ছোটবেলার দিনগুলো যেন অন্য এক পৃথিবী—সাধারণ, কিন্তু অদ্ভুত রকমের সুন্দর। তখন সুখ মানে ছিল খুব ছোট ছোট জিনিস, আর সেই ছোট জিনিসগুলোই আজ মনে হয় সবচেয়ে বড়।
বিকেল হলেই এক দৌড় খেলতে ছুটাছুটি করা ছিল তখন প্রতিদিনের কাজ, জীবনের একটা অংশ ।ধুলোমাখা মাঠ, কাঁচা রাস্তা, পুকুরপাড়—সবই ছিল খেলার জায়গা। কেউ ডাকত,
“চল ফুটবল খেলি!”
আরেকজন বলত,
“না না, আজ বউচি!”
তর্ক হতো, রাগ হতো, আবার মুহূর্তেই সব ভুলে গিয়ে একসাথে খেলায় মেতে উঠা।
খেলাগুলোও ছিল কত সহজ—লাঠি দিয়ে ক্রিকেট, পুরোনো বল দিয়ে ফুটবল, কিংবা “জামাই-বউ” সংসার খেলা। ঐ সব ছিল শৈশবের একটা অংশ।
মিলন - গুলনাহার সে সবের বাহিরে ছিলো না, একসঙ্গে বড় হয়েছে খেলাধুলা হয়েছে,তবে ছোট বেলায় সেবস কয়জন মনে ধরে বসে থাকে!
যেমনটা গুলনাহার বসে আছে।
*******************
গ্রামের বিকেলের এক কোণে, বড় বটগাছটার নিচে বসেছে ছোট ছোট বাচ্চাদের “সংসার খেলা” জোড়ায় জোড়ায় জামাই বউ সাজানো হতো। তাদের কাছে এটা শুধু খেলা নয়—এ যেন একেবারে সত্যিকারের জীবন!
মাটির উপর কলাপাতা বিছিয়ে,এবং চার পাশে রশি বেঁধে কলা পাতার বেড়া দিয়ে ছোট্ট ঘর বানানো হয়েছে। কলাপাতার উপরে আবার শুকনো পাতা দিয়ে বানানো হয়েছে বিছানা, আর ভাঙা মাটির হাঁড়ি-পাতিলেই চলছে রান্নাবান্না।
ম রা কলা গাছ, কলা গাছের পাতা,উপরের খোল দিয়ে নানান রকম বিস্কিট, কেক, চানাচুর সহ অনেক নাম না জানা জিনিস তৈরি হয়, তাছাড়া আশেপাশের ঝোপঝাড় থেকে ছোট ফুল,ফল গাছের পাতা,দিয়েও নানান রকম জিনিস তৈরি করা হয়, এই খেলায় একদল থাকতো দোকানদার, তাদের দোকানেই এই সমস্ত জিনিস সাজানো হতো, কাঁঠাল পাতা থাকতো টাকা,এই খেলায় বর সাজা ছেলেরা কাঁঠাল পাতা কুড়িয়ে লুঙ্গির কাছা ভরে, সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ওই দোকান থেকেই কিনে আনলো।
সামাজিক প্রথা অনুযায়ী জামাইরা বউ দের থেকে বয়সে অনেক বড় হয়, তখন সেই দিক বিবেচনা করেই খেলার মধ্যে জুটি তৈরি হতো, কারণ বাচ্চারা পরিবেশ, পরিবার ,পরিস্থিতি থেকে দেখেই শিখে_ সেই খালায় ছোট গুলনাহার “বউ” আর মিলন “জামাই” জুটি হয়।
গুলনাহার খুব গম্ভীর হয়ে বলে,
গুলনাহার::::::: হুনছুইন, আজই কিন্তু বাজার তনে মাছ আনবাইন।
মিলন মাথা চুলকায়, তারপর একটা লাঠি হাতে নিয়ে বলে,
মিলন::::::: ঠিক আছে, আমি এখনি বাজারে যাইতাছি।
সে দৌড়ে একটু দূরে গিয়ে আগে থেকেই করিয়ে রাখা কাঁঠাল পাতা দিয়ে সাজানো দোকান থেকে অনেক বাজার করে ফিরে আসে
মিলন:::::: এই লও, মাছ আর আনাইছ(সবজি) আনছি
গুলনাহার খুশি হয়ে বলে,
গুলনাহার:::::::ওহ, আজ তো অনেক কিছু এনেছো!”
তারপর শুরু হয় রান্না।
একটু মাটি, একটু পানি আর শুকনো পাতা মিশিয়ে গুলনাহার বলে,
:::::::দেহুন, ভাত রাইন্ধা লাইছি
পাশে বসা পারুল বলে,
:::::::আমারেও ইট্টু দেছ না
গুলনাহার হেসে বলে,
::::::::তুই তো ঐ বাড়ির খালা, তরে দিতাম কে
এদিকে মিলন আবার ক্লান্ত সেজে বসে,
::::::: হারাদিন বহুত কাম কইরা হয়রান আমি
সবাই হেসে ওঠে।
গুলনাহার বলে,
:::::::: এহনো তো হাইঞ্জা হইলো না ,এহনি হয়রান হইয়া গেছুন।
হাসি-ঠাট্টা, নকল ঝগড়া, আবার মিল—সব মিলিয়ে জমে ওঠে তাদের ছোট্ট সংসার।
কখনো বউ রাগ করে,
“আমি আর রান্দার পারতাম না!”
জামাই তখন তাকে মানানোর চেষ্টা করে,
“ আইচ্ছা আইচ্ছা আমি কাইল থেইকা বেশি কাম করুম!”
সূর্য ডুবে গেলে যখন সবাইকে বাড়ি ফিরতে হয়, তখনও তাদের খেলা যেন শেষ হয় না।
ছোট গুলনাহার বলে,
:::::: কাইল আবারো জামাই বউ খেলুম, ঠিক আছে?”
মিলন আর সবাই একসাথে বলে,
::::::“হ্যাঁ, কাইল আবার!”
এইভাবেই গ্রামের ছোট্ট বাচ্চাদের খেলার মধ্যে লুকিয়ে থাকে বড়দের জীবনের গল্প—একটু মজা, একটু শেখা, আর অনেকটা ভালোবাসা।
সেই খেলায় নেই কোনো দামী খেলনা, নেই কোনো নিয়ম-কানুন। তবুও তাদের কল্পনার জগতে গড়ে ওঠে এক সুন্দর সংসার—ভালোবাসা, হাসি আর ছোট ছোট স্বপ্নে ভরা।
তখন অনেকেই দুষ্টুমির ছলে গুলনাহারকে
"ও মিলনের বৌ" বলে ডাকতো
সে সময়ের সংসার সংসার খেলার মাধ্যমেই গুলহারের এই পরিণতি।
গ্রামের বাচ্চারা ৭_৮ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়া শুরু করতো, তবে সবার বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও, বাদল মাস্টারের ছেলে মিলন কে স্কুলে যেতেই হতো।
মিলনের বয়ঃসন্ধি পার হওয়ার পরেও সে বাড়ির ছেলে মেয়েদের সাথে নানান ধরনের খেলাধুলা করেছে।
গুলনাহার যখন ১১ তে পরিপক্ক হয়ে উঠলো, তখন কল্পনার জগতে গড়ে ওঠার সংসারটাকে গুলনাহারের নিষ্পাপ অবুঝ হৃদয়ে বাস্তব রূপ দিয়ে বসে। সেখান থেকেই সৃষ্টি মিলনের প্রতি তার বয়ঃসন্ধি কালের প্রথম আবেগের ঝড়।
মিলনের এস এস সি বোর্ড পরীক্ষার আগে, যখন টাইফয়েড জ্বরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকে, তখন সে প্রথম অনুভব করে গুলনাহারের তার প্রতি অন্য আকর্ষণ অন্য আচরণ, কারন সেই সময়টা গুলনাহার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কাছেই থেকেছে।তবে মিলন এতো একটা গুরুত্ব দেয় না, মিলন অসুস্থতায় পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়, খেলাধুলা বন্ধ করে দেয় মিলন এবং নিজে নিজের জীবন গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পরে। সে কখনোই গুলনাহার কে প্রশ্রয় দেয়নি, যা একটু আধটু প্রশ্রয় দিয়েছে তার দাদি আমিনা বেগম, বেশিরভাগ সময় নাত বৌ বলে ডেকেছে, আমেনা বেগমের অবশ্য এর পেছনে একটা স্বার্থ ছিল, গুলহারের বাবা কাশেমের মাত্র দুইটা মেয়ে, পৈতৃক ভিটা ছাড়াও অনেক সম্পত্তি পেয়েছে কাশেম আলী, মিলন যদি গুলনাহার কে বিয়ে করতো তাহলে অর্ধেক জমিন, সম্পত্তি তাদের বাড়িতে আসতো,সেই লোভে আমেনা বেগম গুলনাহারকে ভালোই প্রশ্রয় দিয়েছিল, মিলন তার দাদির এইসব বিষয়ে প্রথম থেকেই বিরক্ত ছিলো, বারবার দাদি কে সাবধান করেছে কিন্তু আমেনা বেগম তা শোনেনি,সে তার মন মর্জি মতো চেষ্টা করেছে মিলনকে গুলনাহারকে এক করতে।
গ্রামবাসী আত্মীয়-স্বজন তখন মনে করেই নিয়েছিল যে সত্যি সত্যি গুলনাহার হবে মিলনের বউ। মজার ছলে অনেকেই গুলনাহারকে মিলনের বউ বলেই ডেকেছে।
//ভালোবেসে মানুষ পাগল হয় সত্যি,তবে কেউ কারো জন্য একদিনে পাগল হয় না, পাগলামি করার জন্য কিছু কিছু প্রশ্রয়েরও দরকার পড়ে, গুলনাহারের বেলাতেও তাই হয়েছে।
এই সব কিছুই ছোট রেবেকার সামনে আনতে চায়না মিলনের পরিবার,তাই আমেনা বেগম পাড়ার মহিলারা,বউরা তাদের বাড়িতে আসলে রেবেকার সাথে এত একটা কথা বলতে দেয়না, রেবেকা কে সবসময় চোখে চোখে রাখে।
******************************
******************************
রেবেকার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে মিলনের বুক কাঁপে, যদিও সেইসব ছিলো ছোটবেলার ছেলেমানুষী খেলাধুলা, কিন্তু মিলন চায় না, তার অপরিপক্ক বিবি এখন এগুলো জানুক তাকে প্রশ্ন করুক, কিংবা তার ছোট মনে কোনো গারো দাগ কাটুক। একবার রেবেকা পরিপক্ক হক, তাদের দুই, চারটা স্বামী-স্ত্রীর মত একটা স্বাভাবিক সংসার হোক, রেবেকা পরিস্থিতি বুঝতে শিখুক তারপরে এসব জানলেও চলবে, কিন্তু এখন না।
রেবেকা আবার কিছু বলতে তার আগেই, আমেনা বেগম জোরে দরজাটা করা না রে।
আমেনা::::::: কি লো নাত বৌ, ঈদের দিনে এমনে ঘরে বইয়া থাকলে চলবো,নাওয়া লাগতো না? বাই হয় যাও নাইয়া আইয়ো(আসো) জলদি দুয়ার খোলো।
আমেনা বেগমের হাক ডাক শুনে রেবেকা দ্রুত দরজার খুলে দিল।
আমেনা:::::::: বেলা কতো হইলো খেয়াল আছে নাত বৌ, যাও যাও নাইয়া খাইয়া তৈরি হও মিলন তোমারে আইজ তোমার নানা হোরবাইত(নানা শশুর বাড়ি) লইয়া যাইবো বুঝছো তুমি না যাইবার চাইছিলা।
বাস একটুই যথেষ্ট ছিল এই মুহূর্তে রেবেকার মন অন্যদিকে ঘুরানোর জন্য। বেড়াতে যাওয়ার কথা শুনে, সে একটু আগের ঘটনাগুলো ভুলে বসলো। দাদির কথায় আর দাঁড়ালো না। মূহুর্তে দৌড় লাগালো পুকুর ঘাটে।
রেবেকা ঘর ছাড়তেই আমেনা বেগম মিলনের দিকে তাকায়, মিলন লাল চোখে গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছে তার দিকে, যা দেখে আমেনা বেগম শুকনো ঢোক গিলে বলে
আমেনা::::::: চোখ দিয়া আমারে গিলতাছস কা, আমি কি এহন এডি করছি নাহি?
মিলন দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলে
মিলন::::::: এহন করছ নাই বুড়ি তয় যা যা সর্বনাশ করবা তা তো আগেই করছোস, আমার জীবনের শান্তি নষ্ট হইতাছে।
আমেনা::::::: আইজ একটা ঈদের দিন ভাই রাগ করিছ না
মিলন::::::: বু আমি তোমারে সতর্ক কইরা দিতাছি, আমার বিবি যদি এইসব কান্ড হুইন্না অসন্তুস(অসন্তুষ্ট)হয় তাইলে আমি কিন্তু বাড়ি ছাইড়া আবার জামুগা,আর এইবার গেলে আর ফিরুম না।
আমেনা::::::: আরে না না ওয় জানাবো না কিছু,হেইসব আমি দেহুম, তুই বাড়ি ছাড়ার কতা কবিনা আর।
মিলন::::::: আচ্ছা কইলাম না,তয় নানিগর বিড়িত যাওয়ার কতা কইলা যে ?
আমেনা::::::: নাত বউ এর মন ঘুরাইবার লাইগা কইছি,নাইলে আরো এইডা ঐইডা জিগাইতো তোরে।
মিলন বুঝতে পারল তার দদি দরজার ওপাশ থেকে ঘরের ভেতরের তাদের কথোপকথন শুনছিল
মিলন::::::: চু ত মা রা নি বুড়ি তুমি আড়ি পাইতা আমাগোর কথা হুনতাছিলা, তোমার এই ছিনাইল্লা সভাব যাইতো না!?
আমেনা::::::আরে ধুর আমি কি কানে হুনি নাকি ঠিক ঠাক,এডি তো আন্দাজ করছি।
মিলন:::::: আমার আর আমার বিবির কথা কানে না হুনলেই ভালা, তুমি হেডি হজম করবার পারতা না।
তাদের কথার মাঝেই রেবেকা গোসল সেরে চলে আসে, মাথার ভেজা চুলগুলো গামছা পেঁচিয়ে বড় খোঁপা বাধা, শাড়ির কুচি উঠায় নি কোনো রকম পেঁচিয়ে রেখেছে, ব্লাউজের পিছনের ফিতা খোলা , হাঁটার তালে তালে পায়ের নূপুর ঝনঝন শব্দ তুলছে,মিলন একভাবে তাকিয়ে দেখছে তার সদ্য গোসল করা বিবিকে আপাতস্তক। আমেনা বেগম কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে রেবেকার দিকে
আমেনা::::::: কিলো নাত বৌ ঘুঙুর পাইলি কইনতনে (কোথায় পেলে) আগে তো দেহি নাই!?
আমেনার কথায় মিলনের ঘোর কেটে যায়, রেবেকা কিছু বলার আগেই মিলন বলে
মিলন::::::: কই পাইবো মানে কি, আমি কি ফহীড় (ফকির)নাকি, আমার টাহা নাই ,বিবিরে আমি নূপুর গড়াইয়া দিছি,বিবি হাঁটবো আর ঝনঝন শব্দ তুলবো।
আমিনা বেগম ভেংচি কেটে বলে
আমেনা::::::: উহু মনে তো দেহি রং কম না।
মিলন:::::: নাতি যে তোমারি, দাদায় ম রলো চাইর বৈশাখ গেছে,আর আগে তো তুমি ,লাল কাপড় পিন্দা (পরে) পায়ে আলতা আর চোহে কাজল দিয়া দাদারে আশেপাশে ঘুরঘুর করছো দিনেদুফুরে দরজার খিল দিছো, বুড়ি বেডি হইয়াও তো রং কম আছিলো না,আর আমার বিবি তো ছোডো মানুষ
আমেনা:::::: ও মায়া মায়া গো মায়া, ছিঃ ছিঃ ছিঃ আও আও আও মুহে দেহি কিছুই বাজে না
মিলন::::::: সত্যি কতা মুহে বাজবো কেন, তুমি করো নাই এডি?
আমেনা:::::::: হা রা মে জা দা শালার নাতি, আমি খিল দিছি রে না তোর দাদায় দিছে?
মিলন::::::: তুমি তো সাইজা ঘুরঘুর করছো বেশরইম্মা(বেশরম) বুড়ি, আমার দাদা রে ফাসাইছো তা কি বুঝি নাই।
আমেনা::::::: ছিঃ ছিঃ ছিঃ তোর দাদায় আছিল এক লুচ্চা বেডা তার তুই হেই বুইড়ার তনেও বেশি লুচ্চা হইছোস,কতায় কতায় অযোগ্য বউ লইয়াই দুয়ার খিল লাগাছ।
মিলন::::::: হ তোমার নাতিই তো আমি দুয়ার তো তোমার তনেই খিল লাগান শিখছি, লুচ্চা বুড়ি।
আমেনা::::: ও মায়া মায়া গো মায়া,ও বৌ গো বৌ হুনো তোমার পুতে এডি কি কয়।
আমেনা বেগম আর কথায় পারে না, মুখে আচল গুঁজে খালেদা খাতুনকে ডাকতে ডাকতে ছুটে যায় দরজার বাহিরে, মিলন তা দেখে হু হু করে হেসে ওঠে। রেবেকা অবাক হয়ে এত সময় দুজনের কথা শুনছিল
রেবেকা:::::::: আন্নে তো দেহি মেলা কাইজ্জাখুর
বেডা আছুইন !
হঠাৎ রেবেকার কথায়,মিলন একটু অপস্তুত হয়ে যায়,অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায় রেবেকার দিকে।মেয়েটি আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে, মিলনের মনে পড়ে যায় ,তখন কার রেবেকার ভয়ংকর রূপের কথা, যায় সাথে এখকার রেবেকার কোন মিল নেই। মিলন একটু সময় চুপ থেকে ভুরু কুঁচকে বলে
মিলন::::::: আমি কাইজ্জাখুর বেডা ?
রেবেকা:::::: হ অনেক।
মিলন এগিয়ে গিয়ে রেবেকা শাড়িটা কোমর থেকে একটানে খুলে দেয়, রেবেকা তাতেই তেতে উঠল
রেবেকা:::::: আরে আরে কি করলাই এইডা? আমি কতো কষ্ট পিনছিলাম (পরেছি)
মিলন রেবেকার কোমর দুহাতে চেপে ধরে বলে
মিলন:::::: কাইজ্জা লাগার কারন বাইর করলাম বিবি। এবার করো কাইজ্জা।
কথাটি বলেই রেবেকার কোমরে একটা জোরে চিমটি কাটে মিলন
রেবেকা::::::: আহ্ দুক্কু লাগে কিন্তু
মিলন::::::: লাগার লাইগা দিছি
রেবেকা:::::: আন্নে একটা বদ বেডা আছুইন
মিলন:::::: তুমি একটা মিষ্টি বিবি আছো
রেবেকা:::::: উহ্ কাইজ্জাখুর বেডা
মিলন::::::: চাঁন্দের টুকরা বিবি
রেবেকা::::::: ছুড়ুইন এহন আমার মেলা খিদা ধরছে
মিলন:::::: আমারো খুব খিদা ধরছে বিবি,তোমারে চুমানের খিদা, বিসমিল্লাহ
বলেই মিলন রেবেকার ঠোঁটে ঠোঁট রাখে, প্রথমে ছোট্ট ছোট্ট চুমু খায় তারপর এক দীর্ঘ গাঢ় চুমু বসায়। তাল সামলাতে না পেরে রেবেকা মিলনকে জড়িয়ে ধরে, মিলন চুমু খেতে খেতেই ঠোঁট এলিয়ে হাসে রেবেকা কে জ্বালাতে ঠোঁটে ছোট্ট কামড় বসায়
রেবেকা::::::উহহহহহহু
মিলন::::::হা হা হা
******************
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে,মিলন রেবেকা আর মা-দাদী সহ ভ্যানে চরে"মরিচারচর" তার নানার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, বাদল মাস্টার আসেনি সাথে,সে বাড়িতে থাকবে, রেবেকা প্রথম বার একা নানা শশুর বাড়ী গেলে কেমন দেখায়,তাই মিলন মা-দাদী কে সঙ্গে নিয়েছে। "মরিচারচর" যেতে আবার ব্রহ্মপুত্র নদ পার হতে হয় নৌকা দিয়ে। রেবেকা খুব উচ্ছ্বসিত নৌকায় উঠবে শুনেই, মিলন তা বুঝতে পারছে বেশ।ঈদের সময় নদীর ঘাটে মানুষের ভীড় থাকে ভালো, রেবেকা অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে গেছে , আমেনা বেগম সঙ্গে আনা কাপড়ের ব্যাগের উপর বসে আছে, খালেদা খাতুন দুইপা ভাঁজ করে হাওয়ায় বসেছে, রেবেকার সাথে কিছু নাই,সে হাওয়ায় বসতে পারে না পা বেথা করে। নৌকা ঐ পার থেকে আসলেই এবার তার চড়ে বসবে। এতক্ষণ অপেক্ষা করা রেবেকা এবার ধৈর্য হারালো
রেবেকা::::::: আর কতখন দরাই থাহুম,পা ধইড়া যাইতাছে আমার, যাওন লাগতো না,লন বাড়িত যাইগা।
মিলন:::::: আর একটু অপেক্ষা করো বিবি এবার নাও আইলে আমার উঠুম
রেবেকা:::::: না না না আমি আর খারইবার(দাঁড়াতে) পারতাম না।
মিলন:::::: আচ্ছা তয় আমার কোলে আও
রেবেকা::::::: এহন এইনো সবাই সামনে ছিঃ
মিলন:::::: তাইলে আমার কান্দে উঢো।
রেবেকা:::::: কি কইন এডি!
মিলন:::::: তয় কি কইতাম।
রেবেকা গাল ফুলিয়ে চুপ হয়ে গেলো, মিলন দেখলো নীল রঙের শাড়ি পরা মাথায় ঘোমটা তোলা রেবেকার গোল মুখখানি ফুলে আরো গোল হয়ে আছে, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক , চোখে কাজল, ব্রো জোড়া আজকে একটু বেশি গারো লাগছে, মনে হয় আই ব্রো লাগিয়েছে। মিলনের ইচ্ছা করছে ফোলা ফোলা গাল দুটো টিপে কামড় বসাতে।বিবি যে একটু অভিমান করেছে তা দেখে মিলনের হাসি পাচ্ছে খুব।
মিলন এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে বসার মতো কিছু না পেয়ে আমেনা বেগমের কাছে যায়।
খালেদা খাতুনের ছেলে-বউয়ের দিকে কোন খেয়াল নাই,সে বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে খুব খুশি আমেনা বেগম তাকে সহজে যেতে দেয় না, হঠাৎ করে আজ নিজে থেকেই যেতে চাইল ,তাও আবার ঈদের দিন খালেদা খাতুনের আনন্দের শেষ নেই, বিয়ের পরে কখনো ঈদ করা হয়নি বাপের বাড়ি।
তাই সে এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজের গ্রামের লোকজন খোঁজ,আর একজন পেয়েও গেছে, তাদের গ্রামের এক বয়স্ক বুড়ি মহিলা,সম্পর্কে তার জেঠি লাগে, মেয়ের বাড়ি থেকে ফিরছে মহিলা,তার সাথেই একটু দূরে বসে গল্পে মজেছে খালেদা খাতুন।
কিন্তু আমেনা বেগম এতো সময় নাতি- নাত বৌ এর দিকেই তাকিয়ে ছিল এবং সে সবটা না শুনলেও এটা বুঝতে পেরেছে যে রেবেকার দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে।
মিলন তার সামনে আসতেই আমেনা বেগম বলে
আমেনা:::::::এইনো আইয়া লাভ নাই আমি ব্যাগ দিতাম না,এইডায় আমি বইছি।
মিলন অবাক হলো,রেবেকা আর তার দাদীর মধ্যকার দূরত্বের মাপ কমপক্ষে ১৫ হাতের বেশি হবে, মিলন আশ্চর্য হয়ে বলে
মিলন::::::: চু ত মা রা নি বুড়ি এতো দূর থাইকা আমগোর কতা সব শুইনা নিছো,এই তোমার লগে ঐ দুইডা কি মাইনষের কান না হাতির হুনি
আমেনা::::::: বেজাতের বাচ্চা মুখ সামলাইয়া কথা কয়, আমার কান ঠিক আছে তোর মা গি র গলা ফাডা বাঁশের মতোন ।
মিলন::::::: আমার বিবির গলা কোকিলের মতো, তোমার গলাই ফাডা বাঁশ,এহন ওডো ঝোলা দেও।
আমেনা::::::: না দিতাম না, খবরদার ধরবি না এইডায় আমি বইছি দেহছ না, আমি দিতাম না।
মিলন:::::::বুড়ি মাইনষের সামনে তামাশা না কইরা ওডো জলদি।
কথাটি বলেই মিলন তার দাদিকে টেনে তুলে
আমেনা:::::: হায় হায় হায় কি বেজাত জন্মদিছে আমার পুঁতে,বড়,বুড়া মানে না!
মিলন দাদিকে ব্যাগ থেকে সরিয়ে,ব্যাগ হাতে নিয়ে দাদিকে উদ্দেশ্য করে বলে
মিলন:::::: ছিঃ ছিঃ বু তোমার মুহের মতো
পু ট কি তেও তো ধার কম না দেহি, ব্যাগডা আগুন গরম হইয়া গেলে,এতো আগুন কই থাইকা আসে হুনি !
আমেনা বেগম এবার ক্ষেপে গেল, চিৎকার করে ছেলের বউকে ডাকতে ডাকতে বলল
আমেনা::::::ঐ খবিশ ও ছিনালের ঘরের ছিনাল হোন তোর পুঁতে কি কয় এডি।বেজাত কুজাত জন্ম দিছস একটা
খালেদা খাতুন পাত্তা দেয় না শাশুড়ির কথা। মিলন ততক্ষণে ব্যাগ খুলে ভেতর থেকে একটা গামছা বের করে নিয়ে, পুনরায় ব্যাগটি জায়গা মতো রেখে দাদীর হাত ধরে টেনে বসিয়ে দিয়ে বলে
মিলন::::::: মুহে লাগাম টানো বুড়ি, বাড়িত যা কও কও রাস্তাঘাটে আমার আম্মারে কিছু কইলে ধাক্কা দিয়ে গাঙ্গে ফালাইয়া দিমু,পরে ভাসতে ভাসতে বুড়া বেজাতের কাছে যাইবার।
আমেনা বেগম ব্যাগের উপর বসে হা করে তাকিয়ে দেখে মিলন দিকে,যে এখন বড় বড় তাজা ঘাসের ওপর গামছা ভাজ করে পেতে দিয়ে রেবেকার জন্য বসার জায়গা তৈরি করছে।
রেবেকা ঝটপট পেতে দেওয়া গামছার এক কোনায় বসে পড়ে, মিলন পাশেই দাঁড়িয়েছিল, রেবেকা হাত বাড়িয়ে মিলনের কোমরের অংশের শার্ট টেনে ইশারা করে গামছার বাকি অংশটুকুতে বসার জন্য
রেবেকা::::::: হুনুইন না( শোনেন না)অনেক জায়গা আছে,আন্নেও বইবার পারবাইন,বহুন।
মিলন পেছনে তাকায় মায়ের দিকে, সে এখন অন্য পাশে ঘুরে বসে গল্পে ব্যস্ত, মিলন এবার তাকায় তার দাদীর দিকে, যে কিনা ভুরু কুঁচকে চোখ ছোট ছোট করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। মিলন দাদীর মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে, চোখ মারে। আমেনা বেগম রেগে গিয়ে, সামনে পড়ে থাকা ছোট্ট মাটির টুকরো ছুড়ে মারে মিলনের দিকে, মিলন সেটা ক্যাচ ধরে নেয়, রেবেকা তখনও তার শার্টের কোনা ধরে টানছিল, মিলন সময় নষ্ট করে না মুহূর্তেই তার বিবির
গা-ঘেঁসে নদীর পাড়ে বসে পরলো।
মিলন:::::: যানো বিবি,বিড়ির চেয়েও আমার ইদানিং মারাত্মক নতুন নেশা হইছে একটা।
রেবেকা:::::: তা আবার কি !?
মিলন::::::: তোমার ফোলা ফোলা গালে কামড় দেওয়ার নেশা, দিতাম নাকি একটা কামুড়।
রেবেকার সঙ্গে সঙ্গে দুহাত দিয়ে দুগাল চেপে ধরে বলে।
রেবেকা:::::: ও মায়া মায়া গো কি সবনাইসা কতা !
মিলন গা কাঁপিয়ে হাসে, রেবেকার কান্ড দেখে।
বিকেলের নরম সূর্য ধীরে ধীরে নদীর জলে গলে যাচ্ছে,হালকা বাতাস এসে পানির বুকে তুলছে মৃদু ঢেউ।চারপাশে এক অদ্ভুত শান্তি—রেবেকার অনুভূতি বোঝা যাচ্ছে না তবে, মিলনের মনে হয় সময় থেমে আছে, অচেনা এক প্রশান্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে।
আমেনা বেগম তাদের দিকে তাকিয়েই বলে
আমেনা:::::::খবিশের ঘরের খবিশ,বেজাতের বংশধর তো বেজাতই হইবো, দাদার কিছু বাদ দেয় নাই শ য় তা ন ছেড়া।
কথাটি বলেই হাসে আমেনা বেগম,তবে পরমুহুর্তে তার কপালে চিন্তার ভাঁজ পরে, রেবেকা এখনো অপরিপক্ক এটা ভেবে, তার নাতি যে এই মেয়ের উপর ভালোই মজে আছে। পরিপক্ক না হলে কেমনে কি হবে।