ফন্ট সাইজ:
থিম:
Crazy Love

পর্ব 4

লেখক: Mafiya Queen

🖤 CRAZY LOVE

পর্ব ৪: তোমার প্রতি আমার অদ্ভুত আসক্তি

✍️ লেখক: Mafiya Queen 👑

১. অচেনা অনুভূতি

সকাল ৮টা।

BLACKWOOD MANSION-এর বিশাল ঘরে দাঁড়িয়ে আছে স্যাম।

হাতে কফির কাপ। চোখ জানালার বাইরে।

গত রাতের অচেনা মেসেজটা এখনো তার মাথায় ঘুরছে।

'এলোরিয়াকে নিয়ে সাবধান হও। তুমি জানো না, সে আসলে কে।'

স্যাম ফোনটা হাতে নিয়ে আবার মেসেজটি পড়ল।

তারপর রায়ানকে কল করল।

— আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো।

— জি, স্যার।

— এলোরিয়ার পরিবারের ব্যাপারে নতুন করে খোঁজ নাও। বিশেষ করে তার মায়ের পরিচয়।

— ঠিক আছে, স্যার।

— আর যে নম্বর থেকে মেসেজ এসেছে, সেটার পরিচয় বের করার চেষ্টা করো।

— অবশ্যই।

কল কেটে স্যাম আবার জানালার দিকে তাকাল।

কেন জানি তার মনে হচ্ছে, এলোরিয়াকে ঘিরে এমন কিছু ঘটছে, যা সে এখনো বুঝতে পারছে না।

কিন্তু একটা বিষয় সে পরিষ্কার বুঝতে পারছে।

মেয়েটাকে নিয়ে তার চিন্তা আগের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে।

২. ছোট্ট অভিমান

সকাল ১০টা।

অফিসে ঢুকেই এলোরিয়া দেখল তার ডেস্কের ওপর একটি সাদা গোলাপ রাখা।

সঙ্গে ছোট্ট একটা কার্ড।

লেখা—

'আজ একটু হাসবেন। আপনার হাসিটা সুন্দর।'

নিচে কোনো নাম নেই।

এলোরিয়া ফুলটা হাতে নিয়ে মুচকি হাসল।

ঠিক তখনই আরহাম এসে দাঁড়াল।

— বাহ! কার উপহার?

এলোরিয়া হেসে বলল,

— জানি না।

— গোপন ভক্ত নাকি?

— হতে পারে!

আরহাম হেসে বলল,

— তাহলে সাবধান। আপনার গোপন ভক্তের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে মনে হচ্ছে।

এলোরিয়া হেসে ফেলল।

দূর থেকে পুরো বিষয়টি দেখছিল স্যাম।

তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।

সে রায়ানকে বলল,

— ফুলটা কে দিয়েছে?

রায়ান একটু অবাক হলো।

— কোন ফুল, স্যার?

— এলোরিয়ার ডেস্কে যে সাদা গোলাপটা আছে।

— জানি না, স্যার।

স্যাম আর কিছু বলল না।

নিজের কেবিনে চলে গেল।

কিছুক্ষণ পর এলোরিয়ার ফোনে মেসেজ এল।

Sam:

'কাজের সময় কাজে মনোযোগ দিন।'

এলোরিয়া মেসেজ পড়ে অবাক হলো।

সে রিপ্লাই দিল,

'আমি তো কাজই করছি।'

Sam:

'আপনার ডেস্কে ফুলের দোকান খুলেছেন নাকি?'

এলোরিয়া এবার হেসে ফেলল।

'আপনি কি ফুল পছন্দ করেন না?'

Sam:

'অপ্রয়োজনীয় জিনিস পছন্দ করি না।'

Eloria:

'তাহলে আমাকে পছন্দ করেন কীভাবে? আমিও তো আপনার মতে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করি!'

স্যাম মেসেজটি পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর উত্তর দিল—

'আপনি একটু বেশিই কথা বলেন।'

এলোরিয়া হাসতে হাসতে ফোনটা রেখে দিল।

৩. মিস্টার ব্ল্যাকউডের ডাক

দুপুর ১২টা।

স্যামের কেবিনে বসে আছে এলোরিয়া।

স্যাম ল্যাপটপে কাজ করছে।

এলোরিয়া বিরক্ত হয়ে বলল,

— আপনি আমাকে ডেকেছেন, কিন্তু কথা বলছেন না কেন?

স্যাম চোখ না তুলেই বলল,

— অপেক্ষা করুন।

— কতক্ষণ?

— যতক্ষণ প্রয়োজন।

এলোরিয়া মুখ বাঁকিয়ে চেয়ারে হেলান দিল।

কয়েক মিনিট পর স্যাম ল্যাপটপ বন্ধ করল।

— আপনার দুপুরের খাবার হয়েছে?

এলোরিয়া অবাক।

— জি?

— খাবার খেয়েছেন?

— না।

— কেন?

— কাজ ছিল।

স্যাম টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা তুলে রায়ানকে কল করল।

— দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করো।

এলোরিয়া তাড়াতাড়ি বলল,

— না না! আমার জন্য কিছু করতে হবে না।

স্যাম ফোন রেখে তার দিকে তাকাল।

— কেন?

— আমি নিজেই খেতে পারব।

— জানি।

— তাহলে?

স্যাম কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,

— আপনি নিজের যত্ন নিতে ভুলে যান মনে হচ্ছে।

এলোরিয়া এবার আর কিছু বলল না।

কিছুক্ষণ পর খাবার এল।

দুজন একই টেবিলে বসে খাবার খেল।

এলোরিয়া হঠাৎ বলল,

— স্যাম?

— হুম?

— আপনাকে একটা কথা বলব?

— বলুন।

— আপনি বাইরে থেকে যতটা কঠিন, ভেতরে ততটা নন।

স্যাম তার দিকে তাকাল।

— আপনি আমাকে কতটুকু চেনেন?

এলোরিয়া মৃদু হেসে বলল,

— খুব বেশি না। তবে যতটুকু দেখেছি, তাতে মনে হয় আপনি নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করেন।

স্যাম কিছুক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর নিচু স্বরে বলল,

— হয়তো।

৪. বৃষ্টির শহরে দুজন

বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট।

অফিসের কাজ শেষ করে এলোরিয়া বের হতে যাচ্ছিল।

ঠিক তখন স্যাম তার সামনে এসে দাঁড়াল।

— আজ আমার সঙ্গে কোথাও যাবেন?

এলোরিয়া অবাক।

— কোথায়?

— সেটা গিয়ে দেখবেন।

— আগে বলুন।

— সবকিছু আগে জানতে হয়?

এলোরিয়া হেসে বলল,

— আপনার সঙ্গে কোথাও গেলে আগে থেকে জানা দরকার। আপনি তো রহস্যের কারখানা!

স্যামের ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল।

— চলুন, মিস প্রশ্নবতী।

গাড়িতে উঠে এলোরিয়া জানালার পাশে বসল।

শহরের রাস্তা ধরে গাড়ি চলতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর তারা একটি নিরিবিলি রেস্তোরাঁয় পৌঁছাল।

রেস্তোরাঁটির চারদিকে কাঁচের দেয়াল। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ভেতরে হালকা মিউজিক বাজছে।

এলোরিয়া মুগ্ধ হয়ে চারদিকে তাকাল।

— জায়গাটা অনেক সুন্দর!

স্যাম বলল,

— আপনার ভালো লাগবে ভেবেছিলাম।

এলোরিয়া তার দিকে তাকাল।

— আপনি কীভাবে জানলেন?

— আপনি শান্ত জায়গা পছন্দ করেন।

এলোরিয়া মুচকি হাসল।

— আমার সম্পর্কে এত কিছু জানেন?

স্যাম শান্তভাবে বলল,

— কিছু কিছু বিষয় খেয়াল করেছি।

এলোরিয়া এবার একটু লজ্জা পেল।

দুজন জানালার পাশে বসে খাবারের অর্ডার দিল।

হঠাৎ এলোরিয়া বলল,

— স্যাম, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

— বলুন।

— আপনি কি কখনো কাউকে মিস করেন?

স্যাম জানালার বাইরে তাকাল।

— করি।

— কাকে?

— এমন একজনকে, যার সঙ্গে আর কখনো আগের মতো কথা বলা সম্ভব হবে না।

এলোরিয়ার হাসিটা ধীরে মিলিয়ে গেল।

— সে কি আপনার খুব কাছের ছিল?

— খুব।

— এখন কোথায়?

স্যাম কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,

— আমার অতীতে।

এলোরিয়া আর প্রশ্ন করল না।

সে শুধু টেবিলের ওপর রাখা স্যামের হাতের কাছে নিজের হাত রাখল।

স্যাম একবার তার দিকে তাকাল।

এলোরিয়া মৃদু স্বরে বলল,

— সব স্মৃতি কষ্টের হয় না, স্যাম। কিছু স্মৃতি মানুষকে আবার হাসতেও শেখায়।

স্যাম তার দিকে তাকিয়ে রইল।

মেয়েটা খুব সহজে এমন কিছু কথা বলে ফেলে, যেগুলো তার হৃদয়ের গভীরে গিয়ে লাগে।

৫. একটা ছোট্ট উপহার

রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় এলোরিয়া একটি দোকানের সামনে থামল।

কাঁচের ভেতরে ছোট্ট একটি কালো ব্রেসলেট রাখা।

সে কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইল।

স্যাম পেছন থেকে বলল,

— পছন্দ হয়েছে?

এলোরিয়া তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল।

— না, এমনিই দেখছিলাম।

স্যাম দোকানের ভেতরে ঢুকে ব্রেসলেটটি কিনে আনল।

এলোরিয়া অবাক।

— আরে! আপনি এটা কিনলেন কেন?

— আপনার পছন্দ হয়েছে।

— কিন্তু আমি তো চাইনি।

স্যাম ব্রেসলেটটা তার হাতে দিয়ে বলল,

— সবকিছু চাইতে হয় না, এলোরিয়া।

এলোরিয়া কিছুক্ষণ ব্রেসলেটটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর মৃদু হেসে বলল,

— ধন্যবাদ।

স্যাম বলল,

— একটা শর্ত আছে।

— কী?

— এটা হারাবেন না।

এলোরিয়া হেসে বলল,

— হারালে আবার কিনে দেবেন?

স্যাম তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— আপনি খুব চালাক।

দুজনেই হেসে উঠল।

৬. অন্য একজনের উপস্থিতি

রাত ৮টা।

BLACKWOOD MANSION।

স্যাম বাড়িতে ফিরে দেখল ড্রয়িংরুমে একজন নারী বসে আছে।

কালো পোশাক, হাতে দামি ব্যাগ।

নারীটি স্যামকে দেখেই উঠে দাঁড়াল।

— হ্যালো, স্যাম।

স্যামের মুখ মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে গেল।

— তুমি এখানে কেন?

নারীটি মৃদু হাসল।

— এত বছর পর দেখা হলো, আর এটাই তোমার প্রথম প্রশ্ন?

স্যাম ঠ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন