উপন্যাস : তুমি আমার
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ৮
প্রিয়, পাঠক - পাঠিকা তোমাদেরকে জানিয়ে দেয় আমার সংগ্রামী নারী উপন্যাস টি বদলে তুমি আমার নাম রাখছি। আর সব কিছু ঠিক আছে শুধু নাম বদলানো হয়েছে।
কারন এই বাসার প্রত্যেকেই আবরার কে জমের মত ভয় পাই। আম্মু আমার রুমে এক কাপ কফি পাঠাও। আরমিন বেগমের উদ্দেশ্য কথা টা বলেই আবরার নিজের রুমে চলে যায়। আবরার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে যায়। আরমিন বেগম আয়রা কে দিয়ে আবরারের জন্য আবরারের রুমে কফি পাঠায়। আবরার কে রুমে না দেখে আয়রা বুঝতে পারে আবরার ওয়াশরুমে। কারণ আবরার কোথাও থেকে আসলে আগে ফ্রেশ হবে তারপর বাকি কাজ করবে। তাই আয়রা কোন দ্বিধা ছাড়াই আবরারের রুমে ডুকে যায়। হাত থেকে কফির মগ টা বেডের পাশে টিটিবিলির উপরে রেখে সারা রুমের উপর চোখ বুলয়ে নেই। ঠিক তখনই আয়রার চোখে পরে আবরারের ফোন টি বেডের উপরে রাখা। আয়রা কোন ভুনিতা ছাড়াই আবরারের ফোন হাতে তুলে নেয়। কিন্তু ফোনের স্ক্রিন অন করতেই দেখতে পাই লক লাগানো। আয়রা বেশ বিরক্ত হয়। কিন্তু ঠিক সেই সময় পিছু থেকে আবরারের গম্ভীর আর ভারি কন্ঠ শুর শোনা যায়। তুই ওখানে কী করছিস..? আয়রা থতমত খেয়ে তারা হুরু করে আবরারের ফোন টি বেডের উপর রেখে আবরারের দিকে ঘুরে তাকায়। আয়রা আমতা আমতা করে বলে না না নায়ায়ায়া মা মা মা নেএএএ আমি তো এই যে এইজে আমি তোমার কফি দিতে এসেছি। বড় আম্মু আমাকে কফির মগ গিয়ে বলব তোমাকে দিয়ে আসতে তাই তো আসলাম। আবরার শান্ত দৃষ্টিতে আয়রা কে উপর নিচ ভালো করে পরক করে আয়রার উদ্দেশ্যে বলে উঠে। ঠিক আছে কফি রাখা শেষ এখন তুই যা। এহহহহহ...তোকে যেতে বলেছি...! অহহ হ্যাঁ এইতো যাচ্ছি। আমি কী এখানে থাকতে আসেছি নাকি..? এমন করার কী আছে মনে মনে আবরার কে আয়রা আরু কিছু শুনিয়ে আবরারের রুম থেকে বের হয়ে গেলো। আবরার বেডের পাশে রাখা টি-টেবিলের উপর থেকে কফির মগ হাতে তুলি নেই। এক ডোগ খেয়ে ডেসিন টেবিলের সামনে গিয়ে নিজেকে পরি পাটি করতে ব্যাস্ত হয়।
হিয়া...! জি আম্মু... হাবিবকে আমার কাছে দিয়ে খাবার খেয়ে আস। না থাক আম্মু হাবিব আমার কোলেই থাক। হাবিব কে দেখলেই চুমু দিয়ে মুখ ভরে দিতে মন চাই। হাবিবের অই ফুলু ফুলু টমেটোর মতো গাল গুলো এক বার ধরলেই খালি টিপে দিতে ইচ্ছে হয়। হোসেন তো যখনই অফিস থেকে বাসায় আসে আগে হাবিবের খোজ করে। হাবিব কে আগে কোলে নিয়ে হাবিবের সারা মুখ জুরে চুমু দিতে থাকে। হাবিব মামার কাজে বেশ বিরক্ত হয়। হাবিব তো মাঝে মাঝে মুখ কুচকে কান্না করে ফেলে। হাবিব কথা বলতে পারলে আগে হয়তো বলতো এই চুমু খোর মামা আমাকে ছাড়ো চুমু খোর মামা আমি তোমার কাছে যাবো না। ছাড়ো বলছি। কিন্তু কী আর করার হাবিব তো আর কথা বলতে পারে না সবে মাত্র কোন মতে মাম মাম বলা শিখেছে। হাবিবের মুখে এই ডাক প্রথম শুনেই যেন হিয়ার পুরো দুনিয়া থমকে গিয়েছিলো। সেই দিন হিয়া হাবিব কে জরিয়ে ধরে বেশ অনেকক্ষন কান্না করেছিলো। হিয়ার এই জগতে এই ছেলে ছাড়া আপন বলতে আর কেউ নেই। হিয়ার তো এখন নিজের বাবা - ভাই এর গারের বজা মনে হয়। দুই দিন পর হোসেন বিয়ে করবে তখন কী আর হিয়া এই বাসায় থাকতে পারবে। তাই হিয়ার চিন্তা করে রেখেছে হাবিব কে নিয়ে একটা বাসা ভারা করবে আর কত দিন বাবার ঘারে বসে খাবে। এই হিয়া কী এত ভাবছিস..? হামিদা বেগমের কথাই হিয়ার ধ্যান ভাঙ্গে... কয় না তো কিছু না তুমি খাও আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না আম্মু। হাবিব আমার কাছেই থাক। কেউ আর কোন কথা না বলে খাবারে মন দিল হিয়া হাবিবের ঘুমত্র মুখে তাকিয়ে সামান্য হাসি দেয়। আজ ভাগ্য হিয়াকে কথাই এনে দার করিয়েছে..? হিয়া কখন কী ভেবেছিলো তার ও এমন একটা ছেলে থাকবে..? ভেবেছিলো হয় তো..?! সুন্দর একটি সংসার বাদার সপ্ন কিন্তু সংসার না হলেও হিয়ার কোল আলো করে যে হিয়ার এই চাদের মতো ছেলে এসেছে তাতেই হিয়ার সকল সপ্ন পুরোন হয়ে যায়। হিয়া যখন হাবিবের মুখে তাকাই হিয়ার সকল দুঃখ - কষ্ট শেষ হয়ে যায়। হিয়ার আর কোন ইচ্ছে নেই এমন কী দ্বিতীয় বারের মতো আর সংসার করারও না। হিয়া হাবিব কে নিয়েই বাকি জীবন টা পার করে দিতে চাই। সকলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে যে যার রুমে ঘুমানোর জন্য চলে যায়। হিয়া নিজের রুমে এসে হাবিব কে বিছানায় শুয়ে দেয়। হাবিব মুখ দিয়ে চু চু শব্দ করে উল্টো ঘুরে শুয়ে পরলো। তা দেখে হিয়া হেসে উঠে। হিয়া আজও রাতে আঁতকে উঠে সেই মরমান্তিক দিন গুলোর কথা মনে পরলে। সব চেয়ে বেশি হিয়ার মনে পরে হাবিবের সাথে হয়ে যাওয়ার কথা সেই দিন হামিদ কীভাবে তার বন্ধুকে হিয়াকে ধর্ষণ করতে পাঠিয়ে ছিলো তখন হাবিবের কান্না শুনে হাবিবের মুখে হিয়ার উরনা ঘুজে দিয়েছিলো। সেই দিন হিয়া আর একটু দেরি করলে হাবিব কে হয় তো চিরো দিনের জন্য হারিয়ে ফেলতো। হিয়া আর কিছু ভাবতে পারে না হিয়ার মাথা ঘুরতে থাকে। হিয়া আর কোন কিছু না ভেবে দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। ঝরনা ছেড়ে তার নিচে বসে পরে পানির সাথে বেসে যাওয়া হিয়ার অশ্রুবিন্দু হিয়া ব্যতীত কেউ জানলো না, না কেউ দেখলো আর না কেউ হিয়ার কষ্ট অনুভব করতে পারলো। হিয়া আর হিয়ার রবই জানে সেই দিন গুলো হিয়ার কী ভাবে কেটেছে। হিয়া হাবিবের কথা ভেবে ওয়াশরুম থেযে বের হয়ে আসলো। কারণ হিয়ার যদি এখন ঠান্ডা লেগে যায় তাহলে হিয়ার বুকের দুধ খেয়ে হাবিবেরও ঠান্ডা লাগতে পারে। হিয়া বাহিরে এসে দেখে। হাবিব ঘুম থেকে উঠে গিয়েছে। আর খাটের মাঝে উল্টো হয়ে খেলা করছে। হিয়া আর একটু দেরি করে আসলে আর হাবিব নিচে পরে গেলে কী হতো হিয়া আর কিছু না ভেবে দৌড়ে হাবিব কে নিজের বুকের সাথে মিসিয়ে নিলো এমন ভাব যেনো হিয়া পারলে হাবিবকে নিজের বুকের ভিতরে ডুকিয়ে ফেলতো। হিয়া নিজের হাতের বাধন আলগা করতেই হাবিব নিজের মুখ উচু করে হিয়ার দিকে তাকিয়ে নিজের দাত বিহীন মুখ দিয়ে খিল খিল করে হাসি দেয়। যা দেখে হিয়ার মন প্রান জুরিয়ে যায়। হিয়া আবারও নিজের সাথে হাবিব কে মিসিয়ে নেই তবে এমন ভাবে যেনো হাবিব ব্যাথা না পায়। হিয়া হাবিব কে নিয়ে ঘুমাতে যায়। কিন্তু হাবিব না ঘুমিয়ে হিয়ার বুকের উপর শুয়ে খেলতে থাকে এমন ভাব যেনো হাবিব নিজের মার বুক সব চেয়ে পছন্দের খেলার জায়গা। হিয়া তা দেখে ক্ষণে খহণে হাসির দেশে হারিয়ে যায়। হাবিব বেশ কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পরে হিয়া হাবিবকে নিজের সাথে মিসিয়ে নিয়ে হিয়াও ঘুমিয়ে পরে।
সূর্য পূর্ব আকাশে নিজের উপস্থিত জানান দিচ্ছে। নতুন ভরের সুচনা হয়েছে। রোজ কার মতো যে যার কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরে। কারো জন্য কারো থামার সময় নেই।