উপন্যাস : তুমি আমার
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ৭
নোটিস : আমি আমার লেখা উপন্যাস সংগ্রামী নারীর কিছু জিনিস পরিবর্তন করছি। যেমন : হিয়ার ছেলে হাবিবের বয়স ৫ বছর ছিল। আমি তা পরিবর্তন করে ৫ মাস রেখেছি। আর হিয়ার বয়স ২৩ বছর ছিল তা পরিবর্তন করে ২০ বছর করেছি। আর হিয়া ছোট ভাই হোসেনের ২০ বছর ছিল। তা পরিবর্তন করে হিয়ার ভাই কে হিয়ার থেকে ৪ বছরের বড় করেছি। তাই হোসেনের বয়স এখন ২৫ বছর। আর হিয়ার আব্বুর নিজস্ব ব্যবসা থাকবে যার দেখা শোনা হোসেন করবে। বাকি সব ঠিক আছে।
....শোন আলিফ আমাকে কে বের করবে তা আমি জানি না কিন্তু তুই এখন না গেলে আমি তকে ঠিকই লাথি দিয়ে বের করব। আলিক জানে আবরার খুব অল্পতেই রেগে যায়। তাই আবরার কে রাগাতে আলিফের বেশ ভালো লাগে। আবরার যেই না উঠে আলিফকে ধরতে যাবে আলিফ কোন কিছু না ভেবে ভোঁদৌড় দিয়ে বাহিরে চলে যায়। আবরার আবারও নিজের চেয়ারে বসে।
উফফ ভাইয়া জানই তো বাদর টা কেমন তাও কেন এমন কর তুমি..? যায় হোক এই ফাইল টা দেখো.. আবরার আরাবের কোথার কোন জবাব না দিয়ে ফাইল দেখতে ব্যস্ত হয়। কিছুক্ষণের জন্য কেবিন নিস্তব্ধ হয়ে যায়। নিস্তব্ধের চাদর ছিরে আবরারের গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসে। হুম.. সব ঠিক আছে।
আচ্ছা ভাইয়া তুমি কী কোন কিছু নিয়ে চিন্তিত..? আবরার আরাবের প্রশ্নে মাথা তুলে তাকাই। আবরারের শান্ত দৃষ্টি দেখে আরব সামান্য ভরকে যায়। না মানে ভাইয়া আমি সেই রকম কিছু বলতে চাইনি। তুমি কখন লেট করে অফিসে আসো না আবার এখন ফাইল দেখতে গিয়েও অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিলে তাই বলছি আর কি। না তেমন কিছু না তুই এখন যা। ঠিক আছে ভাইয়া। আবরার আকিব যাওয়ার পর নিজের চোখের উপর হাত দিয়ে অফিসে আসার সময়ের কথা ভাব ছিল।
তোর আজকে এত দেরি হলো কেন..? হামিদা বেগমের কথা শুনে হিয়া বলে.. আরে আম্মু বল না আজকে আসার সময় একজন মধ্য বয়স্ক নারীকে ছিন্তাই কারি ধরেছিল। আমি তাকে বাচিয়েছি। মেয়ের কথা শুনে হামিদা বেগম আঁতকে উঠল। কী বলছি তুই ঠিক আছিস তো বলতে বলতেই হামিদা বেগম হিয়ার কাছে এসে হিয়াকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগলো কোথাও ব্যাথা পেয়েছে নাকি। হিয়া কোথাও ব্যাথা পাইনি তা নিশ্চিত করে হামিদা বেগম হিয়ার থেকে সামান্য দূরত্বে এসে দাঁড়ালো। তোকে কে বাচাতে বলেছে তোর যদি কিছু হয়ে যেতে..? উফফ আম্মু তুমি এত চিন্তা কর কেন..? আমার তো কিছু হয়নি। হিয়াদের কথার মাঝে হাসান সাহেব এসে ধারালো। এতক্ষণে সকল কথা হাসান সাহেব শুনেছে। হাসান সাহেব এসে হিয়ার কাঁধে হাত রেখে বলে আমার মেয়ে একজন সাহসী কন্যা। আর তুমি আমার মেয়ে কে মানুষকে সাহায্য করতে বারন করছো...? এটা কিন্তু ঠিক না হামিদা..। এত সাহসী হয়ে কী লাভ হলো আব্বু..? সেই তো জীবনের যুদ্ধে হেরে গিয়েছি। হিয়ার কথাই হলরুমে কিছুক্ষণের জন্য চার পাশে নিস্তব্ধতা ছেয়ে গেলো। হিয়া নিজেকে সামলিয়ে আবারও হেসে বলে আরে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে বাদ দেও তো। আমার বাবা টা কোথাই দেখি তো... এই তো আমার বাবা টা কী আম্মু কে মিস করেছে। এই তো আম্মু চলে এসেছে । বলতে বলতেই হিয়ার তার রুমে গেলো আর যাওয়ার সময় বলে গেলো আম্মু আমার খুদা লেগেছে আমি ফ্রেশ হয়ে আসচ্ছি তুমি খাবার বারো। হিয়া রুমে গিয়ে হাবিব কে
Breastfeeding করিয়ে শুয়ে দেয় হাবিব কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে যায়। হিয়া ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে যায়।
হিয়া..! হোসেনের কন্ঠ পেয়ে পিছু ফিরে তাকাই.. জী ভাইয়া কিছু বলবে..?
হ্যাঁ তুমি কী এখন স্কুলে কাজ করতে চাস..? না মানে আমাদের ব্যবসা তুইও তো যোগ দিতে পারিস। তোকে স্কুলেই কেন চাকরি করতে হবে। হোসেনের কথা শুনে হিয়া খাওয়া থামিয়ে পূর্ণ দৃষ্টিতে হোসেনের দিকে তাকায়.. আসলে ভাইয়া আমি চাই নিজের আলাদা একটি পরিচয় বানাতে। যাতে কেউ আমার দিকে আঙ্গুল উঠিয়ে বলতে না পারে আমি বাবা - ভাইয়ার টাকাই বসে বসে খাই। আমি চাই আমার ছেলের দিকে কেউ আঙ্গুল উঠিয়ে বলতে না পারে তোর আম্মু আর তুই তোর নানু বাসায় পরে পরে খাস। হোসেন জানে তার বোনের আত্ম সম্মান অনেক প্রখর। হিয়া কখনই তাদের অফিসে কাজ করবে না তাও বোনকে কাজ করতে দিতে হোসেনের ইচ্ছা হয় না। ঠিক আছে তুই যা ভালো মনে করিস বলেই হোসেন চলে গেলো।
আয়রা আর আমিরা সোফাই বসে নুডুলস খাচ্ছে আর টিভি দেখছে। যেখানে মুভির রোমান্টিক ছিন দেখাবে আর ঠিক সেই সময় টিভি অফ হয়ে গেলো। আয়রা চেচিয়ে বলে আমিরা তুই টিভি অফ করলি কেন..? এক্ষুনি রোমান্টিক ছিন দেখাচ্ছিল। বলতে বলতেই পাশে তাকিয়ে আয়রা হতভম্ব হয়ে চেচিয়ে নুডুলসের বাটি নিচে ফেলে দেই। রোমান্টিক ছিন দেখবি হুম..? আরাবের কথাই আয়রার কাসি উঠে যায়। পাশ থেকে আমিরা পানি নিয়ে আয়রা কে দেয়। আয়রা চোখ গরম করে আমিরা কে সাসিয়ে পানি নিয়ে খেতে থাকে। তুমি আমিরাকে কি ভয় দেখাচ্ছি আমার সাথে কথা বল। এই রাক্ষাস টা এটাও দেখে নিয়েছে..? মনে মনে গালি দিয়ে লাভ নেই..? আয়রা আরাবের কথাই অবাক হয় কিন্তু সাথে সাথে নিজেকে সামলিয়ে নিজের ছাফায় গেয়ে বলে উঠে.. না না নায়ায়া মানে ভাই আমি তো আমিরাকে বলছিলাম কী এই সব আজে বাজে ছবি দেখে..? অওঅও তাই কিন্তু আমি তো শুনলাম তুই বলছিলি আমিরাকে টিভি কেন বন্ধ করলো..? আরে ভাইয়া তুমি ভুল শুনেছ। সময় থাকতে কানের ডাক্তার দেখাও নাহলে পরে তোমাকে বিয়ে কে করবে..? তখন তো বলবে এই বইরা ছেলে কে বিয়ে করা যাবে না। আমাকে কেউ বিয়ে না করলে আমি তোকে বিয়ে করে নিব। আরাবের কথা শুনে পাশ থেকে আলিফ বলে উঠে.. ইসসসস আসছে আমার বোন কে বিয়ে করতে। তোকে তো রাস্তার পাগলের সাথে বিয়ে দিবো আমি তোর বোন কেই বিয়ে করব তুই কি করবি..? কি করব দেখতে চাস হুম..? পাশ থেকে আবরার আলিফ আর আরাবের কান ধরে। উফফফ ভাইয়া কি করছ লাগছে তো ভাইয়া ছারো উফফ আবরার আরাব কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে তুই না আমাকে অফিসে বললি এই বাদরের সাথে না লাগতে তুই এখন কেন ওর সাথে লাগেছিস..? কীইই তুই আমাকে বাদর বলেছিস..? আলিফ চেচিয়ে উঠলে আবরার আরো জোরে আলিফের কান মুচড়ে ধরে। উফফ ভাইয়া ছাড় লাগছে তো। আরাব ভুল কী বলেছে এই তো এখনই তো তুই বাদরের মতো চেচিয়ে উঠলি। আবরারের কথা শুনে পাশে থাকা আয়রা আর আমিরা হেসে উঠে। তা দেখে আবরার আরাব আর আলিফ কে ছেড়ে দিয়ে আয়রা আর আমিরার উদ্দেশ্যে বলে উঠে আজকে তোদেরও হচ্ছে আমি কাকাই দের তোদের কথা জানাবো। অল্প বয়সে পেকে যাওয়া না..? লেখা পড়া নেই..? এই বার পরিক্ষায় ভালো মাক্স না পেলে তোমাদের বিয়ে দিয়ে দিব। এই কথা শুনে আয়রা মনে মনে বলে আমি তো সেটাই চাই কিন্তু তোমরাই তো বুঝনা। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলল না। কারন এই বাসার প্রত্যেকেই আবরার কে জমের মত ভয় পাই।