ফন্ট সাইজ:
থিম:
এসেছি তোর মনেরই দেশে

পর্ব 2

লেখক: Alifa Madbar

এসেছি তোর মনেরই দেশে
Writer –Alifa madbar
পর্ব ২ /
নূর রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল। রান্নাঘরে ঢুকতেই শায়লা সিকদার চুলার পাশে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকালেন। পাশে কিছু থালাবাসন জমে ছিল, আর টেবিলের ওপর রাতের খাবার তৈরির উপকরণ রাখা।
শায়লা সিকদার: এতক্ষণ লাগে আসতে? সারাদিন কলেজে গিয়ে নিশ্চয়ই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিস, তাই না? এখন আবার কাজ করতে হবে শুনে মুখ ভার হয়ে গেল নাকি?
নূর: না, চাচি। মুখ ভার করিনি। কী করতে হবে বলুন?
শায়লা সিকদার: আগে ওই বাসনগুলো ধুয়ে রাখ। তারপর সবজিগুলো কেটে দিবি। আমি রান্নাটা শেষ করি।
নূর: আচ্ছা, চাচি।
নূর কোনো কথা না বাড়িয়ে কলের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। একে একে বাসনগুলো ধুতে শুরু করল সে। সারাদিনের ক্লান্তি শরীরজুড়ে থাকলেও মুখে তার কোনো বিরক্তির ছাপ নেই। নতুন কলেজ, নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ—সবকিছু মিলিয়ে দিনটা তার কাছে অন্য রকম ছিল। অথচ বাড়িতে ফিরে সেই পরিচিত কাজের মধ্যেই আবার ডুবে যেতে হলো।
বাসন ধোয়া শেষ করে নূর সবজি কাটতে বসল। তার মনে পড়ছিল কলেজের প্রথম দিনের কথা। কত অচেনা মুখের ভিড়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে! প্রথমে একটু অস্বস্তি হলেও ক্লাসে ঢোকার পর ধীরে ধীরে ভয়টা কেটে গিয়েছিল। কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে কথাও হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের হাসিখুশি স্বভাব নূরের বেশ ভালো লেগেছিল।
মেয়েটির নাম মেহরিন।
কলেজের গেটের কাছে নূর যখন নিজের ক্লাসরুম খুঁজছিল, তখন মেহরিনই তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছিল। এমনকি ক্লাস শেষে কোথায় কী আছে, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছিল। ছোট্ট একটা সাহায্য হলেও নূরের কাছে সেটা অনেক বড় মনে হয়েছিল। কারণ, দীর্ঘদিন পর কোনো অপরিচিত মানুষ তার সঙ্গে এমন সহজভাবে কথা বলেছিল, যার কথায় অবহেলা কিংবা তাচ্ছিল্য ছিল না।
শায়লা সিকদার: কী হয়েছে? সবজি কাটতে কাটতে কোথায় হারিয়ে গেলি?
নূর চমকে মাথা তুলল।
নূর: কিছু না, চাচি। একটু কলেজের কথা ভাবছিলাম।
শায়লা সিকদার: কলেজে গিয়ে এত কী দেখলি যে বাড়িতে এসেও সেই চিন্তা শেষ হচ্ছে না?
নূর: নতুন জায়গা তো, চাচি। সবকিছু একটু একটু করে চিনতে হবে।
শায়লা সিকদার: বেশি চিনতে যাওয়ার দরকার নেই। পড়াশোনা করবি, কলেজে যাবি, আবার বাড়ি ফিরে নিজের কাজ করবি। এই পর্যন্তই। বেশি বন্ধুবান্ধব বানিয়ে মাথায় তুলিস না। শেষে তাদের জন্য পড়াশোনা বাদ দিয়ে ঘুরে বেড়াবি, আর সব দোষ এসে পড়বে আমাদের ওপর।
নূর: আমি পড়াশোনার ক্ষতি করব না, চাচি।
শায়লা সিকদার: মুখে বললেই তো হয় না। কাজকর্ম ঠিকমতো করলেই বুঝব।
নূর আর উত্তর দিল না। সে জানত, নিজের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। শায়লা যা ভাবার, তা ভেবেই রাখবেন। তাই নূর নিজের কাজ শেষ করার দিকেই মন দিল।
কিছুক্ষণ পর রান্নাঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালেন আরিফুল সিকদার। অফিস থেকে ফিরে তিনি ঘরের পোশাক পরে নিচে নেমেছিলেন। নূরকে সবজি কাটতে দেখে তার মুখে মায়া ফুটে উঠল।
আরিফুল সিকদার: নূর, তুই এখনো রান্নাঘরে? কলেজ থেকে ফিরেছিস কতক্ষণ হলো?
নূর: এই তো, চাচা। কাজ প্রায় শেষ।
আরিফুল সিকদার: আজ কলেজে কেমন লাগল?
নূরের মুখে অল্প একটু হাসি ফুটে উঠল।
নূর: ভালো লেগেছে, চাচা। প্রথমে একটু ভয় লাগছিল। পরে ঠিক হয়ে গেছে।
আরিফুল সিকদার: ভয় পাওয়ার কী আছে? মন দিয়ে পড়াশোনা করবি। তোর বাবা-মা তোকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিল। তুই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলে তারাই সবচেয়ে বেশি খুশি হতো।
বাবা-মায়ের কথা শুনতেই নূরের হাত থেমে গেল।
এক মুহূর্তে তার চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পুরোনো দিনের ছবি। মায়ের স্নেহমাখা মুখ, বাবার হাসি, স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের চুল বেঁধে দেওয়া, আর বাবা অফিস থেকে ফিরে তাকে কোলে তুলে নেওয়া—সবকিছু যেন একসঙ্গে মনে পড়ে গেল।
নূর চোখ নামিয়ে নিল। সে চায় না কেউ তার চোখের জল দেখুক।
নূর: আমি চেষ্টা করব, চাচা। অনেক পড়াশোনা করব। নিজের পায়ে দাঁড়াব।
আরিফুল সিকদার: আমি জানি, মা। তুই পারবি।
শায়লা সিকদার: আপনি আবার ওকে মাথায় তুলছেন কেন? পড়াশোনা করবে, ভালো কথা। কিন্তু সংসারের কাজগুলোও তো শিখতে হবে। শুধু বই পড়ে জীবন চলে না।
আরিফুল সিকদার: সংসারের কাজ শিখতে আপত্তি কোথায়? কিন্তু ওর পড়াশোনাটাও যেন ঠিকমতো হয়, সেটাও আমাদের দেখতে হবে।
শায়লা সিকদার: আমি কি ওর পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছি? শুধু বলেছি, নিজের দায়িত্বও বুঝতে হবে।
আরিফুল সিকদার: আমি তো সে কথাই বলছি না।
শায়লা সিকদার: তাহলে অকারণে কথা বাড়াচ্ছেন কেন?
পরিবেশটা ভারী হয়ে উঠতে দেখে নূর দ্রুত কথা বলল।
নূর: চাচা, সবজি কাটা হয়ে গেছে। আর কিছু করতে হবে?
আরিফুল সিকদার: না, মা। তুই বরং একটু বিশ্রাম নে। সারাদিন কলেজে ছিলি।
শায়লা সিকদার: বিশ্রাম পরে নিলেই হবে। আগে খাবার টেবিলটা গুছিয়ে দিক। তারপর নিজের ঘরে যাক।
আরিফুল সিকদার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। নূরও কিছু বলল না। সে জানে, তার জন্য চাচা আর চাচির মধ্যে ঝগড়া হোক, সেটা সে চায় না।
নূর: ঠিক আছে, চাচি। আমি টেবিলটা গুছিয়ে দিচ্ছি।
সে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে খাবার টেবিলের দিকে গেল। প্লেট, গ্লাস আর চামচগুলো গুছিয়ে রাখতে রাখতে মনে মনে ভাবল, একদিন সে এমন একটা জীবন গড়বে, যেখানে নিজের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য কারও কাছে বারবার অনুমতি চাইতে হবে না। যেখানে একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্যও অপরাধবোধে ভুগতে হবে না।
তবে সেই দিন আসতে এখনো অনেক দেরি।
রাতের খাবার শেষে নূর নিজের ঘরে ফিরে এল। ছোট্ট ঘরটায় তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুব বেশি নেই। একটা বিছানা, ছোট টেবিল, কয়েকটা বই আর আলমারির এক পাশে গুছিয়ে রাখা তার পোশাক—এই নিয়েই তার পৃথিবী।
সে ব্যাগ থেকে কলেজের বইগুলো বের করে টেবিলের ওপর রাখল। আগামী দিনের ক্লাসের জন্য কোন কোন বই লাগবে, সেগুলো আলাদা করে রাখল। তারপর খাতাটা খুলে দিনের কিছু কথা লিখতে বসল।
আজকের দিনটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন জীবনের শুরু বলে কথা।
কিছুক্ষণ লেখার পর সে থামল। খাতার পাতায় চোখ রেখে মনে মনে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে লাগল।
নূর: মা, জানো? আজ আমার কলেজে প্রথম দিন ছিল। তুমি থাকলে নিশ্চয়ই কত প্রশ্ন করতে! কেমন লাগল, কার সঙ্গে পরিচয় হলো, পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে কি না—সব জানতে চাইতে। আমি তোমাকে সব বলতাম, মা। একটাও কথা লুকাতাম না।
তার গলা ধরে এল।
নূর: বাবা থাকলে হয়তো আমাকে কলেজ থেকে আনতে যেত। তুমি আমার জন্য খাবার তৈরি করে রাখতে। আমি ফিরে তোমাদের দুজনকে সারাদিনের গল্প শোনাতাম। অথচ এখন... এখন কথা বলার জন্যও তোমাদের কাছে যেতে হয় শুধু স্মৃতির মধ্যে।
নূর চোখের কোণ মুছে ফেলল।
কাঁদতে সে চায় না। কিন্তু কিছু কষ্ট আছে, যেগুলো কাউকে বলা যায় না। দিনের বেলা নিজেকে যত শক্তই মনে হোক, রাতের নীরবতায় সেই কষ্টগুলোই সবচেয়ে বেশি করে ফিরে আসে।
তারপরও সে নিজেকে সামলে নিল। বাবা-মা তাকে দুর্বল হয়ে পড়তে শেখাননি। তারা শিখিয়েছিলেন, জীবন যত কঠিনই হোক, নিজের সম্মান আর স্বপ্নকে কখনো ছোট করতে নেই।
নূর খাতার শেষ পাতায় লিখল—
“আমি একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াব। আমার জীবনে যত কষ্টই আসুক, আমি হাল ছাড়ব না। আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন আমি পূরণ করব।”
খাতাটা বন্ধ করে নূর বই খুলে পড়তে বসল। পরদিনের ক্লাসে যেন কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা না হয়, সে জন্য আগের পাঠগুলো একটু দেখে নিতে চাইল।
পড়তে পড়তে কখন যে রাত বেড়ে গেল, সে খেয়ালই করল না।
পরদিন সকালে নূর ঘুম থেকে উঠে দ্রুত তৈরি হয়ে নিল। আজ তার মনে গতকালের মতো অচেনা ভয় নেই। বরং কলেজে গিয়ে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার একটা ছোট্ট আগ্রহ কাজ করছে।
ঘর থেকে বেরিয়ে সে রান্নাঘরে গেল। সকালের কাজ শেষ করে চাচির কাছ থেকে কলেজে যাওয়ার অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন হলো না, কারণ সে জানত আজও তাকে সময়মতো কলেজে পৌঁছাতে হবে।
নূর: চাচি, আমি কলেজে যাচ্ছি।
শায়লা সিকদার: ফিরতে দেরি করিস না। আর বাড়িতে এসে কাজগুলো ফেলে রাখবি না।
নূর: আচ্ছা, চাচি।
আরিফুল সিকদার তখন নাশতার টেবিলে বসেছিলেন। নূরকে দেখে তিনি ডাকলেন।
আরিফুল সিকদার: নূর, একটু দাঁড়া।
নূর কাছে এগিয়ে গেল।
আরিফুল সিকদার: এই নে, কিছু টাকা রাখ। কলেজে যাতায়াত করতে কিংবা প্রয়োজন হলে কাজে লাগবে।
নূর টাকা নিতে ইতস্তত করল।
নূর: আমার কাছে টাকা আছে, চাচা।
আরিফুল সিকদার: আছে বলে কি আর চাচার কাছ থেকে নিবি না? তুই আমার নিজের মেয়ের মতো। দরকার হলে আমাকে বলবি। সবকিছু একা একা সামলানোর চেষ্টা করিস না।
কথাগুলো শুনে নূরের বুকের ভেতরটা নরম হয়ে এল। এই বাড়িতে তার সব কথা শোনা হয় না, সব ইচ্ছার মূল্যও দেওয়া হয় না। তবু চাচার এই সামান্য স্নেহটুকু তার কাছে অনেক কিছু।
নূর: ধন্যবাদ, চাচা।
আরিফুল সিকদার: ভালো করে পড়াশোনা করিস। আর নিজের খেয়াল রাখিস।
নূর মৃদু হেসে মাথা নাড়ল। তারপর ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল।
রাস্তার পাশে সকালের ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে। মানুষ কর্মস্থলে যাচ্ছে, দোকানপাট খুলছে, গাড়ির হর্নে চারপাশ মুখর। নূর সাবধানে রাস্তা পার হয়ে কলেজের দিকে যাওয়ার গাড়িতে উঠল।
আজ তার মনে হচ্ছে, এই শহরের ব্যস্ততার মধ্যেও হয়তো তার জন্য ছোট্ট একটা জায়গা তৈরি হবে। এমন কিছু মানুষ হয়তো সে পাবে, যাদের কাছে নিজের কথা বলতে পারবে, যাদের সঙ্গে হাসতে পারবে।
কলেজে পৌঁছে গেটের ভেতর ঢুকতেই পেছন থেকে একটি মেয়ের ডাক শুনতে পেল।
মেহরিন: এই যে, নূর! এদিকে!
নূর ফিরে তাকাল। মেহরিন হাত নেড়ে তাকে ডাকছে। তার পাশে আরও দুজন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নূর তাদের দিকে এগিয়ে গেল।
নূর: তুমি কখন এলে?
মেহরিন: এই তো একটু আগে। কাল তো তোমার সঙ্গে ঠিকমতো কথাই বলা হয়নি। আজ ভাবলাম, তোমাকে পেলে একসঙ্গে ক্লাসে যাব।
নূর: ভালোই হলো। আমি এখনো সব ক্লাসরুম ঠিকমতো চিনে উঠতে পারিনি।
মেহরিন: আরে, সমস্যা নেই। আমি আছি তো! চলো, আগে ক্লাসে যাই। পথে পথে সব চিনিয়ে দেব।
মেহরিনের সহজ কথায় নূরের মুখে হাসি ফুটল। তার পাশে দাঁড়ানো মেয়েটি নিজের পরিচয় দিল।
তৃষা: আমি তৃষা। আর ও হলো সামিয়া। আমরা একই ক্লাসে পড়ি।
সামিয়া: তোমার নাম নূর, তাই না? মেহরিন কাল তোমার কথা বলছিল।
নূর: হ্যাঁ। তোমাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ভালো লাগল।
তৃষা: আমাদের সঙ্গেই থাকবে। কলেজে নতুন এসে একা একা ঘুরে বেড়ানোর কোনো দরকার নেই।
কথাটা শুনে নূরের বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ভালো লাগা ছড়িয়ে পড়ল। কেউ তাকে নিজেদের সঙ্গে থাকতে বলছে—এমন সাধারণ কথাও তার কাছে বিশেষ হয়ে উঠল।
চারজন একসঙ্গে ক্লাসরুমের দিকে এগিয়ে গেল।
সেদিন ক্লাসে শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনল নূর। মাঝেমধ্যে মেহরিনের সঙ্গে চোখাচোখি হলে দুজনেই মৃদু হাসল। বিরতির সময় তারা একসঙ্গে বসে কথা বলল। তৃষা বেশ চঞ্চল, আর সামিয়া তুলনামূলক শান্ত। মেহরিনের স্বভাব দুজনের মাঝামাঝি—হাসিখুশি, কথা বলতে ভালোবাসে, আর নতুন মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যায়।
মেহরিন: নূর, তুমি সব সময় এত চুপচাপ থাকো?
নূর: না তো। আসলে নতুন জায়গায় একটু সময় লাগে আমার।
তৃষা: তাহলে আমাদের সঙ্গে থাকতে থাকতে ঠিক হয়ে যাবে।
সামিয়া: তোমার বাসা কি কলেজ থেকে অনেক দূরে?
নূর: খুব বেশি দূরে নয়। তবে যাতায়াত করতে সময় লাগে।
মেহরিন: আচ্ছা, পড়াশোনা ছাড়া তোমার আর কী ভালো লাগে?
প্রশ্নটা শুনে নূর কিছুক্ষণ ভাবল। তার জীবনে শখের তালিকা খুব বড় নয়। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে রান্নাঘরে সময় কাটাতে ভালো লাগত, বাবার সঙ্গে গল্প করতে ভালো লাগত। এখন বই পড়া আর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবাই তার সবচেয়ে বড় সঙ্গী।
নূর: বই পড়তে ভালো লাগে। আর মাঝে মাঝে লিখতেও ভালো লাগে।
মেহরিন: সত্যি? কী লেখো?
নূর: তেমন কিছু না। নিজের মনের কথা লিখি।
তৃষা: একদিন কিন্তু আমাদের পড়তে দিতে হবে!
নূর হেসে ফেলল।
নূর: দেখা যাবে।
সেদিনের ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময় নূরের মনটা আগের দিনের চেয়ে হালকা ছিল। নতুন তিনটি মুখের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। হয়তো এভাবেই ধীরে ধীরে তার কলেজজীবন সুন্দর হয়ে উঠবে।
তবে বাড়িতে ফিরে যে দায়িত্বগুলো অপেক্ষা করছে, সেগুলোও সে ভুলে যায়নি।
কলেজের গেট থেকে বেরিয়ে নূর ব্যাগের ফিতা ঠিক করে নিল। সামনের রাস্তা পেরিয়ে গাড়িতে ওঠার আগে একবার পেছনে তাকাল। কলেজ ভবনটার দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে সে অন্তত একটা ছোট্ট পদক্ষেপ এগিয়ে গেছে।
নূর জানে না, সামনে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে। সে শুধু জানে, তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে, নিজের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হবে, আর যত বাধাই আসুক—নিজের পথ থেকে সরে যাওয়া চলবে না।
সে ধীরে ধীরে বাড়ির পথে পা বাড়াল।
চলবে...

🚫⚠️ সতর্কবার্তা ও লেখিকার অনুরোধ ⚠️❌
এই উপন্যাসটি সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব মৌলিক লেখা। লেখিকার অনুমতি ছাড়া কোনো অংশ কপি, নকল বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অন্যের লেখা নিজের নামে প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন।
লেখার মধ্যে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। 🙂
✍️ writer – Alifa madbar
🎵 TikTok ID: @alifa.madbar

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন