ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপরিপক্ক

অপরিপক্ক পর্ব ২৫

লেখক: যাজিবা জাবিন

অসুস্থ শরীরে জ্বরের তাপ, তার ওপর শারীরিক দুর্বলতা-সব মিলিয়ে রেবেকার সঙ্গে আদর-আহ্লাদ বেশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারল না মিলন। রেবেকাও ততক্ষণে শারীরিক চাপে হাঁসফাঁস করছিল। মিলন ধীরে ধীরে তার অধর থেকে নিজের অধর সরিয়ে নিল। তারপর রেবেকার ওপর থেকে উঠে এসে দুর্বল শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিল। রেবেকাও ডান দিকে কাত হয়ে শুয়ে পড়ল।

তার শ্বাসপ্রশ্বাস তখন বেশ ভারী- মনে হচ্ছিল, যেন হাঁপানি রোগী। মিলন আধো-আধো চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপর শুকনো ঠোঁট দুটো সামান্য প্রসারিত করে মৃদু হাসল। পাশ ফিরে মুখটা গুঁজে দিয়ে, রেবেকার কান আর গলার মাঝামাঝি, ওভাবেই মুখ রেখেই মিলন আস্তে করে বলল-

মিলন:: বিবি

রেবেকা হাঁপাতে হাঁপাতে বললো;

রেবেকা:: হুম

মিলন:: আর ইট্টু সোয়াগ করতাম ?

রেবেকা:: না

মিলন:: ইট্টু করি

রেবেকা:: না আর লাগতো না

মিলন:: কেন লাগতো না ?

রেবেকার সহজ স্বীকারোক্তি

রেবেকা:: আমার বুবু ক‌ইতো, জরে ধরা মাইনষের তনে (থেকে) দূরে থাকবি নাইলে তরেও জরে ধরবো।

রেবেকার কথা শুনে মিলন শরীর দুলিয়ে শব্দহীন একচোট হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই ডান হাতটা বাড়িয়ে রেবেকার কোমরের ওপর, শাড়ির সোজা কুচিগুলোর মাঝ বরাবর রাখল। হাতের তালুর নরম স্পর্শে কুচিগুলো আলতো করে চেপে ধরে, রেবেকার কানের কাছে মুখ নিয়ে মৃদু স্বরে বলল-

মিলন:: আমি কি অন্য মানু না,বিবি? (অন্য মানুষের না)

রেবেকা কথা বলতে পারল না। শুধু দুই হাত বাড়িয়ে মিলনের হাতটা চেপে ধরল-যে হাতটা তখনও তার শাড়ির কুচির ওপর স্থির হয়ে ছিল। মিলন একই অবস্থানে থেকে পুনরায় বলল-

মিলন:: কি চুপ ক‌ইরাই আছে যে ,কতা ক‌ও না কে?

রেবেকা এবার মোচড় দিয়ে উঠল। মিলনের শরীরের তাপে তার নরম ত্বক যেন পুড়ে যাচ্ছিল। সে মিলনের হাত সরানোর চেষ্টাও করল, কিন্তু পারল না। সেভাবেই মৃদু কণ্ঠে মিনমিন করে বলল-

রেবেকা:: সোয়ামি

মিলন:: কার ?

রেবেকা:: আমার

মিলন:: তাইলে তোমার সোয়ামির অসুখে তুমি কাছে না আইলে কে আ‌ইবো, গুননাহারে হুম?

রেবেকা এবার মাথা ঘুরিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল মিলনের চোখের দিকে। মিলনও সেই চোখে হিংসার রেশ স্পষ্ট দেখতে পেল। আর সেটাই তো সে দেখতে চাইছিল। তার বিবির হৃদয়ে তার জন্য অন্য নারীর প্রতি হিংসার জন্ম নিয়েছে এটা তো ভালো দিক তাদের সম্পর্কের জন্য।

মিলন:: কি চাইয়া আছো যে , তোমার দাদি জরের মাইনষের কাছে যাইতে নিষেধ করছে,তয় এইডা কয়নাই, অন্য মাইষের লগে সোয়ামিরে না গোলাইতে,নাকি হেই জঙ্গলি ছিনালে ভাতারের অসুখ হ‌ইলে পলাইতো কুনডা? তোমার বু কি দাদার লাইগা কিছুই করতো না তহন?

রেবেকা:: না

মিলন:: কি না?

রেবেকা:: পলা‌ইতো না

মিলন:: তয় কি করতো?

রেবেকা:: অনেক কিছুই

মিলন:: তাইলে তুমিও করো, অনেক কিছু।

রেবেকা এবার ভাবতে বসল তার দাদি মুক্তি বেগমের কথা-দাদার সঙ্গে সংসারজীবনে তিনি কী কী করতেন, কীভাবে স্বামীর যত্ন নিতেন।

মুক্তি বেগমের সকাল শুরু হতো ভোরের আলো ফোটার আগেই। মুমিন মিয়ার ফজরের নামাজের জন্য ওযুর পানি নিজের হাতে পুকুর থেকে তুলে এনে তিনি অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকতেন। মুমিন মিয়া ওযু করতে বসলে মুক্তি বেগম নিজ হাতে পানি ঢেলে দিতেন তাঁর হাতে। তারপর যত্ন করে পাঞ্জাবি আর টুপিটাও এগিয়ে দিতেন।

কিন্তু এসব ভাবতে গিয়েই রেবেকা থমকে গেল। মিলন তো ফজরের নামাজ পড়তে যায় না সবসময়, ওই রমজান মাসে সেহেরির পর ফজরের নামাজ পড়েছিল। তাহলে সে কীভাবে মুক্তি বেগমের মতো করে এসব করবে?

রেবেকা পুনরায় ভাবে; এরপর মুমিন মিয়া নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরলে মুক্তি বেগম তাঁর জন্য মুড়ি মেখে দিতেন। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, সামান্য আদা কুচি, টমেটো আর সরিষার তেল দিয়ে মাখানো সেই মুড়িই ছিল তাঁর সকালের প্রথম খাবার। মুমিন মিয়া তৃপ্তি করে তা খেয়ে বেরিয়ে যেতেন মাঠের দিকে-ধানের জমির খোঁজখবর নিতে। তারপর বাড়ি ফিরে আসলে মুক্তা বেগম গরম গরম ভাত বেড়ে মুমিন মিয়াকে খেতে দিত এবং পাশেই বসে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করত।

রেবেকা আবারও মিলনের কথা ভাবল। মিলন তো মাঠে কাজ করতে যায় না। সকালে ঘুম থেকে উঠে খাবার খেয়েই সোজা দোকানে চলে যায়। সারাদিন সে দোকানেই থাকে।

যেখানে তার দাদা মুমিন মিয়া সারাদিন বাড়ির আশপাশেই নানা কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আর দাদি মুক্তি বেগমও যেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। একটু পরপরই কখনো শরবতের গ্লাস, কখনো পানের খিলি হাতে নিয়ে স্বামীর পেছন পেছন ছুটে বেড়াতেন। স্বামীর ছোটখাটো প্রয়োজনটুকুও যেন তাঁর চোখ এড়াত না।

রেবেকা ভাবতে লাগল-মিলন তো সকালে দোকানে যায়, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে। মুক্তি বেগমের মতো করে স্বামীর জন্য ওযুর পানি তুলে দেওয়া, নামাজের পোশাক এগিয়ে দেওয়া মাঠে যাওয়ার আগে হাতে মুড়ি মেখে খাইয়ে দেওয়ার কিংবা শরবতের গ্লাস পানে খিলি নিয়ে পেছনে ছোটাছুটি করার সুযোগ তো তার নেই।

আর একবার মুমিন মিয়ার জ্বর হলেই মুক্তি বেগম যেন এক মুহূর্তের জন্যও স্বামীকে চোখের আড়াল করতো না। মাথায় জল ঢেলেছেন, তারপর ভেজা গামছা দিয়ে যত্ন করে গোটা শরীর মুছে দিয়েছেন। দুর্বল শরীরে বিছানায় শুয়ে থাকলে নিজের হাতে ভাত মেখে খাইয়ে দিয়েছেন, সময়মতো ওষুধ খাওয়াতেন। আর জ্বরের সঙ্গে যখন শরীরজুড়ে ব্যথা বাসা বাঁধত, তখন স্বামীর ক্লান্ত শরীরটা আস্তে আস্তে টিপে দিতেন।

মুক্তি বেগমের এসব কথা মনে পড়তেই রেবেকার বুকের ভেতর কেমন অস্বস্তি শুরু হলো। সে কি পারবে এমন করে স্বামীর যত্ন নিতে?

ভাবতেই লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে উঠল।

ভাবনার ভারে রেবেকার মুখ কখনো লাল, কখনো নীল, কখনো সবুজ হয়ে উঠতে লাগল। নিজের অজান্তেই দুদিকে মাথা নাড়াচ্ছে,স্বামীর সেবা করার কথাই তো, তবু কেন জানি প্রতিটি ভাবনা তার কাছে অসম্ভব লজ্জার মনে হচ্ছে

তাহলে সে কী করবে?

প্রশ্নটা রেবেকার মনে বারবার ঘুরপাক খেতে লাগল।

রেবেকা তখনও গভীর চিন্তায় ডুবে আছে। তার মনের ভেতর একের পর এক ভাবনা এসে ভিড় করছে। অথচ পাশেই মিলন মগ্ন তার বিবিকে নিয়ে। শাড়ির কুঁচি ছেড়ে ,তার হাত এসে থেমেছে রেবেকার উন্মুক্ত পেটে। রেবেকা সেই স্পর্শ অনুভব করল, কিন্তু তার মন তখনও অন্য কোথাও।

সব ভাবনার বাঁধ পেরিয়ে সে ধীরে ধীরে মিলনের দিকে ঘুরে শুয়ে পড়ল। দুজনের চোখাচোখি হলো। রেবেকার মুখে তখন চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। কিছুক্ষণ নীরব থেকে সে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে মিলনকে জিজ্ঞেস করল-

রেবেকা:: আন্নে তো আমার দাদার মতন বেইন্নাবেলা (সকালে বেলা) নামাজ পরুইন না,তয় বুয়ের মত (দাদির মতো) আমি আন্নেরে ওযুর পানি কিবা দিয়াম (কিভাবে দিবো) ?

মিলনের দুর্বল শরীরে মাথা ঘোরানো টা এবার একটু বেশি বাড়লো যেন। রেবেকা আবার বলে;

রেবেকা:: নামাজের তনে বাইত আইয়া দাদায় মুড়ি মাহা খাইয়া মাডে যায়-হেইন তে বাইত আইয়া গরম ভাত খা। কিন্তু আন্নে তো এক্কেরে ভাত খাইয়া দুহানে যাইন গা!

অসুস্থ মিলনের এই পর্যায়ে রেবেকার কথায় মেজাজ হারাচ্ছে খিটখিটে সে তাকে কি বোঝায় আর ও কি বুঝে, কিন্তু রেবেকা তা বুঝতে পারছে না বকবক করেই চলেছে-

রেবেকা:: দাদায় তো বাড়িত থাহে হারাদিন, বুয়ে তার লাইগা পান বানায়, লেবু দিয়া শরবত বানায়,এইডা ঐইডা আগ্গাইয়া দেয় তার লগেই থাহে। কিন্তু আন্নে যে সহালে দুহানে যান হাইন্জা বেলা (সন্বাধ্যা বেলা) বাইত আইয়ুন? তয় আমি কিবা দাদির মতো আন্নের পেছনে ঘুরবাম?

আর আ আর দাদার অসুক হ‌ইলে তো .....

মিলন:: হ‌ইছে থামো এহন,যাও সরো এইন থাইকা, যাও তোমার কিচ্ছু করন লাগতো না।

মেজাজ বিগড়ে খিটখিটে গলায় মিলন কথাটা বলে রেবেকা কে হাতে ঠেলে সরিয়ে দিলো বিছানায় এক কোনায়।

মিলন:: মাথা ধরেছে আমার আর একখান কতাও ক‌ইয়ো না, তোমার কিচ্ছু করন লাগতো না আমার লাইগা যাও।

এই প্রথমবার মিলন রেবেকার সঙ্গে মেজাজ দেখিয়ে কথা বলল। রেবেকা ভয় পেয়ে সোজা বিছানা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে গেল। সে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে-কী হলো, কিছুই বুঝতে পারছে না। মুখ দিয়ে আর কোনো কথাও বের হলো না।

মিলন উল্টো দিকে মুখ করে শুয়ে আছে। তাই তার মুখটাও দেখতে পারছে না রেবেকা। তবে মিলনের আচরণে তার চোখের পানি গড়িয়ে গাল বেয়ে নামতে লাগল।

ওভাবেই দাঁড়িয়ে মিলনের উদোম পিঠের দিকে তাকিয়ে নীরবে কাঁদছে রেবেকা।

ঠিক তখনই দরজায় শব্দ হলো।

বাইরে থেকে ঘষেটি বেগম তাকে ডাকছে-

ঘষেটি:: ও মিলন বৌউ দুয়ার খুলো দেহি,ভাত আনছি মিলনের লাইগা,খাইয়া অসুদ খাইতো না।

রেবেকা ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিল। ঘষেটি বেগম চোখ ছোট ছোট করে রেবেকার দিকে তাকাল। রেবেকার কাপড় এলোমেলো, মাথার চুলও উসকোখুসকো, আর চোখে পানি।

অথচ একটু আগেই তো তাকে ঠিকঠাক রেখে গিয়েছিল। এখন এই অবস্থা কেন? কিছু কি হয়েছে?

কিন্তু কী-ই বা হবে এই অল্প সময়ের মধ্যে?

রেবেকার চোখের পানি দেখে ঘষেটি বেগমের মনে চিন্তা ঢুকে গেল। তবু সে এখন কিছু বলল না। ভাতের থালাটা ঢেঁকশুর ওপর রেখে সহজ গলায় বলল-

ঘষেটি:: মিলনরে হুতুনতে উডাও ,ভাত খাইয়া অসুদ খাউন লাগবো,নাইলে জর কমতো না।

তবে রেবেকার কিছু করতে হলো না। মিলন নিজেই বিছানায় উঠে বসল। সোজা হয়ে বসে গম্ভীর মুখে রেবেকার দিকে তাকিয়ে রইল।

রেবেকাও তাকিয়ে রইল তার দিকে, চোখে জল নিয়ে। তবে মিলনের চোখের ভাষা সে বুঝতে পারল না।

ঘষেটি বেগম দুজনের ভাবসাব লক্ষ করছিল। সেও আগ বাড়িয়ে কিছু বলল না।

মিলনের কপাল কুঁচকে গেল। এই পর্যায়ে এসে তার মনে হলো, মেয়েটা কি এতটাই ছোট যে বুঝতে পারছে না, সে তার ওপর অভিমান করে আছে? কই, এগিয়ে এসে তাকে খাবার দেবে, দুটো কথা বলবে-তা না করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে!

মিলন পুরুষ মানুষ, আর কতই-বা সহ্য করবে এসব? তার কপালে কি অন্য পুরুষের মতো সংসারের সুখ নেই?

রাগে, দুঃখে মিলন শেষমেশ বলে উঠল-

মিলন:: বড়ো আম্মা ওসুধ দেন, আমি ভাত খাইতাম না।

ঘষেটি:: হায় হায় ক‌ও কি আব্বা খালি পেডে অসুদ

মিলন:: হ খালি পেডেই খাইবান দেন।

এবার ঘষেটি বেগম রেবেকা কে বললো

ঘষেটি:: ও বৌউ কিতা কয় তোমরা সোয়ামি,খালি পেডে অসুদ খাইলে আসুক আরো বারবো যে, তুমি কিছু ক‌ও।

কিন্তু রেবেকা বুঝতেই পারছে না, এই পরিস্থিতিতে সে কী বলবে। শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে-একবার ঘষেটি বেগমের দিকে, আরেকবার মিলনের দিকে।

রেবেকার দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে ঘষেটি বেগম এবার কপাল কুঁচকাল। কিছুটা বিরক্তি নিয়েই সে নিজেই ঢেঁকশুর ওপর থেকে ভাতের থালাটা তুলে মিলনের সামনে রেখে রেবেকার উদ্দেশ্যে বললো-

ঘষেটি:: যাও দেহি তোমার হৌরিরে( শাশুড়ি ) ক‌ও লেম্বু কাইটা দিতে, ঝাল ঝাল চেপা ভত্তা দিয়া লেম্বু দিয়া খাইলে মুহে সাদ লাগবো।

রেবেকা কথা শেষ হওয়ার আগেই ঘর থেকে বেহিরে ছুটে গেল।

মিলন আরও গম্ভীর হয়ে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। একবার রাগ দেখিয়ে কথা বলেছে বলেই কি তার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার এত তাড়া? মিলন নিজের মাথায় চুল টেনে ধরে, অসহ্য লাগছে সবকিছু , তার অভিমান টা বুঝলো না এই মেয়ে ! তাহলে এত দিন ধরে খাইয়ে-পড়িয়ে, আদর-যত্ন করে সে কাকে পালছে?

**************************

আসমানী নৌকা থেকে নেমে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। নদীর এপারে তো চলে এসেছে, কিন্তু এখন বাড়ির পথ কোন দিকে-সেটাই বা কী করে বুঝবে?

তাছাড়া এ যে চর এলাকা নয়, বরং একেবারে বীর এলাকা। চারদিকে শক্ত মাটি, সে কাল অনুযায়ী পাকা-আধাপাকা রাস্তাঘাট, হাট-বাজার-শহরে যাওয়ারও বেশ ভালো ব্যবস্থা আছে। চরের মতো ধু-ধু বালির বিশাল মাঠ কোথাও চোখে পড়ছে না। সামনেটা দেখে মনে হচ্ছে, একটু দূরেই যেন একটা বাজার বসেছে।

-নদীর এই উঁচু দিকটাকে এখানকার মানুষজন ‘বীর’ বলে, আর নদীর ওই নিচু দিকটাকে বলে ‘চর’

আসমানী ঘাটের পাড়ে দাঁড়িয়ে রইল নিশ্চুপ হয়ে। বেশি মানুষ দেখলেই তার বুকের ভেতর কেমন একটা অজানা ভয় জমে ওঠে। অথচ এখানে পুরুষ মানুষের সংখ্যাই যেন বেশি। চারপাশের কোলাহল, অপরিচিত মুখ আর মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি-সব মিলিয়ে তার অস্বস্তি আরও বাড়তে লাগল।

নৌকার মাঝিটাও বারবার তার দিকে তাকাচ্ছে। কখনো চোখ সরিয়ে নিচ্ছে, আবার পাশের লোকটার কাছে মুখ বাড়িয়ে ফিসফিস করে কী যেন বলছে। তাদের চোখের দৃষ্টি কেমন যেন লাগল আসমানীর কাছে। অস্বস্তিতে সে নিজের সাদা রঙের একপ্যাঁচের শাড়িটা আরেকবার টেনে-টুনে ভালো করে ঠিক করে নিল। আঁচলটা বুকের ওপর শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

নৌকার মাঝির সঙ্গে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর এবার মধ্যবয়স্ক, টাকমাথা এক লোক ধীর পায়ে এগিয়ে এসে আসমানীর পাশে দাঁড়াল। তার মুখে বেশ ভদ্রতার ছাপ। কিছুক্ষণ আসমানীর দিকে তাকিয়ে থেকে লোকটি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল-

: :- মায়া তুমি কি এলহা আ‌ইছো ? তা কুনহানতনে আ‌ইছো ?(কোথা থেকে এসেছো) মানে তুমার বাড়ি কুনো- কুনো চর নাহি গেরাম ?

আসমানী একবার আড়চোখে লোকটার দিকে তাকাল। লোকটাকে সে কিছুক্ষণ আগেই মাঝির সঙ্গে কথা বলতে দেখেছে। মাঝি নিশ্চয়ই তাদের চর-এর নাম জানলে চিনে ফেলবে। আর এখন মাঝি আবার নৌকায় মানুষ উঠাচ্ছে-ওপারে যাওয়ার জন্য যেসব মানুষ অপেক্ষা করছে, ওপারে যাওয়ার পর যদি হাসমত সওদাগরের সঙ্গে কোনোভাবে দেখা হয়ে যায়, তাহলে তো সর্বনাশ!

হাসমত সওদাগর তাকে বাড়িতে না পেয়ে এতক্ষণে নিশ্চয়ই আঁচ করতে পেরেছে যে, সে বীরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। কিন্তু সেটা এখনই জানাজানি হোক, তা আসমানী কোনোভাবেই চায় না। আগে কোনোভাবে খালেদার বাড়িতে নিরাপদে পৌঁছাতে হবে। তারপর যা হওয়ার হবে। হাসমত সওদাগর যদি পরে জেনেও যায়, তখন না হয় সেই বিপদ সামলানো যাবে।

এসব কথা মুহূর্তের মধ্যেই তার মাথার ভেতর ঝড়ের মতো ঘুরে গেল। বুকের ভেতর ভয়ের ঢেউ উঠলেও মুখে তার কোনো ছাপ পড়তে দিল না। অচেনা লোকটির সামনে নিজের পরিচয় গোপন করা ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো পথও তো নেই।

সে মৃদু স্বরে মিথ্যেটা বলে দিল-

আসমানী:: আমার বাড়ি কালিহাতী, তয় এহন বীরপুর যাইতাছি বুজানের (বোনের বাড়ি) বারিত।

নামটা বলেই বুকের মধ্যে কেমন করে উঠল তার, কালিহাতী তার শ্বশুরবাড়ি এলাকার নাম, যেখানকার মানুষের সাথে এখন তার কোন সম্পর্ক নেই।

কষ্ট লোকালো আসমানী,কথাটা বলেই চোখ নামিয়ে নিল। নিজের কণ্ঠস্বরটাকেও যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। অথচ বুকের ভেতর তখন ঢিপঢিপ করে বাজছে হৃদয়ের শব্দ-যেন তার এই সামান্য মিথ্যেটাও আশপাশের সবাই শুনে ফেলবে।

: :- ও আইছা, তয় মায়া দেখলাম মেলাখন ধ‌ইরা খারাই আছো, কেউ নিবার আ‌ইবো ?

আসমানীর ভালোই লাগছিল লোকটার একটু পরপর তাকে ‘মায়া’ (মা) বলে ডাকার ভঙ্গিটা। সম্বোধনের মধ্যে এক ধরনের মায়া আর আপনত্ব মিশে ছিল, যা এই অপরিচিত পরিবেশেও তার মনে সামান্য স্বস্তি এনে দিচ্ছিল। তাই সরল মনে আসমানী মাথা নেড়ে না-সূচক ভঙ্গিতে উত্তর দিল।

লোকটা বুঝতে পারল, আসমানী একাই এসেছে। কথাটা বুঝে তার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। কিছুক্ষণ আসমানীর দিকে তাকিয়ে থেকে উদ্বিগ্ন স্বরে বলল-

: :- তোমার বুজানের বাড়ি চিনো না?

আসমানী পুনরায় মাথা নেড়ে না বোঝায়, এবার লোকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে, আশেপাশে পেছনে লক্ষ্য করে, নৌকাটা ছেড়ে দিয়েছে ওপারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু দূরেও চলে গেছে, আশেপাশে হাতে গোনা দু একজন মানুষ আছে তারা হয়তো ওপারে যাবে, নৌকা ফিরে আসতে আসতে ঘাটে মানুষের ভিড় বাড়বে পূণরায়। যে দুই একজন মানুষ নতুন এসেছে তারা ভাবছে লোকটা আসমানীর সাথের কেউ।কারন লোকটা আসমানীর পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল এমন ভাবেই। একটু চিন্তা-ভাবনা করে লোকটা মায়া মায়া কন্ঠে বলে:-

: :- হুনো মায়া তুমি চাইলে আমি তোমারে দিয়া আ‌ইবার পারি,তয় এহন তো ভরদুফুর বেইল ডা (সূর্যটা)এক্কেরে মাতার উপ্রে, মনে হয় না এহন কুনো নসিমন গাড়ি বা ভ্যান পাউন যাইবো।তাই তুমি চাইলে বিহার তরি আমার বাইত ব‌ইবার পারো,বাইত আমার বেডি-ফুরি (ব‌উ-মেয়ে)আছে।

আসমানীর ভীষণ ক্লান্ত লাগছিল। পালিয়ে আসার উৎকণ্ঠা আর দুশ্চিন্তায় সকাল থেকে তার মুখে একটুকরো খাবারও ওঠেনি। তার ওপর প্রখর রোদের তাপে শরীর যেন অবসন্ন হয়ে পড়েছে; গলাটাও শুকিয়ে কাঠ। মনে হচ্ছিল, এক ঢোক পানি পেলেই যেন প্রাণটা ফিরে পাবে।

সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে তার আপাতদৃষ্টিতে বিশ্বাসযোগ্যই মনে হলো। এই অল্প কয়েকটি কথার মধ্যেই লোকটা তাকে বারবার ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছে। সেই স্নেহমাখা ডাকটি অজান্তেই আসমানীর মনে একটু জায়গা করে নিয়েছে, এনে দিয়েছে একটুখানি ভরসা।

হয়তো ক্লান্ত শরীর আর আশ্রয়ের তীব্র প্রয়োজনেই তার সতর্কতার দেয়ালটা মুহূর্তের জন্য নরম হয়ে এসেছিল। বেশি কিছু না ভেবেই, এই অজানা-অচেনা মানুষের কথায় আস্থা রেখে তার বাড়িতে যেতে রাজি হয়ে গেল আসমানী।

অচেনা পথ, অচেনা মানুষ-তবু এই মুহূর্তে লোকটির ‘মা’ ডাকটুকুই যেন তার কাছে সবচেয়ে আপন মনে হলো।

নদীর উত্তর দিকের কিনার ঘেঁষে লোকটা আসমানীকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটা ধরল। তার বাড়িটা নাকি আরেকটু এগিয়ে গেলেই নদীর পাড়ের কাছে। সেখান থেকে বীরপুর যাওয়ার ভ্যানও নাকি সহজেই পাওয়া যায়।

লোকটি সরল গলায় কথা বলতে বলতে, মাঝে মাঝে হাসতে হাসতে আপন মনে এগিয়ে চলেছে। তার কথাবার্তায় কোনো কৃত্রিমতা নেই-অন্তত আসমানীর কাছে তেমনই মনে হলো।

আসমানীও আর কোনো কথা বলল না। বুকে শক্ত করে চেপে ধরল তার ছোট্ট কাপড়ের পুঁটলিটা। তারপর নিঃশব্দে লোকটির পিছু পিছু হাঁটতে লাগল।

নদীর পাড় ধরে বাতাস এসে বারবার তার শাড়ির আঁচল উড়িয়ে দিচ্ছিল।

**************************

দুপুর একটা বাজতেই বাইরে যেন আগুন ঝরছে, চারপাশের মাটি প্রচণ্ড উত্তাপে তেতে উঠেছে।

মাটির ঘরের ভেতরেও গরম বাতাস থমকে আছে, কোথাও যেন স্বস্তির ছিটেফোঁটাও নেই।

অথচ গতকাল রাতেই প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়ে চারপাশ ভিজে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।

সেই বৃষ্টির পর আজ হঠাৎ এমন তীব্র গরম যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়াল।

বাইরের উত্তাপ আর ঘরের ভ্যাপসা পরিবেশে দুপুরটা যেন ক্লান্তি আর অস্থিরতায় ভরা।

তবে সে-সব অস্বস্তি গায়ে মাখছে না মিলন; তার সমস্ত অস্বস্তি এসে ভর করেছে ওই এক বিবির ওপর।

কিছু সময় আগে তার ভাতের থালায় দুই টুকরো লেবু এনে রেখে গিয়েছিল রেবেকা-তার কোমল হাতে। তাতেই তো বিগড়ে থাকা খিটখিটে মেজাজটা খানিকটা ভালো হয়ে গিয়েছিল মিলনের। অসুস্থ শরীরে সে তার বিবির কাছে একটু আদর-সোহাগ ,যত্নই তো আশা করেছিল, আর কিছু নয়। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই! লেবুর টুকরো দুটো দিয়ে যে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছে, ঘণ্টাখানেক হয়ে গেল-এখনও ফেরার নাম নেই।

তখন কয়েক লোকমা ভাত খেয়ে ওষুধ খেয়েছিল মিলন। জ্বরটা ছেড়েছে, তবে চোখ-মাথায় ব্যথা রয়ে গেছে। বিছানায় টানটান হয়ে শুয়ে, লুঙ্গিটা হাঁটু অবধি গুটিয়ে, ডান পায়ের ওপর বাঁ পা ভেঙে তুলে রেখে বিড়ি টানছে সে। চোখ দুটো বন্ধ। মনে মনে ভাবছে তার বাপ বাদল মাস্টারের বলা সেই কথাগুলো-

((বাদল:::: বিবি কি তোমার একাই আছে দুনিয়াতে আর কারো নাই, বিবিকে শুধু আদর কইরা মাথায় তুইলো না,প্রয়োজনে মাঝে মাঝে একটু শাসন কইরো, তার সব প্রয়োজন মিটাইলেই হইবো?চাওয়ার আগেই জিনিস হাজির করলেই হ‌ইবে?তারও তো তোমার মন বোঝন দরকার, তোমার অপছন্দের কাজ না করা শিখোন দরকার, কিছু হইলেই সে কয় থাকতাম না, চইলা যামু, তায় তুমি তারে এত আদর কইরা কি অর্জন করলা?কিছু

ঊনিশ-বিংশ হলেই তোমারে ছাইড়া যাইবার চাই! ))

মিলনের মনে হলো, তার আব্বা ভুল বলেনি-প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত আদরে মানুষ অনেক সময় বাঁদর হয়ে যায়। তখন জীবনের জটিল পরিস্থিতিগুলো একা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খায়, বারবার খুঁজতে থাকে কোনো আশ্রয়ের হাত।

রেবেকার কাছে সেই আশ্রয়ের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু মিলন। আর সেই কেন্দ্রবিন্দুকে আঁকড়ে ধরেই রেবেকা আজও অপরিপক্ব রয়ে গেছে। তাই মিলনের মনে হলো, এবার সে তার বিবিকে একটু একা ছেড়ে দেবে। কঠিনভাবে শাসন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়; তবে আজকের মত একটু গম্ভীর রুক্ষ হলে ক্ষতি নেই।

সংসারের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সে আর রেবেকাকে আগলে রাখবে না। রেবেকাকে একাই শিখতে হবে-কীভাবে সামান্য কিংবা - বড় সব বিপদ থেকে নিজেকে সামলে রাখতে হয়, কীভাবে একা দাঁড়াতে হয়।

মিলনের বিশ্বাস, রেবেকা যখন একদিন সবকিছু একা করতে শিখবে, তখনই সে বুঝবে মিলন তার জীবনে কতটা জরুরি। তখনই হয়তো সে তার স্বামীর আসল মূল্যটা উপলব্ধি করবে।

কাঠের দরজার একটা কপাট বন্ধ, অন্যটা খোলা। মিলনের ভাবনার মাঝেই হঠাৎ দরজায় শব্দ হলো। সে একইভাবে শুয়ে রইল-নড়ল না, এমনকি চোখও খুলল না। পায়ের শব্দেই দিব্যি বুঝতে পারছে, রেবেকা ঘরে ঢুকেছে। অথচ মিলন অন্য দিনগুলোর মতো ছটফট করে তার দিকে এগিয়ে গেল না, একবার তাকালও না। শক্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে রইল, ধীরে ধীরে বিড়িতে টান দিতে লাগল।

রেবেকা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মিলনের দিকে তাকিয়ে আছে। তার ঠোঁট দুটো কাঁপছে। কিছুক্ষণ আগেই কীভাবে ধমক দিয়ে তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল মিলন-সেই কথাটা মনে পড়তেই কান্না পাচ্ছে তার। সেই সঙ্গে ভয়ও করছে; কাছে গিয়ে কথা বলবে কীভাবে, বুঝে উঠতে পারছে না।

শাশুড়ি তাকে পাঠিয়েছে-মিলনকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে, গোসল করবে কি না; গোসল করতে না চাইলে অন্তত শরীরটা মুছে দেবে কি না। সেই কথাটাই বলতে এসেছে রেবেকা। কিন্তু এখন মিলনের কাছে যাওয়ার সাহসটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে সে।

রেবেকা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। দুহাত একসঙ্গে করে অন্যমনস্কভাবে কচলাতে থাকে। মিলন কপাল কুঁচকে নিয়েছে, সেবুঝতে পারে, রেবেকা তার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে, অথচ কিছু বলছে না।

এভাবেই কিছুটা সময় কেটে যায়।

হঠাৎ ঘরের বারান্দা থেকে ঘষেটি বেগমের গলা ভেসে আসে-

ঘষেটি:: ও মিলন ব‌উ , মিলনের কি জর পরছে?পরলে নাওন লাগবো আর না পরলে কিন্তু; মাতাত পানি ঢাইলা শ‌ইল মুছুন লাগবো, ডাকতর বেডায় ক‌ইয়া গেছে। বেডাইন মানু অসুইক্কা থাকলে ডর লাগে।

ঘষেটি বেগমের তারা শুধু রেবেকা এগিয়ে যায় বিছানার কাছে, তার কোমল হাতটা বাড়িয়ে রাখে মিলনের কপালে, শরীরের তাপমাত্রা পরোক্ষ করার জন্য, রেবেকা অনুভব করলো সকালের থেকে শরীরের তাপ অনেকটাই কমেছে। কিন্তু এটা বুঝতে পারল না গোসল করাটা ঠিক হবে না শরীর মুছে দেওয়া।

এদিকে তার স্পর্শ পেয়ে কুঁচকানো কপাল টানটান হয়ে গেলো মিলনের, বরাবরই বিবির স্পর্শ তাকে প্রচুর সুখ দেয়।তবে এইটুকু স্পর্শে তার এখন আর পোষাচ্ছে না।

মিলন দ্রুত গতিতে চোখ খুলে তাকায় রেবেকার দিকে, রেবেকা মিলনের চোখে তাকিয়ে ভয় পেলো একটু।

এভাবে মিলন কখনো তার দিকে তাকায়নি।

মিলন ইচ্ছা করেই দৃষ্টিতে রুক্ষতা রেখে তাকিয়ে ছিল যাতে রেবেকা ভয় পায় এবং পেয়েছেও।

মিলন শুনেছে ঘষেটি বেগমের কথা, তবুও কন্ঠে রুক্ষতা রেখে বলল:-

মিলন:: কি চাও ?

রেবেকা:: জর কমছে নাহি দেখবার চাইতা....

মিলন তার কথা কাটলো

মিলন:: কেলা তুমি কি ডাকতর নাহি যে ছু‌ইয়া বুইঝা নিবা?

রেবেকার ঠোঁট কাঁপছে কান্না করে দেবে দেবে ভাব,সে নাক টেনে বললো:-

রেবেকা:: আন্নে এইবা কতা ক‌ইন কে ? আমার ডর লাগতাছে তো।

মিলন অনুভব করল, রেবেকা এখন তার সামনে থাকলে কঠিন থাকার এই অভিনয় সে আর বেশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারবে না। তাই দ্রুত বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে হাঁটা ধরল। যেতে যেতে শক্ত কণ্ঠে আদেশের সুরে বলল-

মিলন:: গামছা-তবন (লুঙ্গি) ল‌ইয়া পাগার পাড় (পুকুর পাড়ে) আও তাত্তারি (তারাতাড়ি)

কথাটি এত জোরে বলছে মিলন,যে বাড়ির মানুষ সবাই শুনলো, খালেদা খাতুন তো মিলনের গলা শুনেই আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকলো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অপরিপক্ক পর্ব ২৫ শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন