লোকটি গাড়ি চালানো শুরু করে। অমিত আবরার এখন আসিনি? জি না স্যার, বস এখন আসিনি। আরিফ চৌধুরী এক মাত্র ছেলের বেপরোয়া কাজে বেশ বিরক্ত। সি.আই কোম্পানি চৌধুরী বংশের পারিবারিক কোম্পানি।

চৌধুরীরা ৩ ভাই। বড় জন আরিফ চৌধুরী তার স্ত্রী আরমিন বেগম তাদের এক মাত্র ছেলে আর চৌধুরী বংশের প্রথম ছেলে আবরার চৌধুরী। আবরার চৌধুরী যেমন রগচটা তেমনই রাগী গারত্যাম তার সিরাই সিরাই বয়ে গিয়েছে। আবরারের এই বেপরোয়া ব্যবহারের জন্য কেউ তার সাথে লাগতে আসে না।

দ্বিতীয় জন আসিফ চৌধুরী তার স্ত্রী আমিনা বেগম তাদের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে আলিফ চৌধুরী বংশের সব চেয়ে ফাজিল ছেলে আর মেয়ে আয়রা চৌধুরী সবার থেকে ভদ্র।

আর তৃতীয় আকিফ চৌধুরী তার স্ত্রী আফিয়া তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আরাব চৌধুরী যে কিনা আলিফের মতো চঞ্চল ও না আবার আবরারের মতো গম্ভীর ও না মেজো মেয়ে আমিরা চৌধুরী যাকে আলিফের কারবনকপি বলা যায় আর ছোট ছেলে আয়াত চৌধুরী।

আবরারের বয়স ২৭ বছর আর আবরারের ২ বছরের ছোট আলিফ আর আরব। তাদের ৩ বছরের ছোট আয়রা আর আয়রার ৫ মাসের ছোট আমিরা আর তাদের ৩ বছরের ছোট আয়াত।

স্যার অই তো আবরার বস এসেছে। অমিতের কথাই আরিফ চৌধুরী সামনে তাকায়। আববার নিজের চির পরিচিত গম্ভীর মুখে করে সামনে আসছে যেন তার কাছে সব কিছু মূল্য হীন। আবরারের এই বেপরোয়া খাপছাড়া ভাবভঙ্গী দেখে আরিফ চৌধুরী বেশ বিরক্ত। দেখছেন ভাই আমাদের সিংহ আসছে নিজের ভাইয়ের মুখে নিজের ছেকের প্রশংসা শুনে বিরক্ত হয়। কিন্তু মনে মনে আরিফ চৌধুরী ছেলের প্রতি গর্ভিত। সে জানে তার ছেলে লাক্ষে একটি। আবরার নিঃশব্দে নিজের বাপ - চাচার সামনে এসে ধারায়। তোমরা এখন এখানে কি করছ। ছেলের এই খাপছাড়া কথাই যেই না আরিফ চৌধুরী কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আসিফ চৌধুরী আবরার কে উদ্দেশ্য করে বলে ওয়েল্কাম মাই বয় তোমার জন্যই এতক্ষণ অপেক্ষা করেছি। তুমি চলে এসেছ এখন আমরা মিটিং শুরু করতে পারব। অমিত মিটিং এর প্রস্তুতি নেও। বল আমাদের সিও চলে এসেছে। আসিফ চৌধুরীর কথাই অমিত নিজের কাজ করতে চলে যায়। আবরার নিজের কেবিনে আসে চেয়ারে নিজের গা টা এলিয়ে দেয়। ঠিক সেই সময় হই হই করতে করতে আলিফ আবরারের কেবিনে আসে আর তার পিছু পিছু আরাফ ও আসে। আবরার আলিফ কে দিকে বেশ বিরক্ত। আবরার জানে আলিফ এখন তার মাথা খাবে তাই বিরক্তি তে চ - সূচক শব্দ করে চোখ বন্ধ করে নিল। কী ব্রো কি শুনলাম মিস্টার আবরার চৌধুরী নাকি আজকে লেট করে এসেছে? যে সামান্য কর্মচারী লেট করে আসলে অফিস থেকে বের করে দেয় সেই আবরার চৌধুরী আজকে লেট কি ভাবে ভাবার বিসয় তো কিন্তু তার আগে বল এখন তোমাকে কে বের করবে? শোন আলিফ আমাকে কে বের করবে তা আমি জানি না কিন্তু তুই এখন না গেলে আমি তকে ঠিকই লাথি দিয়ে বের করব।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 6 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন