ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 10

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ১০

### অভিমানের আড়ালে ভালোবাসা

সকাল থেকেই রাফার মনটা কেমন অস্থির। বারবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু আদবির কোনো ফোন বা মেসেজ আসছে না। গতকাল রাতে আদবির সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই তার মনে হচ্ছে, আদবি যেন কিছু একটা লুকাচ্ছে।

রাফা বিছানায় বসে ফোনটা হাতে নিয়ে নিজেই কল দিল।

দুইবার রিং হওয়ার পর আদবি ফোন ধরল।

— আসসালামু আলাইকুম।

— ওয়ালাইকুম আসসালাম। কী করছেন?

— কিছু না। আপনি?

— আপনার সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় ছিলাম।

আদবি মৃদু হেসে বলল,

— তাহলে নিজেই ফোন দিলেন না কেন?

রাফা একটু অভিমানী কণ্ঠে বলল,

— সবসময় আমাকেই কেন ফোন দিতে হবে?

— ওহ! তাহলে আমার ওপর অভিমান হয়েছে?

— না।

— আপনার এই না বলাটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে অভিমান হয়েছে।

রাফা হেসে ফেলল।

— আপনি সব বুঝে যান কেন?

— আপনার ব্যাপারে একটু বেশি বুঝতে ইচ্ছে করে।

রাফা আর কিছু বলল না। তার গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে উঠল।

ঠিক তখনই নিচ থেকে শারমিন বেগম ডাকলেন,

— রাফা, মা! একটু নিচে আয়।

রাফা ফোনে বলল,

— মা ডাকছে। পরে কথা বলব।

আদবি বলল,

— ঠিক আছে। তবে নিজের খেয়াল রাখবেন।

— আপনিও।

অন্যদিকে আদবি নিজের ঘরে বসে ছিল। তার ছোট বোন মাহিরা ঘরে ঢুকে বলল,

— ভাইয়া, আজ কোথাও যাবে?

— কেন?

— রাফা আপুদের বাসায় যাব। অনেক দিন হলো আপুর সঙ্গে দেখা হয় না।

আদবি মুচকি হেসে বলল,

— তুই যেতে চাইলে চল।

মাহিরা খুশি হয়ে বলল,

— সত্যি? তাহলে আমি তৈরি হয়ে আসছি।

আদবি বোনের আনন্দ দেখে হাসল।

কিছুক্ষণ পর আদবির মা ঘরে এসে বললেন,

— তোরা কোথাও যাচ্ছিস?

মাহিরা বলল,

— মা, রাফা আপুদের বাসায় যাব।

মা মৃদু হেসে বললেন,

— যাও। শারমিনের সঙ্গে আমারও কথা আছে।

আদবি মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

— মা, তুমি কি আন্টির সঙ্গে কোনো বিষয়ে কথা বলতে চাও?

মা একটু থেমে বললেন,

— হ্যাঁ বাবা। অনেক দিনের একটা কথা আছে।

আদবি আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।

দুপুরের দিকে আদবি ও মাহিরা রাফাদের বাসায় পৌঁছাল।

দরজা খুলে রাফা তাদের দেখে অবাক হয়ে গেল।

— আরে! আপনারা!

মাহিরা হেসে বলল,

— কী আপু, আমাদের দেখে খুশি হওনি?

রাফা হাসতে হাসতে বলল,

— তা হবে না কেন? আসো ভেতরে।

মাহিরা রাফার হাত ধরে ঘরের ভেতরে চলে গেল।

আদবি পেছনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসল।

শারমিন বেগম এসে বললেন,

— আদবি বাবা, এসো। তোমার মা কেমন আছেন?

— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছেন।

— বসো বাবা।

আদবি সোফায় বসে পড়ল।

এদিকে মাহিরা রাফার ঘরে গিয়ে বলল,

— আপু, একটা কথা বলব?

— বলো।

— আমার ভাইয়া কিন্তু তোমার কথা অনেক বলে।

রাফা লজ্জা পেয়ে বলল,

— কী যে বলো তুমি!

— সত্যি বলছি। ভাইয়াকে কখনো এত হাসিখুশি দেখিনি।

রাফা মুচকি হেসে বলল,

— তোমার ভাইয়া এমনিতেই ভালো।

মাহিরা দুষ্টুমি করে বলল,

— শুধু ভালো, নাকি আরও কিছু?

রাফা বালিশ দিয়ে মাহিরাকে হালকা ধাক্কা দিল।

— চুপ করো!

দুজনেই হেসে উঠল।

বিকেলে রাফা ছাদে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর আদবিও সেখানে এল।

— এখানে একা দাঁড়িয়ে আছেন কেন?

রাফা পেছনে ফিরে বলল,

— এমনিই। আপনি এখানে কী করছেন?

— আপনাকে খুঁজছিলাম।

— আমাকে কেন?

আদবি মুচকি হেসে বলল,

— আপনার সঙ্গে একটু কথা বলব বলে।

রাফা চুপ করে রইল।

আদবি কিছুক্ষণ পর বলল,

— রাফা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

— জি।

— আপনার কি কখনো মনে হয়, আমাদের পরিচয়টা একটু অন্যরকম?

রাফা অবাক হয়ে তাকাল।

— অন্যরকম মানে?

আদবি ধীরে বলল,

— জানি না। শুধু মনে হয়, আপনার সঙ্গে কথা না বললে দিনটা ভালো কাটে না। আপনার অভিমান দেখলে মন খারাপ হয়। আবার আপনার হাসি দেখলে সব চিন্তা দূর হয়ে যায়।

রাফা মাথা নিচু করে বলল,

— আপনি এমন কথা বললে আমি কী বলব বুঝতে পারি না।

আদবি হেসে বলল,

— কিছু বলতে হবে না। শুধু নিজের মনের কথাটা বুঝতে চেষ্টা করবেন।

রাফা এবার সাহস করে বলল,

— আপনি কি আমাকে সত্যিই এতটা পছন্দ করেন?

আদবি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

— যতটা বললে আপনার বিশ্বাস হবে, তার চেয়েও বেশি।

রাফার মুখে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল।

সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার আগে আদবি রাফার মায়ের সঙ্গে দেখা করল।

শারমিন বেগম বললেন,

— বাবা, তোমার মা আমাকে একটা পুরোনো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।

আদবি আগ্রহ নিয়ে বলল,

— কী বিষয় আন্টি?

শারমিন বেগম একটু থেমে বললেন,

— তোমার বাবা আর রাফার বাবার মধ্যে অনেক দিনের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুই পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

আদবি অবাক হয়ে বলল,

— বাবা আমাকে কখনো এসব বলেননি।

— সময় হলে সব জানতে পারবে বাবা।

আদবি মাথা নেড়ে বলল,

— আমি চাই না অতীতের কোনো ভুলের কারণে বর্তমানের সম্পর্কগুলো নষ্ট হোক।

শারমিন বেগম মৃদু হেসে বললেন,

— আমিও তাই চাই।

রাতে রাফা নিজের ঘরে বসে ছিল। হঠাৎ ফোনে একটা মেসেজ এল।

আদবি লিখেছে,

'আজ আপনাকে দেখে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেল।'

রাফা উত্তর দিল,

'আপনি কি সবসময় এমন কথা বলেন?'

আদবি লিখল,

'না। শুধু আপনার সঙ্গেই এমন কথা বলতে ইচ্ছে করে।'

রাফা ফোনটা বুকে জড়িয়ে মুচকি হাসল।

কিন্তু সে জানত না, তাদের দুই পরিবারের পুরোনো সম্পর্কের একটি অজানা অধ্যায় খুব শিগগিরই সামনে আসতে চলেছে।

আর সেই অধ্যায় বদলে দিতে পারে রাফা ও আদবির জীবনের অনেক হিসাব।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 10 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন