ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 21

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ২১

### স্বপ্নপূরণের প্রথম পদক্ষেপ

সকালের মিষ্টি রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে রাফার ঘরে এসে পড়েছে। আজ তার ঘুম ভাঙতেই মনে হলো, দিনটা যেন অন্য রকম। কারণ আজ তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। নতুন কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো আজ সম্পন্ন হবে।

রাফা বিছানা থেকে উঠে দ্রুত তৈরি হতে লাগল। শারমিন বেগম ঘরে এসে মেয়েকে দেখে মুচকি হাসলেন।

—কী রে মা, আজ এত তাড়াহুড়ো কেন?

রাফা হেসে বলল,

—আম্মু, আজ তো ভর্তি হওয়ার কাজটা শেষ করতে হবে। দেরি করতে চাই না।

—আচ্ছা, আগে নাশতা করে নে। খালি পেটে কোনো কাজ করতে যাবি না।

—ঠিক আছে, আম্মু।

নাশতার টেবিলে সোহাগ সাহেবও বসে ছিলেন। তিনি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

—সব কাগজপত্র নিয়েছ তো?

রাফা ব্যাগ খুলে একবার দেখে নিল।

—জি বাবা। সব নিয়েছি।

—তাহলে তৈরি হয়ে নাও। আমরা একটু পর বের হব।

রাফার মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠল।

অন্যদিকে খান বাড়িতে আদবি নিজের কাজ শেষ করছিল। মাহিরা এসে বলল,

—ভাইয়া, আজ কি ভাবির ভর্তি হওয়ার কাজ?

—হ্যাঁ।

—তাহলে আপনি যাচ্ছেন না?

আদবি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,

—আমার অফিসে একটা জরুরি কাজ আছে। তবে সময় হলে ওদের সঙ্গে দেখা করব।

মাহিরা একটু অভিমানী ভঙ্গিতে বলল,

—আপনি না গেলে ভাবি মন খারাপ করবেন না তো?

আদবি হেসে বলল,

—রাফা বুঝবে। সবসময় সব জায়গায় উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না।

মাহিরা মাথা নেড়ে বলল,

—ঠিক আছে। তবে ভাবিকে আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা জানাবেন।

—নিজেই ফোন করে জানিয়ে দিস।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে রাফা ও তার বাবা ভর্তি সংক্রান্ত কাজের জন্য বের হলো। শারমিন বেগম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ের মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন।

—আল্লাহ যেন তোমার সব কাজ সহজ করে দেন।

—আমিন, আম্মু।

কিছুক্ষণ পর তারা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাল। সেখানে গিয়ে রাফা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিল এবং ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যগুলো বুঝে নিল।

কাজ শেষ হওয়ার পর একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানালেন, তার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী ক্লাসের সময়সূচিও জানিয়ে দেওয়া হলো।

কথাটা শুনে রাফার মুখে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল।

সে সঙ্গে সঙ্গে বাবার দিকে তাকাল।

—বাবা, আমার আবেদনটা গ্রহণ করেছে!

সোহাগ সাহেব মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,

—আলহামদুলিল্লাহ। অনেক অভিনন্দন, মা।

রাফা আনন্দে বাবাকে জড়িয়ে ধরল।

—বাবা, আমি সত্যিই পেরে গেলাম!

—এটা তো শুধু শুরু। সামনে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

রাফা মাথা নেড়ে বলল,

—আমি চেষ্টা করব, বাবা।

বাড়ি ফেরার পথে রাফার ফোনে আদবির কল এল।

—কী খবর? কাজ শেষ হয়েছে?

রাফা আনন্দিত কণ্ঠে বলল,

—জি! আমার আবেদন গ্রহণ করেছে।

আদবি বলল,

—আলহামদুলিল্লাহ! অভিনন্দন।

—আপনি জানেন, খবরটা শোনার পর আমার কত ভালো লেগেছে?

—আপনার কণ্ঠ শুনেই বুঝতে পারছি।

—আজ আপনি সঙ্গে থাকলে আরও ভালো লাগত।

আদবি একটু নরম স্বরে বলল,

—আজ যেতে পারিনি বলে খারাপ লাগছে। অফিসে জরুরি কাজ ছিল। তবে আপনার আনন্দের খবর শুনে আমারও খুব ভালো লাগছে।

রাফা বলল,

—কোনো সমস্যা নেই। আপনি কাজ শেষ করুন।

—আর আপনি বাড়ি গিয়ে একটু বিশ্রাম নেবেন। আজ অনেক ধকল গেছে।

—আচ্ছা, আপনি আবার বকবেন না তো?

—আপনি কথা শুনলে বকতে হবে না।

রাফা হেসে বলল,

—ঠিক আছে।

বিকেলে খান বাড়িতে আদবি ফিরতেই মাহিরা দৌড়ে এসে বলল,

—ভাইয়া! ভাবির কী খবর?

আদবি জুতা খুলতে খুলতে বলল,

—আবেদন গ্রহণ হয়েছে। সব ঠিকঠাক।

মাহিরা আনন্দে হাততালি দিয়ে বলল,

—ইয়েস! তাহলে ভাবি এখন নতুন ক্লাস শুরু করবেন!

আদবি হেসে বলল,

—হ্যাঁ, এবার তুইও নিজের পড়াশোনায় মন দিবি।

মাহিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

—আপনি সব কথার মধ্যে পড়াশোনা আনেন কেন?

—কারণ পড়াশোনা জরুরি।

ঠিক তখন আদবির মা ঘরে এসে বললেন,

—রাফার জন্য তো কিছু মিষ্টি পাঠানো উচিত। মেয়েটার একটা ভালো খবর এসেছে।

আদবি বলল,

—আমি নিয়ে যাব, আম্মু।

মাহিরা সঙ্গে সঙ্গে বলল,

—আমিও যাব!

আদবি হেসে বলল,

—তুই গেলে তো মিষ্টির অর্ধেক পথেই শেষ হয়ে যাবে।

—ভাইয়া!

তাদের হাসির শব্দে ঘরটা আনন্দে ভরে উঠল।

সন্ধ্যার একটু আগে আদবি ও মাহিরা মিষ্টি নিয়ে রাফাদের বাড়িতে পৌঁছাল।

দরজা খুলে রাফা তাদের দেখে অবাক হয়ে গেল।

—আপনারা!

মাহিরা মিষ্টির প্যাকেট সামনে ধরে বলল,

—ভাবি, আপনার সাফল্যের জন্য মিষ্টি!

রাফা হেসে বলল,

—এত কিছু আনার কী দরকার ছিল?

আদবি বলল,

—একটা ভালো খবর উদ্‌যাপন করা তো যায়।

সোহাগ সাহেব তাদের বসতে বললেন। শারমিন বেগম চা ও নাশতার ব্যবস্থা করলেন।

মাহিরা রাফার পাশে বসে বলল,

—ভাবি, নতুন ক্লাস শুরু হলে আমাকে কিন্তু সব জানাবেন।

—অবশ্যই।

—আর ভালো ফল করতে হবে কিন্তু!

রাফা হেসে বলল,

—আপনাকেও ভালো ফল করতে হবে।

মাহিরা একটু থেমে বলল,

—আচ্ছা, আমরা দুজনেই চেষ্টা করব।

কিছুক্ষণ পর আদবি ও রাফা বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। বাড়ির ভেতর থেকে পরিবারের সবার হাসির শব্দ ভেসে আসছিল।

আদবি বলল,

—আজ আপনি নিজের স্বপ্নের পথে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

রাফা মাথা নেড়ে বলল,

—হ্যাঁ। কিন্তু সামনে অনেক কিছু শিখতে হবে।

—শেখার তো শেষ নেই। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে যাবেন।

রাফা মৃদু স্বরে বলল,

—আপনি পাশে থাকলে সাহস পাই।

আদবি বলল,

—আপনার নিজের সাহসটাই সবচেয়ে বড়। আমি চাই, আপনি নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যান।

রাফা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল,

—আমি চাই, একদিন আমার বাবা-মা আমার জন্য গর্ব করবেন।

—ইনশাআল্লাহ, সেই দিন আসবে।

রাফা হাসল।

—সেদিন আপনাকেও মিষ্টি খাওয়াব।

আদবি মুচকি হেসে বলল,

—সেদিন শুধু মিষ্টি নয়, আপনার আনন্দটাও ভাগ করে নেব।

রাতে নিজের ঘরে ফিরে রাফা নতুন ক্লাসের সময়সূচি খাতায় লিখে রাখল। তারপর আদবিকে একটি মেসেজ পাঠাল।

—আজকের দিনটা আমার মনে থাকবে।

আদবি উত্তর দিল,

—আমারও। কারণ আজ আপনাকে নিজের স্বপ্নের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে দেখলাম।

রাফা লিখল,

—আমার জন্য দোয়া করবেন।

—আল্লাহ যেন আপনার জ্ঞান বাড়িয়ে দেন, পথ সহজ করেন এবং আপনাকে সফল করেন। আমিন।

রাফা উত্তর দিল,

—আমিন।

ফোনটা পাশে রেখে সে নতুন বই খুলল। আজ থেকে তার জীবনে নতুন দায়িত্ব শুরু হলো। সে জানে, শুধু আনন্দ করলেই হবে না; নিয়মিত চেষ্টা করতে হবে।

অন্যদিকে আদবি নিজের ঘরে বসে ভাবছিল, রাফার মুখের সেই আনন্দ যেন সবসময় অটুট থাকে।

তবে সামনে আসছে দুই পরিবারের জন্য আরও একটি বিশেষ আয়োজন। আমিরুল সাহেব ও সোহাগ সাহেব এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, যা আদবি ও রাফার সম্পর্ককে নতুন এক সুন্দর পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 21 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন