### নিষিদ্ধ অনুভূতি
লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা
পর্ব সংখ্যা ১১
### অভিমানের নতুন অধ্যায়
সকালের নরম রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে রাফার ঘরে এসে পড়েছে। বিছানায় বসে ফোন দেখছিল রাফা। গত রাতের আদবির মেসেজটা বারবার পড়ছে আর মুচকি হাসছে।
ঠিক তখনই ছোট বোন ঘরে ঢুকে বলল,
— আপু, একা একা হাসছ কেন?
রাফা তাড়াতাড়ি ফোনটা পাশে রেখে বলল,
— কিছু না। তুই এখনো স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হোসনি?
— হয়েছি তো! কিন্তু তোমার মুখের হাসিটা দেখে মনে হচ্ছে বিশেষ কারও মেসেজ এসেছে।
রাফা বালিশটা হাতে নিয়ে বলল,
— বেশি কথা বলিস না। যা তো!
ছোট বোন হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
রাফা আবার ফোনটা হাতে নিল। ঠিক তখনই আদবির কল এল।
— আসসালামু আলাইকুম।
— ওয়ালাইকুম আসসালাম। কী করছেন?
— আপনার কথা ভাবছি।
— বাহ! এত সকালে আমার কথা মনে পড়ল?
— আপনার কথা মনে পড়ার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো সময় লাগে?
রাফা হেসে বলল,
— আপনি না একদম!
আদবি মৃদু হেসে বলল,
— আচ্ছা, আজ বিকেলে একটু সময় হবে?
— কেন?
— আপনাদের বাসায় আসব। আপনার বাবার সঙ্গে কিছু কথা আছে।
— কী কথা?
— সেটা আপনার বাবাকেই বলব।
রাফা আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।
অন্যদিকে আদবির বাড়িতে সকাল থেকেই ব্যস্ততা। আদবির মা ছেলেকে নাশতার টেবিলে ডাকলেন।
— আদবি, বাবা, একটু বসো।
আদবি চেয়ার টেনে বসল।
— বলো মা।
— কাল শারমিনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা চাই দুই পরিবারের পুরোনো সম্পর্ক আবার আগের মতো সুন্দর হোক।
আদবি বলল,
— আমিও তাই চাই মা।
মা ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— আর রাফার ব্যাপারে তোর কী ভাবনা?
আদবি একটু লজ্জা পেয়ে বলল,
— মা, আমি রাফাকে সম্মান করি। ওর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে। তবে সবকিছু বড়দের সম্মতি নিয়েই করতে চাই।
মা মৃদু হেসে বললেন,
— তোর এই কথাটাই আমার ভালো লেগেছে।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো।
রাফা নিজের ঘরে বসে ছিল। হঠাৎ নিচে গাড়ির শব্দ শুনতে পেল। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখল, আদবি এসেছে।
সে দ্রুত নিচে নেমে গেল।
আদবি তাকে দেখে মুচকি হেসে বলল,
— এত তাড়াতাড়ি নিচে চলে এলেন?
রাফা বলল,
— আমি কি আপনাকে দেখতে এসেছি নাকি?
আদবি হেসে বলল,
— তাহলে কি অন্য কাউকে দেখতে এসেছেন?
রাফা মুখ ঘুরিয়ে বলল,
— আপনার সঙ্গে কথা বলাই বৃথা।
আদবি হাসতে হাসতে সোফায় বসল।
শারমিন বেগম চা নিয়ে এলেন।
— আদবি বাবা, তোমার মা কেমন আছেন?
— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছেন। আপনাকে সালাম দিয়েছেন।
— তাঁকে আমার সালাম দিও।
এরপর আদবি সোহাগের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল।
— আঙ্কেল, আব্বু বলেছেন আপনাদের সঙ্গে আবার আগের মতো সম্পর্ক রাখতে চান।
সোহাগ মৃদু হেসে বললেন,
— আমিও তাই চাই বাবা। জীবনে অনেক ভুল বোঝাবুঝি হয়। তাই বলে সম্পর্ক নষ্ট করে রাখা উচিত নয়।
আদবি সম্মানের সঙ্গে বলল,
— ঠিক বলেছেন আঙ্কেল।
কিছুক্ষণ পর রাফা রান্নাঘরে গেল। আদবি একটু পর সেখানে এসে দাঁড়াল।
— কী করছেন?
রাফা চমকে তাকাল।
— আপনি এখানে কেন?
— আপনাকে দেখতে।
— সবাই নিচে আছে। কেউ দেখলে কী ভাববে?
আদবি হেসে বলল,
— তাহলে নিচে চলুন। তবে একটা কথা আছে।
— কী?
— আজ আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।
রাফা লজ্জা পেয়ে বলল,
— আপনি কি সবাইকে এমন কথা বলেন?
— না। সবাই তো আপনি নন।
রাফা আর কথা বাড়াল না। দুজনেই নিচে ফিরে এল।
সন্ধ্যার কিছু আগে আদবি বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল।
রাফা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল।
আদবি বলল,
— আচ্ছা, আমি তাহলে যাই।
রাফা মৃদু কণ্ঠে বলল,
— ঠিক আছে। সাবধানে যাবেন।
— আপনি কি আমাকে একটু মিস করবেন?
— জানি না।
— আচ্ছা, আমি ধরে নিলাম করবেন।
রাফা হেসে ফেলল।
আদবি গাড়িতে ওঠার আগে বলল,
— আর হ্যাঁ, মন খারাপ করবেন না। কাল আবার কথা হবে।
— কে বলেছে আমার মন খারাপ?
— আপনার চোখ বলছে।
আদবি চলে গেল।
রাফা কিছুক্ষণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল।
রাতে খাবার টেবিলে সোহাগ বললেন,
— শারমিন, আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
শারমিন বেগম তাকিয়ে বললেন,
— কী সিদ্ধান্ত?
— আমিরুলের সঙ্গে আবার দেখা করব। এত বছরের দূরত্ব আর রাখতে চাই না।
রাফা চুপচাপ বাবার কথা শুনছিল।
সোহাগ মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— মা, তোর কী মনে হয়?
রাফা মৃদু হেসে বলল,
— আমার মনে হয়, সম্পর্কগুলো আবার সুন্দর হয়ে উঠুক।
সোহাগ মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
— আল্লাহ যেন আমাদের সবার জন্য ভালো কিছু রাখেন।
অন্যদিকে আদবি নিজের ঘরে বসে রাফার সঙ্গে কথা বলছিল।
— রাফা, একটা কথা বলব?
— বলুন।
— আজ আপনার বাবার সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো লাগল।
— বাবা আপনাকে পছন্দ করেছেন।
— সত্যি?
— হ্যাঁ। তবে বেশি খুশি হবেন না।
আদবি হেসে বলল,
— আপনার মুখে নিজের প্রশংসা শুনতে বেশ ভালো লাগে।
রাফা বলল,
— আচ্ছা, এখন রাখি। ঘুমাব।
— ঠিক আছে। শুভরাত্রি।
— শুভরাত্রি।
ফোন রেখে আদবি জানালার পাশে দাঁড়াল।
তার মনে একটাই ইচ্ছা— দুই পরিবারের মধ্যে যেন আর কখনো কোনো অভিমান না থাকে।
কিন্তু সামনে যে নতুন কিছু অপেক্ষা করছে, তা সে তখনো জানত না।
পরদিন আদবির বাবা সোহাগকে এমন একটি প্রস্তাব দিতে চলেছেন, যা শুনে দুই পরিবারই অবাক হয়ে যাবে।
এটি একটি কাল্পনিক উপন্যাস।
আসা করি ভালো লাগবে আমার উপন্যাস টি
আমার সুন্দর একটা উপন্যাস
চলবে...
🫠 🫶
❤️ 🤌
💖 👌 🙃
🖤