ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 23

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ২৩

### ভবিষ্যতের নতুন সিদ্ধান্ত

সকালের নাশতা শেষ করে রাফা নিজের ঘরে এসে পড়ার টেবিলে বসল। সামনে নতুন কোর্সের বই খোলা, পাশে খাতা-কলম। গত কয়েক দিন ধরে সে নিয়মিত পড়াশোনা করছে। তবে আজ তার মনে অন্য একটি চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত শুক্রবারের পারিবারিক অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছিলেন। আদবি ও রাফার সম্পর্ককে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়ার কথাও উঠেছিল।

রাফা জানে, সামনে তাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন আসবে। তাই সে চায়, সব সিদ্ধান্ত যেন বুঝেশুনে নেওয়া হয়।

ঠিক তখনই শারমিন বেগম ঘরে এসে বললেন,

—কী রে মা, পড়াশোনা কেমন চলছে?

রাফা বই বন্ধ করে বলল,

—ভালোই চলছে, আম্মু। তবে একটা কথা ভাবছিলাম।

—কী কথা?

—আমার পড়াশোনা শেষ করার ব্যাপারটা। আমি চাই, ভবিষ্যতেও যেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারি।

শারমিন বেগম মেয়ের পাশে বসে বললেন,

—এটা নিয়ে চিন্তা করিস না। তোর বাবা আর আমি চাই, তুই নিজের স্বপ্ন পূরণ করিস। জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলোও তোর মতামত নিয়েই নেওয়া হবে।

রাফা মায়ের হাত ধরে বলল,

—আপনারা পাশে আছেন বলেই সাহস পাই।

অন্যদিকে আদবি অফিসে বসে কাজ করছিল। এমন সময় তার বাবা আমিরুল সাহেব ফোন করলেন।

—বাবা, আজ সন্ধ্যায় একটু সময় হবে?

—জি, আব্বু। কোনো কাজ আছে?

—তোমার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

—ঠিক আছে। সন্ধ্যায় কথা বলব।

ফোন রেখে আদবি আবার কাজে মন দিল। তবে বাবার কথাগুলো তার মনে রয়ে গেল।

সন্ধ্যায় খান বাড়ির সবাই ড্রয়িংরুমে বসেছিলেন। আমিরুল সাহেব ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,

—আদবি, তোমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে আমরা সবাই খুশি। এখন থেকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলোও একটু গুছিয়ে নেওয়া দরকার।

আদবি মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।

—আব্বু, আমি চাই সবকিছু সুন্দরভাবে হোক। তবে রাফার পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়।

আদবির মা বললেন,

—আমরাও সেটাই চাই। মেয়েটার অনেক স্বপ্ন আছে। সেগুলো পূরণ করার সুযোগ তাকে দিতে হবে।

আমিরুল সাহেব বললেন,

—তাহলে আগে দুই পরিবারের সঙ্গে বসে সময় ও আয়োজন নিয়ে আলোচনা করা যাক। কোনো তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই।

আদবি মাথা নেড়ে বলল,

—জি, আব্বু। রাফার মতামতও অবশ্যই জানতে হবে।

রাতের দিকে আদবি রাফাকে ফোন করল।

—কেমন আছেন?

—ভালো আছি। আপনি?

—আলহামদুলিল্লাহ। আজ আব্বুর সঙ্গে আপনার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হয়েছে।

রাফা একটু চুপ করে বলল,

—আমিও একটা বিষয় নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই।

—বলুন। মন খুলে বলবেন।

রাফা ধীরে ধীরে বলল,

—আমি চাই, আমাদের সম্পর্কের পরবর্তী জীবনেও যেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারি। আমি নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে চাই। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

আদবি শান্ত গলায় বলল,

—আমি তো সবসময়ই চাই আপনি নিজের স্বপ্ন পূরণ করুন। আপনার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক, এমন কিছু আমি কখনো চাইব না।

রাফা বলল,

—কিন্তু ভবিষ্যতে দায়িত্বও তো থাকবে।

—দায়িত্ব দুজনেরই থাকবে। সংসার মানে একজনের একার দায়িত্ব নয়। আমরা দুজন কথা বলে সবকিছু গুছিয়ে নেব।

রাফার কণ্ঠে স্বস্তি ফুটে উঠল।

—আপনার সঙ্গে কথা বললে আমার ভয় অনেকটা কমে যায়।

আদবি বলল,

—ভয় পেলে আমাকে বলবেন। তবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে শিখবেন। আমি চাই আপনি আত্মবিশ্বাসী হন।

রাফা মৃদু হেসে বলল,

—আচ্ছা, আপনি এত ভালো ভালো কথা কোথা থেকে শিখেছেন?

—আপনার কাছ থেকেই শিখছি।

—আমি আবার কী শেখালাম?

—আপনার স্বপ্নের কথা শুনে বুঝেছি, মানুষকে ভালোবাসলে তার ইচ্ছাগুলোকেও সম্মান করতে হয়।

রাফা আর কিছু বলল না। শুধু মৃদু হাসল।

পরদিন দুপুরে দুই পরিবারের মধ্যে কথা হলো। সোহাগ সাহেব, শারমিন বেগম, আমিরুল সাহেব এবং আদবির মা একসঙ্গে বসে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করলেন।

সোহাগ সাহেব বললেন,

—আমরা চাই, রাফার পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়টা ঠিকভাবে চলুক। ওর কোর্স শেষ করার ব্যাপারটাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

আমিরুল সাহেব বললেন,

—অবশ্যই। আমরাও চাই, আদবি ও রাফা দুজনেই নিজেদের দায়িত্ব বুঝে এগিয়ে যাক।

আদবির মা যোগ করলেন,

—পরিবারের আনন্দ তখনই পূর্ণ হয়, যখন সবার মতামতকে সম্মান করা হয়।

শারমিন বেগম বললেন,

—তাহলে আমরা ধীরে ধীরে সব পরিকল্পনা করি। কোনো সিদ্ধান্তে যেন রাফার পড়াশোনা কিংবা আদবির কাজের ক্ষতি না হয়।

সবাই একমত হলেন।

বিকেলে রাফা বারান্দায় বসে বই পড়ছিল। মাহিরা এসে তার পাশে বসল।

—ভাবি, কী পড়ছেন?

—নতুন বই।

—আপনি তো এখন সারাক্ষণ বই নিয়েই থাকেন!

রাফা হেসে বলল,

—তুমিও পড়াশোনা করলে বুঝতে পারবে।

মাহিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

—আমি পড়ি তো! তবে আপনার মতো এত মন দিয়ে না।

রাফা তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

—মন দিয়ে পড়লে তোমারও ভালো লাগবে।

মাহিরা একটু চুপ করে থেকে বলল,

—ভাবি, একটা কথা বলি?

—বলো।

—আপনি আমাদের বাড়িতে এলে আমার খুব ভালো লাগে। আপনি এলে ভাইয়াও অনেক হাসিখুশি থাকে।

রাফা লজ্জা পেয়ে বলল,

—তুমি শুধু দুষ্টুমি করতে জানো।

মাহিরা হেসে বলল,

—আমি কিন্তু সত্যি বলছি!

সন্ধ্যায় আদবি রাফাদের বাড়িতে এল। সোহাগ সাহেবের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পর সে রাফার সঙ্গে দেখা করল।

আদবি বলল,

—আজকের আলোচনা সম্পর্কে আপনি জানেন?

রাফা মাথা নেড়ে বলল,

—জি। বাবা আমাকে সব বলেছেন।

—আপনার কোনো আপত্তি আছে?

রাফা কিছুক্ষণ ভেবে বলল,

—না। আমি শুধু চাই, আমাদের জীবনের সিদ্ধান্তগুলোতে দুজনের মতামত থাকুক।

আদবি বলল,

—আমিও সেটাই চাই। কোনো সিদ্ধান্ত আপনার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

রাফা মৃদু হেসে বলল,

—তাহলে আমাদের একটা চুক্তি করা উচিত।

আদবি অবাক হয়ে বলল,

—কী চুক্তি?

—যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা দুজন কথা বলব।

আদবি হেসে বলল,

—আমি রাজি।

রাফা বলল,

—আর কেউ রাগ করলে চুপ করে থাকবে না। কথা বলে অভিমান ভাঙাতে হবে।

—সেটাও মেনে নিলাম।

দুজনের হাসিতে মুহূর্তটা সুন্দর হয়ে উঠল।

রাতের আকাশে তখন অসংখ্য তারা। রাফা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবছিল, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগে কত কিছু শেখার আছে।

ভালোবাসা মানে শুধু একে অপরের কাছে থাকার ইচ্ছা নয়। ভালোবাসা মানে বিশ্বাস করা, সম্মান করা, নিজের স্বপ্নের পাশাপাশি অন্যের স্বপ্নকেও জায়গা দেওয়া।

আদবিও নিজের ঘরে বসে একই কথা ভাবছিল। সে জানে, সামনে অনেক দায়িত্ব আসবে। কিন্তু দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া থাকলে পথটা সহজ হবে।

এদিকে দুই পরিবার ধীরে ধীরে পরবর্তী আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করল। আর রাফার জীবনে অপেক্ষা করতে লাগল এমন একটি দিন, যেদিন তার আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকবে একটু লজ্জা, একটু অভিমান আর অনেক নতুন প্রত্যাশা।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 23 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন