🖤 CRAZY LOVE
পর্ব ৩: তুমি আমার দুর্বলতা
✍️ লেখক: Mafiya Queen 👑
Genre: Dark Romance | Mystery | Emotional Love Story
১. অচেনা সতর্কবার্তা
রাত ১টা ২০ মিনিট।
BLACKWOOD MANSION-এর বিশাল ঘরটিতে একা বসে আছে স্যাম।
তার সামনে ল্যাপটপ খোলা। কিন্তু কাজের দিকে তার কোনো মনোযোগ নেই।
ফোনের স্ক্রিনে অচেনা নম্বর থেকে আসা শেষ মেসেজটি জ্বলজ্বল করছে।
'এলোরিয়াকে নিয়ে সাবধান হও। তুমি জানো না, সে আসলে কে।'
স্যাম আবার মেসেজটি পড়ল।
তারপর ফোনটা টেবিলে রেখে চোখ বন্ধ করল।
এলোরিয়া।
মেয়েটির হাসি, কথা বলার ধরন, ছোট ছোট প্রশ্ন—সবকিছুই অদ্ভুতভাবে তার মনে ঘুরছে।
স্যাম নিজের জীবনে কাউকে সহজে জায়গা দেয় না।
অথচ এই মেয়েটি মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়ে তার নীরবতার মধ্যে জায়গা করে নিচ্ছে।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
— স্যার?
— Come in.
রায়ান ভেতরে ঢুকল।
— স্যার, আপনি এখনো ঘুমাননি?
— তোমার কাজ কী?
— ওই নম্বরটার খোঁজ পেয়েছি।
স্যাম এবার সোজা হয়ে বসল।
— বলো।
— নম্বরটা কয়েক ঘণ্টা আগে সক্রিয় হয়েছে। কিন্তু যার নামে রেজিস্ট্রেশন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাচ্ছি না।
স্যামের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
— খুঁজে বের করো।
— জি, স্যার।
— আর এলোরিয়ার ব্যাপারে যা পেয়েছ, সব আবার যাচাই করো।
রায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— স্যার, একটা কথা বলব?
— বলো।
— আপনি কি এলোরিয়া ম্যামকে নিয়ে চিন্তিত?
স্যাম তার দিকে তাকাল।
— তোমার কাজ শেষ?
রায়ান আর কিছু বলল না।
কিন্তু ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার মনে হলো, বহুদিন পর স্যামকে কোনো একজন মানুষের জন্য এতটা চিন্তিত দেখছে।
২. অভিমানী সকাল
সকাল ৯টা।
এলোরিয়া আজ অফিসে একটু আগেই এসেছে।
নিজের ডেস্কে বসে সে স্যামের দেওয়া কালো ডায়েরিটা খুলল।
প্রথম পাতায় নিজের নাম লিখল।
ELORIA.
তার নিচে ছোট্ট করে লিখল—
'কিছু মানুষকে বুঝতে গেলে হয়তো একটা জীবনও যথেষ্ট নয়।'
লিখে নিজেই হেসে ফেলল।
ঠিক তখন মিরা এসে পাশে বসল।
— কী লিখছিস?
— কিছু না।
— ডায়েরিতে কার নাম লিখেছিস?
এলোরিয়া ডায়েরি বন্ধ করে দিল।
— তোর এত কৌতূহল কেন?
মিরা মুচকি হাসল।
— নামটা কি স্যাম?
— মিরা!
— আচ্ছা, আচ্ছা। রাগ করিস না।
এলোরিয়া মুখ ঘুরিয়ে নিল।
মিরা হঠাৎ বলল,
— জানিস, আজ স্যার তোকে খুঁজছিলেন।
এলোরিয়া অবাক হলো।
— কেন?
— জানি না। তবে উনার মেজাজ আজ ভীষণ খারাপ।
এলোরিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— উনার মেজাজ কি কখনো ভালো থাকে?
দুজনেই হেসে উঠল।
ঠিক তখনই অফিসের পিয়ন এসে বলল,
— এলোরিয়া ম্যাম, CEO স্যার আপনাকে ডাকছেন।
মিরা চোখ টিপে বলল,
— যা, তোর রাজা ডাকছে।
— তুই একদিন আমার হাতে মার খাবি!
৩. মিস্টার ব্ল্যাকউডের রাগ
স্যামের কেবিন।
এলোরিয়া দরজায় নক করল।
— May I come in?
— Come in.
সে ভেতরে ঢুকে বলল,
— আমাকে ডেকেছেন?
স্যাম ল্যাপটপ থেকে চোখ তুলল।
— কাল রাতে কোথায় ছিলেন?
এলোরিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— বাসায়।
— আপনার ফোন বন্ধ ছিল কেন?
— চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
স্যাম কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
— আপনি জানেন, আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম?
এলোরিয়া অবাক হলো।
— কেন?
স্যাম সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না।
তারপর বলল,
— একটা জরুরি বিষয় ছিল।
— তাহলে অফিসে বললেই পারতেন।
— সব কথা অফিসে বলা যায় না।
এলোরিয়া চেয়ারে বসল।
— আচ্ছা, এবার বলুন কী হয়েছে?
স্যাম ড্রয়ার থেকে একটি খাম বের করে তার সামনে রাখল।
— এটা দেখুন।
এলোরিয়া খাম খুলল।
ভেতরে একটি ছবি।
ছবিতে সে নিজেই!
গতকাল সন্ধ্যায় একটি বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
এলোরিয়ার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— এই ছবিটা কে তুলেছে?
স্যাম শান্ত গলায় বলল,
— জানি না।
— কিন্তু আমার ছবি আপনার কাছে কেন?
— কাল রাতে আমার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এলোরিয়া কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।
— কেউ আমাকে অনুসরণ করছে?
স্যাম এবার তার চোখের দিকে তাকাল।
— সম্ভবত।
এলোরিয়া একটু চিন্তিত হলো।
স্যাম বলল,
— ভয় পাবেন না। বিষয়টা আমি দেখছি।
এলোরিয়া মৃদু স্বরে বলল,
— আপনি কেন দেখবেন?
স্যাম উত্তর দিল,
— কারণ বিষয়টা এখন আমার নজরে এসেছে।
এলোরিয়া তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
— ধন্যবাদ, স্যাম।
নিজের নামটা এলোরিয়ার মুখে শুনে স্যাম কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
৪. অপ্রত্যাশিত নিমন্ত্রণ
বিকেল ৪টা।
স্যামের কেবিনে একটি মিটিং শেষ হয়েছে।
সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর সে এলোরিয়াকে ডাকল।
— আজ সন্ধ্যায় আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?
এলোরিয়া অবাক হয়ে বলল,
— কেন?
— আমার সঙ্গে একটা জায়গায় যেতে হবে।
— কোথায়?
— সেটা সেখানে গিয়েই দেখবেন।
এলোরিয়া একটু সন্দেহের চোখে তাকাল।
— আপনি কি সব কথা এমন রহস্য করে বলেন?
স্যাম মৃদু হাসল।
— আপনার সমস্যা কী? সবকিছু আগে থেকে জানতে হবে?
— অবশ্যই!
— তাহলে আজ একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে।
এলোরিয়া হেসে ফেলল।
— ঠিক আছে। তবে একটা শর্ত আছে।
স্যাম ভ্রু তুলল।
— কী?
— আমাকে সময়মতো বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে।
— ঠিক আছে।
— আর কোনো রাগারাগি করা যাবে না।
স্যাম এবার সত্যিই হেসে ফেলল।
— আপনি শর্ত দিচ্ছেন, নাকি চুক্তি করছেন?
— দুটোই।
৫. কালো পোশাকে এক রহস্যময় যুবক
সন্ধ্যা ৭টা।
BLACKWOOD MANSION।
এলোরিয়া বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল।
আজ সে কালো রঙের একটি সুন্দর পোশাক পরেছে। চুল খোলা, কানে ছোট্ট মুক্তার দুল।
বাড়ির বিশাল দরজা খুলতেই একজন কর্মচারী তাকে ভেতরে নিয়ে গেল।
বাড়ির ভেতরটা দেখে সে মুগ্ধ হয়ে গেল।
কালো মার্বেলের মেঝে, বিশাল ঝাড়বাতি, দেয়ালে পুরোনো ছবির সারি।
কিন্তু পুরো বাড়িতে একটা অদ্ভুত নীরবতা।
মনে হয়, এখানে কেউ হাসে না।
হঠাৎ সিঁড়ির ওপর থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।
— অপেক্ষা করাচ্ছেন?
এলোরিয়া তাকাল।
স্যাম।
আজ তাকে অন্যরকম লাগছে।
কালো শার্ট, কালো ট্রাউজার, গলায় রুপালি চেইন। চুল সামান্য এলোমেলো।
এলোরিয়া কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
— আপনি কি সব সময় কালো পোশাক পরেন?
স্যাম নিচে নেমে এল।
— সমস্যা?
— না। তবে আপনার আলমারিতে অন্য রং আছে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।
স্যাম মুচকি হাসল।
— আমার আলমারি নিয়ে আপনার এত আগ্রহ কেন?
এলোরিয়া হেসে বলল,
— গবেষণা করছি।
— কীসের?
— রহস্যময় CEO-দের জীবন নিয়ে।
স্যাম হেসে মাথা নাড়ল।
— চলুন, মিস গবেষক।
৬. একসঙ্গে প্রথম ডিনার
রাত ৮টা।
শহরের একটি সুন্দর রেস্টুরেন্টের ব্যক্তিগত ডাইনিং রুমে বসে আছে তারা।
জানালার বাইরে শহরের আলো।
টেবিলে মোমবাতি জ্বলছে।
এলোরিয়া চারদিকে তাকিয়ে বলল,
— জায়গাটা খুব সুন্দর।
স্যাম বলল,
— পছন্দ হয়েছে?
— অনেক।
— তাহলে মাঝে মাঝে আসা যাবে।
এলোরিয়া তার দিকে তাকাল।
— আপনি কি আমাকে আবার এখানে নিয়ে আসবেন?
স্যাম কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— আপনি চাইলে।
এলোরিয়া মুচকি হাসল।
খাবার আসার পর দুজনের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হলো।
এলোরিয়া নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প বলল। মিরার সঙ্গে পরিচয়, ছোটবেলার দুষ্টুমি, বৃষ্টির দিনে বই পড়ার অভ্যাস—সবকিছু।
স্যাম মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।
একসময় এলোরিয়া বলল,
— এবার আপনার কথা বলুন।
— আমার কী?
— আপনার ছোটবেলার গল্প।
স্যাম চুপ হয়ে গেল।
এলোরিয়া বুঝতে পারল, প্রশ্নটা হয়তো তার ভালো লাগেনি।
সে বলল,
— থাক, বলতে হবে না।
স্যাম ধীরে বলল,
— আমার ছোটবেলাটা খুব একটা সুন্দর ছিল না।
এলোরিয়া তার দিকে তাকাল।
— কেন?
— আমার পরিবারে সবাই ছিল। কিন্তু কাউকে কখনো খুব কাছে পাইনি।
— আপনি কি একা অনুভব করতেন?
স্যাম মৃদু হেসে বলল,
— এখনো করি।
এলোরিয়ার হাসি মিলিয়ে গেল।
সে খুব শান্তভাবে বলল,
— সব মানুষ একা থাকার জন্য জন্মায় না, স্যাম।
স্যাম তার দিকে তাকিয়ে রইল।
কথাটা খুব সাধারণ।
তবুও কেন জানি তার বুকের ভেতর কোথাও গিয়ে লাগল।
৭. একটু রোমান্স, একটু দুষ্টুমি
ডিনার শেষে তারা রেস্টুরেন্টের বাইরে এসে দাঁড়াল।
হালকা বাতাস বইছে।
এলোরিয়ার চুল বারবার মুখের ওপর চলে আসছে।
সে চুল সরাতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে বলল,
— উফ! এই বাতাস!
স্যাম তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
— চুল বেঁধে নিলেই তো হয়।
— তাহলে কি আমার চুল খোলা ভালো লাগছে না?
স্যাম কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
— আমি সেটা বলিনি।
— তাহলে কী বলছেন?
স্যাম একটু কাছে এসে তার মুখের সামনে পড়ে থাকা চুলের গোছাটা সরিয়ে দিল।
— আপনার চুল খোলা থাকলে আপনাকে সুন্দর লাগে। কিন্তু বারবার মুখে চলে আসছে।
এলোরিয়া কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর মৃদু হেসে বলল,
— আপনি যে এত সুন্দর কথা বলতে পারেন, আগে জানতাম না।
স্যাম বলল,
— সব কথা সবাইকে বলা হয় না।
এলোরিয়া চোখ ছোট করে তাকাল।
— আবার রহস্য!
স্যাম হেসে ফেলল।
তারপর গাড়ির দরজা খুলে দিল।
— উঠুন, রাজকুমারী।
এলোরিয়া অবাক হয়ে বলল,
— কী বললেন?
স্যাম নির্লিপ্ত মুখে বলল,
— কিছু না।
এলোরিয়া হাসতে হাসতে গাড়িতে উঠে বসল।
৮. প্রথম অভিমান
রাত ১০টা।
গাড়ি এলোরিয়ার অ্যাপার্টমেন্টের সামনে এসে থামল।
এলোরিয়া নামার আগে বলল,
— আজকের দিনটা সুন্দর ছিল। ধন্যবাদ।
স্যাম বলল,
— আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
— করুন।
— আপনি কি আমাকে ভয় পান?
এলোরিয়া হেসে বলল,
— আগে পেতাম। এখন আর পাই না।
— কেন?
— কারণ এখন মনে হয়, আপনার ভেতরে একটা ভালো মানুষ আছে। শুধু আপনি তাকে বাইরে আসতে দেন না।
স্যাম কিছু বলল না।
এলোরিয়া দরজা খুলে নামতে যাবে, ঠিক তখনই স্যামের ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে নাম দেখে তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।
LUNA.
স্যাম কল রিসিভ করল।
— What do you want?
ওপাশ থেকে কী বলা হলো, এলোরিয়া শুনতে পেল না।
তবে স্যামের কণ্ঠ হঠাৎ কঠিন হয়ে গেল।
— Don't call me again.
কল কেটে দিল সে।
এলোরিয়া চুপচাপ বসে ছিল।
স্যাম তার দিকে তাকাল।
— কী হলো?
এলোরিয়া মৃদু স্বরে বলল,
— কিছু না।
— আপনি কিছু বলতে চাইছেন?
— না।
সে গাড়ি থেকে নেমে গেল।
স্যাম পেছন থেকে ডাকল,
— এলোরিয়া!
সে থামল।
— জি?
— কাল দেখা হবে।
এলোরিয়া শুধু মাথা নাড়ল।
কিন্তু তার মনে একটা নতুন প্রশ্ন জন্ম নিল।
লুনা কি এখনো স্যামের জীবনে আছে?
আর থাকলে, স্যাম তাকে এতটা এড়িয়ে চলে কেন?
৯. অদ্ভুত একটি স্বীকারোক্তি
রাত ১১টা ৪০ মিনিট।
এলোরিয়া নিজের ঘরে বসে আছে।
আজকের রাতের ঘটনাগুলো বারবার মনে পড়ছে।
স্যামের হাসি, তার সঙ্গে ডিনার, সেই সুন্দর কথাগুলো।
কিন্তু ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটা তার মন খারাপ করে দিয়েছে।
সে নিজেকেই প্রশ্ন করল,
'আমি কেন এত ভাবছি? স্যাম তো আমার কেউ নয়!'
ঠিক তখন ফোনে মেসেজ এল।
Sam:
'বাসায় পৌঁছেছেন?'
এলোরিয়া উত্তর দিল,
'জি।'
কিছুক্ষণ