ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার

পর্ব 9

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : তুমি আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব : ৯

সূর্য পূর্ব আকাশে নিজের উপস্থিত জানান দিচ্ছে। নতুন ভরের সুচনা হয়েছে। রোজ কার মতো যে যার কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরে। কারো জন্য কারো থামার সময় নেই।

হিয়া রোজ কার মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে হাবিবের সকল কাজ শেষ করে ফেলে। হামিদা বেগম সব সময় হিয়া পানি জাতীয় এই সব কাজ করতে নিষেধ করে। কারন হিয়ার ঠান্ডা লেগে গেলে হাবিবেরও ঠান্ডা লাগবে। কিন্তু হিয়া তা মানতে নারাজ। হিয়া এমনিতেই এই বাসায় থেকে তার বাবা - মা - ভাইদের কাদের বজা হয়ে রয়েছে। তার উপর এখন তার ছেলের কাজও যদি হামিদা বেগম করে তা হিয়া মানতে পারবে না। তাই সকাল সকাল সকল কাজ শেষ করে হাবিব ঘুম থেকে উঠে হাবিবকে খাইয়ে তার পর স্কুলের জন্য চলে যায়।

- হিয়া খাবার খেয়ে আস।

- এই তো আম্মু আসছি। হিয়া হাবিবকে খাইয়ে তার সাথে করে নিজে খাবারের জন্য নিজের কক্ষ থেকে বাহিরে আসে।

- দে আমার নানু ভাই কে আমার কাছে দে। নে তুই এখন থেকে স্কুলের জন্য চলে যা পরে আবার বলবি দেরি হয়ে গয়েছে।

- হিয়া হামিদা বেগমের কথাই কিছু না বলে সামান্য মুচকি হাসি দিয়ে খাবার খেতে শুরু করে।

- তা আম্মু তোমার স্কুলে কেমন কাটে..? হাসান সাহেবের কন্ঠ পেয়ে সকলেই তার দিকে তাকাই।

- হিয়া বাবার উদ্দেশ্য বলে. আলহামদুলিল্লাহ আব্বু। যেত টুকু আশা করেছি তার চেয়ে ভালোই দিন কাটে।

- যাক ভালো। তোমার কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে কিনবা তোমার আম্মু বা ভাইকে জানাবে। আমরা সব সময় তোমার পাশে আছি। আমি তো এটা বুঝতে পারছি না তোমার বাবা - ভাই বেচে থাকতে তুমি এতো বছর কেন কষ্ট করে এসেছো। আমাদের বললেই তো হতো আমরা তোমাকে অই বাসায় থেকে নিয়ে আসতাম। হাসান সাহেব এই কথাই পুরো বাড়িতে নিরবতা নেমে আসল।

- হিয়া কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে। আমি ভেবেছি মানিয়ে নিতে পারব কিন্তু তারা আমার ভাবনার চেয়েও খারাপ বের হলো। আমি তো জানি তোমরাও জানো এই সমাজ তো আর একজন ডিভোর্সি মেয়েকে ভালো চোখে দেখবে না। ভালোভাবে প্রাণ খুলে বাচতে দিবে না এই সমাজ তো শুধু জানে মেয়েদের পা-দিয়ে পিসে মারতে।

হিয়ার কথাই যেনো পুরো ডাইনিং রুম আগের চেয়েও আরো বেশি নিস্তব্ধ হয়ে গেল। হিয়ার কথার বিপরীতে কেউ আর কোন কথা বলতে পারেনি।

- হিয়া হাবিবের গালে চুমু দিয়ে স্কুলের জন্য চলে যায়। হিয়া বাসার নিচে আসতেই হিয়ার অজান্তেই এক ফোটা পানি চোখ থেকে মাটিতে পরে। তা দেখে হিয়া সামান্য হাসি দিয়ে চোখ মুছে নিজের গন্তব্যের দিকে চলে যায়।

- চৌধুরী ভিলায় সকলেই খাবারের জন্য ডাইনিং টেবিলে বসেছে। আয়রা আর আমিরা কলেজে যাওয়ার জন্য একেবারে তৈরি হয়ে এসেছে।

- আরিফ চৌধুরী সকলকে ভালো ভাবে পরক করে আরমিন বেগমের উদ্দেশ্য বলে তোমার গুনোধর ছেলে এখন কে নামিনি। সব কিছুতে কেন সব সময় লেট করতে হবে তার। শেষের কথা টা সামান্য চেচিয়ে বললেন।

- আরমিন বেগম কিছু বলার আগেই উপর থেকে গোট গোট পায়ে আবরার নিচে নামে। আরমিন বেগম ছেলে দেখে মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটালেন।

- আমার ছেলে সব সময় ঠিক সময় আসে কিন্তু আপনি আগে এসে চেচাতে থাকেন।

- আরমিন বেগমের কথাই আরিফ চৌধুরী আর কিছু বলতে পারে না।

- সকলেই তাদের এই অবস্থা দেখে মিটি মিটি হাসতে থাকে। সকলেই খাওয়া দাওয়া শেষ করে অফিসের উদ্দেশ্য বের হয়ে যায়।

- আমিরা আর আয়রা ভার্সিটির উদ্দেশ্য বাসা থেকে বের হলেই সামনেই পারকিং লটে আরাবকে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দারিয়ে থাকতে দেখে।

- আরাব বেশ বিরক্ত কিছুক্ষণ পর পর হাতের ঘুড়িতে সময় দেখছে।

- আরাব সামনে আয়রা আর আমিরাকে আস্তে দেখে সজা হয়ে দারিয়ে পরে। তদের এখন আসার সময় হলো..? আমি কখন থেকে এখানে দারিয়ে আছি সেই খেয়াল তোদের আছে।

- আয়রা আর আমিরা আরাবের সামনে মাথা নিচু করে দারায়।

- আয়রা সাহস করে আরাবের উদ্দেশ্য করে বলে উঠে ভাইয়া তুমি কী আমাদের জন্য দারিয়ে আছো..?

- তাহলে কী ঘোরার ঘাস কাটার জন্য দারিয়ে আছি..? ইডিয়েট বলেই সামনের ড্রায়ভিং সিটে উঠে বসে। আমিরাদের এখন গাড়িতে উঠতে না দেখে আরাব আবারও আমিরাদের ডেকে উঠে.. তোরা এখন উঠবি নাকি রেখেই চলে যাবো।

- রেখে চকে যাওয়ার কথা শুনে আয়রার চোখ চিক চিক করে উঠে। ঠিক আছে ভাইয়া তুমি চলে যাও আমরা কিছুক্ষণ পর আসছি আমাদের কিছু কাজ আছে আমাদের লেট হবে। আমাদের জন্য কী তুমি আর অফিসে লেট করে যাবে নাকি তুমি চলে যাও আমরা বাসার গাড়ি নিয়ে আসছি।

- আয়রার কথা শেষ হতে না হতেই আরাব গাড়ি থেকে মাথা বের করে শান্ত দৃষ্টিতে আয়রার দিকে তাকায়। এতেই যেন আয়রার সব হাওয়া ফুসসস।

- আয়রা মাথা নিচু করে কোন দিকে না তাকিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। আয়রাকে দেখে আমিরাও চরে বসে। আরাব এক নজর সাম্নের আয়নায় আয়রাকে দেখে সামান্য হাসি দিয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করে।

- আয়রাদের ভার্সিটি থেকে কিছু টা দূরে একটা নতুন কেফে খুলেছে। কালকে রাতে আয়রা আমিরাকে বিভিন্ন ভুল-বাল বুঝিয়ে ভার্সিটি ফাকি দিয়ে সেখানে যেতে চেয়েছিলো। আয়রার মমস ফেভারেট একটি খাবার আর সেই কেফেতে সকল ধরনের খাবার পাওয়া যায়। কোন নতুন ক্যাফে বা স্টুডেন্ট খুললেই আর সেখানে যদি মমস বিক্রি হয় তাহলে আয়রা যাবেই। আয়রা খাবার না খেয়ে থাকতে পারবে কিন্তু মমস না হলে চলবে না। আয়রা আর আমিরা যখন তাদের রুমে এই নিয়ে কথা বলছিলো তখন আরাব তাদের রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সব কিছু সুনে ফেলে চায় আজকে আয়রা আর আমিরাকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিতে চেয়েছে। নাহলে রোজ বাসার গাড়ি করেই আয়রা আর আমিরার যাতায়াত। - আয়রা মুখ লটকে বাহিরে তাহিয়ে আছে। সারা রাত ঘুম হয়নি এয় ভেবে যে কালকে মমস খেতে যাবে। কিন্তু কিন্তু এই লোক তার সকল কিছু বেস্তে দিলো। আয়রা আরাবের দিকে তাকিয়ে দাত কিটমিট করতে থাকে। আয়রার তাকানোর মাজে আরাব সামনের আয়না দিয়ে আয়রার দিকে তাকায় সাথে সাথে দুজনের চোখের মিলন হয়। আয়রা থতমত খেয়ে চোখ সরিয়ে নেয়। যা দেখে আরাব সামান্য হাসে। ভার্সিটির সামনে এসে আরাব গারি থামায়। গাড়ি থামতেই আয়রা আর কোন দিকে না তাকিয়ে হন হন করে ভার্সিটির ভিতরে চলে যায়। আমিরা পিছু থেকে আয়রাকে ডাকলেও আয়রা থামে না।

- আয়রার রাগ দেখে আরাব হেসে উঠে। তারপর গাড়ি নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্য চলে যায়।

- হিয়া লাইব্রেরীতে বসে বসে আনমনে ভাবতে থাকে। সে তো তেমন লেখা পড়া যানে না। সাধারন ভাবেই তার কোন স্কুলে চাকরি করার মতো জজ্ঞতা নেই। কিন্তু তাও সে হোসেনকে বলেছিলো। হোসেন যখন বলেছিলো তার চাকরি হয়েছে তখন হিয়া বেশ অবাক হয়েছিল। কিন্তু তার চেয়েও অবাক হয়েছিল যখন দেখল তার এত বড় স্কুলে চাকরি হয়েছে। সেই দিন হিয়া কিছু বলতে পারিনি। তখন কিছু না ভাবলেও এখন এই সব প্রশ্ন গুলো হিয়ার মাথায় অনবরত ঘুরতে থাকে। শুধুই কী হোসেনের বন্ধুর কথায় হিয়ার এই চাকরি হয়েছে নাকি তার পিছু অন্য কোন কারণ লুকিয়ে আছে..?

- মিসেস হিয়া..! আমি কী আসতে পারি..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 9 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন