ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 22

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ২২

### নতুন সম্পর্কের বন্ধন

সকালের দিকে খান বাড়িতে বেশ আনন্দের পরিবেশ। আমিরুল সাহেব ও তাঁর স্ত্রী ড্রয়িংরুমে বসে কথা বলছিলেন। তাঁদের আলোচনার বিষয় আদবি ও রাফার ভবিষ্যৎ।

আমিরুল সাহেব বললেন,

—ভাবছি, দুই পরিবার মিলে একটা সুন্দর আয়োজন করা যায়। অনেক দিন হলো সবাই একসঙ্গে কোথাও বসে সময় কাটাই না।

আদবির মা মুচকি হেসে বললেন,

—আমিও সেটাই ভাবছিলাম। রাফার পরিবারকে নিয়ে একটা ছোট্ট পারিবারিক অনুষ্ঠান করলে মন্দ হয় না।

ঠিক তখন আদবি ঘরে ঢুকল।

—কী নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে?

আমিরুল সাহেব ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,

—তোমার আর রাফার পরিবারকে নিয়ে একটা ছোট আয়োজন করার কথা ভাবছি।

আদবি মৃদু হেসে বলল,

—ভালো তো। সবাই একসঙ্গে সময় কাটাতে পারবে।

মা দুষ্টুমি করে বললেন,

—তোমার কোনো আপত্তি নেই তো?

আদবি মাথা নেড়ে বলল,

—না, আম্মু। তবে রাফার মতামতটাও জেনে নেবেন।

মা খুশি হয়ে বললেন,

—এই তো চাই। দুজনের মতামতই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে রাফা সকালে পড়াশোনা শেষ করে মায়ের সঙ্গে রান্নাঘরে ছিল। এমন সময় সোহাগ সাহেব এসে বললেন,

—মা, তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে।

রাফা বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,

—বলুন বাবা।

—আমিরুল ভাই ফোন করেছিলেন। দুই পরিবার মিলে একটা ছোট অনুষ্ঠান করতে চান। সবাই একসঙ্গে সময় কাটাব।

রাফা একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

—আমার তো ভালোই লাগবে।

শারমিন বেগম হেসে বললেন,

—তাহলে আয়োজন শুরু করা যাক!

রাফা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

—আম্মু, খুব বেশি আয়োজন করার দরকার নেই। সবাই একসঙ্গে থাকলেই হবে।

সোহাগ সাহেব মেয়ের কথা শুনে বললেন,

—ঠিক আছে। তোমার পছন্দকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিকেলে আদবি ফোন করল।

—কেমন আছেন?

—আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। আপনি?

—ভালো আছি। শুনলাম, আমাদের পরিবারের অনুষ্ঠানে আপনার আপত্তি নেই।

রাফা হেসে বলল,

—আপত্তি থাকবে কেন?

—তাহলে একটা কথা বলি?

—বলুন।

—অনুষ্ঠানের দিন আপনি যেন নিজের পড়াশোনার কথা ভুলে না যান।

রাফা হেসে ফেলল।

—আপনি কি অনুষ্ঠানের দিনও পড়াশোনার কথা মনে করিয়ে দেবেন?

—অবশ্যই। আপনার বইয়ের সঙ্গে আমার প্রতিযোগিতা চলছে।

—তাহলে বইয়ের কাছেই আপনি হেরে যাবেন!

আদবি হেসে বলল,

—দেখা যাবে।

অনুষ্ঠানের দিন ঠিক হলো শুক্রবার। খবরটি শুনে মাহিরা খুব খুশি হলো। সে রাফাকে ফোন করে বলল,

—ভাবি, শুক্রবার কিন্তু আমি আপনার সঙ্গে অনেক গল্প করব!

রাফা হেসে বলল,

—তুমি গল্প করবে, নাকি আমাকে বিরক্ত করবে?

—দুটোই!

রাফা হেসে বলল,

—ঠিক আছে, অপেক্ষায় থাকব।

শুক্রবার বিকেলে সোহাগ সাহেবের বাড়ি সুন্দর করে সাজানো হলো। বসার ঘরে ফুল রাখা হয়েছে, টেবিলে নানা রকম খাবার সাজানো। পরিবারের সবাই ব্যস্ত থাকলেও সবার মুখে আনন্দ।

সন্ধ্যার কিছু আগে খান বাড়ির সবাই এসে পৌঁছালেন।

আমিরুল সাহেব ও সোহাগ সাহেব একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন।

—কেমন আছেন ভাই?

—আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। আপনাদের অপেক্ষায় ছিলাম।

শারমিন বেগম আদবির মাকে অভ্যর্থনা জানালেন। মাহিরা এসেই রাফাকে খুঁজতে লাগল।

রাফা ঘর থেকে বের হতেই মাহিরা বলে উঠল,

—ভাবি! অবশেষে দেখা হলো!

দুজনের হাসিতে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল।

আদবি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। রাফাকে দেখে মৃদু হাসল।

—আজ আপনাকে বেশ আনন্দিত লাগছে।

রাফা বলল,

—আজ সবাই একসঙ্গে এসেছে। ভালো লাগবেই তো।

—সেটাই তো সবচেয়ে সুন্দর।

খাওয়া-দাওয়ার পর দুই পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করতে লাগলেন।

আমিরুল সাহেব বললেন,

—আমাদের সম্পর্কটা অনেক দিনের। মাঝখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। কিন্তু আজ আবার সবাইকে একসঙ্গে দেখে খুব ভালো লাগছে।

সোহাগ সাহেব বললেন,

—পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে যায়। কত সুন্দর সময় কাটিয়েছি আমরা!

শারমিন বেগম বললেন,

—আল্লাহ যেন আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে এই ভালোবাসা অটুট রাখেন।

সবাই একসঙ্গে বললেন,

—আমিন।

এরপর আমিরুল সাহেব আদবি ও রাফার দিকে তাকিয়ে বললেন,

—তোমাদের দুজনের কাছে আমাদের একটা কথা আছে। জীবনে শুধু একে অপরকে ভালোবাসলেই হবে না, একে অপরকে সম্মান করতে হবে। রাগ-অভিমান হলে কথা বলে সমাধান করতে হবে।

সোহাগ সাহেবও বললেন,

—আর রাফার পড়াশোনা ও নিজের স্বপ্নের ব্যাপারে কোনো বাধা আসতে দেওয়া যাবে না।

আদবি সম্মানের সঙ্গে বলল,

—জি, আঙ্কেল। আমি সবসময় ওর মতামতকে গুরুত্ব দেব।

রাফাও মৃদু স্বরে বলল,

—আমিও চেষ্টা করব দুই পরিবারের সম্মান রাখতে।

আদবির মা খুশি হয়ে বললেন,

—তোমরা দুজন সবসময় এমন সুন্দর বোঝাপড়ার মধ্যে থেকো।

অনুষ্ঠান শেষে সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। মাহিরা রাফার হাত ধরে বলল,

—ভাবি, আমাদের একটা ছবি তুলতে হবে!

রাফা হেসে বলল,

—চলো।

ছবি তোলার পর মাহিরা আদবিকে ডেকে বলল,

—ভাইয়া, আপনিও আসুন। সবাই মিলে ছবি তুলব।

আদবি এসে পরিবারের সবার পাশে দাঁড়াল। ছবিটি তোলার পর সবাই হাসিমুখে সেটি দেখতে লাগল।

রাফা ছবির দিকে তাকিয়ে ভাবল, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো আসলে পরিবারের মানুষদের সঙ্গে কাটানো এমন সাধারণ সময়েই লুকিয়ে থাকে।

রাতের দিকে আদবি বাড়ি ফেরার আগে রাফাকে বলল,

—আজকের আয়োজন কেমন লাগল?

—অনেক ভালো। সবাইকে একসঙ্গে দেখে খুব আনন্দ হয়েছে।

—আমারও। জানেন, আমি চাই আমাদের দুই পরিবার সবসময় এমন একসঙ্গে থাকুক।

রাফা বলল,

—আমিও চাই।

আদবি একটু হেসে বলল,

—তাহলে আজকের দিনটা মনে রাখবেন।

—মনে রাখব।

আদবি চলে যাওয়ার পর রাফা বারান্দায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ আকাশ দেখল। তার মনে হলো, সম্পর্কের সৌন্দর্য শুধু দুজন মানুষের অনুভূতিতে নয়, বরং দুই পরিবারের আন্তরিকতা ও বিশ্বাসেও তৈরি হয়।

সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে রাফা আল্লাহর কাছে দোয়া করল, যেন এই সুন্দর সম্পর্কের বন্ধন কখনো নষ্ট না হয়।

কিন্তু আনন্দের এই দিন শেষ হওয়ার পর আদবি ও রাফার সামনে আসতে চলেছে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—যেখানে দুজনকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে হবে।

আমার প্রিয় উপন্যাস,

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 22 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন