ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 15

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ১৫

### অপেক্ষার অবসান

শুক্রবারের সকাল। চারদিকে যেন উৎসবের আমেজ। রাফাদের বাড়িতে সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা শুরু হয়েছে। বাড়ির প্রতিটি ঘর সাজানো হচ্ছে সুন্দর করে। কেউ ফুল সাজাচ্ছে, কেউ অতিথিদের বসার জায়গা ঠিক করছে, আবার কেউ রান্নাঘরে ব্যস্ত।

রাফা নিজের ঘরে বসে আছে। তার সামনে নীল রঙের সুন্দর পোশাকটি রাখা। আজকের দিনটি তার কাছে অন্যরকম। আনন্দ হচ্ছে, আবার একটু লজ্জাও লাগছে।

ছোট বোন ঘরে ঢুকে বলল,

— আপু, এখনো বসে আছ কেন? সবাই নিচে ব্যস্ত!

রাফা হেসে বলল,

— তৈরি হব তো। এত তাড়া কিসের?

— আজ কিন্তু তোমার বিশেষ দিন। আদবি ভাইয়া আসবে!

রাফা বোনের দিকে তাকিয়ে বলল,

— তুই কি একটু চুপ থাকতে পারিস না?

ছোট বোন হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর শারমিন ঘরে এলেন। মেয়েকে দেখে মুচকি হাসলেন।

— কী রে মা, মন খারাপ?

— না মা।

— তাহলে এত চুপচাপ কেন?

রাফা মায়ের হাত ধরে বলল,

— মা, আজকের দিনটা নিয়ে একটু নার্ভাস লাগছে।

শারমিন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

— নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই। আজ সবাই তোমার আনন্দ ভাগ করে নিতে এসেছে। মন খুলে হাসবে।

রাফা মায়ের কথায় মাথা নাড়ল।

অন্যদিকে আদবির বাড়িতেও প্রস্তুতি চলছে। আদবি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পোশাক ঠিক করছিল। আজ সে নীল রঙের পাঞ্জাবি পরেছে।

মহিরা ঘরে ঢুকে বলল,

— ভাইয়া, আজ তো তোমাকে বেশ সুন্দর লাগছে!

আদবি হেসে বলল,

— প্রতিদিন কি খারাপ লাগে?

— না, তবে আজ একটু বেশি। বুঝতেই পারছি কার জন্য এত সাজগোজ!

আদবি কিছু না বলে হেসে ফেলল।

আমিরুল সাহেব ঘরে এসে বললেন,

— তৈরি হয়েছ?

— হ্যাঁ বাবা।

— তাহলে চলো। ওরা অপেক্ষা করছে।

আদবি ড্রয়ার থেকে ছোট্ট উপহারের বাক্সটি বের করে পকেটে রাখল। তারপর পরিবারের সঙ্গে গাড়িতে উঠে রাফাদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিল।

কিছুক্ষণ পর গাড়ি বাড়ির সামনে এসে থামল। আদবি গাড়ি থেকে নামতেই সোহাগ সাহেব এগিয়ে এলেন।

— এসো বাবা, তোমাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।

আমিরুল সাহেব হাসিমুখে বললেন,

— আজকের দিনটা আমাদের সবার জন্য আনন্দের।

সবাই বসার ঘরে প্রবেশ করল। আদবি চারদিকে তাকাল, কিন্তু রাফাকে কোথাও দেখতে পেল না।

মহিরা তার পাশে এসে ফিসফিস করে বলল,

— ভাইয়া, ভাবিকে খুঁজছ?

আদবি বলল,

— তুমি কি একটু চুপ থাকতে পারবে?

মহিরা হেসে অন্যদিকে চলে গেল।

কিছুক্ষণ পর রাফা ঘর থেকে বেরিয়ে এল। নীল পোশাকে তাকে দেখে আদবি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল।

রাফা কাছে এসে বলল,

— কী হলো? কিছু বলছেন না কেন?

আদবি মৃদু হেসে বলল,

— বলার মতো অনেক কিছু আছে, কিন্তু এখন সব বলা যাবে না।

রাফা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল।

অনুষ্ঠান শুরু হলো। দুই পরিবারের বড়রা পাশাপাশি বসেছেন। সবার মুখে হাসি। ছোট্ট আয়োজন হলেও আনন্দের কোনো কমতি নেই।

একসময় আংটি বদলের মুহূর্ত এল। রাফার মা মেয়েকে কাছে ডাকলেন। আদবির বাবা ছেলেকে সামনে নিয়ে এলেন।

আদবি রাফার দিকে তাকিয়ে বলল,

— ভয় লাগছে?

রাফা আস্তে বলল,

— একটু।

— চিন্তা করবেন না। সব ঠিক আছে।

দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা একে অপরের হাতে আংটি পরিয়ে দিল। উপস্থিত সবাই আনন্দে হাততালি দিলেন।

মহিরা চিৎকার করে বলল,

— অবশেষে আমার ভাবি সত্যি সত্যি ভাবি হয়ে গেল!

সবাই হেসে উঠল।

অনুষ্ঠান শেষে আদবি পকেট থেকে ছোট্ট বাক্সটি বের করল।

— আপনার জন্য একটা জিনিস এনেছি।

রাফা অবাক হয়ে বলল,

— কী এটা?

— খুলে দেখুন।

রাফা বাক্সটি খুলতেই সুন্দর ব্রেসলেটটি দেখতে পেল। তার চোখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠল।

— খুব সুন্দর!

আদবি বলল,

— পছন্দ হয়েছে?

— অনেক।

— তাহলে এটা আপনার জন্যই।

রাফা মৃদু হেসে বলল,

— ধন্যবাদ।

আদবি বলল,

— আবার ধন্যবাদ! আমি তো বলেছিলাম, আমাদের মধ্যে অকারণে দূরত্ব তৈরি করবেন না।

রাফা হেসে বলল,

— আচ্ছা, আর বলব না।

বিকেলের দিকে অতিথিরা ধীরে ধীরে বিদায় নিতে শুরু করলেন। বাড়ির সবাই বেশ ক্লান্ত হলেও আনন্দিত।

রাফা বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজের হাতে থাকা আংটির দিকে তাকিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর আদবি পাশে এসে দাঁড়াল।

— কী দেখছেন?

— আংটিটা।

— ভালো লাগছে?

— হ্যাঁ। আজকের দিনটা অনেক সুন্দর ছিল।

আদবি বলল,

— আমারও। তবে একটা কথা আছে।

রাফা তার দিকে তাকাল।

— কী কথা?

— আজ থেকে আমাদের সম্পর্কের সঙ্গে নতুন একটা দায়িত্বও যুক্ত হলো। কখনো অভিমান হলে আমাকে জানাবেন। কোনো কথা খারাপ লাগলে সেটাও বলবেন। চুপ করে থাকবেন না।

রাফা শান্ত গলায় বলল,

— আপনিও তাই করবেন।

আদবি মাথা নাড়ল।

— কথা দিলাম।

ঠিক তখনই মহিরা এসে বলল,

— আপনারা আবার এখানে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন? সবাই আপনাদের ডাকছে!

রাফা হেসে বলল,

— আসছি।

আদবি যাওয়ার আগে একবার রাফার দিকে তাকাল। দুজনের মুখেই ছিল শান্ত হাসি।

সেদিন রাতে রাফা নিজের ঘরে বসে আংটিটির দিকে তাকিয়ে রইল। জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। সামনে কী আছে, তা সে জানে না। তবে সে আশা করছিল, তাদের সম্পর্কের প্রতিটি দিন বিশ্বাস আর সম্মানে ভরে উঠবে।

অন্যদিকে আদবিও নিজের ঘরে বসে রাফার পাঠানো একটি বার্তা পড়ছিল।

“আজকের দিনটা সুন্দর করার জন্য ধন্যবাদ। আমি চাই, আমাদের জীবনের প্রতিটি দিন এমন সুন্দর হোক।”

আদবি উত্তর দিল,

“আমিও তাই চাই। আপনার হাসিটা যেন কখনো হারিয়ে না যায়।”

রাতের নীরবতায় দুজনের মুখেই ফুটে উঠল একটুকরো হাসি।

এটি একটি কাল্পনিক উপন্যাস,
আমার প্রিয় গল্প।
আশা করি ভালো লাগবে এই উপন্যাস টি।
চলবে... 👌

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 15 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন